
সংক্ষেপে
কত পয়েন্ট লাগে, তা ঠিক হয় এসএসসি আর এইচএসসির জিপিএ যোগ করে, সঙ্গে প্রতিটি পরীক্ষায় আলাদা একটি সর্বনিম্ন শর্ত। ২০২৬-২৭ সেশনে ঢাবিতে মোট ৭.৫০ থেকে ৮.০০ লাগবে শাখাভেদে, মেডিকেলে গত সেশনে লেগেছিল ৮.৫০, গুচ্ছের সর্বশেষ প্রকাশিত শর্তে ৬.০০ থেকে ৭.৫০, আর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্সে মাত্র ৪.৫০ থেকে ৪.৭৫।
এই সংখ্যাগুলো আবেদনের দরজা, ভর্তির নিশ্চয়তা নয়। মেধাতালিকা হয় ভর্তি পরীক্ষার নম্বর আর জিপিএ মিলিয়ে। নিচের টেবিলে নিজের দুই জিপিএ বসিয়ে দেখুন কোথায় আবেদন করতে পারবেন।
বিষয়ভিত্তিক গ্রেড দিয়ে নিজের জিপিএ, চতুর্থ বিষয়সহ ও ছাড়া, হিসাব করুন।
এই লেখায়
১. পয়েন্ট মানে কোন হিসাব
ভর্তির আলোচনায় পয়েন্ট বলতে বোঝায় এসএসসি আর এইচএসসির জিপিএর যোগফল, যার সর্বোচ্চ ১০। দুই পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেলে পয়েন্ট ১০। কেউ এসএসসিতে ৪.৬৭ আর এইচএসসিতে ৩.৮৩ পেলে তাঁর পয়েন্ট ৮.৫০। বিজ্ঞপ্তিতে সাধারণত দুটি শর্ত একসঙ্গে থাকে: মোট কত, আর প্রতিটি পরীক্ষায় আলাদা করে অন্তত কত। দুটোই পূরণ করতে হয়।
আরেকটা জিনিস খেয়াল করুন, চতুর্থ বিষয়। ঢাবি আর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় চতুর্থ বিষয়সহ জিপিএ ধরে। আবার কোনো কোনো হিসাবে চতুর্থ বিষয় বাদে জিপিএ দেখা হয়, যেমন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাক্রমে দুজনের নম্বর সমান হলে। তাই বিজ্ঞপ্তিতে কোনটা লেখা, দেখে নিন।
২. কোথায় কত পয়েন্ট লাগে: এক টেবিলে
| প্রতিষ্ঠান ও ইউনিট | মোট জিপিএ | প্রতিটিতে অন্তত | কোন সেশনের শর্ত |
|---|---|---|---|
| ঢাবি বিজ্ঞান ইউনিট (বিজ্ঞান শাখা) | ৮.০০ | ৩.৫০ | ২০২৬-২৭ |
| ঢাবি কলা-আইন-সামাজিক বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা (নিজ শাখা) | ৭.৫০ | ৩.০০ | ২০২৬-২৭ |
| ঢাবি চারুকলা | ৬.৫০ | ৩.০০ | ২০২৬-২৭ |
| এমবিবিএস ও বিডিএস | ৮.৫০, সঙ্গে পদার্থ, রসায়ন, জীববিজ্ঞানে ৩.৫০ | নীতিমালা দেখুন | ২০২৫-২৬ |
| গুচ্ছ এ ইউনিট (বিজ্ঞান) | ৭.৫০ | ৩.৫০ | ২০২৪-২৫ |
| গুচ্ছ বি ইউনিট (মানবিক) | ৬.০০ | ৩.০০ | ২০২৪-২৫ |
| গুচ্ছ সি ইউনিট (ব্যবসায় শিক্ষা) | ৬.৫০ | ৩.০০ | ২০২৪-২৫ |
| জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অন-ক্যাম্পাস | মানবিক-ব্যবসায় ৬.৫০, বিজ্ঞান ৭.৫০ | ৩.০০ ও ৩.৫০ | ২০২৫-২৬ |
| জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অনার্স ও প্রফেশনাল | মানবিক-ব্যবসায় ৪.৫০, বিজ্ঞান ৪.৭৫ | এসএসসি ২.০০ বা ২.২৫, এইচএসসি ২.০০ | ২০২৫-২৬ |
ঢাবির শর্ত ২০২৬-২৭ সেশনের, বাকিগুলো সর্বশেষ যে বিজ্ঞপ্তি পাওয়া গেছে তার। নতুন বিজ্ঞপ্তিতে সংখ্যা বদলাতে পারে, যেমন মেডিকেলে ২০২৪-২৫ সেশনে মোট ৯.০০ লাগত, ২০২৫-২৬-এ নেমে ৮.৫০ হয়। পার্বত্য জেলার প্রার্থীদের জন্য মেডিকেলে মোট ৮.০০।
পাসের সালও মিলিয়ে নিন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স আর অন-ক্যাম্পাসে ২০২৫-২৬ সেশনে এসএসসি ২০২২ বা ২০২৩ আর এইচএসসি ২০২৪ বা ২০২৫ পাসরা আবেদন করতে পেরেছেন, প্রফেশনালে তিন বছরের এইচএসসি পাসরা। গুচ্ছের ২০২৪-২৫ সেশনে এইচএসসি ২০২৩ ও ২০২৪, দুই সালের পাসরাই সুযোগ পেয়েছিলেন। একই জিপিএ নিয়েও তাই কারও জন্য দরজা খোলা, কারও জন্য বন্ধ হতে পারে শুধু সালের কারণে।
পয়েন্ট মিললেও পাসের সাল না মিললে আবেদন হবে না। ২০২৬-২৭ সেশনে ঢাবিতে শুধু ২০২৬ সালের এইচএসসি পাসরা পারবেন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে গতবার দুই সালের এইচএসসি পাসরা আবেদন করতে পেরেছিলেন।
৩. কম জিপিএ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স: আপনার পয়েন্টে কোথায় দরজা খোলা
নিচের ভাগটা ওপরের টেবিলের শর্ত থেকেই করা, মানে শুধু আবেদনের যোগ্যতা। প্রতিটি পরীক্ষার আলাদা শর্তও মিলতে হবে।
- বিজ্ঞানে মোট ৮.৫০ বা বেশি, তিন বিষয়ে ৩.৫০: মেডিকেল, ঢাবির সব ইউনিট, গুচ্ছের এ ইউনিট আর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, সবখানেই আবেদন করা যায়।
- বিজ্ঞানে ৮.০০ থেকে ৮.৪৯: মেডিকেলের সাধারণ শর্ত মেলে না, কিন্তু ঢাবি, গুচ্ছ আর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় খোলা।
- মানবিক বা ব্যবসায় শিক্ষায় ৭.৫০ বা বেশি: ঢাবির কলা, ব্যবসায় শিক্ষা আর বিজ্ঞান ইউনিট, গুচ্ছ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন-ক্যাম্পাস ও অনার্স।
- মানবিকে ৬.০০ থেকে ৭.৪৯: ঢাবির সাধারণ ইউনিটে শর্ত মেলে না, তবে গুচ্ছের গত শর্তে বি ইউনিট (ব্যবসায় শিক্ষার সি ইউনিটে ৬.৫০), জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।
- মোট ৪.৫০ থেকে ৫.৯৯: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ও প্রফেশনাল, আর প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব শর্ত।
- মোট ৪.৫০-এর কম, বা এসএসসিতে ২.০০-এর কম: এই টেবিলের কোনো জায়গার শর্ত মেলে না। তখন পুনর্নিরীক্ষা বা পরের বছরের জিপিএ উন্নয়ন পরীক্ষার কথা ভাবুন, আর প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শর্ত আলাদা করে দেখুন।
একটা উদাহরণ ধরুন। মিতু মানবিক থেকে এসএসসিতে ৩.৮৯ আর এইচএসসিতে ৩.৪২ পেয়েছেন, মোট ৭.৩১। ঢাবির কলা ইউনিটে মোট ৭.৫০ লাগে, তাই সেখানে আবেদন হবে না। গুচ্ছের সর্বশেষ প্রকাশিত শর্তে বি ইউনিটে ৬.০০ আর প্রতিটিতে ৩.০০, তা তিনি পূরণ করেন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন-ক্যাম্পাস আর অনার্স দুটোতেই পারবেন।
৪. পয়েন্ট মিললে কী করবেন, না মিললে কী
- ১দুই জিপিএ নোট করুনমার্কশিট দেখে এসএসসি আর এইচএসসির জিপিএ, চতুর্থ বিষয়সহ আর বাদে, আলাদা লিখুন।
- ২তারিখ ধরে তালিকা বানানযেখানে শর্ত মেলে, সেগুলোর আবেদনের তারিখ পাশাপাশি লিখুন। ঢাবির আবেদন ১১ থেকে ২৫ নভেম্বর, তাই সেটাই প্রথম।
- ৩সীমার একটু নিচে হলেকোনো বিষয়ে প্রাপ্য গ্রেড পাননি মনে হলে ফলের পরদিন থেকে পুনর্নিরীক্ষার আবেদন করুন। কিন্তু তার ফলের আশায় এখনকার জিপিএতে যেখানে যোগ্য, সেখানে আবেদন থামাবেন না।
- ৪অনেক নিচে হলেজিপিএ ৫-এর কম পেয়ে পাস করলে পরের বছর জিপিএ উন্নয়ন পরীক্ষার সুযোগ আছে, তবে তখন সব বিষয়ে বসতে হয়। এর নিয়ম মানোন্নয়ন পরীক্ষার লেখায় আছে।
জিপিএ বেশি থাকলে মেধাতালিকাতেও কিছুটা সুবিধা মেলে। ঢাবিতে ১২০ নম্বরের ২০ আসে এসএসসি ও এইচএসসির ফল থেকে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০০ নম্বরের ১০০। তবে ভর্তি পরীক্ষার নম্বরই শেষ পর্যন্ত বড় পার্থক্য গড়ে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ সেশনের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন ৪ লাখ ৫৩ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী, পাসের হার ছিল ৮০.৩৬ শতাংশ। অর্থাৎ শর্ত পূরণ করে আবেদন করলে সুযোগ সত্যিই আছে, যদি পরীক্ষার প্রস্তুতি নেন।
৫. অনেকে যা জানতে চান
ঢাবিতে ভর্তির জন্য কত পয়েন্ট লাগে?
medical koto point lage?
গুচ্ছে আবেদন করতে কত পয়েন্ট লাগে?
কম জিপিএ নিয়ে কি বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়া যায়?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২৪ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।