
সংক্ষেপে
বাংলাদেশে এখন শিক্ষা বোর্ড ১১টি। এর মধ্যে ৯টি সাধারণ মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড: ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, যশোর, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর আর ময়মনসিংহ। বাকি দুটি হলো বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড আর বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড।
শিক্ষা বোর্ডের সমন্বিত ফলাফলের সাইটে বোর্ড বাছাইয়ের তালিকাতেও এই ১১টি নামই আছে। যুগান্তরের ১২ অক্টোবর ২০২৬-এর খবরেও বলা হয়েছে, এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা দিয়েছে।
১১টি বোর্ডের এসএসসি, এইচএসসি ও সমমান ফল এক সাইটে, বোর্ড বেছে রোল আর রেজিস্ট্রেশন দিন।
এই লেখায়
১. বাংলাদেশের শিক্ষা বোর্ড কয়টি ও কি কি: পুরো তালিকা
নিচের টেবিলে ১১টি বোর্ডের নাম আর সরকারি ওয়েবসাইট দেওয়া আছে। ওয়েবসাইটের ঠিকানাগুলো আমরা ২৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে খুলে দেখেছি। নোটিশ, ফরম পূরণের বিজ্ঞপ্তি আর সনদ সংশোধনের তথ্য নিজ নিজ বোর্ডের সাইটে আসে।
| বোর্ড | ধরন | ওয়েবসাইট |
|---|---|---|
| ঢাকা শিক্ষা বোর্ড | সাধারণ | dhakaeducationboard.gov.bd |
| রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড | সাধারণ | rajshahieducationboard.gov.bd |
| কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড | সাধারণ | comillaboard.gov.bd |
| যশোর শিক্ষা বোর্ড | সাধারণ | jessoreboard.gov.bd |
| চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড | সাধারণ | bise-ctg.gov.bd |
| বরিশাল শিক্ষা বোর্ড | সাধারণ | barisalboard.gov.bd |
| সিলেট শিক্ষা বোর্ড | সাধারণ | sylhetboard.gov.bd |
| দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড | সাধারণ | dinajpureducationboard.gov.bd |
| ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ড | সাধারণ | mymensingheducationboard.gov.bd |
| বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড | মাদ্রাসা | bmeb.gov.bd |
| বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড | কারিগরি | bteb.gov.bd |
সাধারণ বোর্ডগুলোর পুরো নাম মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, তারপর শহরের নাম। যেমন ঢাকার বোর্ডের পুরো নাম মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা। ফলের সাইটে এগুলো ইংরেজি বানানে থাকে: Barisal, Chittagong, Comilla, Dhaka, Mymensingh, Dinajpur, Jessore, Rajshahi, Sylhet, Madrasah আর Technical।
মনে রাখুন, বোর্ডের অধীনে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো ঠিক হয় এলাকা ধরে। একই জেলার স্কুল সাধারণত একই বোর্ডে থাকে, তবে নিজের প্রতিষ্ঠান কোন বোর্ডে, তা প্রতিষ্ঠানের কাগজ দেখে নিশ্চিত হওয়াই ভালো। অনুমানে অন্য বোর্ডের সাইটে আবেদন করলে সেটি গ্রহণ হয় না।
২. কোন বোর্ড কোন পরীক্ষা নেয়
- ৯টি সাধারণ বোর্ড: এসএসসি আর এইচএসসি, নিজ নিজ এলাকার স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য। জুনিয়র বৃত্তির মতো কিছু পরীক্ষার আয়োজনেও এরা থাকে।
- মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড: দাখিল আর আলিম, যেগুলো এসএসসি আর এইচএসসির সমমান।
- কারিগরি শিক্ষা বোর্ড: এসএসসি ও এইচএসসি ভোকেশনাল, এইচএসসি বিএমটি, ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং, কৃষি, মৎস্য, টেক্সটাইলসহ নানা ডিপ্লোমা আর স্বল্পমেয়াদি কোর্সের পরীক্ষা।
উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএসসি ও এইচএসসি এই ১১টি বোর্ডের বাইরে, এর ফল আর সনদ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় নিজেই দেয়। তাই সেখানকার শিক্ষার্থীরা বোর্ডের সাইটে নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ব্যবস্থায় ফল দেখেন।
তাই দাখিল পাস করা কেউ এইচএসসিতে সাধারণ কলেজে ভর্তি হলে তাঁর দুই সনদ দুই বোর্ডের হবে: দাখিলের সনদ মাদ্রাসা বোর্ডের, এইচএসসির সনদ সাধারণ বোর্ডের। পরে কোনো সংশোধন লাগলে কোন সনদ, সেটা দেখে বোর্ড বাছতে হবে।
৩. আন্ত শিক্ষা বোর্ড কি
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড আলাদা কোনো বোর্ড নয়, এটি বোর্ডগুলোর একটি সমন্বয় কমিটি। পুরো নাম বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। পরীক্ষার সূচি, ফল প্রকাশের তারিখের মতো সব বোর্ডের অভিন্ন সিদ্ধান্ত এই কমিটির মাধ্যমে আসে।
যুগান্তরের ১২ অক্টোবর ২০২৬-এর খবরে কমিটির সভাপতি হিসেবে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামানের নাম আছে, যিনি এইচএসসির ফল প্রকাশের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছিলেন। এ কারণে ফলের তারিখের খবর প্রায়ই ঢাকা বোর্ড থেকে আসে।
সাধারণ শিক্ষার্থীর জন্য এর মানে সহজ: ফলের তারিখ, পরীক্ষার সূচি বা পুনর্নিরীক্ষার সময়ের মতো খবর যখন আসে, তখন সেটি সব বোর্ডের জন্য একসঙ্গে প্রযোজ্য হয়। তবে ফরম পূরণের ফি, দ্বি-নকল বা সংশোধনের প্রক্রিয়া নিজ নিজ বোর্ডের নোটিশে আলাদা থাকতে পারে।
৪. আমার শিক্ষা বোর্ড কোনটি, চিনবেন যেভাবে
- ১রেজিস্ট্রেশন কার্ড দেখুননবম বা একাদশে রেজিস্ট্রেশনের পর যে কার্ড পেয়েছেন, তাতে বোর্ডের নাম ছাপা থাকে।
- ২প্রবেশপত্র মিলিয়ে নিনপরীক্ষার প্রবেশপত্রেও বোর্ডের নাম থাকে। মিলিয়ে নিন, পরীক্ষার সময় ওএমআরেও এই নামটিই লিখতে হয়।
- ৩প্রতিষ্ঠান জিজ্ঞেস করুনকার্ড হাতে না থাকলে নিজের স্কুল বা কলেজের অফিসে জিজ্ঞেস করুন, প্রতিষ্ঠানটি কোন বোর্ডের অধীনে।
অন্য জেলায় গিয়ে ভর্তি হলে এসএসসি এক বোর্ডে আর এইচএসসি আরেক বোর্ডে হতে পারে। তখন সনদ সংশোধন বা দ্বি-নকলের জন্য যে বোর্ডের সনদ, সেই বোর্ডেই আবেদন করতে হয়।
৫. কোন কাজে কোথায় যাবেন
| কাজ | কোথায় |
|---|---|
| এসএসসি, এইচএসসি, দাখিল, আলিমের ফল | সমন্বিত ফলাফলের সাইট, বোর্ড বেছে |
| পুনর্নিরীক্ষা বা বোর্ড চ্যালেঞ্জ | ফলের পর বোর্ডের ঘোষিত অনলাইন ব্যবস্থায় |
| সনদে নাম বা জন্মতারিখ সংশোধন | যে বোর্ড সনদ দিয়েছে, সেই বোর্ড |
| নম্বরপত্র বা সনদের দ্বি-নকল | নিজ বোর্ড, অনলাইন আবেদনে |
| ডিপ্লোমার ফল | কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ফলাফলের সাইট |
বোর্ডে সরাসরি যাওয়ার আগে নিজের বোর্ডের সাইটে সংশ্লিষ্ট নোটিশটি পড়ে নিন। বেশির ভাগ আবেদন এখন অনলাইনে শুরু হয়, আর কোন কাগজ নিয়ে যেতে হবে তা নোটিশেই লেখা থাকে।
৬. বোর্ডে যাওয়ার আগে যা গুছিয়ে নেবেন
বোর্ডের কাজ এখন বেশির ভাগই অনলাইনে শুরু হয়, তারপর দরকার হলে কাগজ নিয়ে সশরীরে যেতে হয়। দূরের জেলা থেকে বোর্ডে যাওয়া মানে এক দিনের খরচ আর সময়, তাই একবারেই কাজ শেষ করতে চাইলে আগে থেকে প্রস্তুতি নিন।
সঙ্গে রাখুন
উদাহরণ ধরুন, শারমিন যশোর বোর্ড থেকে এসএসসি আর ঢাকা বোর্ড থেকে এইচএসসি দিয়েছেন। এসএসসি সনদে মায়ের নামের বানান ভুল থাকলে তাঁকে যশোর বোর্ডেই আবেদন করতে হবে, ঢাকা বোর্ডে গেলে ফিরিয়ে দেবে। আর এইচএসসির নম্বরপত্র হারালে যাবেন ঢাকা বোর্ডে। কোন কাগজ কোন বোর্ডের, এটা আগে ঠিক করে নিলে অর্ধেক ঝামেলা কমে যায়।
ফোন বা ইমেইলে প্রশ্ন করতে চাইলে নিজের বোর্ডের সাইটে যোগাযোগ বা হেল্পলাইন অংশ দেখুন। নম্বরগুলো বোর্ডভেদে আলাদা আর মাঝে মাঝে বদলায়, তাই অন্য সাইট থেকে পাওয়া পুরোনো নম্বরের ওপর ভরসা করবেন না।
৭. অনেকে যা জানতে চান
বর্তমানে শিক্ষা বোর্ড কয়টি ও কি কি?
মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড কয়টি?
আন্ত শিক্ষা বোর্ড কি?
shikkha board er website কোনটি?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২৫ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।