
সংক্ষেপে
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের ১৭ অক্টোবর ২০২৬-এর বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ২০২৭ সালের এসএসসিতে নিয়মিত পরীক্ষার্থীর ফরম পূরণের মোট ফি বিজ্ঞান বিভাগে ২,৪৩৫ টাকা, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষায় ২,৩১৫ টাকা, চতুর্থ বিষয়সহ। এর মধ্যে বোর্ড ফি বিজ্ঞানে ১,৯২০ আর অন্য দুই বিভাগে ১,৮৩০ টাকা, বাকিটা কেন্দ্র ফি।
বিদ্যালয় অনলাইনে ফরম পূরণ করবে ১৬ থেকে ২৩ নভেম্বর ২০২৬, বিলম্ব ফি ছাড়া টাকা জমার শেষ দিন ২৪ নভেম্বর। এরপর পরীক্ষার্থীপ্রতি ১০০ টাকা বিলম্ব ফিসহ ২৪ থেকে ২৯ নভেম্বর ফরম পূরণ আর ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত টাকা জমা দেওয়া যাবে।
ফরম পূরণের পূর্ণ বিজ্ঞপ্তি, সম্ভাব্য তালিকা আর পরে পরীক্ষার সূচি এখানেই প্রকাশ হয়।
এই লেখায়
১. কোন বিভাগে মোট কত টাকা
বিজ্ঞপ্তিতে নিয়মিত পরীক্ষার্থীর মোট ফি বিভাগ ধরে আলাদা করে লেখা আছে। কেন্দ্র ফির ভেতরে ব্যবহারিক পরীক্ষার ফিও ধরা আছে। নিচের অঙ্কগুলো চতুর্থ বিষয়সহ।
| বিভাগ (নিয়মিত) | বোর্ড ফি | কেন্দ্র ফি | মোট |
|---|---|---|---|
| বিজ্ঞান | ১,৯২০ টাকা | ৫১৫ টাকা | ২,৪৩৫ টাকা |
| ব্যবসায় শিক্ষা | ১,৮৩০ টাকা | ৪৮৫ টাকা | ২,৩১৫ টাকা |
| মানবিক | ১,৮৩০ টাকা | ৪৮৫ টাকা | ২,৩১৫ টাকা |
বোর্ড ফির ভেতরে আছে প্রতি পত্রে পরীক্ষার ফি ১২৫ টাকা, ব্যবহারিক পরীক্ষার ফি প্রতি পত্রে ৩০ টাকা, একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট ৮০ টাকা, মূল সনদ ১৫০ টাকা, স্কাউটস ফি ২৫ আর গার্ল গাইডস ফি ১৫ টাকা। অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের এর সঙ্গে ১০০ টাকা অনিয়মিত ফি দিতে হয়। ২০২১-২২ সালের রেজিস্ট্রেশনধারীদের রেজিস্ট্রেশন নবায়ন ফি ২০০ টাকা।
কেন্দ্র ফি ঠিক হয় ব্যবহারিক আছে কি না তা দেখে। যাঁর ব্যবহারিক পরীক্ষা নেই, তাঁর কেন্দ্র ফি ৪০০ টাকা, যাঁর আছে তাঁর ৪৫০ টাকা। এক থেকে চার বিষয়ে অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীর বেলাতেও এই হিসাব খাটে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহারিক নিজ প্রতিষ্ঠানে হয়, তার ফি ২৫ টাকা।
২. ফরম পূরণের তারিখগুলো এক নজরে
| কাজ | শেষ সময় |
|---|---|
| অনিয়মিত ও জিপিএ উন্নয়ন পরীক্ষার্থীর প্রধান শিক্ষকের কাছে লিখিত আবেদন | ১৪ নভেম্বর ২০২৬ |
| নির্বাচনী (টেস্ট) পরীক্ষা নিয়ে ফল প্রকাশ | ১৫ নভেম্বর ২০২৬ |
| বোর্ডের ওয়েবসাইটে সম্ভাব্য তালিকা (probable list) | ১৫ নভেম্বর ২০২৬ |
| বিলম্ব ফি ছাড়া অনলাইনে ফরম পূরণ | ১৬ থেকে ২৩ নভেম্বর ২০২৬ |
| বিলম্ব ফি ছাড়া টাকা জমা | ২৪ নভেম্বর ২০২৬ |
| বিলম্ব ফিসহ ফরম পূরণ | ২৪ থেকে ২৯ নভেম্বর ২০২৬ |
| ১০০ টাকা বিলম্ব ফিসহ টাকা জমা | ৩০ নভেম্বর ২০২৬ |
ফরম পূরণের কাজটা আপনি নিজে করেন না, করে বিদ্যালয়। তাই আপনার আসল তারিখ হলো বিদ্যালয় যে দিন পর্যন্ত টাকা নেয়, সেটি। ব্যাংকে জমা দেওয়ার সময় রাখতে বিদ্যালয় বোর্ডের শেষ দিনের আগেই টাকা নেওয়া শেষ করতে পারে, তাই বিদ্যালয়ের নোটিশ বোর্ডে নিজের তারিখটা দেখে নিন।
৩. বিদ্যালয় যেভাবে ফরম পূরণ করে
বিজ্ঞপ্তিতে পুরো প্রক্রিয়াটা ধাপে ধাপে লেখা আছে। আপনার কাজ মূলত তথ্য মিলিয়ে দেওয়া আর সময়মতো টাকা দেওয়া, তবে ধাপগুলো জানা থাকলে বুঝবেন কোথায় দেরি হচ্ছে।
- ১সম্ভাব্য তালিকা ছাপানোবিদ্যালয় বোর্ডের ওয়েবসাইটে OEMS বা eFF অংশে EIIN ও পাসওয়ার্ড দিয়ে ঢুকে probable list প্রিন্ট করে, তারপর লাল কালিতে টিক দিয়ে পরীক্ষার্থী বাছাই করে।
- ২অনলাইনে নির্বাচনটিক দেওয়া তালিকা মিলিয়ে কম্পিউটারে পরীক্ষার্থী Select করা হয়। Temporary List প্রিন্ট করে যাচাইয়ের পর দরকার হলে Select বা UnSelect করা যায়।
- ৩পে স্লিপ আর ব্যাংকে টাকাPay Slip প্রিন্ট করলে আর কোনো পরীক্ষার্থী যোগ বা বাদ দেওয়া যায় না। সোনালী সেবা চালু আছে এমন সোনালী ব্যাংকের শাখায় স্লিপে লেখা টাকা জমা দিতে হয়।
- ৪চূড়ান্ত তালিকায় স্বাক্ষরটাকা জমার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে Final Candidate List প্রিন্ট করা যায়। সেই তালিকায় পরীক্ষার্থীর স্বাক্ষর নেওয়া হয়, প্রতি পৃষ্ঠায় সই করেন প্রতিষ্ঠানপ্রধান। একটি কপি বিদ্যালয়ে থাকে।
পে স্লিপ প্রিন্টের পর তালিকা আর বদলানো যায় না। তাই বিদ্যালয় যখন সম্ভাব্য তালিকা দেখায়, তখনই আপনার নাম, বিভাগ আর বিষয় ঠিক আছে কি না দেখে নিন।
৪. অনিয়মিত আর জিপিএ উন্নয়ন পরীক্ষার্থীর নিয়ম
- ২০২৫-২৬ সালের রেজিস্ট্রেশনধারীরা ২০২৭ সালে নিয়মিত পরীক্ষার্থী।
- ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ সালের রেজিস্ট্রেশনধারী যাঁরা ২০২৫ বা ২০২৬ সালে পরীক্ষা দেননি, তাঁরা নিজ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অনিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে বসবেন।
- ২০২৬ সালে চতুর্থ বিষয় বাদে এক থেকে চার বিষয়ে অকৃতকার্য হলে, রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ থাকলে শুধু সেই বিষয়গুলোতে বা চাইলে সব বিষয়ে বসা যাবে।
- ২০২২-২৩ সালের রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ শেষ, কিন্তু চতুর্থ বিষয় বাদে এখনো এক বিষয়ে অকৃতকার্য, তাঁরা বিশেষ বিবেচনায় এক বছরের জন্য রেজিস্ট্রেশন নবায়ন করে বসতে পারবেন। মূল রেজিস্ট্রেশন কার্ড প্রতিষ্ঠানপ্রধানের মাধ্যমে বিদ্যালয় পরিদর্শকের দপ্তরে জমা দিয়ে নবায়ন করাতে হয়।
- জিপিএ উন্নয়ন দিতে পারবেন শুধু ২০২৬ সালে সব বিষয়ে পরীক্ষা দিয়ে পাস করা এবং জিপিএ ৫.০০-এর কম পাওয়া পরীক্ষার্থী। সব বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে বসতে হবে, ফল ভালো হলে তবেই নতুন ফল নেওয়া হবে।
আংশিক বিষয়ে যাঁরা বসবেন, তাঁদের আগের পরীক্ষায় পাওয়া পাস বিষয়ের গ্রেড পয়েন্ট সংরক্ষিত থাকে। নতুন বিষয়ের ফলের সঙ্গে যোগ করে জিপিএ ঠিক হয়। জিপিএ উন্নয়ন পরীক্ষার্থীকে আগের প্রবেশপত্র আর একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্টের সত্যায়িত ফটোকপি প্রিন্ট কপির সঙ্গে জমা দিতে হয়। জিপিএ উন্নয়ন আর আগে অকৃতকার্য পরীক্ষার্থী ছাড়া বাকি সবার জন্য নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশ নেওয়া বাধ্যতামূলক।
৫. বাড়তি টাকা চাইলে বা টাকা জোগাড়ে দেরি হলে
বিজ্ঞপ্তি স্পষ্ট বলছে, এখানে লেখা ফির বাইরে কোনোভাবেই বাড়তি টাকা নেওয়া যাবে না। অভিযোগ পেলে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও লেখা আছে। বেতন আর সেশন চার্জ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত শোধ করতে হবে, তবে নবম ও দশম শ্রেণি মিলিয়ে ২৪ মাসের বেশি বেতন ও সেশন চার্জ নেওয়া যাবে না।
টাকা দেওয়ার আগে মিলিয়ে নিন
বেশি টাকা চাওয়া হলে প্রথমে বিদ্যালয়ের কাছে লিখিত হিসাব চান। সমাধান না হলে ঢাকা বোর্ডের ওয়েবসাইটের অভিযোগ বাক্স ব্যবহার করতে পারেন। অন্য বোর্ডের পরীক্ষার্থী হলে নিজের বোর্ডের বিজ্ঞপ্তি দেখুন, কারণ এই অঙ্কগুলো ঢাকা বোর্ডের বিজ্ঞপ্তি থেকে নেওয়া।
৬. অনেকে যা জানতে চান
এসএসসি ২০২৭ ফরম পূরণ ফি কত?
ফরম পূরণের শেষ তারিখ কবে?
বিলম্ব ফি কত?
জিপিএ ৫ না পেলে কি আবার পরীক্ষা দেওয়া যায়?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৮ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।