ভর্তি

ডুয়েট ভর্তি যোগ্যতা: ডিপ্লোমায় সিজিপিএ ৩.০০, শেষ দুই বছরের পাস, ৩০০ নম্বরের পরীক্ষা আর ৭৫০ আসন

সম্পাদনা: রিহাত খানপড়তে ৬ মিনিট

হালনাগাদ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬admission.duetbd.org
ডুয়েট ভর্তি যোগ্যতা: ডিপ্লোমায় সিজিপিএ ৩.০০, শেষ দুই বছরের পাস, ৩০০ নম্বরের পরীক্ষা আর ৭৫০ আসন

সংক্ষেপে

ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট), গাজীপুরে শুধু ডিপ্লোমা পাস শিক্ষার্থীরা বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং আর স্থাপত্যে ভর্তি হতে পারেন। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রসপেক্টাসে ডুয়েট ভর্তি যোগ্যতা ছিল এসএসসিতে ন্যূনতম জিপিএ ৩.০০ (বা ৫০% নম্বর) আর ডিপ্লোমায় ন্যূনতম সিজিপিএ ৩.০০ (বা গড়ে ৬০% নম্বর)।

সবচেয়ে বড় শর্তটা পাসের সাল। ২০২৬ সালের পরীক্ষায় বসতে পেরেছেন ২০২৪ বা তার পরে ডিপ্লোমা পাস করা শিক্ষার্থীরা, তবে চাকরিরত প্রার্থীদের জন্য এই সীমা ছিল না। আবেদন ফি ১,৫০০ টাকা, পরীক্ষা ৩০০ নম্বরের, মোট আসন ৭৫০।

ডুয়েটের ভর্তি সাইট

প্রসপেক্টাস, আবেদন, যোগ্য প্রার্থীর তালিকা আর ফল এই সাইটে আসে।

ভর্তি সাইট
এই লেখায়
  1. ডুয়েট ভর্তি যোগ্যতা, এক নজরে
  2. কোন ডিপ্লোমা দিয়ে কোন বিভাগে
  3. ভর্তি পরীক্ষা: ৩০০ নম্বর, ইংরেজিতে আলাদা শর্ত
  4. আবেদনের ধাপ
  5. ভর্তির সময় যে কাগজ লাগবে
  6. অনেকে যা জানতে চান

১. ডুয়েট ভর্তি যোগ্যতা, এক নজরে

ডুয়েটে সাধারণ এইচএসসি পাস শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারেন না। এখানে ভর্তি হন ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং, ডিপ্লোমা-ইন-এগ্রিকালচার আর ডিপ্লোমা-ইন-আর্কিটেকচার পাস করা শিক্ষার্থীরা। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রসপেক্টাসে শর্তগুলো ছিল এমন:

শর্ত২০২৫-২৬ সেশনে যা ছিল
নাগরিকত্ববাংলাদেশি
এসএসসি বা সমমানন্যূনতম ৫০% নম্বর বা ৫-এর স্কেলে জিপিএ ৩.০০ (ঐচ্ছিক বিষয়সহ)
ডিপ্লোমা (কারিগরি শিক্ষা বোর্ড)গড়ে ন্যূনতম ৬০% নম্বর বা ৪-এর স্কেলে সিজিপিএ ৩.০০
ডিপ্লোমা পাসের সাল২০২৪ ও তার পরে, চাকরিরতদের বেলায় প্রযোজ্য নয়
আবেদন ফি১,৫০০ টাকা, রকেট, বিকাশ বা অগ্রণী এডুকেশন ফি পে দিয়ে

duet admission koto point lage, এই প্রশ্নের উত্তর তাই দুই ভাগে: আবেদন করতে ডিপ্লোমায় ৩.০০, আর ভর্তি পেতে ভর্তি পরীক্ষার মেধাতালিকা। ডিপ্লোমার সিজিপিএ মেধাতালিকায় যোগ হয় না, তালিকা হয় পরীক্ষার মোট নম্বরে।

একটা উদাহরণ ধরা যাক। রাকিব ২০২৪ সালে কম্পিউটার টেকনোলজি থেকে সিজিপিএ ৩.৪০ পেয়ে ডিপ্লোমা পাস করেছে, এসএসসিতে জিপিএ ৪.২০। দুটো শর্তই পূরণ, তাই সে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে আবেদন করতে পারবে। তার বন্ধু ২০২২ সালে পাস করে এখন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে। প্রসপেক্টাসে চাকরিরতদের জন্য পাসের সালের সীমা শিথিল করা ছিল, তবে আবেদন যেতে হবে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে, অনুমতিপত্রসহ।

২. কোন ডিপ্লোমা দিয়ে কোন বিভাগে

প্রতিটি বিভাগে আবেদন করা যায় নির্দিষ্ট টেকনোলজির ডিপ্লোমা দিয়ে। যেমন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে সিভিল, সার্ভেয়িং, এনভায়রনমেন্টাল আর কনস্ট্রাকশন টেকনোলজি। কম্পিউটার সায়েন্সে কম্পিউটার, ডেটা টেলিকমিউনিকেশন, ইলেকট্রনিকস, গ্রাফিক ডিজাইনসহ কয়েকটি। টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে টেক্সটাইল আর গার্মেন্টস সংক্রান্ত টেকনোলজি। নিজের টেকনোলজি কোন বিভাগে চলে, প্রসপেক্টাসের ৪ নম্বর অংশের সারণিতে মিলিয়ে নিন।

বিভাগআসন
সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং১২০
ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং১২০
মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং১২০
কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং১২০
টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং১২০
আর্কিটেকচার, আইপিই, কেমিক্যাল, ফুড, এমএমইপ্রতিটিতে ৩০
মোট৭৫০

একাধিক বিভাগে পরীক্ষা দিতে চাইলে প্রতিটির জন্য আলাদা আবেদন আর আলাদা ফি লাগে। তবে মেকানিক্যাল, আইপিই আর এমএমই, এই তিনটির জন্য একটাই আবেদন, সেখানে পছন্দক্রম দিতে হয়। মুক্তিযোদ্ধার সন্তান আর উপজাতি কোটায় নির্ধারিত আসনের বাইরে কিছু আসন সংরক্ষিত থাকে।

৩. ভর্তি পরীক্ষা: ৩০০ নম্বর, ইংরেজিতে আলাদা শর্ত

অংশবিষয় ও নম্বরসময়
এমসিকিউ, ১২০ নম্বরপদার্থ, রসায়ন, গণিত, ইংরেজি ১৫ করে, টেকনিক্যাল বিষয় ৬০১ ঘণ্টা
লিখিত, ১৮০ নম্বরপদার্থ, রসায়ন, গণিত ২৫ করে, ইংরেজি ১৫, টেকনিক্যাল বিষয় ৯০১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট

বাছাইয়ের নিয়মে একটা ফাঁদ আছে। এমসিকিউর ইংরেজিতে অন্তত ২০% নম্বর না পেলে বাকি অংশে যত ভালোই করুন, লিখিত খাতা দেখা হবে না। ইংরেজির শর্ত পূরণকারীদের মধ্য থেকে প্রতিটি বিভাগের আসনের সর্বোচ্চ পাঁচ গুণ পরীক্ষার্থীর লিখিত খাতা মূল্যায়ন করা হয়। তারপর এমসিকিউ আর লিখিত মিলিয়ে মেধাতালিকা।

এমসিকিউর উত্তরপত্র আইএক্সআর পদ্ধতিতে মেশিনে দেখা হয়, সঠিক অপশনে কালো বলপয়েন্টে ক্রস চিহ্ন দিতে হয়। পরীক্ষায় সাধারণ ক্যালকুলেটর চলে, প্রোগ্রামেবল ক্যালকুলেটর বা স্মার্ট ডিভাইস নয়।

কী পড়বেন, তাও প্রসপেক্টাসে দেওয়া আছে। শেষের পাতাগুলোতে পদার্থ, রসায়ন, গণিত, ইংরেজি আর প্রতিটি টেকনিক্যাল বিষয়ের ভর্তি পরীক্ষার সিলেবাস আলাদা করে লেখা। টেকনিক্যাল অংশে এমসিকিউ আর লিখিত মিলিয়ে ১৫০ নম্বর, মোটের অর্ধেক। তাই নিজের টেকনোলজির মূল বিষয়গুলো ঝালিয়ে নেওয়া এখানে সবচেয়ে বেশি কাজে দেয়।

৪. আবেদনের ধাপ

  • ১
    প্রসপেক্টাস পড়ুনভর্তি সাইট থেকে প্রসপেক্টাস নামিয়ে নিজের টেকনোলজি আর বিভাগ মিলিয়ে নিন।
  • ২
    মোবাইল নম্বর যাচাইসাইটের Apply Now থেকে ঘোষণায় সম্মতি দিয়ে মোবাইল নম্বর দিন, চার অঙ্কের কোড এলে তা দিয়ে যাচাই করুন। একটি নম্বর একাধিক আবেদনকারী ব্যবহার করতে পারেন না।
  • ৩
    ফি দিনপর্দায় আসা Payment ID দিয়ে ১,৫০০ টাকা দিন। বিজ্ঞপ্তির সারণিতে বিকাশ ও রকেটে ১% সার্চার্জ দেখানো ছিল।
  • ৪
    ফরম পূরণ ও প্রবেশপত্রমোবাইল নম্বর আর পাসওয়ার্ড দিয়ে ঢুকে ফরম পূরণ করুন। যোগ্য প্রার্থীর তালিকা প্রকাশের পর প্রবেশপত্র নামিয়ে রঙিন প্রিন্ট করুন।
পরের সেশনের সম্ভাব্য সময়

২০২৫-২৬ সেশনে আবেদন চলেছিল ১২ মে থেকে ২২ জুন ২০২৬, পরীক্ষা ২ আগস্ট আর ফল ৪ আগস্ট। এই ধারা চললে ২০২৬-২৭ সেশনের বিজ্ঞপ্তি সম্ভাব্য ২০২৭ সালের মাঝামাঝি আসবে। তারিখ চূড়ান্ত হবে ডুয়েটের নতুন প্রসপেক্টাসে।

৫. ভর্তির সময় যে কাগজ লাগবে

মূল কপি ও সত্যায়িত ফটোকপি

আবেদনে দেওয়া কোনো তথ্য ভুল প্রমাণিত হলে আবেদন বাতিল হয়, ভুল করে ভর্তি হয়ে গেলেও পরে ধরা পড়লে ভর্তি বাতিল হয়। আবেদন সংক্রান্ত সমস্যায় admission@duet.ac.bd ঠিকানায় ইমেইল করা যায়, অফিস সময়ে প্রসপেক্টাসে দেওয়া হেল্পলাইন নম্বরেও যোগাযোগ করা যায়।

ভর্তির জন্য নির্বাচিত হলে নির্দিষ্ট দিনে সনদ যাচাই হয়, তারপর ভর্তি। ওয়েটিং লিস্ট থেকেও কয়েক দফায় প্রার্থী নেওয়া হয়, যেমন ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে এমএমই আর আইপিই বিভাগের ওয়েটিং লিস্ট প্রকাশ হয়েছিল। তাই প্রথম তালিকায় নাম না এলেও ডুয়েটের নোটিশ দেখা বন্ধ করবেন না।

৬. অনেকে যা জানতে চান

duet admission koto point lage?
২০২৫-২৬ সেশনে আবেদন করতে ডিপ্লোমায় ৪-এর স্কেলে সিজিপিএ ৩.০০ বা গড়ে ৬০% নম্বর আর এসএসসিতে জিপিএ ৩.০০ লেগেছে। ভর্তি নিশ্চিত হয় পরীক্ষার মেধাতালিকায়।
পুরোনো সালের ডিপ্লোমা দিয়ে কি ডুয়েটে আবেদন করা যায়?
২০২৬ সালের পরীক্ষায় ২০২৪ ও পরের সালের পাসরাই আবেদন করতে পেরেছেন। সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা করপোরেশনসহ অন্য পদে চাকরিরতদের জন্য এই সীমা ছিল না, তবে তাঁদের কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদন করতে হয়।
এইচএসসি পাস করে কি ডুয়েটে ভর্তি হওয়া যায়?
না। ডুয়েটে শুধু ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং, এগ্রিকালচার বা আর্কিটেকচার পাস শিক্ষার্থীরা ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে ভর্তি হন।
ডুয়েট ভর্তি পরীক্ষায় কত নম্বর?
মোট ৩০০: এমসিকিউ ১২০ আর লিখিত ১৮০। এমসিকিউর ইংরেজিতে অন্তত ২০% না পেলে লিখিত খাতা মূল্যায়ন হয় না।

এরপর পড়তে পারেন

যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি

জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২৩ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।

সরকারি সাইট

আরও পড়ুন

এ বিষয়ে আরও লেখা

সব লেখা
ভর্তি

সেকেন্ড টাইম কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা দেওয়া যায়: ২০২৬-২৭ সেশনের হিসাব

ঢাবিতে এবার সুযোগ নেই। গত সেশনে কোথায় দ্বিতীয়বার পরীক্ষা দেওয়া গেছে, মেডিকেলে কত নম্বর কাটে, বিজ্ঞপ্তিতে কী দেখবেন।
ভর্তি

ভর্তি পরীক্ষার আবেদন করতে কি কি লাগে: তথ্য, ছবির মাপ, ফি আর প্রবেশপত্র

রোল-রেজিস্ট্রেশন, ছবির মাপ, সেলফি, বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে ফি আর প্রবেশপত্র নামানোর নিয়ম, আবেদনের আগেই গুছিয়ে নিন।
ভর্তি

বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা ২০২৬ কবে হবে: এইচএসসির পর আবেদন আর পরীক্ষার সূচি

এইচএসসির ফলের পর কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদন কবে, পরীক্ষা কবে, কোথায় তারিখ মিলে যাচ্ছে: ২০২৬-২৭ সেশনের সূচি।

অনেকে খোঁজেন