
সংক্ষেপে
পুনর্নিরীক্ষায় সাধারণত খাতা নতুন করে মূল্যায়ন হয় না। দেখা হয় নম্বর যোগে ভুল, কোনো উত্তরে নম্বর না দেওয়া আর ওএমআর শিটে নম্বর তোলার ভুল। তাই অনেক আবেদনের মধ্যে অল্প কয়েকজনের ফলই বদলায়। ২০২৫ সালের এইচএসসিতে ঢাকা বোর্ডে প্রায় ৯০ হাজার আবেদনকারীর মধ্যে ফল বদলেছে ২ হাজার ৩৩১ জনের।
যে বিষয়ে আপনি নিশ্চিত যে প্রাপ্য গ্রেড পাননি, বিশেষ করে এক বিষয়ে F বা পরের গ্রেডের খুব কাছে থাকলে, সেখানে আবেদন করা যুক্তিসংগত। পুনর্নিরীক্ষার ফলের অপেক্ষায় বসে না থেকে বর্তমান ফল দিয়েই ভর্তির আবেদন চালিয়ে যান।
আবেদনের সময়ে রোল ও রেজিস্ট্রেশন দিয়ে বিষয় বাছাই আর ফি জমা দিতে হয়।
এই লেখায়
১. আগে দেখুন ঘাটতিটা কোথায়
মোট জিপিএ কম দেখে হতাশ না হয়ে বিষয়ভিত্তিক গ্রেডগুলো আলাদা করে দেখুন। জিপিএ হয় সব বিষয়ের গ্রেড পয়েন্টের গড় থেকে, তাই একটি বিষয়ের গ্রেড এক ধাপ বাড়লে মোট জিপিএ বাড়ে সামান্যই। কিন্তু কোনো বিষয়ে F থাকলে পুরো ফলই অকৃতকার্য হয়, তখন সেই একটি বিষয়ই সব ঠিক করে দিতে পারে।
| আপনার অবস্থা | পুনর্নিরীক্ষায় সম্ভাব্য লাভ |
|---|---|
| এক বা দুই বিষয়ে F, বাকিগুলো ভালো | বেশি। ফেল থেকে পাস হলে পুরো ফল বদলে যায় |
| জিপিএ ৫-এর জন্য এক বিষয়ে A | আছে, যদি সেই বিষয়ে A+ পাওয়ার মতো পরীক্ষা দিয়ে থাকেন |
| অনেক বিষয়ে গ্রেড সামান্য কম | কম। প্রতি পত্রে ফি লাগে, আর সব খাতায় ভুল থাকে না |
| পরীক্ষা নিজেই খারাপ হয়েছিল | প্রায় নেই। নতুন করে নম্বর দেওয়ার নিয়ম সাধারণত নেই |
গ্রেডের সীমা মনে রাখুন: ৮০ বা তার বেশি নম্বরে A+, ৭০ থেকে ৭৯ A, ৬০ থেকে ৬৯ A-, ৫০ থেকে ৫৯ B, ৪০ থেকে ৪৯ C, ৩৩ থেকে ৩৯ D, আর ৩৩-এর নিচে F। ফলের পাতায় নম্বর দেখায় না, তাই নিজের উত্তর মিলিয়ে আন্দাজ করুন কোন বিষয়ে সীমার কাছাকাছি ছিলেন।
২. পুনর্নিরীক্ষা যা পারে, যা পারে না
- পারে: কোনো প্রশ্নের উত্তরে নম্বর দেওয়া বাদ পড়লে সেটি ধরা।
- পারে: প্রশ্নভিত্তিক নম্বর যোগ করতে ভুল হলে ঠিক করা।
- পারে: খাতার নম্বর ওএমআর শিটে ভুল তোলা বা বৃত্ত ভুল ভরাট হলে সংশোধন।
- সাধারণত পারে না: পরীক্ষক কোনো উত্তরে কম নম্বর দিয়েছেন মনে হলে সেই উত্তর নতুন করে মূল্যায়ন।
- পারে না: এমসিকিউ অংশে নতুন নম্বর। এটি মেশিনে মূল্যায়ন হয়।
এ বছরের এসএসসিতে প্রথমবার সৃজনশীল ও ব্যবহারিক খাতা পুনর্মূল্যায়নও করা হয়, তাতে ৫৬ হাজার ২৫৯ জনের নম্বর বদলায়। এইচএসসি ২০২৬-এ একই নিয়ম থাকবে কি না, ফল প্রকাশের পর আবেদনের বিজ্ঞপ্তিতে দেখে নিন।
এইচএসসি ২০২৫-এর হিসাবটা বাস্তব ধারণা দেয়। ঢাকা বোর্ডে ফল বদলেছিল ২ হাজার ৩৩১ জনের, এর মধ্যে ফেল থেকে পাস করেন ৩০৮ জন আর নতুন করে জিপিএ ৫ পান ২০১ জন। অর্থাৎ ১০০ জন আবেদনকারীর মধ্যে তিনজনেরও কম লাভবান হয়েছেন।
৩. ফল দেখার দিন থেকে সিদ্ধান্ত পর্যন্ত
- ১বিষয়গুলো বেছে নিনযে বিষয়ে F এসেছে বা যেখানে নিশ্চিত যে প্রাপ্য গ্রেড পাননি, শুধু সেগুলোর তালিকা করুন। ভালো পরীক্ষা হয়েছিল এমন বিষয়ে মন খারাপের বশে আবেদন করবেন না।
- ২খরচ হিসাব করুনসাম্প্রতিক পরীক্ষাগুলোতে ফি ছিল প্রতি পত্র ১৫০ টাকা। বাংলা বা ইংরেজির মতো দুই পত্রের বিষয়ে দুটি পত্রই বাছতে হয়, তাই একটি বিষয়েই খরচ দাঁড়ায় ৩০০ টাকা।
- ৩সময়ের মধ্যে আবেদন করুনআবেদন সাধারণত ফলের পরদিন শুরু হয়ে সাত দিন চলে, শুধু অনলাইনে। শেষ দিনে সার্ভারে চাপ থাকে, তাই প্রথম দু-তিন দিনের মধ্যেই সেরে নিন।
- ৪সচল মোবাইল নম্বর দিনপুনর্নিরীক্ষার ফল আবেদনের সময় দেওয়া নম্বরে এসএমএসে আসে। যে নম্বর মাসখানেক পরেও হাতে থাকবে, সেটি দিন।
আবেদনের পুরো ধাপ, পেমেন্টের মাধ্যম আর ফি দেওয়ার পর কী বদলানো যায় না, তা খাতা পুনর্নিরীক্ষার আলাদা লেখায় আছে।
৪. পুনর্নিরীক্ষার ফল কবে, ভর্তির কী হবে
পুনর্নিরীক্ষার ফল আসে আবেদন শেষ হওয়ার কয়েক সপ্তাহ পরে। ২০২৫ সালের এইচএসসিতে আবেদন শেষ হয় ২৩ অক্টোবর, ফল আসে ১৬ নভেম্বর। ফল আবেদনকারীর মোবাইলে এসএমএসে যায়, আর বোর্ডগুলো যাঁদের ফল বদলেছে তাঁদের তালিকা নিজেদের ওয়েবসাইটে দেয়।
এসএসসির ক্ষেত্রে একাদশ ভর্তির সাইট বদলানো ফল নিজে থেকেই তুলে নেয়। ২০২৬ সালে পুনর্নিরীক্ষায় বদলানো ফল ভর্তির পোর্টালে যুক্ত হয় ১১ সেপ্টেম্বর, তখন যাঁদের ফল বদলেছে তাঁরা নতুন করে আবেদন বা আগের আবেদন বদলানোর সুযোগ পান। ঢাকা বোর্ড ২০২৫ সালের এইচএসসির পুনর্নিরীক্ষার ফল পিডিএফ আকারে নিজের ওয়েবসাইটেও দিয়েছিল।
২০২৬-২৭ সেশনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদন চলবে ১১ থেকে ২৫ নভেম্বর। এইচএসসির ফল অক্টোবরের শেষে এলে পুনর্নিরীক্ষার ফল ঢাবির আবেদন শেষ হওয়ার পরে আসার সম্ভাবনাই বেশি। তাই বর্তমান ফলে যেখানে যোগ্য, সেখানে আবেদন করে রাখুন। পুনর্নিরীক্ষায় ফল বদলালে ভর্তির পোর্টালে নতুন ফল উঠেছে কি না দেখুন, না উঠলে সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি হেল্পডেস্কে যোগাযোগ করুন।
পুনর্নিরীক্ষায় নম্বর বাড়িয়ে দেওয়ার কথা বলে ফোন বা ফেসবুকে কেউ টাকা চাইলে সেটি প্রতারণা। ফল বদলায় শুধু বোর্ডের যাচাইয়ে।
৫. ফেল থেকে না বদলালে পরের পথ
পুনর্নিরীক্ষার পরও কোনো বিষয়ে অকৃতকার্য থাকলে পরের বছরের পরীক্ষায় অনিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে বসার সুযোগ থাকে। যাঁরা পাস করেছেন কিন্তু ফল উন্নত করতে চান, তাঁদের জন্য আছে মানোন্নয়ন পরীক্ষা। ২০২৬ সালের এইচএসসিতে এই দুই ধরনের পরীক্ষার্থী বসেছেন ২০২৫ সালের সংশোধিত সিলেবাসে।
কারা কোন বিষয়ে বসতে পারবেন, রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ আর ফি, সবই পরের বছরের ফরম পূরণের বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া থাকে, আর আবেদন যায় কলেজের মাধ্যমে। তাই ফল হাতে পেয়েই কলেজ অফিসে নিজের নাম আর যোগাযোগের নম্বর জানিয়ে রাখুন, যাতে বিজ্ঞপ্তি এলে খবর পান।
৬. অনেকে যা জানতে চান
পুনর্নিরীক্ষা করালে কি নম্বর কমে যেতে পারে?
শুধু এমসিকিউতে কম নম্বর পেয়েছি মনে হচ্ছে, আবেদন করব?
পুনর্নিরীক্ষার ফল কোথায় দেখব?
পুনর্নিরীক্ষার আবেদন করলে কি ভর্তির আবেদনে সমস্যা হয়?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৬ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।