
সংক্ষেপে
সরকারিভাবে দক্ষিণ কোরিয়ায় কাজ নিয়ে যাওয়ার একমাত্র পথ এমপ্লয়মেন্ট পারমিট সিস্টেম (ইপিএস), যার নিবন্ধন নেয় সরকারি সংস্থা বোয়েসেল। ২০২৬ সালের নিবন্ধনে বয়স ছিল ১৮ থেকে ৩৯, শিক্ষা অন্তত এসএসসি, আর ফি মোট ৪,০০০ টাকা (পরীক্ষা ৩,৫০০ ও নিবন্ধন ৫০০) সঙ্গে বিকাশ চার্জ ৪৬ টাকা।
এ বছর লটারি হয়নি। জুলাইয়ে দুই ধাপে নিবন্ধন হয়েছে: আগে রোস্টার থেকে বাদ পড়া প্রার্থীরা, পরে নতুনরা আগে আসলে আগে পাবেন ভিত্তিতে, মোট ২০,০০০ জন। বোয়েসেল বারবার লিখছে, পরীক্ষায় পাস বা রোস্টারে নাম ওঠা মানেই চাকরি নিশ্চিত নয়।
ইপিএস নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি, প্রচারপত্র আর পরীক্ষার নোটিশ বোয়েসেল এখানে দেয়। নিবন্ধন চলার সময় আবেদন হয় eps.boesl.gov.bd সাইটে।
এই লেখায়
১. কোরিয়া যাওয়ার লটারি কি এখনো হয়
অনেকে এখনো লটারির অপেক্ষায় থাকেন। বোয়েসেলের এপ্রিল ২০২৬ সালের প্রচারপত্রে লেখা, দরকার হলে লটারি নেওয়া ঢাকার ইপিএস সেন্টারের দায়িত্বের মধ্যে আছে। কিন্তু ২০২৬ সালের নিবন্ধন লটারিতে হয়নি। ১ জুলাই ২০২৬ তারিখের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী উৎপাদন খাতে ২,০০০ জনকে রোস্টারে নেওয়ার লক্ষ্যে মোট ২০,০০০ জনকে ভাষা পরীক্ষায় বসার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
| ধাপ | কারা | জন্মতারিখের সীমা | নিবন্ধনের সময় |
|---|---|---|---|
| প্রথম ধাপ | ১ জানুয়ারি ২০২৪ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ সময়ে রোস্টার থেকে বাদ পড়া উৎপাদন, নির্মাণ, মৎস্য ও জাহাজ নির্মাণের প্রার্থী | ১১ জুলাই ১৯৮৬ থেকে ১০ জুলাই ২০০৮ | ১০ থেকে ১২ জুলাই ২০২৬ |
| দ্বিতীয় ধাপ | নতুন প্রার্থী, আগে আসলে আগে পাবেন | ১৫ জুলাই ১৯৮৬ থেকে ১৪ জুলাই ২০০৮ | ১৪ থেকে ১৬ জুলাই ২০২৬ |
একজন প্রার্থী শুধু একটি ধাপে আবেদন করতে পারতেন, দুটিতে করলে নিবন্ধন বাতিল। কোটা পূরণ হওয়ামাত্র সাইট নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে যায়, তাই নিবন্ধনের দিন সকাল ১০টার আগেই কাগজ তৈরি রাখা ছিল আসল কাজ।
২. দক্ষিণ কোরিয়া যাওয়ার বয়স আর যোগ্যতা
- বয়স ১৮ থেকে ৩৯ বছর।
- শিক্ষা অন্তত এসএসসি বা সমমান।
- কোরিয়ান ভাষা পড়া, লেখা ও বোঝার মৌলিক দক্ষতা।
- পাসপোর্টের মেয়াদ নির্ধারিত তারিখ পর্যন্ত বৈধ থাকতে হবে (২০২৬ সালে ১৬ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত)।
- পাসপোর্ট আর জাতীয় পরিচয়পত্রে নাম, জন্মতারিখ ও ছবির মিল থাকতে হবে।
- কালার ব্লাইন্ডনেস বা রং চিনতে সমস্যা থাকা চলবে না।
অযোগ্য ধরা হয় মাদকাসক্ত বা সিফিলিস শনাক্ত ব্যক্তি, ফৌজদারি অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত, কোরিয়ায় অবৈধভাবে থাকা, দেশ ছাড়ায় নিষেধাজ্ঞা থাকা মানুষ আর ই-৯ বা ই-১০ ভিসায় কোরিয়ায় ৫ বছরের বেশি থেকেছেন এমন কাউকে।
৩. নিবন্ধন আর ফি দেওয়ার ধাপ
- ১ছবি আর পাসপোর্ট স্ক্যান তৈরিসাদা ব্যাকগ্রাউন্ডে রঙিন ছবি ২৭০x৩৪৯ পিক্সেল, সর্বোচ্চ ১৪ কেবি, JPEG। পাসপোর্টের ছবিওয়ালা পাতার রঙিন স্ক্যান ৬০০x৪০৩ পিক্সেল, সর্বোচ্চ ৬০ কেবি। বোয়েসেল বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে বানানোর নমুনাও দেয়।
- ২eps.boesl.gov.bd সাইটে আবেদনSubmit Application চেপে পাসপোর্ট নম্বর আর জন্মতারিখ দিন, তারপর নাম, NID, বাবা-মায়ের তথ্য, মোবাইল আর ইমেইলসহ ফরম পূরণ করুন।
- ৩Submission ID লিখে রাখুনআবেদন শেষে একটি Submission ID আসে। ফি দেওয়া আর প্রবেশপত্র নামানো, দুটিতেই এটি লাগে।
- ৪বিকাশে ফিপরীক্ষা ফি ৩,৫০০ আর অনলাইন নিবন্ধন ফি ৫০০, মোট ৪,০০০ টাকা, সঙ্গে বিকাশ চার্জ ৪৬ টাকা। টাকা ফেরতযোগ্য নয়।
- ৫Admit Card নামানোফি সফল হলে Download Admit Card থেকে প্রবেশপত্র নামিয়ে প্রিন্ট করুন।
পাসপোর্ট নম্বর ভুল দিলে বা ছবি অস্পষ্ট হলে প্রবেশপত্র পাওয়ার পরও নিবন্ধন বাতিল হয় এবং ফি বাজেয়াপ্ত হয়। বিজ্ঞপ্তিতে লেখা, এ ক্ষেত্রে কোনো সুপারিশ বা তদবির চলবে না।
৪. ইপিএস পরীক্ষা কেমন হয়
| অংশ | প্রশ্ন | নম্বর | সময় |
|---|---|---|---|
| রিডিং | ২০ | ১০০ | ২৫ মিনিট |
| লিসেনিং | ২০ | ১০০ | ২৫ মিনিট |
| মোট | ৪০ | ২০০ | ৫০ মিনিট |
পরীক্ষা হয় কম্পিউটারে, ঢাকার ইস্কাটনে প্রবাসী কল্যাণ ভবনের এম ফ্লোরে ইপিএস-টপিক সিবিটি সেন্টারে। ২০০ নম্বরের মধ্যে ১২০-এর বেশি পাওয়াদের থেকে বেশি নম্বরের ক্রমে নির্ধারিত সংখ্যক প্রার্থীকে উত্তীর্ণ করা হয়। ২০২৬ সালের বিজ্ঞপ্তিতে পরীক্ষার সম্ভাব্য শুরু ছিল ১ সেপ্টেম্বর, এরপর কম্পিটেন্সি টেস্ট সম্ভাব্য জানুয়ারি ২০২৭, স্কিল টেস্ট ফেব্রুয়ারি ২০২৭ আর চূড়ান্ত ফল এপ্রিল ২০২৭।
দ্বিতীয় রাউন্ডে শারীরিক সক্ষমতাসহ স্কিল টেস্ট হয়। কম্পিটেন্সি টেস্টে বাড়তি পয়েন্ট মেলে: এক বছরের বেশি কাজের অভিজ্ঞতায় সর্বোচ্চ ৫, অন্য যোগ্যতায় সর্বোচ্চ ২, আর প্রশিক্ষণ (সর্বোচ্চ ২০০ ঘণ্টা) বা ডিগ্রি পাস হলে সর্বোচ্চ ৩ পয়েন্ট।
৫. রোস্টারে নাম উঠলেই কি কোরিয়া যাওয়া নিশ্চিত
না, আর এটিই সবচেয়ে বেশি ভুল বোঝা হয়। বোয়েসেলের প্রচারপত্র অনুযায়ী কোরিয়া প্রতি বছর ১৭টি দেশের মধ্যে কোটা ভাগ করে। বাংলাদেশ সাধারণত বছরে ৪,০০০-এর কিছু বেশি কোটা পায়, ২০২৬ সালে পেয়েছে ৮,০০০। কোটার সর্বোচ্চ তিনগুণ প্রার্থী রোস্টারে রাখা হয়।
- রোস্টারের মেয়াদ এক বছর করে মোট দুই বছর। এর মধ্যে কোনো নিয়োগকর্তা না বাছলে নাম আপনাআপনি বাদ পড়ে।
- কোটার তিনগুণ প্রার্থী থাকায় প্রচারপত্রের হিসাবেই প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের নাম মেয়াদ শেষে বাদ পড়ার আশঙ্কা থাকে।
- নিয়োগকর্তা বয়স, দক্ষতা আর শারীরিক গঠন দেখে জব অফার দেন। মেধাতালিকায় এগিয়ে থাকলে সুযোগ বাড়ে।
- জব অফার পেলে মাসে প্রায় ২ লাখ টাকা বেতন আর দুই মেয়াদে সাড়ে ৯ বছর কাজের সুযোগের কথা প্রচারপত্রে আছে।
- চাকরির আবেদন জমার সময় ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা দিতে হয় যে চাকরির নিশ্চয়তা নেই, তা আপনি জানেন।
৬. কোরিয়া যাওয়ার খরচ কত, কাকে টাকা দেবেন না
নিবন্ধন আর পরীক্ষার ৪,০০০ টাকার বাইরে বাকি খরচ হয় জব অফার পাওয়ার পর। বোয়েসেলের ওয়েবসাইটে থাকা শ্রেণিভিত্তিক অভিবাসন ব্যয়ের তালিকায় দক্ষিণ কোরিয়ার ইপিএসে মোট ২৪০ মার্কিন ডলার দেখানো আছে, তবে ঘরটির পাশে বোর্ডের অনুমোদন সাপেক্ষ লেখা। তাই চূড়ান্ত অঙ্ক যাওয়ার আগে বোয়েসেল থেকেই জেনে নিন। বোয়েসেলের সাইটে দক্ষিণ কোরিয়ার সার্ভিস চার্জ ফেরতের একটি ফরমও রাখা আছে।
বোয়েসেলের সতর্কবার্তা: ইপিএস প্রক্রিয়া পুরোপুরি অনলাইনে, বোয়েসেল আর এইচআরডি কোরিয়া চালায়। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে টাকা দিয়ে কোরিয়া যাওয়ার নিশ্চয়তা কেনা যায় না।
নতুন নিবন্ধনের ঘোষণা বোয়েসেলের ওয়েবসাইটের নোটিশ বোর্ড আর তাদের যাচাই করা ফেসবুক পেজে আসে। ভাষা শিখতে টিটিসির কোরিয়ান কোর্স কাজে লাগতে পারে, তবে কোর্স শেষ করলেই কোরিয়া যাওয়া হয় না, ইপিএস পরীক্ষায় আলাদা করে পাস করতে হয়।
৭. অনেকে যা জানতে চান
দক্ষিণ কোরিয়া যাওয়ার বয়স কত লাগে?
কোরিয়া যাওয়ার লটারি ২০২৬ কবে হবে?
korea eps registration fee koto?
ইপিএস পরীক্ষায় পাস করলেই কি ভিসা পাওয়া যায়?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২৫ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।