
সংক্ষেপে
গাজীপুরের ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি (আইইউটি) ওআইসির প্রতিষ্ঠান, তাই নিয়মও অন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আলাদা। শুধু ওআইসিভুক্ত দেশের মুসলিম আবেদনকারীরা আবেদন করতে পারেন। আইইউটি ভর্তি যোগ্যতা: বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ ৪.৫০, এইচএসসিতে পদার্থ, রসায়ন, গণিতে A+ আর ইংরেজিতে অন্তত A।
আবেদনের পর এইচএসসির চার বিষয়ের নম্বর দিয়ে একাডেমিক স্কোর হয়, জাতীয় শিক্ষাক্রমের প্রথম ৯০০০ জন পরীক্ষার সুযোগ পান। আবেদন ফি ৩০০ টাকা, পরীক্ষার ফি ১,২০০ টাকা। ভর্তির পর খরচ ডলারে, অনাবাসিক হলে চার বছরে ১৪,১০০ ডলার।
যোগ্যতা, আবেদনের ধাপ, রোডম্যাপ আর ফির তালিকা এক সাইটে।
এই লেখায়
১. আইইউটি ভর্তি যোগ্যতা, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য
আইইউটির ভর্তি সাইটে স্বাগতিক দেশ, মানে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ও বিবিএর শর্তগুলো আলাদা করে দেওয়া আছে। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে যা ছিল:
| শর্ত | এসএসসি বা সমমান | এইচএসসি বা সমমান |
|---|---|---|
| বিভাগ | শুধু বিজ্ঞান | শুধু বিজ্ঞান |
| ন্যূনতম জিপিএ | ৫-এর মধ্যে ৪.৫০ | ৫-এর মধ্যে ৪.৫০ |
| পাসের সাল | ২০২২ বা পরে | ২০২৪ বা ২০২৫ |
| বিষয়ভিত্তিক গ্রেড | নেই | পদার্থ, রসায়ন, গণিতে A+, ইংরেজিতে অন্তত A |
পাসের সালের শর্ত প্রতি বছর এক বছর করে সরে। ২০২৬-২৭ সেশনে কোন সাল চলবে, তা নতুন বিজ্ঞপ্তিতে আসবে। আইইউটি ২০২৫-২৬ সেশনে দ্বিতীয়বারের পরীক্ষার্থীদের নম্বর কাটেনি বলে প্রথম আলো জানিয়েছিল।
জিপিএ ৪.৫০ থাকলেও তিন বিষয়ের যেকোনো একটিতে A+ না থাকলে আবেদন বাতিল হবে। আবেদনের আগে নম্বরপত্র খুলে বিষয়ভিত্তিক গ্রেড মিলিয়ে নিন।
২. বাছাই হয় একাডেমিক স্কোরে
আবেদন করলেই পরীক্ষা দেওয়া যায় না। আইইউটি এইচএসসির গণিত, পদার্থ, রসায়ন আর ইংরেজির নম্বরের শতকরা হার যোগ করে একাডেমিক স্কোর বানায়। এই স্কোরে জাতীয় শিক্ষাক্রমের প্রথম ৯০০০ জন আর ইংরেজি মাধ্যমের প্রথম ২০০ জন পরীক্ষার সুযোগ পান। স্কোর সমান হলে আগে এইচএসসির বিষয়ভিত্তিক নম্বর, তারপর এসএসসির নম্বর দেখা হয়।
আবেদনের পর সাইটে আপনার গ্রেড আর নম্বর দেখানো হয়। ২০২৫-২৬ সেশনে নম্বরে ভুল থাকলে ২৬ ও ২৭ ফেব্রুয়ারি রেজিস্ট্রারের দপ্তরে সশরীরে গিয়ে ঠিক করার সুযোগ ছিল। এই ধাপ বাদ দিলে ভুল নম্বর নিয়েই বাছাই হয়ে যায়।
একটা উদাহরণ। সাদিয়া এইচএসসিতে গণিতে ৯২, পদার্থে ৮৮, রসায়নে ৮৫ আর ইংরেজিতে ৮০ শতাংশ নম্বর পেয়েছে। তার একাডেমিক স্কোর ৯২ যোগ ৮৮ যোগ ৮৫ যোগ ৮০, মানে ৩৪৫। এই স্কোরে সে প্রথম ৯০০০ জনের মধ্যে থাকলে পরীক্ষার সুযোগ পাবে। ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের বেলায় এ লেভেলের গণিত, পদার্থ, রসায়ন আর ও লেভেলের ইংরেজির শতকরা নম্বর যোগ হয়।
৩. আবেদনের ধাপ আর ফি
- ১Apply থেকে শুরুদেশ Bangladesh, প্রোগ্রাম B.Sc. Engineering and BBA আর ধর্ম বেছে নিন। শিক্ষাক্রমে National Curriculum Board বাছুন, বাংলা ও ইংরেজি ভার্সন দুটোই এর মধ্যে পড়ে।
- ২তথ্য দিনপুরো নাম, এসএসসি ও এইচএসসির রেজিস্ট্রেশন নম্বর আর মোবাইল নম্বর দিন। এই নম্বরেই পরে যোগাযোগ করা হবে।
- ৩৩০০ টাকা দিনঅফেরতযোগ্য আবেদন প্রসেসিং ফি ৩০০ টাকা, শুধু বিকাশ, নগদ বা রকেটে।
- ৪এসএসসির তথ্য দিনটাকা দেওয়ার পর এসএসসির রোল, বোর্ড আর পাসের সাল দিলে সিস্টেম নিজে ফল টেনে আনে। আবেদনের অবস্থার পাতাটি প্রিন্ট করে রাখুন।
- ৫বাছাই হলে ১,২০০ টাকাযোগ্য তালিকায় নাম এলে অফেরতযোগ্য পরীক্ষার ফি ১,২০০ টাকা দিন, ২০০ কেবির মধ্যে রঙিন ছবি আর সই আপলোড করুন, তারপর প্রবেশপত্র নামান।
২০২৫-২৬ সেশনে আবেদন শুরু হয়েছিল ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, পরীক্ষা হয় ১৭ এপ্রিল। এই ধারা চললে ২০২৬-২৭ সেশনের আবেদন সম্ভাব্য ২০২৭ সালের শুরুর দিকে, তবে তারিখ নিশ্চিত করবে আইইউটির নতুন বিজ্ঞপ্তি।
প্রথম ধাপের ৩০০ টাকা সবাই দেন, দ্বিতীয় ধাপের ১,২০০ টাকা শুধু যোগ্য তালিকায় নাম আসা প্রার্থীরা। তালিকায় নাম না এলে দ্বিতীয় ধাপের টাকা দেওয়ার দরকার নেই, আর দুই ধাপের টাকাই ফেরত হয় না।
৪. পরীক্ষা কেমন হয়
২০২৫-২৬ সেশনে পরীক্ষা ছিল ১০০ নম্বরের এমসিকিউ, সময় দুই ঘণ্টা, মাধ্যম ইংরেজি। গণিত ৩৫, পদার্থ ৩৫, রসায়ন ১৫ আর ইংরেজি ১৫। প্রতিটি প্রশ্নের মান ১, প্রতিটি ভুল উত্তরে ০.২৫ কাটা যায়। সিলেবাস ছিল ২০২৫ সালের এইচএসসির।
পরীক্ষার দিন সন্ধ্যায় মেধাতালিকা প্রকাশ হয়। এরপর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিভাগ পছন্দক্রম জমা দিতে হয়, না দিলে বাদ। ২০২৫-২৬ সেশনে এক এক করে আটটি তালিকা আর একটি খোলা ডাক দিয়ে ভর্তি চলেছে, ক্লাস শুরু হয় ২৬ অক্টোবর ২০২৬।
ভর্তির বিজ্ঞপ্তিতে স্নাতকের যে প্রোগ্রামগুলো ছিল: মেকানিক্যাল অ্যান্ড প্রোডাকশন, ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং আর টেকনোলজি ম্যানেজমেন্টে বিবিএ। পছন্দক্রম দেওয়ার আগে কোন প্রোগ্রামে কতজন নেওয়া হয়, সাইটের Offered Programs পাতায় দেখে নিন।
৫. খরচ কত: ডলারে হিসাব
| খাত | প্রথম বছর | পরের প্রতি বছর |
|---|---|---|
| ভর্তি ফি | ২,০০০ ডলার | নেই |
| টিউশন ফি | ২,৫০০ ডলার | ২,৫০০ ডলার |
| থাকা-খাওয়া (আবাসিক হলে) | ১,৫০০ ডলার | ১,৫০০ ডলার |
| অন্যান্য | ৬০০ ডলার | ৫০০ ডলার |
| আবাসিক মোট | ৬,৬০০ ডলার | ৪,৫০০ ডলার |
| অনাবাসিক মোট | ৫,১০০ ডলার | ৩,০০০ ডলার |
চার বছরে আবাসিক হলে মোট ২০,১০০ ডলার, অনাবাসিক হলে ১৪,১০০ ডলার। প্রথম বছরের টাকা ভর্তির সময়, পরের বছরগুলোর টাকা শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগে দিতে হয়। ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে শীর্ষ দুজন পূর্ণ ওআইসি বৃত্তি পান, তাঁদের প্রথম বছরে শুধু ১,০০০ ডলার জামানত দিতে হয়, যা এক বছর পর ফেরত।
ফি ডলারে নির্ধারিত, তাই টাকার হিসাব বিনিময় হারের সঙ্গে বদলায়। পছন্দক্রম দেওয়ার আগেই পরিবারের সঙ্গে চার বছরের খরচ মিলিয়ে নিন।
তুলনার জন্য মনে রাখুন, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো নামমাত্র বেতনের ব্যবস্থা এখানে নেই। আবার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো ক্রেডিটভিত্তিক বিলও নয়, বছরে নির্দিষ্ট অঙ্ক। আবাসিক হলে থাকা-খাওয়ার খরচ এই হিসাবের মধ্যেই ধরা, তাই ঢাকার বাইরের শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক আর অনাবাসিকের তফাতটা বছরে ১,৫০০ ডলার।
৬. অনেকে যা জানতে চান
iut admission requirements কী?
iut admission fee কত?
আইইউটি পরীক্ষায় কি নেগেটিভ মার্ক আছে?
অমুসলিম শিক্ষার্থী কি আইইউটিতে আবেদন করতে পারেন?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২৩ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।