
সংক্ষেপে
২০২৫ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ১১টি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে গড় পাসের হার ছিল ৫৮.৮৩ শতাংশ, আগের বছরের ৭৭.৭৮ শতাংশ থেকে প্রায় ১৯ শতাংশ পয়েন্ট কম। জিপিএ ৫ পেয়েছিলেন ৬৯ হাজার ৯৭ জন, ২০২৪ সালে পেয়েছিলেন ১ লাখ ৪৫ হাজার ৯১১ জন। সাধারণ বোর্ডগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পাস ঢাকায়, ৬৪.৬২ শতাংশ, সবচেয়ে কম কুমিল্লায়, ৪৮.৮৬ শতাংশ। মাদ্রাসা বোর্ডে পাসের হার ছিল সবার ওপরে, ৭৫.৬১ শতাংশ।
২০২৬ সালের ফল ২৫ থেকে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে প্রকাশের প্রস্তাব দিয়েছে বোর্ডগুলো, যুগান্তরের খবরে ২৯ অক্টোবরের সম্ভাবনাই বেশি (সম্ভাব্য)। নতুন হিসাব এলে এই লেখার সংখ্যাগুলোর সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে পারবেন, পাসের হার আর জিপিএ ৫ কোন দিকে গেল।
নিজের ফল আর প্রতিষ্ঠানের EIIN দিয়ে কলেজের পুরো ফল এখানেই দেখা যায়।
এই লেখায়
১. ২০২৫ সালে কোন বোর্ডে কত পাস, কত জিপিএ ৫
ফল প্রকাশ হয়েছিল ২০২৫ সালের ১৬ অক্টোবর সকাল ১০টায়। প্রথম আলো, বাসস আর ইত্তেফাকে প্রকাশিত বোর্ডের হিসাব একসঙ্গে রাখলে ছবিটা এমন দাঁড়ায়:
| বোর্ড | পাসের হার | জিপিএ ৫ |
|---|---|---|
| ঢাকা | ৬৪.৬২% | ২৬,০৬৩ |
| রাজশাহী | ৫৯.৪০% | ১০,১৩৭ |
| দিনাজপুর | ৫৭.৪৯% | ৬,২৬০ |
| চট্টগ্রাম | ৫২.৫৭% | ৬,০৯৭ |
| যশোর | ৫০.২০% | ৫,৯৯৫ |
| বরিশাল | ৬২.৫৭% | ১,৬৭৪ |
| সিলেট | ৫১.৮৬% | ১,৬০২ |
| ময়মনসিংহ | ৫১.৫৪% | ২,৬৮৪ |
| কুমিল্লা | ৪৮.৮৬% | ২,৭০৭ |
| মাদ্রাসা (আলিম) | ৭৫.৬১% | ৪,২৬৮ |
| কারিগরি | ৬২.৬৭% | ১,৬১০ |
| ১১ বোর্ড মিলিয়ে | ৫৮.৮৩% | ৬৯,০৯৭ |
বাসসের হিসাবে ১১ বোর্ডে অংশ নিয়েছিলেন ১২ লাখ ৩৫ হাজার ৬৬১ জন, পাস করেন ৭ লাখ ২৬ হাজার ৯৬০ জন। শুধু ৯টি সাধারণ বোর্ড ধরলে পাসের হার ৫৭.১২ শতাংশ, জিপিএ ৫ পেয়েছিলেন ৬৩ হাজার ২১৯ জন। ছাত্রীদের পাসের হার ৬২.৯৭ শতাংশ, ছাত্রদের ৫৪.৬০ শতাংশ। ৩৪৫টি প্রতিষ্ঠানের সবাই পাস করে, আর ২০২টি প্রতিষ্ঠান থেকে একজনও পাস করেননি।
মাদ্রাসা বোর্ডে আলিমে পাস করেন ৬২ হাজার ৬০৯ জন। কারিগরি বোর্ডে এইচএসসি ভোকেশনাল, বিএম ও ডিপ্লোমা ইন কমার্সে বসেছিলেন ১ লাখ ৫ হাজার ৬১০ জন, পাস করেন ৬৬ হাজার ১৮৫ জন। বিদেশের ৮টি কেন্দ্রে ২৯১ জন পরীক্ষা দিয়ে পাস করেন ২৭৯ জন, পাসের হার ৯৫.৮৮ শতাংশ।
২. চার বছরের তুলনা: ২০২২ থেকে ২০২৫
| সাল | গড় পাসের হার (১১ বোর্ড) | জিপিএ ৫ |
|---|---|---|
| ২০২২ | ৮৫.৯৫% | ১,৭৬,২৮২ |
| ২০২৩ | ৭৮.৬৪% | ৯২,৫৯৫ |
| ২০২৪ | ৭৭.৭৮% | ১,৪৫,৯১১ |
| ২০২৫ | ৫৮.৮৩% | ৬৯,০৯৭ |
এর আগের কয়েক বছর স্বাভাবিক ছিল না। ২০২০ সালে কোভিডের কারণে পরীক্ষা হয়নি, বিশেষ প্রক্রিয়ায় সবাই উত্তীর্ণ হন। ২০২১ ও ২০২২ সালে ভিন্ন পরিস্থিতিতে নেওয়া পরীক্ষায় পাসের হার এক বছর ৮৪ শতাংশের বেশি, আরেক বছর ৯৫ শতাংশের বেশি ছিল। ২০২৩ সালে তা আবার ৮০ শতাংশের নিচে নামে। তাই এক বছরের হার দেখে কোনো বোর্ড বা কলেজ সম্পর্কে সিদ্ধান্তে আসার আগে কয়েক বছরের ধারা দেখুন।
প্রথম আলোর বিশ্লেষণ বলছে, ২০২৫ সালে ৯টি সাধারণ বোর্ডের পাসের হার ২১ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম। ব্যানবেইসের তথ্য অনুযায়ী ২০০৫ সালে পাসের হার ছিল ৫৯ শতাংশের কিছু বেশি, তারপর বেশির ভাগ বছর তা ৭০ থেকে ৮০ শতাংশের মধ্যে ছিল। ২০২৫ সালে ইংরেজি আর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে তুলনামূলক বেশি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হন, তার প্রভাব পড়ে পুরো ফলে।
২০২৪ সালে আন্দোলনের চাপে কয়েকটি বিষয়ের স্থগিত পরীক্ষা মাঝপথে বাতিল হয়। যেসব বিষয়ের পরীক্ষা হয়ে গিয়েছিল সেগুলোর খাতা দেখা হয়, বাকিগুলোর ফল তৈরি হয় এসএসসির ফলের ভিত্তিতে বিষয় ম্যাপিং করে। সে বছর পাসের হার আগের বছরের চেয়ে কমলেও জিপিএ ৫ অনেক বেড়ে যায়। তাই তুলনার সময় এই প্রেক্ষাপট মাথায় রাখুন।
৩. পাসের হারের খবর পড়বেন যেভাবে
ফলের দিন একেক খবরে একেক সংখ্যা দেখে অনেকে বিভ্রান্ত হন। বেশির ভাগ সময় ভুল নয়, হিসাবের ভিত্তি আলাদা। তিনটি জিনিস মিলিয়ে নিন।
- ১কয়টি বোর্ডের হিসাব, দেখে নিন১১ বোর্ড মানে ৯টি সাধারণ বোর্ডের সঙ্গে মাদ্রাসা আর কারিগরি। শুধু সাধারণ বোর্ডের গড় সাধারণত ১১ বোর্ডের গড়ের চেয়ে আলাদা হয়, যেমন ২০২৫ সালে ৫৭.১২ আর ৫৮.৮৩।
- ২অংশ নেওয়া না নিবন্ধিত, কাদের ধরে হিসাবপাসের হার গোনা হয় যাঁরা পরীক্ষায় বসেছেন তাঁদের ধরে। ফরম পূরণ করেও অনুপস্থিত ছিলেন, এমন পরীক্ষার্থী এই হিসাবের বাইরে থাকেন। তাই পরীক্ষার্থীর মোট সংখ্যাও খবরভেদে আলাদা দেখায়।
- ৩নিজের কলেজের হার আলাদা করে দেখুনবোর্ডের গড় দিয়ে নিজের প্রতিষ্ঠানের অবস্থা বোঝা যায় না। কলেজ বা মাদ্রাসা EIIN দিয়ে ফলাফল পোর্টাল থেকে পুরো ফল নামাতে পারে, অফিস থেকে জেনে নিন কতজন বসেছিলেন আর কতজন পাস করেছেন।
জিপিএ ৫-এর সংখ্যাও একইভাবে পড়ুন। কোনো বোর্ডে পরীক্ষার্থী বেশি হলে সেখানে জিপিএ ৫ বেশি হওয়াই স্বাভাবিক, যেমন ঢাকা বোর্ডে ২০২৫ সালে দেশের মোট জিপিএ ৫-এর এক-তৃতীয়াংশের বেশি এসেছে। তুলনা করতে চাইলে পরীক্ষার্থীর সংখ্যার সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন।
৪. ২০২৬ সালের ফল আর পরের কাজ
এ বছর ১১ বোর্ডে ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ১২ অক্টোবর জানান, ২৫ থেকে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে ফল প্রকাশের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে দেওয়া হয়েছে। একই দিন যুগান্তর বোর্ড সূত্রে জানায়, ২৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার ফল প্রকাশের সম্ভাবনাই বেশি। চূড়ান্ত দিন মন্ত্রণালয়ের সম্মতির পর ঘোষণা হবে।
ফলের দিনের জন্য হাতের কাছে রাখুন
গত বছর পুনর্নিরীক্ষার আবেদন শুরু হয়েছিল ফল প্রকাশের পরদিন, চলেছিল সাত দিন। বোর্ডভিত্তিক বৃত্তির তালিকা আসে আরও পরে, সাধারণত ডিসেম্বর বা জানুয়ারিতে।
৫. অনেকে যা জানতে চান
এইচএসসি পাসের হার ২০২৫ সালে কত ছিল?
২০২৫ সালে কোন বোর্ডে সবচেয়ে বেশি জিপিএ ৫?
hsc pass rate last 10 years কোথায় পাব?
এইচএসসি ২০২৬ সালের ফল কবে?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৭ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।