
সংক্ষেপে
সাময়িক সনদপত্র হলো মূল সনদ হাতে আসার আগে বোর্ডের দেওয়া অস্থায়ী সনদ, ইংরেজিতে provisional certificate। মূল সনদ সাধারণত ফলের কয়েক মাস পর প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আসে। এর আগে চাকরি, ভর্তি বা বিদেশ যাওয়ার কাজে সনদ লাগলে নিজের শিক্ষা বোর্ডে আবেদন করে সাময়িক সনদ তোলা যায়।
ফি আর পদ্ধতি বোর্ডভেদে আলাদা। ঢাকা বোর্ডে অনলাইনে ডকুমেন্ট উত্তোলনের আবেদন, ফি ৫০০ টাকা, সময় ৩ কর্মদিবস। যশোর বোর্ডের অনলাইন ফরমেও সাময়িক বা মূল সনদের ফি ৫০০ টাকা। চট্টগ্রাম বোর্ডের ফরমে সাময়িক সনদের ফি ৩০০ টাকা, ৩ কর্মদিবসে জরুরি নিলে আরও ২০০ টাকা।
ঢাকা বোর্ডের পরীক্ষার্থীরা সাময়িক সনদের অনলাইন আবেদন এখান থেকে করেন।
এই লেখায়
১. সাময়িক সনদপত্র কি, কখন লাগে
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সিটিজেন চার্টারে সেবাটির বর্ণনা এক লাইনে: মূল সনদ সরবরাহের আগে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর আবেদনের প্রেক্ষিতে সাময়িক সনদ দেওয়া হয়। অর্থাৎ ফল প্রকাশ আর মূল সনদ বিতরণের মাঝের সময়ের জন্য এটি।
ধরুন, এসএসসি ২০২৬-এর ফলের পর আপনি কোনো প্রশিক্ষণ বা চাকরির আবেদনে সনদের কপি দিতে চান, অথচ মূল সনদ এখনো স্কুলে আসেনি। এমন সময়েই সাময়িক সনদ কাজে আসে। তবে যে প্রতিষ্ঠানে জমা দেবেন, তারা সাময়িক সনদ নেবে কি না, আগে জেনে নিন।
মূল সনদ প্রতিষ্ঠানে এসে গেলে সেটাই তুলুন, ঢাকা বোর্ডের সিটিজেন চার্টারে এর জন্য কোনো ফি নেই। হারিয়ে গেলে লাগে দ্বি-নকল, সাময়িক সনদ নয়।
২. বোর্ডভেদে ফি আর পদ্ধতি
| বোর্ড | আবেদনের পথ | সাময়িক সনদের ফি | সময় |
|---|---|---|---|
| ঢাকা | ওয়েবসাইটের অনলাইন আবেদনে ডকুমেন্ট উত্তোলন অপশন | ৫০০ টাকা, সোনালী ব্যাংকের গেটওয়েতে | ৩ কর্মদিবস |
| যশোর | বোর্ডের অনলাইন আবেদন ফরম (সনদ, ট্রান্সক্রিপ্ট, প্রবেশপত্র) | ৫০০ টাকা (সাময়িক বা মূল সনদ) | বোর্ডের নির্দেশনা দেখুন |
| চট্টগ্রাম | নির্ধারিত আবেদন ফরম, নিজে বোর্ডে জমা | ৩০০ টাকা, জরুরি হলে আরও ২০০ | জরুরি হলে ৩ কর্মদিবস |
যশোর বোর্ডের ফরমে সাময়িক বা মূল একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্টের ফি আলাদা, ৬০০ টাকা। কুমিল্লা বোর্ড অনলাইনে ফ্রেশ ও ডুপ্লিকেট ডকুমেন্টের আবেদন নেয়, সমস্যায় তাদের হটলাইন ০৯৬১১৯৯১১৮৮, সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা। অন্য বোর্ডের পরীক্ষার্থী হলে নিজের বোর্ডের ফি তালিকা দেখে নিন।
অনলাইনে টাকা দেওয়ার পর জমা হয়েছে কি না নিশ্চিত হতে কয়েকটি বোর্ডের সাইটে সোনালী সেবার পেমেন্ট যাচাইয়ের অপশন আছে, যেমন যশোর আর রাজশাহী বোর্ডের হোম পাতায়। টাকা কেটে গেছে অথচ আবেদন এগোচ্ছে না, এমন হলে আগে এই যাচাই করে দেখুন, তারপর লেনদেন নম্বর নিয়ে বোর্ডে যোগাযোগ করুন।
একটি উদাহরণ। যশোর বোর্ড থেকে ২০২৬ সালে এসএসসি পাস করা তানভীর একটি সরকারি প্রশিক্ষণ কোর্সে ভর্তি হতে চায়, যেখানে আবেদনের সঙ্গে সনদের কপি চাওয়া হয়েছে। তার স্কুলে মূল সনদ এখনো আসেনি। সে বোর্ডের অনলাইন ফরমে সাময়িক সনদের আবেদন করে ৫০০ টাকা দেবে, তারপর বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী সনদ সংগ্রহ করবে।
৩. ঢাকা বোর্ডে সাময়িক সনদ উত্তোলনের ধাপ
- ১অনলাইন আবেদন খুলুনঢাকা বোর্ডের ওয়েবসাইটের অনলাইন আবেদনে ডকুমেন্ট উত্তোলনের অপশনে যান, আবেদনের ধরন হিসেবে সাময়িক সনদ বাছুন।
- ২পরীক্ষার তথ্য দিনপরীক্ষার নাম, পাসের সাল, রোল আর রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে নিজের তথ্য খুঁজে ফরম পূরণ করুন।
- ৩কাগজ যুক্ত করুনসিটিজেন চার্টার অনুযায়ী প্রবেশপত্র আর রেজিস্ট্রেশন কার্ডের কপি অনলাইন আবেদনের সঙ্গে যুক্ত করতে হয়।
- ৪ফি দিন৫০০ টাকা সোনালী ব্যাংকের গেটওয়েতে জমা দিন, লেনদেনের রসিদ রাখুন।
- ৫হার্ড কপি নিয়ে সংগ্রহ করুনঅনলাইন আবেদনের হার্ড কপি লাগে। সিটিজেন চার্টারে ৩ কর্মদিবসের মধ্যে সরবরাহের কথা বলা আছে।
৪. চট্টগ্রাম বোর্ডের ফরমে যে নিয়মগুলো মানতে হয়
- আবেদনকারীকে নিজ হাতে ফরম পূরণ করে নিজে উপস্থিত থেকে বোর্ডে জমা দিতে হয়। প্রতিটি ডকুমেন্টের জন্য আলাদা ফরম।
- ফরমের নির্দিষ্ট জায়গায় প্রতিষ্ঠান প্রধানের সত্যায়িত ছবি লাগে, আর যে প্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষা দিয়েছেন তার প্রধানের সই ও সিল।
- ফরমে ফি সোনালী ব্যাংকে জমার কথা লেখা আছে, তবে বোর্ড এখন ওয়েবসাইট থেকে সব পেমেন্ট অনলাইনে দিতে বলছে। কোন পথে দেবেন, জমার আগে বোর্ডে জেনে নিন।
- অসম্পূর্ণ আবেদন বাতিল হয়। আবেদন জমার ২ মাসের মধ্যে ডকুমেন্ট তুলে নিতে হয়।
- ফরমের ফটোকপিও গ্রহণযোগ্য।
আবেদনের আগে হাতে রাখুন
৫. সাময়িক সনদ, দ্বি-নকল না ইংরেজি ভার্সন: কোনটা আপনার দরকার
অনেকে ভুল আবেদন করে টাকা আর সময় দুটোই নষ্ট করেন। বোর্ডের কাগজ তোলার সেবাগুলোর পার্থক্য এক নজরে দেখুন, ফি ঢাকা ও চট্টগ্রাম বোর্ডের তালিকা থেকে:
| আপনার অবস্থা | যা চাইবেন | ঢাকা বোর্ডে ফি | চট্টগ্রাম বোর্ডে ফি |
|---|---|---|---|
| মূল সনদ এখনো প্রতিষ্ঠানে আসেনি | সাময়িক সনদ | ৫০০ টাকা | ৩০০ টাকা |
| মূল সনদ হারিয়েছে বা নষ্ট হয়েছে | দ্বি-নকল সনদ, সঙ্গে থানার জিডি ও পত্রিকার বিজ্ঞপ্তি | ৫০০ টাকা | ৩০০ টাকা |
| দ্বি-নকলও হারিয়েছে | ত্রি-নকল | ৭০০ টাকা | ৪০০ টাকা |
| ১৯৯৫ সালের আগের বাংলা সনদ, বিদেশে লাগবে | ইংরেজি ভার্সন | ৫০০ টাকা | ভাষান্তরের ফি বোর্ডে জেনে নিন |
হারানো সনদের দ্বি-নকলের পুরো ধাপ আমাদের মার্কশিট ও মূল সনদের গাইডে আছে। জিডি আর পত্রিকার বিজ্ঞপ্তি ছাড়া দ্বি-নকলের আবেদন গ্রহণ হয় না, এটা মনে রাখুন।
৬. যে ভুলগুলো এড়াবেন
- নামের বানান বা জন্মতারিখে ভুল থাকলে সাময়িক সনদেও সেই ভুল আসবে। আগে সংশোধনের পথ নিন, তারপর সনদ।
- ফি দেওয়ার পর আবেদন জমা হয়েছে কি না, অবস্থা দেখে নিশ্চিত হন।
- বোর্ড বা প্রতিষ্ঠানের বাইরের কাউকে টাকা দিয়ে তাড়াতাড়ি সনদ বের করার চেষ্টা করবেন না।
- অনলাইন আবেদনের প্রিন্ট, ফি জমার রসিদ আর লেনদেন নম্বর সনদ হাতে পাওয়া পর্যন্ত রেখে দিন, পরে কোনো জটিলতা হলে এগুলোই প্রমাণ।
- সাময়িক সনদ পাওয়ার পরও মূল সনদ প্রতিষ্ঠান থেকে তুলে নিতে ভুলবেন না, পরের কাজগুলোতে সেটিই চাওয়া হয়।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাময়িক সনদের নিয়ম আলাদা, এই লেখা শুধু এসএসসি, এইচএসসি আর সমমানের শিক্ষা বোর্ডের জন্য।
৭. অনেকে যা জানতে চান
সাময়িক সনদপত্র কি?
এসএসসি সাময়িক সনদপত্র তুলতে কত টাকা লাগে?
সাময়িক সনদ পেতে কত দিন লাগে?
সাময়িক সনদের জন্য কী কী কাগজ লাগে?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২২ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।