
সংক্ষেপে
মানোন্নয়ন পরীক্ষার নিয়ম বোর্ডের বিজ্ঞপ্তিতে জিপিএ উন্নয়ন নামে লেখা থাকে। ২০২৬ সালের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী আগের বছরের এইচএসসিতে জিপিএ ৫.০০-এর কম পাওয়া পরীক্ষার্থীরা পাসের অব্যবহিত পরের বছরেই এই সুযোগ পান, আর তখন সব বিষয়ে পরীক্ষা দিতে হয়। এক বা দুই বিষয়ের পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছেন এমন কেউ এই সুযোগ পান না।
এইচএসসি ২০২৬-এ পাস করে জিপিএ বাড়াতে চাইলে আপনার সুযোগ ২০২৭ সালের পরীক্ষায়। আবেদন যায় কলেজের অধ্যক্ষের মাধ্যমে, সাধারণত পরের বছরের ফরম পূরণের আগে। এর মধ্যে বর্তমান ফল দিয়ে এ বছরের ভর্তি পরীক্ষায় আবেদন করতে কোনো বাধা নেই।
জিপিএ উন্নয়নের শর্ত আর ফরম পূরণের তারিখ নিজ বোর্ডের সাইটে আসে।
এই লেখায়
১. মানোন্নয়ন পরীক্ষা কি, কারা দিতে পারেন
পাস করার পরও ফল ভালো করার জন্য আবার পরীক্ষা দেওয়াকে সাধারণভাবে মানোন্নয়ন বা ইমপ্রুভমেন্ট বলা হয়। বরিশাল বোর্ডের এইচএসসি ২০২৬-এর ফরম পূরণের বিজ্ঞপ্তিতে শর্তগুলো এভাবে লেখা ছিল:
- ২০২৫ সালের এইচএসসিতে জিপিএ ৫.০০-এর কম পেলে জিপিএ উন্নয়নের সুযোগ।
- উত্তীর্ণ হওয়ার অব্যবহিত পরের বছরেই বসতে হবে, রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ থাকা সাপেক্ষে।
- ২০২৬ সালের পরীক্ষায় নির্ধারিত সব বিষয়ে পরীক্ষা দিতে হবে।
- জিপিএ উন্নয়নের জন্য রেজিস্ট্রেশন নবায়ন করা যায় না।
- ২০২৫ সালে এক বা দুই বিষয়ের পরীক্ষা দিয়ে পাস করলে এ সুযোগ নেই।
শর্তে জিপিএ ৫.০০-এর কম বলা আছে। তাই কেউ জিপিএ ৫ পেয়ে শুধু একটি বিষয়ের গ্রেড বাড়াতে চাইলে এই পথ খোলা থাকে না।
২. hsc improvement exam rules in bangladesh: সিদ্ধান্তের আগে হিসাব
পুরো এক বছর আবার সব বিষয়ের প্রস্তুতি নিতে হয়, তাই আগে দেখুন ঘাটতিটা কোথায়। এক-দুই বিষয়ে গ্রেড সামান্য কম হলে পুনর্নিরীক্ষা কম খরচের পথ, তবে তাতে সাধারণত খাতা নতুন করে মূল্যায়ন হয় না।
| অবস্থা | যে পথটি বিবেচনা করবেন |
|---|---|
| এক বিষয়ে A, বাকিগুলো A+ | পুনর্নিরীক্ষা, পরীক্ষা ভালো হয়ে থাকলে |
| কয়েকটি বিষয়ে গ্রেড কম, মোট জিপিএ ৪-এর নিচে | জিপিএ উন্নয়ন, সব বিষয়ে প্রস্তুতি নেওয়ার সময় থাকলে |
| ভর্তির জিপিএ শর্ত পূরণ হচ্ছে না | যে বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে চান, তার বিজ্ঞপ্তিতে পাসের সালের শর্ত দেখে সিদ্ধান্ত |
| এক বা দুই বিষয়ে পরীক্ষা দিয়ে পাস | জিপিএ উন্নয়নের সুযোগ নেই |
৩. আবেদন করবেন যেভাবে
- ১বিজ্ঞপ্তির অপেক্ষা করুনপরের বছরের এইচএসসি ফরম পূরণের বিজ্ঞপ্তিতে জিপিএ উন্নয়নের আবেদনের শেষ তারিখ থাকে। ২০২৬ সালে বিজ্ঞপ্তি এসেছিল ১৯ ফেব্রুয়ারি।
- ২অধ্যক্ষ বরাবর আবেদনযে কলেজ থেকে পরীক্ষা দিয়েছিলেন, সেখানে সাদা কাগজে আবেদন করুন। ২০২৬ সালে শেষ দিন ছিল ২৬ ফেব্রুয়ারি।
- ৩তালিকায় নাম মিলিয়ে নিনকলেজ বোর্ডের সম্ভাব্য তালিকা থেকে পরীক্ষার্থী বাছাই করে অনলাইনে ফরম পূরণ করে। আপনার নাম আর রেজিস্ট্রেশন নম্বর ঠিক উঠেছে কি না কলেজে দেখে নিন।
- ৪ফি দিয়ে প্রস্তুতিফি জমা হয় কলেজের মাধ্যমে। প্রবেশপত্র আর পরীক্ষার কেন্দ্রের খবরও কলেজই দেয়।
২০২৬ সালে জিপিএ উন্নয়নের পরীক্ষার্থীদের জন্য যে হার ছিল: প্রতি পত্র বা বিষয়ে পরীক্ষার ফি ১২৫ টাকা, ব্যবহারিক প্রতি পত্রে ২৫ টাকা, একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট ফি ১০০ টাকা, সনদ ফি ১৫০ টাকা আর অনুমতি বা তালিকাভুক্তি ফি ১০০ টাকা। কেন্দ্র ফি আলাদা, কেন্দ্রে দিতে হয়।
জিপিএ উন্নয়নের পরীক্ষার্থীর ফির তালিকায় ব্যবহারিক ফিও ধরা আছে। তাই যেসব বিষয়ে ব্যবহারিক অংশ আছে, সেগুলোর প্রস্তুতিও নতুন করে নিতে হবে, কলেজে কবে ব্যবহারিক পরীক্ষা তা জেনে রাখুন। তুলনার জন্য, ২০২৬ সালে নিয়মিত পরীক্ষার্থীর মোট ফরম পূরণ ফি ছিল বিজ্ঞানে ২,৯৯৫ টাকা আর মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষায় ২,৪৩৫ টাকা, কেন্দ্র ফিসহ।
৪. কোন সিলেবাসে পরীক্ষা, সময় কখন
২০২৬ সালের পরীক্ষায় অনিয়মিত ও মানোন্নয়ন পরীক্ষার্থীরা বসেছেন ২০২৫ সালের পুনর্বিন্যাসকৃত পাঠ্যসূচিতে, নিয়মিতরা ২০২৬ সালেরটিতে। অর্থাৎ যে সিলেবাসে প্রথমবার পরীক্ষা দিয়েছেন, সেটিই বহাল ছিল। ২০২৭ সালে কী হবে, বোর্ডের নির্দেশনায় দেখে নিন।
| ধাপ | ২০২৬ সালে যে তারিখে হয়েছিল |
|---|---|
| বোর্ডের ফরম পূরণের বিজ্ঞপ্তি | ১৯ ফেব্রুয়ারি |
| জিপিএ উন্নয়নের আবেদন, অধ্যক্ষ বরাবর | ২৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে |
| বোর্ডের সাইটে সম্ভাব্য তালিকা | ২৮ ফেব্রুয়ারি |
| কলেজের অনলাইন ফরম পূরণ ও ফি | ১ থেকে ৯ মার্চ |
| বিলম্ব ফিসহ ফরম পূরণ | ১০ থেকে ১৮ মার্চ, ১০০ টাকা বাড়তি |
| লিখিত পরীক্ষা | ২ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট |
২০২৬ সালের ধাঁচ ধরলে ২০২৭ সালের আবেদন আর ফরম পূরণ হতে পারে ফেব্রুয়ারি-মার্চে, পরীক্ষা তার কয়েক মাস পরে (সম্ভাব্য)। তারিখ ঘোষণা হলে কলেজ নোটিশ বোর্ডে দেয়।
৫. ভর্তির ক্ষেত্রে কী মাথায় রাখবেন
জিপিএ উন্নয়নের পরীক্ষা দেবেন বলে এ বছরের ভর্তি থামিয়ে রাখার দরকার নেই। এইচএসসি ২০২৬-এর ফল দিয়েই এ বছরের বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিতে আবেদন করা যায়।
- বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিজ্ঞপ্তিতে এসএসসি ও এইচএসসি পাসের সাল বেঁধে দেয়। যেমন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ২০২৬-২৭ সেশনে শুধু ২০২৬ সালের এইচএসসি পাস শিক্ষার্থীদের নিচ্ছে।
- জিপিএ উন্নয়নের পরের ফল কোন বিশ্ববিদ্যালয় কীভাবে গণ্য করবে, তা প্রতিটির বিজ্ঞপ্তিতে আলাদা থাকতে পারে। আবেদনের আগে সেই অংশটি পড়ে নিন।
- মেডিকেল ভর্তিতে আগের বছরের এইচএসসি পাস প্রার্থীর মেধাতালিকায় নম্বর কাটার নিয়ম আছে, ২০২৫-২৬ সেশনে কাটা হয়েছিল ৩।
৬. অনেকে যা জানতে চান
মানোন্নয়ন পরীক্ষা কি শুধু কম গ্রেডের বিষয়ে দেওয়া যায়?
দুই বছর পরে কি মানোন্নয়ন পরীক্ষা দেওয়া যায়?
এইচএসসি ২০২৬-এর জন্য মানোন্নয়ন কবে?
জিপিএ ৫ পেয়েছি, তবু একটি বিষয়ে গ্রেড বাড়াতে পারব?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৬ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।