শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল

এডমিট কার্ড হারিয়ে গেলে করণীয়: এসএসসি-এইচএসসির প্রবেশপত্র আর রেজিস্ট্রেশন কার্ডের দ্বি-নকল তুলবেন যেভাবে

সম্পাদনা: রিহাত খানপড়তে ৬ মিনিট

হালনাগাদ: ২১ অক্টোবর ২০২৬এসএমএসে ফল ১৬২২২gd.police.gov.bd
এডমিট কার্ড হারিয়ে গেলে করণীয়: এসএসসি-এইচএসসির প্রবেশপত্র আর রেজিস্ট্রেশন কার্ডের দ্বি-নকল তুলবেন যেভাবে

সংক্ষেপে

এসএসসি বা এইচএসসির এডমিট কার্ড (প্রবেশপত্র) হারালে শিক্ষা বোর্ড থেকে দ্বি-নকল কপি তোলা যায়। সাধারণ পথ তিন ধাপের: থানায় জিডি, একটি দৈনিক পত্রিকায় হারানো বিজ্ঞপ্তি, তারপর নিজের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বোর্ডে আবেদন। রেজিস্ট্রেশন কার্ড হারালেও পথ একই।

চট্টগ্রাম বোর্ডের ফরমে দ্বি-নকল প্রবেশপত্রের ফি ২০০ টাকা, রেজিস্ট্রেশন কার্ডেরও ২০০ টাকা। প্রতি কাগজে আরও ২০০ টাকা দিলে ৩ কর্মদিবসের মধ্যে পাওয়া যায়। কুমিল্লা বোর্ডে আবেদন হয় অনলাইনে, ঢাকা বোর্ডেও অনলাইনে আবেদনের ব্যবস্থা আছে।

অনলাইনে জিডি করুন

হারানো কাগজের জিডি বাংলাদেশ পুলিশের অনলাইন জিডি সাইট থেকেও করা যায়।

জিডি করুন
এই লেখায়
  1. প্রবেশপত্র হারালে প্রথম এক ঘণ্টায় যা করবেন
  2. জিডি আর পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি: কোন তথ্য দেবেন
  3. বোর্ডভেদে আবেদনের পথ আর ফি
  4. কুমিল্লা বোর্ডে অনলাইনে আবেদনের ধাপ
  5. আবেদনের সঙ্গে যা লাগবে
  6. রেজিস্ট্রেশন কার্ড পরেও কেন দরকার, আর হারানো কার্ড ফিরে পেলে
  7. অনেকে যা জানতে চান

১. প্রবেশপত্র হারালে প্রথম এক ঘণ্টায় যা করবেন

এসএসসি আর এইচএসসির রেজিস্ট্রেশন কার্ড ও প্রবেশপত্র শিক্ষার্থীর হাতে আসে নিজের স্কুল বা কলেজের মাধ্যমে। ইত্তেফাকের এক প্রতিবেদনে ঢাকা বোর্ডের নির্দেশনা ছিল, বোর্ড থেকে কার্ড পাওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিষ্ঠান তা পরীক্ষার্থীদের দেবে। তাই হারানোর খবর প্রথমে জানাবেন প্রধান শিক্ষক বা অধ্যক্ষকে, কারণ বোর্ডে আবেদনেও তাঁর সই আর অনুমতি লাগে।

  • ঘরে, ব্যাগে, কোচিংয়ে আরেকবার খুঁজুন। হারানোর জিডি একবার হয়ে গেলে পুরোনো কার্ড পেলেও সেটি নিয়ে ঝামেলা হতে পারে।
  • প্রবেশপত্রের ছবি বা ফটোকপি ফোনে থাকলে বের করুন। রোল, রেজিস্ট্রেশন নম্বর আর পরীক্ষার কেন্দ্রের নাম তাতেই পাবেন।
  • পরীক্ষা কাছে হলে সেদিনই প্রতিষ্ঠানে যান। কেন্দ্রে প্রবেশপত্র ছাড়া ঢোকার কোনো সাধারণ নিয়ম আমরা বোর্ডের নথিতে পাইনি, তাই শেষ দিনের অপেক্ষায় থাকবেন না।
এখনই একটা কপি রেখে দিন

যাঁদের কার্ড এখনো হারায়নি, তাঁরা প্রবেশপত্র আর রেজিস্ট্রেশন কার্ডের দুই পিঠের ছবি তুলে রাখুন, একটা ফটোকপিও করুন। হারালে নম্বরগুলো খুঁজতে আর সময় যাবে না।

২. জিডি আর পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি: কোন তথ্য দেবেন

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের দ্বি-নকল আবেদনের ফরমে স্পষ্ট লেখা আছে, রেজিস্ট্রেশন কার্ড, প্রবেশপত্র বা সনদের দ্বি-নকল চাইলে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে হবে আর একটি দৈনিক পত্রিকায় হারানো বিজ্ঞপ্তি দিতে হবে। অন্য বোর্ডেও জিডির কপি চাওয়া হয়, তাই কাজটা আগে সেরে রাখুন।

  • ১
    জিডি করুননিকটস্থ থানায় গিয়ে, অথবা পুলিশের অনলাইন জিডি সাইট থেকে হারানো কাগজের জিডি করুন। জিডিতে পরীক্ষার নাম, সাল, রোল, রেজিস্ট্রেশন নম্বর আর বোর্ডের নাম লিখুন। জিডির নম্বর আর তারিখ টুকে রাখুন।
  • ২
    পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিনযেকোনো দৈনিক পত্রিকায় ছোট বিজ্ঞপ্তি দিন। চট্টগ্রাম বোর্ডের ফরম অনুযায়ী তাতে থাকবে পরীক্ষার্থীর নাম, পরীক্ষার নাম, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, রোল নম্বর, পাসের বা পরীক্ষার সন, বোর্ডের নাম আর জিডি নম্বর।
  • ৩
    পত্রিকার পুরো পাতা রাখুনচট্টগ্রাম বোর্ড বিজ্ঞপ্তির কাটিং বা ফটোকপি নেয় না, পত্রিকাটিই জমা দিতে হয়। পত্রিকার নাম আর তারিখ আবেদনে লিখতে হয়।

উদাহরণ: চট্টগ্রাম বোর্ডের সাকিব ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী, ফেব্রুয়ারির শুরুতে বাসে ব্যাগসহ প্রবেশপত্র হারিয়েছে। সেদিনই অনলাইনে জিডি, পরদিন পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি, তার পরদিন প্রধান শিক্ষকের সই নিয়ে বোর্ডে আবেদন। জরুরি ফি দিলে ৩ কর্মদিবসের মধ্যে কপি পাওয়ার কথা।

৩. বোর্ডভেদে আবেদনের পথ আর ফি

বোর্ডকীভাবে আবেদনফি (সরকারি নথি অনুযায়ী)
চট্টগ্রামহাতে পূরণ করা ফরম, নিজে উপস্থিত থেকে বোর্ডে জমা। ফি সোনালী ব্যাংক বহদ্দারহাট শাখায়দ্বি-নকল প্রবেশপত্র ২০০, দ্বি-নকল রেজিস্ট্রেশন কার্ড ২০০, ত্রি-নকল ৩০০ টাকা। ৩ কর্মদিবসে চাইলে প্রতি কাগজে আরও ২০০ টাকা
কুমিল্লাবোর্ডের অনলাইন ডকুমেন্ট আবেদন সাইটে Duplicate Documents বেছে আবেদন, প্রতিষ্ঠানের অনলাইন অনুমতি লাগেআবেদনের সময় সাইটে দেখায়; বিকাশ, রকেট, কার্ড বা সোনালী ব্যাংকের পে-স্লিপে দেওয়া যায়
ঢাকাবোর্ডের ওয়েবসাইটের ডকুমেন্ট উত্তোলনের অনলাইন আবেদন অংশ, যেখানে প্রবেশপত্রও তালিকায় আছেবোর্ডের ফি তালিকায় দ্বি-নকল রেজিস্ট্রেশন (১৯৯৫ থেকে) ২০০, ১৯৯৫ সালের আগের ১,০০০ টাকা

অন্য বোর্ডের শিক্ষার্থীরা নিজের বোর্ডের ওয়েবসাইটের ফরম বা ই-সেবা অংশ দেখুন। ঢাকা বোর্ডের ফি তালিকায় প্রবেশপত্রের দ্বি-নকলের হার আলাদা করে লেখা নেই, তাই আবেদনের সময় সাইটে যে ফি দেখায় সেটিই চূড়ান্ত ধরুন।

দালাল এড়িয়ে চলুন

বোর্ডের ফি সামান্য, আর টাকা যায় ব্যাংক বা বোর্ডের অনলাইন পেমেন্টে। কেউ বাড়তি টাকায় এক দিনে কার্ড এনে দেওয়ার কথা বললে রাজি হবেন না, প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেই যান।

৪. কুমিল্লা বোর্ডে অনলাইনে আবেদনের ধাপ

  • ১
    তথ্য দিয়ে খুঁজুনবোর্ডের অনলাইন ডকুমেন্ট আবেদন সাইটে Application Type থেকে Duplicate Documents বাছুন। পরীক্ষা (SSC বা HSC), রোল আর সাল দিয়ে Find চাপুন। ১৯৯৬ সালের আগে পাস করলে তথ্য হাতে লিখে দিতে হয়।
  • ২
    প্রতিষ্ঠান ও কাগজ বাছুনপ্রতিষ্ঠানসহ বাকি তথ্য দিয়ে Next চাপুন। জিডির কপির মতো সংযুক্তি PDF আকারে দিতে হয়।
  • ৩
    ফি দিনবিকাশ, রকেট বা কার্ডে দিতে পারেন। সোনালী ব্যাংকে দিতে চাইলে জেলা ও শাখা বেছে পে-স্লিপ প্রিন্ট করে ব্যাংকে টাকা জমা দিন, নিচের অংশ প্রমাণ হিসেবে রাখুন।
  • ৪
    প্রতিষ্ঠানের অনুমতি নিনদ্বি-নকলের আবেদনে প্রতিষ্ঠান একই সাইটে Institute অংশে লগইন করে অনুমতি দেয়। এই অনুমতি ছাড়া আবেদন এগোয় না, তাই অধ্যক্ষ বা প্রধান শিক্ষককে জানিয়ে রাখুন।
  • ৫
    এসএমএস পেলে বোর্ডে যানবোর্ড থেকে এসএমএস এলে কাগজ তুলতে প্রার্থীকে নিজে যেতে হয়। কোনো সমস্যায় বোর্ডের হটলাইন ০৯৬১১৯৯১১৮৮, সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা।

৫. আবেদনের সঙ্গে যা লাগবে

চট্টগ্রাম বোর্ডের ফরম অনুযায়ী

  • ফরম জমা দিতে আবেদনকারীকে নিজে উপস্থিত থাকতে হয়। অসম্পূর্ণ আবেদন বাতিল ধরা হয়।
  • তৈরি কাগজ সাধারণত প্রতিষ্ঠান প্রধান বা তাঁর প্রতিনিধি তোলেন। প্রতিষ্ঠান প্রধান লিখে সুপারিশ করলে আর বোর্ড রাজি হলে আবেদনকারীর হাতেও দেওয়া যায়।
  • আবেদন জমার দুই মাসের মধ্যে কাগজ তুলে নিতে হয়, নইলে বোর্ড দায় নেয় না।

৬. রেজিস্ট্রেশন কার্ড পরেও কেন দরকার, আর হারানো কার্ড ফিরে পেলে

অনেকে ভাবেন পরীক্ষা শেষ, রেজিস্ট্রেশন কার্ড আর লাগবে না। বোর্ডের নিজের ফরমগুলোই বলে অন্য কথা। চট্টগ্রাম বোর্ডে একাদশের ভর্তি বাতিলের আবেদনে এইচএসসির মূল রেজিস্ট্রেশন কার্ড জমা দিতে হয়। কুমিল্লা বোর্ডের একই ফরমে অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের মূল রেজিস্ট্রেশন কার্ড চাওয়া হয়, আর কিছু ক্ষেত্রে এসএসসি রেজিস্ট্রেশন কার্ডের সত্যায়িত কপি।

  • পুনরায় বা মানোন্নয়ন পরীক্ষায় বসতে চাইলে আগের রেজিস্ট্রেশনের তথ্য লাগে, তাই কার্ডটি সনদের সঙ্গে এক ফাইলে রাখুন।
  • দ্বি-নকল কপি হাতে পেলে নাম, বাবা-মায়ের নাম, জন্মতারিখ আর রেজিস্ট্রেশন নম্বর মূল তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন। ভুল থাকলে সংশোধিত দ্বি-নকলের আলাদা ফি আছে, চট্টগ্রাম বোর্ডে ৪০০ টাকা।
  • আবেদনের পর পুরোনো কার্ড খুঁজে পেলে সেটি ব্যবহার না করে প্রতিষ্ঠানকে জানান। একই কাগজের দুই কপি হাতে রাখলে পরে প্রশ্ন উঠতে পারে।
  • দ্বিতীয়বারও হারালে ত্রি-নকল নিতে হয়, চট্টগ্রাম বোর্ডে প্রবেশপত্র বা রেজিস্ট্রেশন কার্ডের ত্রি-নকল ৩০০ টাকা।

৭. অনেকে যা জানতে চান

এডমিট কার্ড হারিয়ে গেলে কি পরীক্ষা দেওয়া যাবে?
পরীক্ষার আগে বোর্ড থেকে দ্বি-নকল প্রবেশপত্র তুলে নেওয়াই নিরাপদ পথ। কেন্দ্রে প্রবেশপত্র ছাড়া ঢোকার সাধারণ কোনো নিয়ম আমরা বোর্ডের নথিতে পাইনি, তাই হারানোর দিনই প্রতিষ্ঠানকে জানান আর জিডি করুন।
রেজিস্ট্রেশন কার্ড হারিয়ে গেলে করণীয় কী?
প্রবেশপত্রের মতোই: জিডি, পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি আর প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বোর্ডে দ্বি-নকলের আবেদন। ঢাকা আর চট্টগ্রাম বোর্ডে ফি ২০০ টাকা; ঢাকায় ১৯৯৫ সালের আগের রেজিস্ট্রেশনে ১,০০০ টাকা।
দ্বি-নকল প্রবেশপত্র পেতে কত দিন লাগে?
চট্টগ্রাম বোর্ডে নির্ধারিত ফির সঙ্গে প্রতি কাগজে ২০০ টাকা জরুরি ফি দিলে ৩ কর্মদিবসের মধ্যে পাওয়ার কথা। সাধারণ আবেদনের সময় বোর্ড নির্দিষ্ট করে বলেনি, তবে দুই মাসের মধ্যে তুলে নিতে বলেছে।
দোকান থেকে প্রিন্ট করা কপি দিয়ে কি চলবে?
না। প্রবেশপত্র বোর্ড প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দেয়, আর দ্বি-নকলও আসে বোর্ড থেকেই। নিজের রাখা ফটোকপি শুধু রোল আর নম্বর খুঁজে পেতে কাজে লাগে।

এরপর পড়তে পারেন

যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি

জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২১ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।

সরকারি সাইট

আরও পড়ুন

এ বিষয়ে আরও লেখা

সব লেখা
ফলাফল

এইচএসসি রেজাল্ট মার্কশিট নাম্বার সহ: সরকারি সাইটে কী দেখা যায়, কী যায় না

ফলের পাতায় বিষয়ভিত্তিক গ্রেড থাকে, নম্বর নয়। গ্রেড দেখে নম্বরের সীমা বুঝুন, ফলের কপি রাখুন, ভুয়া লিংক এড়িয়ে চলুন।
ফলাফল

এইচএসসি ফেল করলে কি হবে: কোন বিষয়ে আবার বসবেন, রেজিস্ট্রেশন আর ফি

এক বা দুই বিষয়ে ফেল, চতুর্থ বিষয়ে F, রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ আর পরের বছরের ফরম পূরণ: বোর্ডের নিয়ম ধরে করণীয়।

অনেকে খোঁজেন