সংক্ষেপে
এসএসসি বা এইচএসসির সনদে নাম, বাবা-মায়ের নাম বা জন্মতারিখ ভুল থাকলে সংশোধনের আবেদন করতে হয় নিজের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে, বোর্ডের অনলাইন ব্যবস্থায়। কাগজ যাচাইয়ের পর বোর্ডের নাম বা বয়স সংশোধন কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হয়, দরকার হলে আবেদনকারীকে সাক্ষাৎকারে ডাকা হয়।
ঢাকা বোর্ডে নাম সংশোধনের ফি প্রতি পরীক্ষায় ৫০০ টাকা, বয়স বা জন্মতারিখ সংশোধনে ১,০০০ টাকা। বয়স সংশোধনের আবেদন করতে হয় পরীক্ষার ফল প্রকাশের পাঁচ বছরের মধ্যে।
নাম ও বয়স সংশোধনের আবেদন, আবেদনের সর্বশেষ অবস্থা আর সংশোধনের পর ফ্রেশ কপির আবেদন বোর্ডের অনলাইন সেবা অংশে।
এই লেখায়
১. কোন বোর্ডে, কার মাধ্যমে আবেদন
যে বোর্ডের অধীনে পরীক্ষা দিয়েছেন, সংশোধনের আবেদন সেই বোর্ডেই। ঢাকা বোর্ডের ওয়েবসাইটে স্পষ্ট লেখা আছে, নাম ও বয়স সংশোধনের আবেদন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে করতে হবে। আবেদন ফর্ম খোলে প্রতিষ্ঠানের EIIN ও পাসওয়ার্ড দিয়ে, তাই কাজ শুরু করুন নিজের স্কুল, কলেজ বা মাদ্রাসার অফিস থেকে।
মাদ্রাসা বোর্ডের নিজস্ব অনলাইন নাম ও বয়স সংশোধন ব্যবস্থা আছে, চট্টগ্রাম বোর্ডেরও আলাদা সাইট আছে। ধাপ কাছাকাছি হলেও কাগজ ও ফি মেলাতে নিজ বোর্ডের নির্দেশিকা পড়ে নিন।
যে পরীক্ষার সনদ ঠিক করাতে চান, তার আগের পরীক্ষার সনদে সেই তথ্য ঠিক থাকতে হয়। যেমন এইচএসসির সনদে বাবার নাম ঠিক করাতে হলে এসএসসির সনদে বাবার নাম আগে ঠিক থাকা দরকার। চট্টগ্রাম বোর্ডের নির্দেশনায় এটি স্পষ্ট বলা আছে।
২. কী কী কাগজ লাগতে পারে
কোন কাগজ লাগবে, তা নির্ভর করে কী সংশোধন করছেন তার ওপর। ঢাকা বোর্ডের সিটিজেন চার্টারে যেগুলোর কথা আছে:
প্রয়োজন অনুযায়ী যা জমা দেবেন
চট্টগ্রাম বোর্ডের আবেদন ফর্মে এফিডেভিটের মূল কপি আর পত্রিকায় দেওয়া বিজ্ঞপ্তির ছবিও আপলোড করতে হয়। বয়স সংশোধনে সেখানে সিভিল সার্জন বা সদর হাসপাতালের ডাক্তারি প্রত্যয়নপত্রও চাওয়া হয়। আপনার বোর্ডে এগুলো লাগবে কি না, প্রতিষ্ঠান বা বোর্ড থেকে জেনে নিন।
৩. আবেদন থেকে নতুন সনদ পর্যন্ত
- ১প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ করুনসব কাগজের মূল কপি ও ফটোকপি নিয়ে প্রতিষ্ঠানে যান। প্রতিষ্ঠান বোর্ডের অনলাইন ব্যবস্থায় আবেদন তুলবে, কাগজ স্ক্যান করে যুক্ত করবে।
- ২ফি জমা দিনঢাকা বোর্ডে নাম সংশোধনে প্রতি পরীক্ষার জন্য ৫০০ টাকা, বয়স সংশোধনে ১,০০০ টাকা। টাকা যায় সোনালী ব্যাংকের অনলাইন গেটওয়েতে।
- ৩প্রতিষ্ঠান আবার ফরোয়ার্ড করবেফি দেওয়ার পর প্রতিষ্ঠানকে আবেদনটি আবার অনলাইনে বোর্ডে ফরোয়ার্ড করতে হয়। এই ধাপ বাদ পড়লে আবেদন বোর্ডে পৌঁছায় না, তাই প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নিশ্চিত হয়ে নিন।
- ৪কমিটির সভা ও সাক্ষাৎকারবোর্ড কাগজ যাচাই করে আবেদন সংশোধন কমিটির সভায় তোলে। বয়স সংশোধনে আবেদনকারীকে সভায় সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হয়, নাম সংশোধনে প্রয়োজন হলে ডাকা হয়। সব মূল কাগজ সঙ্গে নেবেন।
- ৫সিদ্ধান্ত ও ফ্রেশ কপিসিদ্ধান্ত আর আবেদনের সর্বশেষ অবস্থা বোর্ডের ওয়েবসাইটে দেখা যায়। অনুমোদন পেলে সংশোধিত সনদ ও নম্বরপত্রের ফ্রেশ কপির জন্য আলাদা অনলাইন আবেদন করতে হয়।
| কাজ | ফি (ঢাকা বোর্ড) | সময় (সিটিজেন চার্টার) |
|---|---|---|
| নাম সংশোধন (নিজের, বাবার, মায়ের) | প্রতি পরীক্ষায় ৫০০ টাকা | আবেদনের ধরন অনুযায়ী ৭ দিন থেকে ৩ মাস |
| বয়স বা জন্মতারিখ সংশোধন | প্রতি পরীক্ষায় ১,০০০ টাকা | আবেদন পাওয়ার ৩ মাসের মধ্যে |
| নাম বা বয়স সংশোধনের রিভিউ | ৫০০ টাকা | বোর্ডের নির্দেশনা দেখুন |
| সংশোধনের পর সনদ বা নম্বরপত্রের ফ্রেশ কপি | প্রতিটি ৫০০ টাকা | ৩ কর্মদিবস |
| সংশোধনের পর রেজিস্ট্রেশন কার্ড সংশোধন | ২০০ টাকা | ৩ কর্মদিবস |
৪. সময়সীমা আর বোর্ডের সতর্কবার্তা
বয়স সংশোধনের আবেদন পরীক্ষার ফল প্রকাশের পাঁচ বছরের মধ্যে করতে হয়, ঢাকা বোর্ডের সিটিজেন চার্টারে এটি বলা আছে। নাম সংশোধনের জন্য এমন সীমা চার্টারে লেখা নেই। তবে যত দেরি করবেন, পাসপোর্ট, NID আর চাকরির কাগজে গরমিল তত বাড়বে।
৩০ আগস্ট ২০২৬ ঢাকা বোর্ড এক গণবিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, নাম, বাবা-মায়ের নাম ও জন্মতারিখ বদলের আবেদন দিন দিন বাড়ছে। বোর্ডের ভাষায়, এই পরিবর্তন কোনো স্বাভাবিক বা নিয়মিত বিষয় নয়। চাকরির বয়সসীমা বা বিদেশে যাওয়ার মতো ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য তথ্য বদলের চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়, আবেদন হতে হবে যথাযথ কারণ ও প্রামাণিক দলিলের ভিত্তিতে।
বোর্ডের পরামর্শ, রেজিস্ট্রেশন আর ফরম পূরণের সময়ই সব তথ্য মিলিয়ে নিন। ভুল চোখে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে প্রতিষ্ঠানকে জানান, কারণ ফল বা সনদ প্রকাশের পর সংশোধন আরও জটিল হয়।
২০২৬ সালের জুনে ঢাকা বোর্ড সতর্ক করেছে, একটি চক্র দ্রুত সংশোধন করিয়ে দেওয়ার কথা বলে টাকা নিচ্ছে। ফি দিতে হয় শুধু অনলাইনে। সমস্যা হলে সরাসরি বোর্ডের সচিবের দপ্তরে যোগাযোগ করুন।
৫. অনেকে যা জানতে চান
এসএসসি আর এইচএসসি দুই সনদেই ভুল, কী করব?
বোর্ডের সনদ ঠিক হলে কি NID নিজে থেকে বদলাবে?
আবেদন বাতিল হলে কী করব?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৬ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।