
সংক্ষেপে
গুচ্ছ সাবজেক্ট চয়েস হয় ভর্তি পরীক্ষার ফলের পর, পাস করা শিক্ষার্থীরা গুচ্ছের ভর্তি সাইটে বিশ্ববিদ্যালয় আর বিষয়ের পছন্দক্রম জমা দেন। ২০২৫-২৬ সেশনে শেষ ইউনিটের পরীক্ষা ছিল ১০ এপ্রিল ২০২৬, আর প্রথম পর্যায়ের বিশ্ববিদ্যালয় পছন্দক্রম ও সাবজেক্ট চয়েসের ফল এসেছিল ৫ জুন ২০২৬।
ফলে নাম এলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অনলাইনে ৫,০০০ টাকা দিয়ে প্রাথমিক ভর্তি করতে হয়, না করলে পরে কোনো গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে আর বিবেচনা করা হয় না। প্রথম ভর্তির পর পরের তালিকাগুলোতে ওপরের পছন্দে সরে যাওয়া বা মাইগ্রেশন চলে, পছন্দের বিষয় পেলে স্টপ মাইগ্রেশন দিয়ে আটকে দেওয়া যায়।
পছন্দক্রম জমা, মেধাতালিকা, প্রাথমিক ভর্তি আর স্টপ মাইগ্রেশন সবই এই সাইটের লগইন থেকে হয়।
এই লেখায়
১. গুচ্ছ সাবজেক্ট চয়েস কবে শুরু হয়
গুচ্ছের সাবজেক্ট চয়েসের নির্দিষ্ট তারিখ প্রতি বছর আলাদা নোটিশে আসে। গত দুই সেশনের ধারা দেখলে বোঝা যায়, শেষ ইউনিটের পরীক্ষার পর মোটামুটি দেড় থেকে দুই মাসের মধ্যে পছন্দক্রমের কাজ হয়। এটি গত বছরের হিসাব থেকে করা ধারণা, নতুন সেশনের তারিখ ভর্তি কমিটি জানাবে।
| সেশন | পরীক্ষা শেষ | পছন্দক্রমের সময় |
|---|---|---|
| ২০২৩-২৪ | ১০ মে ২০২৪, সি ইউনিট | ২০ থেকে ২৮ মে ২০২৪ |
| ২০২৫-২৬ | ১০ এপ্রিল ২০২৬, এ ইউনিট | প্রথম পর্যায়ের ফল ৫ জুন ২০২৬ |
২০২৫-২৬ সেশনে গুচ্ছে ছিল ২০টি সাধারণ ও বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। পরীক্ষা হয়েছিল সি ইউনিট ২৭ মার্চ, বি ইউনিট ৩ এপ্রিল আর এ ইউনিট ১০ এপ্রিল। পাস নম্বর ছিল ৩০, প্রতি ভুল উত্তরে কাটা গেছে ০.২৫। পাস না করলে পছন্দক্রম দেওয়ার সুযোগই থাকে না, আর পাস করলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব শর্ত পূরণ করতে হয়।
২. কিভাবে সাবজেক্ট চয়েস দিব: ধাপগুলো
- ১ফল আর নিজের অবস্থান দেখুনইউনিটের ফল প্রকাশ হলে গুচ্ছের সাইটে রোল দিয়ে নম্বর আর মেধাক্রম দেখে নিন। কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন বিষয়ে কত আসন, তা সাইটের তালিকায় থাকে।
- ২আবেদনের লগইনে ঢুকুনলগইনের নিয়ম ভর্তি নির্দেশিকায় দেওয়া থাকে, আর এতে ভর্তি পরীক্ষার রোলসহ আবেদনের তথ্য কাজে লাগে। তাই আবেদনের কপি আর প্রবেশপত্র যত্ন করে রাখুন।
- ৩বিশ্ববিদ্যালয়ের পছন্দক্রম দিনযে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়তে রাজি, শুধু সেগুলো ওপর থেকে নিচে সাজান। যেখানে কোনোভাবেই যাবেন না, সেটি তালিকায় রাখবেন না।
- ৪বিষয়ের পছন্দক্রম দিনপ্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে বিষয়গুলো আপনার আগ্রহ অনুযায়ী সাজান। বিষয় ভেদে আলাদা শর্ত, যেমন নির্দিষ্ট বিষয়ে জিপিএ, থাকলে সেটা আগে মিলিয়ে নিন।
- ৫ফি দিয়ে জমা নিশ্চিত করুননির্দেশনা অনুযায়ী ফি দিয়ে জমা দিন আর জমার কপি বা স্ক্রিনশট রাখুন। পরে কোনো প্রশ্ন উঠলে এটাই আপনার প্রমাণ।
লগইনের পদ্ধতি আর জমার ধাপ প্রতি বছর অনলাইন ভর্তি নির্দেশিকায় দেওয়া হয়, সঙ্গে নির্দেশনামূলক ভিডিও থাকে। পছন্দক্রম দেওয়ার আগে নির্দেশিকাটা একবার পুরো পড়ে নিন।
৩. সাবজেক্ট চয়েস দিতে কি টাকা লাগে
লাগতে পারে, আর অঙ্কটা সেশনভেদে বদলায়। ইত্তেফাক ২০২৪ সালের মে মাসে জানিয়েছিল, ২০২৩-২৪ সেশনে বিভাগ পছন্দক্রমের সময় প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে আবেদন ফি ছিল ৫০০ টাকা। অর্থাৎ বেশি বিশ্ববিদ্যালয় বাছলে খরচ বাড়ে।
এর বাইরে মেধাতালিকায় নাম এলে প্রাথমিক ভর্তির ফি আলাদা। ২০২৫-২৬ সেশনে এটি ছিল ৫,০০০ টাকা। নতুন সেশনের ফি নোটিশে দেখে নিন, আর মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে আগে থেকে টাকা রাখুন, কারণ সময় খুব কম থাকে।
দশটি বিশ্ববিদ্যালয় বাছলে প্রতিটিতে ৫০০ টাকা ধরলে শুধু পছন্দক্রমেই ৫,০০০ টাকা যায়। যেখানে সত্যিই পড়বেন, শুধু সেগুলো রাখলে টাকা আর পরে ঝামেলা দুটোই কমে।
৪. ফল এলে প্রাথমিক ভর্তি: সময় খুব কম
২০২৫-২৬ সেশনের প্রথম পর্যায়ের নিয়মগুলো প্রথম আলোর ৬ জুন ২০২৬-এর খবরে এভাবে এসেছিল:
| কাজ | সময় (প্রথম পর্যায়) |
|---|---|
| অনলাইনে প্রাথমিক ভর্তি ও ৫,০০০ টাকা ফি | ৭ জুন দুপুর ১২টা থেকে ১০ জুন রাত ১১টা ৫৯ মিনিট |
| মূল কাগজ জমা, যেকোনো গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে | ৮ থেকে ১১ জুন, সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা |
মূল কাগজ জমার সময় যা লাগে
সময়ের মধ্যে প্রাথমিক ভর্তি না করলে পরে কোটাসহ কোনো গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবেচনা করা হয় না। টাকা দিয়েও মূল কাগজ না দিলে ভর্তি বাতিল হয়। আর প্রাথমিক ভর্তি নিজে বাতিল করলেও পরে আর সুযোগ থাকে না।
৫. মাইগ্রেশন আর স্টপ মাইগ্রেশন কী
প্রথম তালিকায় আপনি হয়তো পছন্দক্রমের পঞ্চম বিষয় পেলেন। পরের তালিকাগুলোতে কেউ ভর্তি না হলে বা বাতিল করলে আসন খালি হয়, তখন মেধাক্রম ধরে আপনি ওপরের পছন্দে সরে যেতে পারেন। একেই মাইগ্রেশন বলে, আর এটা নিজে থেকে হয় যতক্ষণ আপনি থামাতে না বলেন।
পছন্দের বিষয় পেয়ে গেলে বা আর বদল চান না, তখন স্টপ মাইগ্রেশন দেন। প্রথম আলো জানিয়েছে, একবার কোনো বিভাগে মাইগ্রেশন বন্ধ করলে স্বয়ংক্রিয় মাইগ্রেশন আর চালু করা যায় না। তাই রাগে বা তাড়াহুড়োয় এই বোতাম চাপবেন না।
২০২৫-২৬ সেশনে পাঁচ পর্যায়ে তালিকা হয়েছে। পঞ্চম ও শেষ তালিকা এসেছিল ৩ জুলাই রাতে, প্রাথমিক ভর্তি ৪ জুলাই দুপুর ১২টা থেকে ৫ জুলাই দুপুর ১২টা, স্টপ মাইগ্রেশনের দ্বিতীয় সুযোগ ৫ জুলাই বিকেল ৩টা পর্যন্ত। চূড়ান্ত ভর্তি হয়েছে ৮ থেকে ১৩ জুলাই, আর সব বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস শুরু ১৫ জুলাই।
৬. পছন্দক্রম সাজানোর আগে নিজেকে যে প্রশ্নগুলো করবেন
- এই বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকার খরচ আর যাতায়াত সামলাতে পারব কি না।
- বিষয়টি নিয়ে চার বছর পড়ার আগ্রহ আছে কি না, শুধু নামের জন্য নয়।
- আমার মেধাক্রমে আগের বছর এই বিষয়ে ভর্তির সুযোগ ছিল কি না, সাইটের আগের তালিকা দেখে।
- অন্য কোথাও, যেমন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বা আলাদা পরীক্ষার বিশ্ববিদ্যালয়ে, আগে থেকে ভর্তি হয়ে আছি কি না, আর সেটা বাতিলের নিয়ম কী।
উদাহরণ: নাদিয়ার মেধাক্রম মাঝামাঝি। তিনি প্রথমে বাড়ির কাছের দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পছন্দের বিষয় রাখলেন, তারপর দূরের নামী বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন বিষয়, যেখানে সত্যিই পড়বেন। শেষে রাখলেন নিরাপদ বিকল্প। এতে প্রথম তালিকায় কিছু একটা পাওয়ার সম্ভাবনা থাকল, আর মাইগ্রেশনে ওপরে ওঠার পথও খোলা রইল।
৭. অনেকে যা জানতে চান
গুচ্ছ সাবজেক্ট চয়েস কবে শুরু হবে?
সাবজেক্ট চয়েস দিতে কি টাকা লাগে?
gst subject choice result কোথায় দেখব?
স্টপ মাইগ্রেশন দিলে কি আবার চালু করা যায়?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২৫ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।