শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল

এসএসসি-এইচএসসি সনদে নাম ও জন্মতারিখ সংশোধন

নাগরিক সেবা সম্পাদনা দলপড়তে ৭ মিনিট

হালনাগাদ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬এসএমএসে ফল ১৬২২২educationboardresults.gov.bd

সংক্ষেপে

এসএসসি বা এইচএসসির সনদে নাম, বাবা-মায়ের নাম বা জন্মতারিখ ভুল থাকলে সংশোধনের আবেদন করতে হয় নিজের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে, বোর্ডের অনলাইন ব্যবস্থায়। কাগজ যাচাইয়ের পর বোর্ডের নাম বা বয়স সংশোধন কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হয়, দরকার হলে আবেদনকারীকে সাক্ষাৎকারে ডাকা হয়।

ঢাকা বোর্ডে নাম সংশোধনের ফি প্রতি পরীক্ষায় ৫০০ টাকা, বয়স বা জন্মতারিখ সংশোধনে ১,০০০ টাকা। বয়স সংশোধনের আবেদন করতে হয় পরীক্ষার ফল প্রকাশের পাঁচ বছরের মধ্যে।

ঢাকা বোর্ডের সংশোধন আবেদন

নাম ও বয়স সংশোধনের আবেদন, আবেদনের সর্বশেষ অবস্থা আর সংশোধনের পর ফ্রেশ কপির আবেদন বোর্ডের অনলাইন সেবা অংশে।

ঢাকা বোর্ডের সাইট
এই লেখায়
  1. কোন বোর্ডে, কার মাধ্যমে আবেদন
  2. কী কী কাগজ লাগতে পারে
  3. আবেদন থেকে নতুন সনদ পর্যন্ত
  4. সময়সীমা আর বোর্ডের সতর্কবার্তা
  5. অনেকে যা জানতে চান

১. কোন বোর্ডে, কার মাধ্যমে আবেদন

যে বোর্ডের অধীনে পরীক্ষা দিয়েছেন, সংশোধনের আবেদন সেই বোর্ডেই। ঢাকা বোর্ডের ওয়েবসাইটে স্পষ্ট লেখা আছে, নাম ও বয়স সংশোধনের আবেদন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে করতে হবে। আবেদন ফর্ম খোলে প্রতিষ্ঠানের EIIN ও পাসওয়ার্ড দিয়ে, তাই কাজ শুরু করুন নিজের স্কুল, কলেজ বা মাদ্রাসার অফিস থেকে।

মাদ্রাসা বোর্ডের নিজস্ব অনলাইন নাম ও বয়স সংশোধন ব্যবস্থা আছে, চট্টগ্রাম বোর্ডেরও আলাদা সাইট আছে। ধাপ কাছাকাছি হলেও কাগজ ও ফি মেলাতে নিজ বোর্ডের নির্দেশিকা পড়ে নিন।

আগের স্তরের সনদ আগে ঠিক থাকতে হয়

যে পরীক্ষার সনদ ঠিক করাতে চান, তার আগের পরীক্ষার সনদে সেই তথ্য ঠিক থাকতে হয়। যেমন এইচএসসির সনদে বাবার নাম ঠিক করাতে হলে এসএসসির সনদে বাবার নাম আগে ঠিক থাকা দরকার। চট্টগ্রাম বোর্ডের নির্দেশনায় এটি স্পষ্ট বলা আছে।

২. কী কী কাগজ লাগতে পারে

কোন কাগজ লাগবে, তা নির্ভর করে কী সংশোধন করছেন তার ওপর। ঢাকা বোর্ডের সিটিজেন চার্টারে যেগুলোর কথা আছে:

প্রয়োজন অনুযায়ী যা জমা দেবেন

চট্টগ্রাম বোর্ডের আবেদন ফর্মে এফিডেভিটের মূল কপি আর পত্রিকায় দেওয়া বিজ্ঞপ্তির ছবিও আপলোড করতে হয়। বয়স সংশোধনে সেখানে সিভিল সার্জন বা সদর হাসপাতালের ডাক্তারি প্রত্যয়নপত্রও চাওয়া হয়। আপনার বোর্ডে এগুলো লাগবে কি না, প্রতিষ্ঠান বা বোর্ড থেকে জেনে নিন।

৩. আবেদন থেকে নতুন সনদ পর্যন্ত

  • ১
    প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ করুনসব কাগজের মূল কপি ও ফটোকপি নিয়ে প্রতিষ্ঠানে যান। প্রতিষ্ঠান বোর্ডের অনলাইন ব্যবস্থায় আবেদন তুলবে, কাগজ স্ক্যান করে যুক্ত করবে।
  • ২
    ফি জমা দিনঢাকা বোর্ডে নাম সংশোধনে প্রতি পরীক্ষার জন্য ৫০০ টাকা, বয়স সংশোধনে ১,০০০ টাকা। টাকা যায় সোনালী ব্যাংকের অনলাইন গেটওয়েতে।
  • ৩
    প্রতিষ্ঠান আবার ফরোয়ার্ড করবেফি দেওয়ার পর প্রতিষ্ঠানকে আবেদনটি আবার অনলাইনে বোর্ডে ফরোয়ার্ড করতে হয়। এই ধাপ বাদ পড়লে আবেদন বোর্ডে পৌঁছায় না, তাই প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নিশ্চিত হয়ে নিন।
  • ৪
    কমিটির সভা ও সাক্ষাৎকারবোর্ড কাগজ যাচাই করে আবেদন সংশোধন কমিটির সভায় তোলে। বয়স সংশোধনে আবেদনকারীকে সভায় সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হয়, নাম সংশোধনে প্রয়োজন হলে ডাকা হয়। সব মূল কাগজ সঙ্গে নেবেন।
  • ৫
    সিদ্ধান্ত ও ফ্রেশ কপিসিদ্ধান্ত আর আবেদনের সর্বশেষ অবস্থা বোর্ডের ওয়েবসাইটে দেখা যায়। অনুমোদন পেলে সংশোধিত সনদ ও নম্বরপত্রের ফ্রেশ কপির জন্য আলাদা অনলাইন আবেদন করতে হয়।
কাজফি (ঢাকা বোর্ড)সময় (সিটিজেন চার্টার)
নাম সংশোধন (নিজের, বাবার, মায়ের)প্রতি পরীক্ষায় ৫০০ টাকাআবেদনের ধরন অনুযায়ী ৭ দিন থেকে ৩ মাস
বয়স বা জন্মতারিখ সংশোধনপ্রতি পরীক্ষায় ১,০০০ টাকাআবেদন পাওয়ার ৩ মাসের মধ্যে
নাম বা বয়স সংশোধনের রিভিউ৫০০ টাকাবোর্ডের নির্দেশনা দেখুন
সংশোধনের পর সনদ বা নম্বরপত্রের ফ্রেশ কপিপ্রতিটি ৫০০ টাকা৩ কর্মদিবস
সংশোধনের পর রেজিস্ট্রেশন কার্ড সংশোধন২০০ টাকা৩ কর্মদিবস

৪. সময়সীমা আর বোর্ডের সতর্কবার্তা

বয়স সংশোধনের আবেদন পরীক্ষার ফল প্রকাশের পাঁচ বছরের মধ্যে করতে হয়, ঢাকা বোর্ডের সিটিজেন চার্টারে এটি বলা আছে। নাম সংশোধনের জন্য এমন সীমা চার্টারে লেখা নেই। তবে যত দেরি করবেন, পাসপোর্ট, NID আর চাকরির কাগজে গরমিল তত বাড়বে।

৩০ আগস্ট ২০২৬ ঢাকা বোর্ড এক গণবিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, নাম, বাবা-মায়ের নাম ও জন্মতারিখ বদলের আবেদন দিন দিন বাড়ছে। বোর্ডের ভাষায়, এই পরিবর্তন কোনো স্বাভাবিক বা নিয়মিত বিষয় নয়। চাকরির বয়সসীমা বা বিদেশে যাওয়ার মতো ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য তথ্য বদলের চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়, আবেদন হতে হবে যথাযথ কারণ ও প্রামাণিক দলিলের ভিত্তিতে।

বোর্ডের পরামর্শ, রেজিস্ট্রেশন আর ফরম পূরণের সময়ই সব তথ্য মিলিয়ে নিন। ভুল চোখে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে প্রতিষ্ঠানকে জানান, কারণ ফল বা সনদ প্রকাশের পর সংশোধন আরও জটিল হয়।

দালালকে টাকা দেবেন না

২০২৬ সালের জুনে ঢাকা বোর্ড সতর্ক করেছে, একটি চক্র দ্রুত সংশোধন করিয়ে দেওয়ার কথা বলে টাকা নিচ্ছে। ফি দিতে হয় শুধু অনলাইনে। সমস্যা হলে সরাসরি বোর্ডের সচিবের দপ্তরে যোগাযোগ করুন।

৫. অনেকে যা জানতে চান

এসএসসি আর এইচএসসি দুই সনদেই ভুল, কী করব?
ফি ধরা হয় প্রতি পরীক্ষার হিসাবে, তাই দুই পরীক্ষার জন্য দুইবার ফি লাগে। চট্টগ্রাম বোর্ডের ফর্মে কোন কোন পরীক্ষার সনদ বদলাতে চান, টিক দিয়ে বেছে নেওয়া যায়। মনে রাখবেন, আগের স্তরের সনদ আগে ঠিক থাকতে হয়।
বোর্ডের সনদ ঠিক হলে কি NID নিজে থেকে বদলাবে?
না। NID সংশোধনের জন্য নির্বাচন কমিশনে আলাদা আবেদন করতে হয়। তখন সংশোধিত এসএসসি সনদ শক্ত প্রমাণ হিসেবে কাজে লাগে।
আবেদন বাতিল হলে কী করব?
ঢাকা বোর্ডের ফি তালিকায় নাম ও বয়স সংশোধনের রিভিউয়ের জন্য ৫০০ টাকা করে ফি রাখা আছে, অর্থাৎ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে। কেন বাতিল হলো জেনে নিয়ে বাড়তি প্রমাণসহ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আবার যোগাযোগ করুন।

এরপর পড়তে পারেন

যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি

জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৬ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।

সরকারি সাইট

আরও পড়ুন

ফলাফল নিয়ে আরও লেখা

পুরো বিভাগ
এসএসসি ফল

এসএসসি ও দাখিলের ফল দেখবেন যেভাবে

ওয়েবসাইটে রোল ও রেজিস্ট্রেশন দিয়ে, এসএমএসে বোর্ড কোড লিখে, আর স্কুলের পুরো ফল EIIN দিয়ে দেখার উপায়। পড়তে ৫ মিনিট
এইচএসসি ফল

এইচএসসি ও আলিমের ফল দেখবেন যেভাবে

এইচএসসি ২০২৬-এর সম্ভাব্য ফল প্রকাশের সময়, আর ওয়েবসাইট ও এসএমএসে ফল দেখার ধাপ। পড়তে ৫ মিনিট
পুনর্নিরীক্ষা

খাতা পুনর্নিরীক্ষার আবেদন

অনলাইনে আবেদনের ধাপ, প্রতি পত্রে ১৫০ টাকা ফি, কী যাচাই হয় আর সংশোধিত ফল কোথায় দেখবেন। পড়তে ৬ মিনিট
মার্কশিট ও সনদ

মার্কশিট, মূল সনদ ও দ্বি-নকল

মূল সনদ কোথায় পাবেন, আর হারালে জিডি ও পত্রিকার বিজ্ঞপ্তি দিয়ে দ্বি-নকলের আবেদন ও ফি। পড়তে ৬ মিনিট

অনেকে খোঁজেন