সংক্ষেপে
'আমি প্রবাসী' ছিল বেসরকারিভাবে তৈরি একটি অ্যাপ ও ওয়েবসাইট, যেখানে ২০২১ সাল থেকে বিএমইটি নিবন্ধন, পিডিও বুকিং, বহির্গমন ছাড়পত্র আর স্মার্ট কার্ডের কাজ হতো। ২০২৫ সালের এপ্রিলে বিএমইটির সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে সরকার তা আর নবায়ন করেনি, অ্যাপে বিএমইটির সেবা বন্ধ হয়ে যায়।
এখন এসব কাজ হয় সরকারের ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট প্ল্যাটফর্মে (ওইপি)। মন্ত্রণালয় আইএলও ও সুইজারল্যান্ড সরকারের সহায়তায় এটি তৈরি করেছে, আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয় ১৯ নভেম্বর ২০২৫। প্লে স্টোরে পুরোনো অ্যাপটি দেখা গেলেও নতুন নিবন্ধন বা ছাড়পত্রের জন্য ওইপিই ব্যবহার করুন।
কর্মী, এজেন্সি আর প্রশিক্ষণের সব পোর্টালের লিংক ওইপির হোমপেজে দেওয়া আছে।
এই লেখায়
১. আমি প্রবাসীর কী হয়েছিল
আমি প্রবাসী চালু হয় ২০২১ সালের মে মাসে। ডেইলি স্টারের হিসাবে ৪০ লাখের বেশি মানুষ এটি ব্যবহার করেছেন। ২০২৫ সালের ১৯ এপ্রিল চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে অ্যাপটি বিএমইটির কাজ করা বন্ধ করে দেয়, তখন দুই হাজারের বেশি কর্মীর কাজ আটকে যায়।
ওইপির উদ্বোধনে প্রবাসী কল্যাণ উপদেষ্টা বলেছিলেন, আগের অ্যাপে সেবার জন্য বাড়তি টাকা দিতে হতো, আর তা নিয়ে অভিযোগ ছিল। নতুন প্ল্যাটফর্মে এসব সেবা বিনা মূল্যে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বিএমইটি নিবন্ধন, কল্যাণ ফি আর বীমার মতো সরকারি ফি অবশ্য আলাদা।
আমি প্রবাসীর নাম বা লোগো দেখিয়ে কেউ নিবন্ধন বা কার্ডের জন্য টাকা চাইলে সাবধান হোন। বিএমইটির অনলাইন সেবার ঠিকানা এখন gov.bd দিয়ে শেষ হয়।
২. এখন কোন কাজ কোথায়
| কাজ | এখন কোথায় হয় | কে ব্যবহার করবেন |
|---|---|---|
| বিএমইটি নিবন্ধন, প্রোফাইল, ছাড়পত্রের আবেদন | ওইপির কর্মী পোর্টাল (Aspirant Migrant Portal) | বিদেশে যেতে ইচ্ছুক কর্মী |
| টিটিসির কোর্স ও প্রশিক্ষণে ভর্তি | কর্মী পোর্টাল আর বিএমইটির প্রশিক্ষণ পোর্টাল (Skill-Training Portal) | কর্মী |
| পিডিও সনদ ও পিডিও এনরোলমেন্ট কার্ড | ওইপির ওয়েবসাইটের Download মেনু | কর্মী; সনদের জন্য পাসপোর্ট নম্বর লাগে |
| এজেন্সির মাধ্যমে ছাড়পত্রের আবেদন | এজেন্সি পোর্টাল (RAIMS) | লাইসেন্সধারী রিক্রুটিং এজেন্সি |
| এজেন্সির লাইসেন্স দেখা | ওইপির Agent List | যে কেউ |
| চাহিদাপত্র জমা ও দূতাবাসের সত্যায়ন | Employer ও Mission Portal | বিদেশি নিয়োগকর্তা ও বাংলাদেশ মিশন |
ওইপির হোমপেজেই এই পোর্টালগুলোর লিংক আছে। বিএমইটির একটি টিটিসির নির্দেশনায় মোবাইলের গুগল ক্রোম ব্রাউজারে পোর্টাল খুলে নিবন্ধন করতে বলা হয়েছে।
৩. ওইপিতে নিজের কাজ নিজে করবেন যেভাবে
- ১হোমপেজ থেকে শুরু করুনব্রাউজারে ওইপির ওয়েবসাইট খুলে Aspirant Migrant Portal বেছে নিন। অন্যের পাঠানো বা বিজ্ঞাপনের লিংকে ঢুকবেন না।
- ২মোবাইল নম্বর দিয়ে লগইন করুনঅ্যাকাউন্ট থাকলে মোবাইল নম্বর দিয়ে OTP বা পাসওয়ার্ডে ঢুকুন। না থাকলে NID-র তথ্য দিয়ে নতুন অ্যাকাউন্ট খুলুন।
- ৩প্রশিক্ষণে ভর্তি হনঅ্যাকাউন্টের Training অংশে ট্রেড বেছে নিন, তারপর বিভাগ, জেলা আর টিটিসি ঠিক করে ভর্তির আবেদন নিশ্চিত করুন।
- ৪ছাড়পত্র ও কার্ড নিনভিসা, মেডিকেল আর পিডিও শেষ হলে ছাড়পত্রের আবেদন করুন, অথবা লাইসেন্সধারী এজেন্সিকে দায়িত্ব দিন। অনুমোদনের পর কার্ড ডাউনলোড করুন।
দালাল বা দোকানদার আপনার মোবাইলে আসা OTP চাইলে দেবেন না। OTP দিয়ে অন্য কেউ আপনার অ্যাকাউন্টে ঢুকে তথ্য বদলে ফেলতে পারে।
৪. আরও যে সরকারি অনলাইন সেবা কাজে লাগে
- ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের পোর্টাল: শিক্ষাবৃত্তি, চিকিৎসা সহায়তা, প্রবাসে থাকা কর্মীর সদস্যপদ, অভিযোগ দাখিল আর ছাড়পত্র বা সদস্যপদ যাচাই।
- প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অভিবাসন ঋণ আর নারী অভিবাসন ঋণের আবেদন সরকারের মাইগভ প্ল্যাটফর্মে অনলাইনে করা যায়, লিংক ব্যাংকের ওয়েবসাইটে আছে।
- প্রবাসবন্ধু কল সেন্টার: দেশ থেকে ১৬১৩৫ (টোল ফ্রি), বিদেশ থেকে +৮৮০ ৯৬১০ ১০২০৩০।
- ওইপির হটলাইন: ০৯৬১৪৪৪৫২৭১, পোর্টাল ব্যবহারে সমস্যা হলে।
৫. অনেকে যা জানতে চান
আমি প্রবাসী অ্যাপে আগে নিবন্ধন করেছিলাম, সেই তথ্য কি আছে?
প্লে স্টোরে আমি প্রবাসী অ্যাপ এখনো দেখা যায়, নামাব?
ওইপিতে কাজ করতে কি টাকা লাগে?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৬ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।