
সংক্ষেপে
প্রশংসাপত্র বা testimonial দেয় আপনার নিজের স্কুল, কলেজ বা মাদ্রাসা, শিক্ষা বোর্ড নয়। তাই এটি বোর্ডের ফলাফলের সাইট থেকে ডাউনলোড হয় না। ফল প্রকাশের পর প্রধান শিক্ষক বা অধ্যক্ষ বরাবর একটি সাদা কাগজে আবেদন লিখে প্রতিষ্ঠানের অফিসে জমা দিলে তারা প্রতিষ্ঠানের প্যাডে সই করা প্রশংসাপত্র দেয়।
এইচএসসির পর বিশ্ববিদ্যালয়ের চূড়ান্ত ভর্তি, ডিপ্লোমা বা অন্য ভর্তিতে অনেক সময় শেষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রশংসাপত্র চাওয়া হয়। যেমন ডুয়েটের ২০২৫-২৬ প্রসপেক্টাসে ভর্তির কাগজের তালিকায় স্পষ্ট লেখা আছে, সর্বশেষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানের কাছ থেকে পাওয়া প্রশংসাপত্র লাগবে। তাই ভর্তির ডাক আসার আগেই এটি তুলে রাখুন।
আবেদনের সঙ্গে ফলের কপি লাগলে এখান থেকে রোল, রেজিস্ট্রেশন আর বোর্ড দিয়ে নামিয়ে প্রিন্ট নিন।
এই লেখায়
১. প্রশংসাপত্র কি, আর সার্টিফিকেটের সঙ্গে তফাত কোথায়
প্রশংসাপত্রের ইংরেজি হলো Testimonial। এটি একটি সনদ, যেখানে প্রতিষ্ঠান লিখে দেয় যে আপনি সেখানে পড়েছেন, কোন সালের কোন পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন, আর সেখানে থাকার সময় আপনার আচরণ কেমন ছিল। সই করেন প্রধান শিক্ষক বা অধ্যক্ষ।
অনেকে জিজ্ঞেস করেন, প্রশংসাপত্র আর সার্টিফিকেট কি এক। উত্তর হলো, না। এসএসসি বা এইচএসসির মূল সনদ আর নম্বরপত্র দেয় শিক্ষা বোর্ড, প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিতরণ হয়। প্রশংসাপত্র দেয় প্রতিষ্ঠান নিজে। একটি আরেকটির বিকল্প নয়, ভর্তির সময় দুটোই আলাদা করে চাওয়া হতে পারে।
| কাগজ | কে দেয় | কোথায় পাবেন |
|---|---|---|
| প্রশংসাপত্র (Testimonial) | স্কুল, কলেজ বা মাদ্রাসা | প্রতিষ্ঠানের অফিস, লিখিত আবেদনে |
| নম্বরপত্র ও মূল সনদ | শিক্ষা বোর্ড | প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিতরণ |
| অনলাইন ফলের কপি | বোর্ডের ফলাফল সাইট | রোল ও রেজিস্ট্রেশন দিয়ে |
২. hsc testimonial download pdf কি পাওয়া যায়
না। শিক্ষা বোর্ডের সমন্বিত ফলাফলের সাইটে শুধু ফল দেখা যায়, প্রশংসাপত্র ডাউনলোডের কোনো ব্যবস্থা সেখানে নেই। অনলাইনে যে ফাঁকা নমুনা বা টেমপ্লেট ঘুরে বেড়ায়, সেটা নিজে পূরণ করে দিলে কোনো কাজ হয় না, কারণ প্রশংসাপত্রের মূল্য প্রতিষ্ঠানের প্যাড, সিল আর প্রধানের সইতে।
ফলের সাইটে বোর্ড, রোল আর রেজিস্ট্রেশন দিলে যা আসে, সেটা শুধু ফলের অনলাইন কপি। এই কপি প্রশংসাপত্রের আবেদনের সঙ্গে দিতে কাজে লাগে, কিন্তু প্রশংসাপত্রের জায়গা নিতে পারে না। কলেজ বন্ধ থাকলে বা দূরে থাকলে পরিবারের কাউকে দিয়ে আবেদন জমা দেওয়া যায় কি না, অফিসে ফোন করে জেনে নিন।
ভর্তির সময় প্রতিষ্ঠানের নাম, সই আর সিল মিলিয়ে দেখা হতে পারে। আবেদনে দেওয়া কোনো কাগজ ভুল প্রমাণ হলে ভর্তি বাতিলের ঝুঁকি থাকে।
৩. প্রশংসাপত্রের জন্য আবেদন করবেন যেভাবে
- ১ফল প্রকাশ পর্যন্ত অপেক্ষা করুনপ্রশংসাপত্রে আপনার জিপিএ লেখা থাকে বলে প্রতিষ্ঠান সাধারণত ফল প্রকাশের পরই এটি দেয়। ফলের অনলাইন কপি প্রিন্ট করে রাখুন।
- ২সাদা কাগজে আবেদন লিখুনপ্রধান শিক্ষক বা অধ্যক্ষ বরাবর লিখুন। নাম, বাবা-মায়ের নাম, শাখা, রোল, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, সেশন আর পাসের সাল দিন। নিচে নমুনা দেওয়া আছে।
- ৩কাগজ সঙ্গে নিনপ্রবেশপত্র ও রেজিস্ট্রেশন কার্ডের ফটোকপি আর ফলের প্রিন্ট সঙ্গে রাখুন, যাতে অফিস নথি মিলিয়ে নিতে পারে।
- ৪অফিসে জমা দিন, ফি জেনে নিনঅনেক প্রতিষ্ঠান প্রশংসাপত্রের জন্য ফি নেয়, অঙ্কটা প্রতিষ্ঠানভেদে আলাদা। অফিস থেকে রসিদ নিন, আর কবে নিতে আসবেন তা জেনে নিন।
- ৫হাতে পেয়ে মিলিয়ে দেখুননামের বানান, বাবা-মায়ের নাম, রোল, রেজিস্ট্রেশন নম্বর আর জিপিএ নম্বরপত্রের সঙ্গে মিলিয়ে নিন। ভুল থাকলে সেদিনই বদলে নিন।
৪. প্রশংসাপত্রের জন্য অধ্যক্ষের নিকট আবেদন পত্রের নমুনা
নিচের লেখাটি নিজের তথ্য বসিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। স্কুলে হলে অধ্যক্ষের জায়গায় প্রধান শিক্ষক লিখুন। দাগ দেওয়া জায়গায় নিজের তথ্য দিন।
তারিখ: ....। বরাবর, অধ্যক্ষ, .... কলেজ, ....। বিষয়: প্রশংসাপত্র পাওয়ার জন্য আবেদন।
জনাব, বিনীত নিবেদন এই যে, আমি আপনার কলেজের .... শাখার একজন নিয়মিত শিক্ষার্থী ছিলাম। আমি .... সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট পরীক্ষায় .... শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অংশ নিয়ে জিপিএ .... পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছি। আমার রোল নম্বর ...., রেজিস্ট্রেশন নম্বর ...., সেশন ....। উচ্চশিক্ষায় ভর্তির জন্য আমার একটি প্রশংসাপত্র প্রয়োজন।
অতএব, অনুগ্রহ করে আমাকে একটি প্রশংসাপত্র দিয়ে বাধিত করবেন। বিনীত, নাম ...., পিতার নাম ...., মাতার নাম ...., মোবাইল ....।
এসএসসির জন্য একই কাঠামো চলবে, শুধু পরীক্ষার নাম মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট আর প্রাপক প্রধান শিক্ষক হবে।
৫. প্রশংসাপত্র হাতে পেয়ে যা মিলিয়ে দেখবেন
প্রশংসাপত্র হাতে লেখা হোক বা ছাপা, ভুল থাকলে পরে ভর্তির টেবিলে আটকে যেতে পারেন। যেমন রাকিবের নম্বরপত্রে নাম Md. Rakibul Hasan, অথচ কলেজের প্রশংসাপত্রে লেখা Rakibul Hasan। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি শাখা দুটি কাগজের অমিল দেখে প্রশ্ন তুলতে পারে, তখন আবার কলেজে দৌড়াতে হয়। তাই নেওয়ার দিনই নিচের বিষয়গুলো মিলিয়ে নিন।
- নিজের নাম, বাবা ও মায়ের নামের বানান, নম্বরপত্রে যেমন আছে হুবহু তেমন।
- পরীক্ষার নাম, সাল, শিক্ষা বোর্ড আর শাখা বা বিভাগ।
- রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর আর সেশন।
- জিপিএ, চতুর্থ বিষয়সহ যে অঙ্ক নম্বরপত্রে আছে সেটি।
- প্রতিষ্ঠানের প্যাড, তারিখ, প্রধানের সই আর সিল।
কোনো তথ্য নম্বরপত্রের সঙ্গে না মিললে মূল ভিত্তি ধরা হয় বোর্ডের নম্বরপত্র আর সনদ। সনদেই ভুল থাকলে সেটা ঠিক করতে হয় বোর্ডে, সে নিয়ম আলাদা লেখায় দেওয়া আছে। প্রশংসাপত্রের ভুল হলে প্রতিষ্ঠানই নতুন করে লিখে দেয়।
৬. প্রশংসাপত্র কোথায় কোথায় লাগে
- বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজে চূড়ান্ত ভর্তির সময়। ডুয়েটের মতো প্রতিষ্ঠান প্রসপেক্টাসেই কাগজের তালিকায় এটি রেখেছে।
- এসএসসির পর একাদশে বা ডিপ্লোমায় ভর্তির সময়, যদি প্রতিষ্ঠান চায়।
- চাকরি বা প্রশিক্ষণের আবেদনে, যেখানে বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষাগত কাগজের সঙ্গে প্রশংসাপত্র চাওয়া হয়।
- বৃত্তি বা অন্য কোনো আবেদনে, যেখানে আচরণ বা অধ্যয়নের প্রমাণ লাগে।
ভর্তির ফাইলে একসঙ্গে রাখুন
যে প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হবেন, তার বিজ্ঞপ্তিতে কাগজের তালিকাটা একবার মিলিয়ে নিন। মূল কপি জমা রাখে কি না, তাও দেখে নিন, যাতে দুই জায়গায় দরকার হলে আগে থেকে দুটি কপি তুলে রাখতে পারেন।
৭. অনেকে যা জানতে চান
প্রশংসাপত্র আর সার্টিফিকেট কি এক?
hsc testimonial download pdf কোথায় পাবো?
প্রশংসাপত্র তুলতে কত টাকা লাগে?
প্রশংসাপত্রের ইংরেজি কি?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২৫ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।