
সংক্ষেপে
সরকারিভাবে জাপান যাওয়ার দুটি পথ আছে। একটি বিএমইটির মাধ্যমে আইএম জাপানের টেকনিক্যাল ইন্টার্ন কর্মসূচি, যেখানে বিএমইটির ঘোষণা অনুযায়ী কর্মীর কাছ থেকে কোনো অভিবাসন ব্যয় নেওয়া হয় না। অন্যটি সরকারি সংস্থা বোয়েসেল, যারা নির্দিষ্ট চাহিদায় বিজ্ঞপ্তি দেয়, যেমন সেপ্টেম্বর ২০২৬ সালে নারী নার্সিং কেয়ারগিভার।
দুই পথেই জাপানি ভাষার সনদ লাগে: আইএম জাপানে N5 মানের দক্ষতা, বোয়েসেলের কেয়ারগিভারে JLPT-N4 বা JFT Basic। বোয়েসেলের কেয়ারগিভার পদে কর্মীকে ৫৬,৩৫০ টাকা পে-অর্ডারে দিতে হয়।
আইএম জাপানের চাহিদা এলে বিএমইটি বিজ্ঞপ্তি আর আবেদন ফরম এখানে দেয়।
এই লেখায়
১. সরকারিভাবে জাপান যাওয়ার দুই পথ পাশাপাশি
| বিষয় | বিএমইটি ও আইএম জাপান | বোয়েসেল (২০২৬ সালের কেয়ারগিভার বিজ্ঞপ্তি) |
|---|---|---|
| কাজের ধরন | টেকনিক্যাল ইন্টার্ন, নানা খাত | নার্সিং কেয়ারগিভার, শুধু নারী |
| বয়স | ১৮ থেকে ৩০ বছর | ১৮ থেকে ৩৫ বছর |
| শিক্ষা | এসএসসি | অন্তত মাধ্যমিক বা এসএসসি |
| ভাষা | N5 বা পর্যাপ্ত জাপানি দক্ষতা | JLPT-N4 বা JFT Basic |
| চুক্তি | প্রথমে ৩ বছর, পরে আরও ২ বছর নবায়ন হতে পারে | ৩ বছর |
| কর্মীর খরচ | অভিবাসন ব্যয় নেই; পাসপোর্ট, মেডিকেল আর ছাড়পত্রের ফি নিজের | ৫৬,৩৫০ টাকা বোয়েসেলকে, সঙ্গে ভিসা আবেদন ফি |
এর বাইরে বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি আর পড়াশোনার ভিসায় যাওয়ার পথ আছে, সেগুলো এই লেখার বিষয় নয়। সরকারি পথে কাজের কোনো নিশ্চয়তা কেউ টাকা নিয়ে দিতে পারে না, এটা মাথায় রাখুন।
২. বিএমইটি আর আইএম জাপানের টেকনিক্যাল ইন্টার্ন: যোগ্যতা আর ধাপ
বিএমইটির ওয়েবসাইটে এই পদ্ধতির শর্ত দেওয়া আছে। আইএম জাপান (International Manpower Development Organization) চাহিদাপত্র পাঠালে বিএমইটি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেয়। শর্তের মধ্যে উচ্চতার একটি ন্যূনতম মাপও আছে, আর আগে জাপানে কাজ করে থাকলে আবেদন করা যায় না।
- ১ফরম পূরণ করে ইমেইলবিজ্ঞপ্তি বের হলে bmet.gov.bd থেকে আবেদন ফরম নামিয়ে পূরণ করে বিএমইটির দেওয়া ইমেইল ঠিকানায় পাঠাতে হয়।
- ২এসএমএস পেলে কাগজ নিয়ে হাজিরবাছাই হলে মোবাইলে বার্তা আসে। নির্ধারিত টিটিসিতে নিতে হয় ভাষার সনদ, এসএসসি সনদ, NID বা জন্ম সনদ (মূলসহ ফটোকপি), ২ কপি ছবি আর জীবনবৃত্তান্ত।
- ৩গণিত, জাপানি বর্ণমালা আর শারীরিক পরীক্ষাআইএম জাপানের প্রতিনিধিদল দৌড়, সিট-আপ আর পুশ-আপসহ পরীক্ষা নেয়।
- ৪৬ মাসের প্রি-ডিপার্চার প্রশিক্ষণউত্তীর্ণরা বিএমইটির কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ৬ মাস প্রশিক্ষণ নেন। প্রশিক্ষণ আর থাকার খরচ লাগে না, খাওয়ার খরচ নিজের।
- ৫জাপান যাত্রাপ্রশিক্ষণ শেষে প্রথমে ৩ বছরের চুক্তিতে যাওয়া হয়। কাজ সন্তোষজনক হলে কোম্পানির চাহিদায় আরও ২ বছর বাড়ে।
বিএমইটির পাতাটি অনেক বছর আগে হালনাগাদ করা, তাই নতুন বিজ্ঞপ্তি এলে তার শর্তই মানবেন। জাপানি ভাষার কোর্স বিএমইটির অধীন টিটিসিতে হয়, সেই কোর্স নিয়ে আমাদের আলাদা লেখা আছে।
৩. বোয়েসেলের মাধ্যমে জাপানে কেয়ারগিভার: খরচ ৫৬,৩৫০ টাকা
২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে বোয়েসেল জাপানের একটি কোম্পানিতে নার্সিং কেয়ারগিভার পদে দক্ষ নারী টেকনিক্যাল ইন্টার্ন নেওয়ার বিজ্ঞপ্তি দেয়। আবেদনের শেষ সময় ছিল ১০ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টা। শর্তগুলো দেখলে বোঝা যায় এ ধরনের নিয়োগে কী কী আশা করা যায়:
- মাসে বেতন সর্বসাকল্যে ১,৭৬,২৪৪ ইয়েন, বিজ্ঞপ্তির হিসাবে প্রায় ১,৩৬,০০০ টাকা।
- দিনে ৮ ঘণ্টা কাজ, মাসে ২০ থেকে ২২ দিন, ওভারটাইম জাপানের শ্রম আইনে।
- থাকার জায়গা কোম্পানির, তবে ইউটিলিটি বিল আর খাবারের খরচ কর্মীর।
- যাওয়া আর চুক্তি শেষে ফেরার বিমান ভাড়া কোম্পানির।
- পাসপোর্টের মেয়াদ অন্তত ২ বছর আর কোভিড টিকার অন্তত ২ ডোজের সনদ লাগবে।
- আগের পাসপোর্টের সঙ্গে নাম, বাবা-মায়ের নাম বা জন্মতারিখে অমিল থাকলে আবেদন গ্রহণ হবে না।
- সিলেকশনের আগে-পরের প্রশিক্ষণ, ব্যবস্থাপনা, বহির্গমন ছাড়পত্র, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ ফি, স্মার্ট কার্ড আর অগ্রিম কর বাবদ ৫৬,৩৫০ টাকা বোয়েসেলের নামে পে-অর্ডারে।
- জাপানি ভিসার আবেদন প্রার্থীকে নিজে ঢাকার VFS Global-এ জমা দিতে হয়, ভিসা ফিও নিজের।
১১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের নোটিশে বোয়েসেল জানিয়েছে, কারিগরি ত্রুটির কারণে brms.boesl.gov.bd পোর্টালে সব চাকরির আবেদন আপাতত বন্ধ। পরের নির্দেশনা তাদের নোটিশ বোর্ড আর ফেসবুক পেজে আসবে।
৪. জাপান যেতে কত টাকা লাগে, সরকারি হিসাবে
উত্তরটা নির্ভর করে কোন পথে যাচ্ছেন তার ওপর। বিএমইটি ও আইএম জাপানের কর্মসূচিতে বিএমইটি স্পষ্ট লিখেছে, কর্মীদের কাছ থেকে কোনো অভিবাসন ব্যয় নেওয়া হবে না; শুধু পাসপোর্ট, মেডিকেল আর বহির্গমন ছাড়পত্রের ফি নিজেকে দিতে হয়, সঙ্গে প্রশিক্ষণের ৬ মাস খাওয়ার খরচ। বোয়েসেলের ২০২৬ সালের কেয়ারগিভার বিজ্ঞপ্তিতে খরচ ছিল ৫৬,৩৫০ টাকা, সঙ্গে ভিসা ফি।
এর চেয়ে অনেক বেশি টাকা কেউ চাইলে আগে জিজ্ঞেস করুন কোন সরকারি বিজ্ঞপ্তির আওতায় নিচ্ছে। বোয়েসেল নগদ টাকা নেয় না, তাদের কোনো এজেন্ট, সাব-এজেন্ট বা প্রতিনিধি নেই, এ কথা তাদের প্রতিটি বিজ্ঞপ্তিতে লেখা থাকে।
খরচের হিসাব করার সময় সময়টাও ধরুন। আইএম জাপানের পথে বাছাইয়ের পর ৬ মাস প্রশিক্ষণ চলে, এ সময় আয় থাকে না। আবার ভাষার সনদ পেতেও কয়েক মাস লাগে, কারণ JLPT বছরে নির্দিষ্ট সময়ে হয়। তাই বিজ্ঞপ্তির অপেক্ষায় না থেকে আগেই ভাষা শেখা আর সনদ নেওয়া শুরু করা লাভজনক। সরকারি পথে খরচ কম হলেও প্রস্তুতির এই সময়টা নিজের পকেট থেকেই যায়।
৫. ভাষার সনদ: N5, N4 আর JFT Basic কোথায় কাজে লাগে
জাপানের প্রায় সব কর্মী নিয়োগেই ভাষার সনদ আগে চাওয়া হয়। N5 হলো জাপানি ভাষা দক্ষতা পরীক্ষার (JLPT) সবচেয়ে প্রাথমিক স্তর, N4 তার পরের। JFT Basic জাপান ফাউন্ডেশনের আলাদা একটি পরীক্ষা, বোয়েসেলের কেয়ারগিভার বিজ্ঞপ্তিতে এটিকে N4-এর বিকল্প হিসেবে ধরা হয়েছে।
এখন থেকে যা গুছিয়ে রাখবেন
৬. অনেকে যা জানতে চান
সরকারিভাবে জাপান যেতে কত টাকা লাগে?
জাপান যাওয়ার বয়স কত লাগে?
japan jete ki japani bhasha lagbe?
বোয়েসেলে জাপানের আবেদন এখন করা যাচ্ছে কি?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২৫ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।