
সংক্ষেপে
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২০২৬ সালের শিক্ষাপঞ্জিতে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার তারিখ রাখা হয়েছে ২০, ২১, ২২ ও ২৩ ডিসেম্বর, প্রথম আলো এ খবর দিয়েছে। এটি সম্ভাব্য সূচি; প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের চূড়ান্ত সময়সূচি এলে সেটিই মানতে হবে।
নতুন নীতিমালায় পরীক্ষা হবে ৪০০ নম্বরে, চার বিষয়ে ১০০ করে। পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্যে চতুর্থ শ্রেণির ফলের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ বসতে পারবে, আর বৃত্তি পেতে প্রতি বিষয়ে অন্তত ৪০ শতাংশ নম্বর লাগবে।
বৃত্তি পরীক্ষার সময়সূচি আর নোটিশ অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে আসে।
এই লেখায়
১. পরীক্ষা কবে, আগের বছর কী হয়েছিল
২০২৫ সালের বৃত্তি পরীক্ষা ডিসেম্বরে হওয়ার কথা থাকলেও পিছিয়ে যায়। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সূচিতে সেটি হয় ২০২৬ সালের ১৫ থেকে ১৮ এপ্রিল; রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি আর বান্দরবানে ১৭ থেকে ২০ এপ্রিল। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত পরীক্ষা হয়, ফল প্রকাশ হয় ১২ জুলাই ২০২৬।
ওই সময় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেছিলেন, আগামী বছরগুলোতে বৃত্তি পরীক্ষা সঠিক সময়ে হবে। সে অনুযায়ী ২০২৬ সালের শিক্ষাপঞ্জিতে ডিসেম্বরের ২০ থেকে ২৩ তারিখ রাখা হয়েছে। বিষয়ভিত্তিক দিন আর কেন্দ্র অধিদপ্তর আলাদা বিজ্ঞপ্তিতে জানাবে, তাই এখনই কোনো অনানুষ্ঠানিক রুটিনে ভরসা করবেন না।
২. কারা পরীক্ষা দিতে পারবে
- সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
- প্রতিটি বিদ্যালয় থেকে চতুর্থ শ্রেণির সামষ্টিক মূল্যায়নের ফলের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থী।
- সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য অংশ নেওয়া বাধ্যতামূলক।
- বেসরকারি বিদ্যালয়কে এনসিটিবির পাঠ্যক্রম মানতে হবে এবং অধিদপ্তরের অনলাইন ব্যবস্থা আইপিইএমআইএসে সক্রিয় থাকতে হবে।
কে পরীক্ষা দেবে, তা অভিভাবক আবেদন করে ঠিক করেন না; বিদ্যালয় চতুর্থ শ্রেণির ফল দেখে তালিকা করে। সন্তানের নাম আছে কি না, প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে জেনে নিন।
৩. বিষয়, নম্বর আর সময়
| বিষয় | নম্বর | সময় |
|---|---|---|
| বাংলা | ১০০ | ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট |
| ইংরেজি | ১০০ | ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট |
| প্রাথমিক গণিত | ১০০ | ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট |
| বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এবং প্রাথমিক বিজ্ঞান (সমন্বিত) | ১০০ (৫০ + ৫০) | ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট |
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীরা প্রতি পরীক্ষায় ৩০ মিনিট বেশি পায়। বৃত্তির জন্য বিবেচিত হতে প্রতিটি বিষয়ে ন্যূনতম ৪০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে, অর্থাৎ মোট নম্বর বেশি হলেও এক বিষয়ে ৪০-এর কম পেলে বৃত্তি মিলবে না।
৪. বৃত্তির ধরন আর কোটা
- দুই ধরনের বৃত্তি: ট্যালেন্টপুল আর সাধারণ। দুই ক্ষেত্রেই ৫০ শতাংশ ছাত্র, ৫০ শতাংশ ছাত্রী।
- মোট বৃত্তির ৮০ শতাংশ সরকারি আর ২০ শতাংশ বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য।
- ট্যালেন্টপুল বৃত্তি উপজেলা বা থানাভিত্তিক মেধাক্রমে।
- সরকারি বিদ্যালয়ের সাধারণ বৃত্তিতে ইউনিয়ন বা ওয়ার্ড একটি ইউনিট; প্রতি ইউনিটে ২ জন ছাত্র, ২ জন ছাত্রী আর ১টি মেধা কোটা, মোট ৫টি।
বৃত্তির মাসিক টাকার অঙ্ক নীতিমালার খবরে আসেনি, আর প্রতিমন্ত্রী এপ্রিলে বলেছিলেন বৃত্তির সংখ্যা ও পরিমাণ পুনর্বিবেচনার পরিকল্পনা আছে। তাই টাকার অঙ্কের জন্য ফল প্রকাশের সময়ের সরকারি ঘোষণা দেখুন।
৫. পরীক্ষার দিন আর ফল দেখার নিয়ম
পরীক্ষার হলে যা মানতে হবে
- ১এসএমএসেগত বছর যেকোনো অপারেটর থেকে DPE স্পেস রোল নম্বর লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠিয়ে ফল জানা গেছে। এবারও একই নিয়ম থাকবে কি না, ফলের দিনের বিজ্ঞপ্তিতে মিলিয়ে নিন।
- ২ওয়েবসাইটেআইপিইএমআইএস ওয়েবসাইটে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা অপশন বেছে রোল নম্বর, জেলা আর উপজেলা দিয়ে সাবমিট করলে মার্কশিটসহ ফল দেখা যায়।
- ৩বিদ্যালয়েউপজেলা শিক্ষা অফিস আর বিদ্যালয়েও ফলের তালিকা যায়। সন্দেহ থাকলে প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে উপজেলা শিক্ষা অফিসে খোঁজ নিন।
৬. অনেকে যা জানতে চান
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬ কবে?
সবাই কি বৃত্তি পরীক্ষা দিতে পারবে?
বৃত্তি পরীক্ষা কত নম্বরে?
প্রাথমিক বৃত্তির ফলাফল কোথায় দেখব?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৯ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।