
সংক্ষেপে
এমসিকিউতে ফেল করলে সৃজনশীলে যত নম্বরই পান, ওই বিষয়ে গ্রেড আসে F। কারণ শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনায় স্পষ্ট লেখা, প্রত্যেক পরীক্ষার্থীকে সৃজনশীল বা রচনামূলক, বহুনির্বাচনি আর ব্যবহারিক অংশে পৃথকভাবে পাস করতে হবে। একটি আবশ্যিক বিষয়ে F মানে পুরো ফল অকৃতকার্য।
এমসিকিউ পাস মার্ক কত, এই প্রশ্নের উত্তর অংশের পূর্ণমানের ওপর নির্ভর করে, সাধারণ বিষয়ে এমসিকিউ ৩০ নম্বরের আর ব্যবহারিক আছে এমন বিষয়ে ২৫ নম্বরের। ফেল এলে হাতে তিনটি পথ: সাত দিনের মধ্যে পুনর্নিরীক্ষা, পরের পরীক্ষায় শুধু ফেল করা বিষয়, আর এবারের এইচএসসিতে সম্ভাব্য দ্রুত পরীক্ষার সিদ্ধান্তের খোঁজ রাখা।
সরকারি ফলাফল সাইটে রোল ও রেজিস্ট্রেশন দিয়ে প্রতিটি বিষয়ের গ্রেড দেখা যায়।
এই লেখায়
১. নিয়মটা কী: তিন অংশে আলাদা পাস
এসএসসি ২০২৬ শুরুর আগে শিক্ষা বোর্ড পরীক্ষার্থীদের যে নির্দেশনা দিয়েছিল, তাতে লেখা ছিল, সৃজনশীল বা রচনামূলক (তত্ত্বীয়), বহুনির্বাচনি আর ব্যবহারিক অংশে পৃথকভাবে পাস করতে হবে। এইচএসসির নির্দেশনাতেও একই কথা থাকে। মানে তিনটি অংশের নম্বর যোগ করে পাস-ফেল ঠিক হয় না, প্রতিটি অংশকে আলাদা করে পার হতে হয়।
নম্বরের ভাগটা মনে রাখলে বিষয়টা সহজ হয়। এইচএসসির প্রচলিত কাঠামোয় সাধারণ বিষয়ে এমসিকিউ ৩০ আর সৃজনশীল ৭০ নম্বরের। যেসব বিষয়ে ব্যবহারিক আছে, সেখানে এমসিকিউ ২৫, সৃজনশীল ৫০ আর ব্যবহারিক ২৫। এমসিকিউ হয় আগে, ৩০ মিনিটে, তারপর বিরতি ছাড়াই সৃজনশীল অংশ।
বোর্ডের গ্রেডিংয়ে কোনো বিষয়ে ৩৩-এর কম নম্বর মানে F। আর কোনো আবশ্যিক বিষয়ে F থাকলে জিপিএ হিসাবই হয় না, ফলে লেখা থাকে অকৃতকার্য। চতুর্থ বিষয়ের F অবশ্য এই হিসাবে ধরা হয় না।
উল্টোটাও সত্যি। এমসিকিউতে পুরো নম্বর পেয়ে সৃজনশীলে পাস নম্বর না তুললেও বিষয়টি F। ব্যবহারিক আছে এমন বিষয়ে ব্যবহারিক অংশেও আলাদা করে পাস করতে হয়। ব্যবহারিক পরীক্ষা হয় নিজের কেন্দ্রে, তাই সেটাকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।
২. এমসিকিউ পাস মার্ক কত: কোথায় মিলিয়ে নেবেন
বোর্ডের নির্দেশনায় তিন অংশে আলাদা পাসের কথা স্পষ্ট, কিন্তু অংশভিত্তিক পাস নম্বর সংখ্যা দিয়ে সেখানে লেখা থাকে না। পূর্ণমানও সব বিষয়ে এক নয়: সাধারণ বিষয়ে এমসিকিউ সাধারণত ৩০ নম্বরের, আর ব্যবহারিক আছে এমন বিষয়ে ২৫ নম্বরের। সংক্ষিপ্ত সিলেবাস বা নতুন মানবণ্টন এলে এই অঙ্কও বদলায়।
শুনে শুনে কোনো সংখ্যা ধরে নেবেন না। নিজের বিষয়ের এমসিকিউ, সৃজনশীল আর ব্যবহারিকে কত পেলে পাস, তা বিষয় শিক্ষকের কাছে বা বোর্ডের সর্বশেষ মানবণ্টন ও নম্বর বিভাজনের বিজ্ঞপ্তিতে মিলিয়ে নিন। টেস্ট পরীক্ষার আগেই জেনে রাখলে কোন অংশে বেশি জোর দেবেন, ঠিক করা সহজ হয়।
৩. এমসিকিউতে ফেল করলে কি হবে, ধাপে ধাপে
- ১বিষয়ভিত্তিক গ্রেড দেখুনফলের পাতায় প্রতিটি বিষয়ের পাশে গ্রেড থাকে, নম্বর থাকে না। কোন বিষয়ে F এসেছে সেটা আগে লিখে রাখুন। কোন অংশে নম্বর কম পড়েছে তা এই পাতা থেকে জানা যায় না।
- ২পুনর্নিরীক্ষা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিনফল প্রকাশের পর সাত দিনের মধ্যে অনলাইনে পুনর্নিরীক্ষার আবেদন করতে হয়, ফি প্রতি পত্র ১৫০ টাকা। এমসিকিউ মেশিনে দেখা হয়, তাই সেখানে নতুন করে নম্বর বাড়ে না। তবে প্রাপ্ত নম্বর ওএমআরে ঠিকভাবে তোলা হয়েছে কি না, যোগে ভুল আছে কি না, এসব মিলিয়ে দেখা হয়।
- ৩পরের পরীক্ষার প্রস্তুতি নিনপুনর্নিরীক্ষায় না বদলালে পরের বছরের পরীক্ষায় অনিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে ফরম পূরণ করতে হয়। বোর্ডের সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তিগুলোতে চতুর্থ বিষয় বাদে কয়েকটি বিষয়ে ফেল করলে শুধু সেই বিষয়ে বসার সুযোগ ছিল। শর্ত প্রতি বছরের ফরম পূরণের বিজ্ঞপ্তিতে আসে।
প্রথম আলো ১২ অক্টোবর জানিয়েছে, ফেল করা বিষয়ে তিন মাসের মধ্যে পরীক্ষা নিতে বোর্ডগুলো প্রস্তুত। কয়টি বিষয়ে ফেল করলে সুযোগ মিলবে, সেই সিদ্ধান্ত মন্ত্রণালয়ের, তখনো চূড়ান্ত হয়নি। ফলের দিন বোর্ডের বিজ্ঞপ্তি দেখুন।
৪. যে ভুলে এমসিকিউতে নম্বর হারায়
অনেকে প্রশ্ন জানলেও ওএমআর পূরণে ভুল করে নম্বর হারান। বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী ওএমআর ফরমে রোল, রেজিস্ট্রেশন নম্বর আর বিষয় কোড বলপয়েন্ট কলমে লিখে সংশ্লিষ্ট বৃত্ত ভরাট করতে হয়, আর উত্তরপত্র কোনোভাবেই ভাঁজ করা যায় না। মেশিন যা পড়ে, নম্বর সেভাবেই ওঠে।
পরের পরীক্ষার আগে মিলিয়ে নিন
সময়ও বড় ব্যাপার। ৩০ মিনিটে ৩০টি প্রশ্ন, প্রতি প্রশ্নে এক মিনিট। কঠিন প্রশ্নে আটকে না থেকে আগে জানা উত্তরগুলো ভরাট করে নিন, শেষে বাকিগুলোতে ফিরুন।
৫. পরিবারের জন্য দুটি কথা
সৃজনশীলে ভালো নম্বর পেয়েও এমসিকিউর জন্য ফেল আসা হতাশার। তবে এটা প্রস্তুতির একটা নির্দিষ্ট দুর্বলতা দেখায়, পুরো পড়াশোনার নয়। পরের বার এমসিকিউ অনুশীলনে আলাদা সময় দিলে ফল বদলানো সম্ভব।
পুনর্নিরীক্ষার আবেদন করবেন কি না, সেটা ঠিক করুন প্রত্যাশা আর ফির হিসাব মিলিয়ে। একটি বিষয়ে অল্প নম্বরের জন্য F এলে আবেদন করা যায়, কারণ যোগ বা ওএমআরে তোলার ভুল ধরা পড়লে ফল বদলায়।
আর একটি ব্যবহারিক পরামর্শ। ফলের পর যাঁরা অকৃতকার্য হন, তাঁদের অনেকে কোন বিষয়ে ফেল সেটা জানেন, কিন্তু কোন অংশে, তা জানেন না। কলেজে খোঁজ নিন, পরের বছরের ফরম পূরণের সময় কোন কোন বিষয়ে বসতে হবে, সেটা কলেজই বোর্ডের বিজ্ঞপ্তি মিলিয়ে ঠিক করে দেয়। প্রস্তুতির সময় দুর্বল অংশ ধরে আলাদা অনুশীলন করুন, শুধু সৃজনশীল লিখে গেলে একই ঘটনা আবার ঘটতে পারে।
৬. অনেকে যা জানতে চান
mcq te fail korle ki hobe hsc?
৩০ নম্বরের এমসিকিউতে কত পেলে পাস?
পুনর্নিরীক্ষায় কি এমসিকিউর নম্বর বাড়ে?
চতুর্থ বিষয়ের এমসিকিউতে ফেল করলে কি পুরো ফল ফেল?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২৩ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।