
সংক্ষেপে
এইচএসসি রেজাল্টের পর প্রথম কাজ ফলের অনলাইন কপি নামিয়ে রাখা আর নিজের জিপিএ দিয়ে কোন কোন ভর্তিতে আবেদনের যোগ্য, তা ঠিক করা। এরপর পুনর্নিরীক্ষার সিদ্ধান্ত, প্রশংসাপত্র তোলা, ছবি আর ফির টাকা গুছিয়ে রাখা, কারণ ফলের দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যেই বড় ভর্তির আবেদন শুরু হয়।
২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ ২৯ অক্টোবর, যুগান্তর বোর্ড সূত্রে এ খবর দিয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদন চলবে ১১ থেকে ২৫ নভেম্বর, মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা হতে পারে ৪ ডিসেম্বর। তাই নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে কাগজ তৈরি রাখুন।
বিষয়ভিত্তিক গ্রেড দিয়ে নিজের জিপিএ মিলিয়ে নিন, তারপর ভর্তির শর্তের সঙ্গে তুলনা করুন।
এই লেখায়
১. কাজ ১ ও ২: ফলের কপি রাখুন, যোগ্যতা মিলিয়ে নিন
ফল প্রকাশের দিন শিক্ষা বোর্ডের সমন্বিত সাইটে রোল, রেজিস্ট্রেশন আর বোর্ড দিয়ে ফল দেখুন এবং পাতাটা পিডিএফ বা স্ক্রিনশট করে রাখুন। বিষয়ভিত্তিক গ্রেড দেখে নিজের জিপিএ চতুর্থ বিষয়সহ আর ছাড়া দুইভাবেই লিখে রাখুন, কারণ ভর্তির শর্তে দুই হিসাবই আসে।
এরপর এসএসসি আর এইচএসসির জিপিএ মিলিয়ে দেখুন কোথায় আবেদনের যোগ্য। যেমন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৬-২৭ সেশনে বিজ্ঞান ইউনিটে দুই পরীক্ষায় আলাদা করে অন্তত ৩.৫০ আর মোট ৮.০০ লাগবে, আর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্সে গত সেশনে মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষায় মোট ৪.৫০ আর বিজ্ঞানে ৪.৭৫ লেগেছিল। ভর্তিতে কত পয়েন্ট লাগে, তার বিস্তারিত হিসাব আলাদা লেখায় আছে।
এ বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষা দিয়েছে, তাই ফলের দিন সাইটে চাপ থাকে। সাইট না খুললে এসএমএসে ফল নিন, পরে সাইট থেকে বিষয়ভিত্তিক গ্রেড দেখে নিন। কলেজও EIIN দিয়ে সব শিক্ষার্থীর ফল নামাতে পারে, দরকারে সেখান থেকে কপি চেয়ে নিন।
২. কাজ ৩: পুনর্নিরীক্ষা করবেন কি না, দ্রুত ঠিক করুন
কোনো বিষয়ে প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কম নম্বর এলে বা এক নম্বরের জন্য গ্রেড আটকে গেলে পুনর্নিরীক্ষার আবেদন করা যায়। ফলের পর বোর্ড আবেদনের সময় ঘোষণা করে, আর সময়টা থাকে অল্প কয়েক দিন। আবেদনের নিয়ম আর ফি আলাদা লেখায় দেওয়া আছে, দেরি করলে সুযোগ শেষ।
মনে রাখুন, পুনর্নিরীক্ষার ফল আসতে সময় লাগে, আর ততদিনে কিছু ভর্তির আবেদন শুরু হয়ে যেতে পারে। তাই বর্তমান জিপিএ ধরেই যেসব জায়গায় যোগ্য, সেখানে আবেদনের প্রস্তুতি চালিয়ে যান।
খরচও হিসাবে রাখুন। প্রতিটি পত্রের জন্য আলাদা ফি লাগে, তাই শুধু যে বিষয়ে সত্যিই সন্দেহ আছে, সেটিতেই আবেদন করুন। কোন অবস্থায় আবেদন করা লাভজনক, তা নিয়ে আলাদা লেখা আছে।
৩. কাজ ৪ ও ৫: প্রশংসাপত্র আর কাগজের ফাইল
কলেজ থেকে প্রশংসাপত্র তুলে রাখুন। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় চূড়ান্ত ভর্তির সময় শেষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রশংসাপত্র চায়, যেমন ডুয়েটের প্রসপেক্টাসে এটি কাগজের তালিকায় আছে। ফলের পর কলেজে ভিড় বাড়ে, তাই প্রথম সপ্তাহেই আবেদন জমা দিন।
একটি ফাইলে গুছিয়ে রাখুন
৪. কাজ ৬: ছবি, মোবাইল নম্বর আর ফির টাকা
অনলাইন আবেদনে ছবির মাপ প্রতিষ্ঠানভেদে আলাদা। স্টুডিওতে একবারে দুই মাপের ডিজিটাল কপি করিয়ে রাখুন।
| আবেদন | ছবির মাপ (গত সেশন) |
|---|---|
| জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, অনার্স ও ডিগ্রি | ১২০ বাই ১৫০ পিক্সেল, জেপিজি, সর্বোচ্চ ৫০ কিলোবাইট |
| গুচ্ছ | ৩০০ বাই ৩০০ পিক্সেল, জেপিজি, ১০০ কিলোবাইটের কম, সাদা পটভূমি |
আবেদনে যে মোবাইল নম্বর দেবেন, পরে মেধাতালিকা, ওটিপি আর বার্তা সেখানেই আসে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞপ্তিতেও বলা আছে, ভবিষ্যতে শিক্ষাসংক্রান্ত সব তথ্য এই নম্বরে পাঠানো হবে। তাই নিজের বা অভিভাবকের এমন নম্বর দিন, যা অন্তত এক বছর চালু থাকবে। আবেদন ফির জন্য মোবাইল ব্যাংকিংয়ে কিছু টাকা রাখুন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গত সেশনে ফি ছিল ১,০৫০ টাকা।
ছবি নিয়ে সবচেয়ে বেশি ভুল হয় পুরোনো ছবি বা সেলফি দেওয়ায়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা আছে, আবেদনকারীর নিজের ছবি ছাড়া অন্য ছবি দিলে ভর্তি ও রেজিস্ট্রেশন বাতিল হবে। তাই সদ্য তোলা নিজের ছবিই দিন।
৫. কাজ ৭: কোন ভর্তির আবেদন কবে, ক্যালেন্ডারে লিখে রাখুন
| ভর্তি | ২০২৬-২৭ সেশনের সূচি | অবস্থা |
|---|---|---|
| ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় | আবেদন ১১ থেকে ২৫ নভেম্বর, পরীক্ষা ৫ থেকে ২৬ ডিসেম্বর | ভর্তি কমিটির সিদ্ধান্ত |
| মেডিকেল ও ডেন্টাল | পরীক্ষা ৪ ডিসেম্বর | সম্ভাব্য, ফলের পর চূড়ান্ত হবে |
| বিইউপি | লিখিত পরীক্ষা ১, ২, ৮ ও ৯ জানুয়ারি ২০২৭ | বিইউপির ভর্তি নোটিশ |
| বুয়েট | পরীক্ষা ১৬ জানুয়ারি ২০২৭ | বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী |
| জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অনার্স | গতবার বিজ্ঞপ্তি ২০ নভেম্বর, আবেদন ২৩ নভেম্বর থেকে | এবারের তারিখ ঘোষণা হয়নি |
স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক যুগান্তরকে বলেছেন, এইচএসসির ফলের পর মেডিকেলের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হবে, আর ফল দেরিতে এলে পরীক্ষাও পিছাতে পারে। একই দিনে দুই পরীক্ষা পড়লে কোনটি দেবেন, তা আগে ঠিক করুন। অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তারিখ আর গুচ্ছের সূচি আলাদা লেখায় এক টেবিলে দেওয়া আছে।
ক্যালেন্ডারে প্রতিটি আবেদনের শেষ দিনের দুই দিন আগে একটি রিমাইন্ডার দিন। শেষ দিনে সার্ভারে চাপ থাকে।
৬. এইচএসসির পর কোথায় ভর্তি হওয়া যায়: পথগুলো এক নজরে
- পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়: আলাদা পরীক্ষা যেমন ঢাবি, রাবি, চবি, অথবা গুচ্ছের ২০ বিশ্ববিদ্যালয়।
- প্রকৌশল: বুয়েট, কুয়েট-রুয়েট-চুয়েট, বুটেক্স, আর সশস্ত্র বাহিনী পরিচালিত বিইউপি ও এমআইএসটি।
- মেডিকেল, ডেন্টাল আর নার্সিং: কেন্দ্রীয় পরীক্ষা, আবেদন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর বা নার্সিং কাউন্সিলের বিজ্ঞপ্তিতে।
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজে অনার্স বা ডিগ্রি পাস।
- বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, ইউজিসির অনুমোদন মিলিয়ে।
একটা বাস্তব পরামর্শ: শুধু একটি ভর্তির ওপর ভরসা করবেন না। উদাহরণ হিসেবে, ফারহান বিজ্ঞানে জিপিএ ৪.৮৩ পেয়ে ঢাবি, গুচ্ছ আর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে একসঙ্গে আবেদন করলেন। ঢাবিতে না হলেও গুচ্ছে বিষয় পেলেন, আর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিটা নিরাপত্তা হিসেবে থাকল। তবে মনে রাখবেন, একটি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি থাকা অবস্থায় আরেকটিতে ভর্তি হতে চাইলে আগেরটি বাতিলের নিয়ম মানতে হয়।
৭. অনেকে যা জানতে চান
hsc result er por ki korbo?
এইচএসসি রেজাল্ট ২০২৬ কবে দিবে?
এইচএসসির পর কোথায় ভর্তি হওয়া যায়?
পুনর্নিরীক্ষার ফলের জন্য কি ভর্তির আবেদন আটকে রাখব?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২৫ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।