শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল

এইচএসসি ফেল করলে কি হবে: কোন বিষয়ে আবার বসবেন, রেজিস্ট্রেশন আর ফি

সম্পাদনা: রিহাত খানপড়তে ৬ মিনিট

হালনাগাদ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬এসএমএসে ফল ১৬২২২educationboardresults.gov.bd
এইচএসসি ফেল করলে কি হবে: কোন বিষয়ে আবার বসবেন, রেজিস্ট্রেশন আর ফি

সংক্ষেপে

এইচএসসি ফেল করলে কি হবে, তা নির্ভর করে কয়টি বিষয়ে F এসেছে তার ওপর। বোর্ডের ২০২৬ সালের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী এক বা দুই বিষয়ে (চতুর্থ বিষয় বাদে) অকৃতকার্য হলে রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ থাকা সাপেক্ষে পরের বছর শুধু সেই বিষয়গুলোতে বসা যায়। চাইলে চতুর্থ বিষয়সহ সব বিষয়েও আবার পরীক্ষা দেওয়া যায়।

আবেদন যায় নিজের কলেজের মাধ্যমে। ২০২৬ সালে অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের অধ্যক্ষ বরাবর সাদা কাগজে আবেদনের শেষ দিন ছিল ২৬ ফেব্রুয়ারি, অনলাইনে ফরম পূরণ চলেছে ১ থেকে ৯ মার্চ। ২০২৭ সালের তারিখ আলাদা বিজ্ঞপ্তিতে আসবে, তাই ফল হাতে পেয়েই কলেজ অফিসে যোগাযোগ রাখুন।

নিজের বোর্ডের ওয়েবসাইট দেখুন

পরের বছরের ফরম পূরণের বিজ্ঞপ্তি, ফি আর তারিখ বোর্ডের সাইটে আসে।

বোর্ডের লিংক
এই লেখায়
  1. আগে দেখুন কয়টি বিষয়ে F
  2. hsc ফেল করলে কতবার পরীক্ষা দেওয়া যায়
  3. পরের বছর ফরম পূরণ করবেন যেভাবে
  4. খরচ কেমন হতে পারে
  5. পুনর্নিরীক্ষা আর ভর্তির হিসাব
  6. অনেকে যা জানতে চান

১. আগে দেখুন কয়টি বিষয়ে F

ফলের পাতায় প্রতিটি বিষয়ের গ্রেড আলাদা থাকে। কোনো আবশ্যিক বিষয়ে F থাকলে পুরো ফল অকৃতকার্য হয়। কিন্তু চতুর্থ বিষয়ের F এই হিসাবে ধরা হয় না। বোর্ডের বিজ্ঞপ্তিতে এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্যের কথা বলার সময় বারবার লেখা আছে, চতুর্থ বিষয় বাদে।

আপনার অবস্থা২০২৬ সালের বিজ্ঞপ্তিতে যা বলা ছিল
শুধু চতুর্থ বিষয়ে Fপুরো ফল ফেল নয়, ওই বিষয়ের পয়েন্ট যোগ হয় না
এক বা দুই আবশ্যিক বিষয়ে F বা অনুপস্থিতপরের বছর শুধু সেই বিষয়ে বসা যায়, চাইলে সব বিষয়েও
আংশিক বিষয়ের পরীক্ষার্থীকখনোই চতুর্থ বিষয়ের পরীক্ষা দিতে পারবেন না
দুইয়ের বেশি বিষয়ে Fআংশিক সুযোগ নেই, মেয়াদ থাকলে অনিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে আবেদন
মেয়াদ শেষ, দুই বা বেশি বিষয়ে Fরেজিস্ট্রেশন নবায়ন করা যায় না

যে বিষয়গুলোতে পাস করেছেন, সেগুলোর পরীক্ষা আবার দিতে হয় না বলেই এক বা দুই বিষয়ের পরীক্ষার ব্যবস্থা। কোন বিষয়ে কত গ্রেড, তা ফলের পাতা থেকে আলাদা করে লিখে রাখুন।

২. hsc ফেল করলে কতবার পরীক্ষা দেওয়া যায়

সংখ্যাটি ঠিক হয় রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ দিয়ে, আর প্রতি বছরের ফরম পূরণের বিজ্ঞপ্তিতে কোন সেশনের রেজিস্ট্রেশনধারীরা বসতে পারবেন তা লেখা থাকে। ২০২৬ সালের বিজ্ঞপ্তির হিসাবটা এমন ছিল:

  • ২০২১-২২ সেশনের আগের রেজিস্ট্রেশনধারী কেউ ২০২৬ সালের পরীক্ষায় বসতে পারেননি।
  • ব্যতিক্রম ছিল ২০২০-২১ সেশনের যাঁরা শুধু এক বিষয়ে (চতুর্থ বিষয় বাদে) ফেল করেছেন। তাঁরা ২৫০ টাকা দিয়ে রেজিস্ট্রেশন নবায়ন করে শুধু সেই এক বিষয়ে বসতে পেরেছেন।
  • ২০২৫ সালে এক বিষয়ে ফেল করা প্রাইভেট পরীক্ষার্থীরাও নবায়ন করে ২০২৬ সালে সেই বিষয়ে বসার সুযোগ পেয়েছেন।
  • মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এক বিষয়ের জন্য নবায়ন একবারই করা যায়।

আরও দুটি পরিস্থিতির কথাও ২০২৬ সালের বিজ্ঞপ্তিতে ছিল। ২০২৫ সালে এক বিষয়ে ফেল করেছেন বা কোনো কারণে পরীক্ষাই দিতে পারেননি, অথচ সে বছর রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ শেষ, তাঁরাও ২৫০ টাকা দিয়ে একবারের জন্য নবায়ন করে বসতে পেরেছেন। নবায়নের টাকা ফরম পূরণের ফির সঙ্গেই নেওয়া হয়েছে, আলাদা দিতে হয়নি। আর আগের পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে বহিষ্কার হয়ে পরীক্ষা বাতিল হলে, মেয়াদ থাকলে পরের বছর সব বা সেই বিষয়গুলোতে বসার সুযোগ ছিল।

২০২৭ সালের নিয়ম আসবে নতুন বিজ্ঞপ্তিতে

এইচএসসি ২০২৬-এ যাঁরা অকৃতকার্য হবেন, তাঁদের জন্য কোন সেশন পর্যন্ত সুযোগ থাকবে, তা ২০২৭ সালের ফরম পূরণের বিজ্ঞপ্তিতে জানাবে বোর্ড। নিজের রেজিস্ট্রেশন কার্ডে সেশনটি দেখে রাখুন।

৩. পরের বছর ফরম পূরণ করবেন যেভাবে

  • ১
    কলেজে নাম দিয়ে রাখুনফল দেখার পরই কলেজ অফিসে জানান যে পরের বছর পরীক্ষা দেবেন। মোবাইল নম্বর রেখে আসুন, যাতে বিজ্ঞপ্তি এলে খবর পান।
  • ২
    অধ্যক্ষ বরাবর আবেদনবিজ্ঞপ্তি এলে নির্ধারিত দিনের মধ্যে সাদা কাগজে অধ্যক্ষ বরাবর আবেদন করুন। ২০২৬ সালে এই শেষ দিন ছিল ২৬ ফেব্রুয়ারি।
  • ৩
    সম্ভাব্য তালিকায় নাম দেখুনবোর্ড ওয়েবসাইটে কলেজভিত্তিক সম্ভাব্য তালিকা (Probable List) দেয়। কলেজ সেখান থেকে আপনাকে বাছাই করে অনলাইনে ফরম পূরণ করে।
  • ৪
    ফি দিন, কপি রাখুনকলেজের মাধ্যমে ফি জমা হয়। ২০২৬ সালে নির্ধারিত সময় ছিল ১ থেকে ৯ মার্চ, বিলম্ব ফি ১০০ টাকা দিয়ে ১০ থেকে ১৮ মার্চ। স্বাক্ষরসহ প্রিন্ট কপি কলেজে সংরক্ষণ হয়, নিজেও একটি কপি চেয়ে নিন।

২০২৬ সালের পরীক্ষায় নিয়মিত পরীক্ষার্থীরা বসেছেন ২০২৬ সালের পুনর্বিন্যাসকৃত পাঠ্যসূচিতে, আর অনিয়মিতরা ২০২৫ সালের পুনর্বিন্যাসকৃত পাঠ্যসূচিতে। পরীক্ষার সময় ছিল ৩ ঘণ্টা। ২০২৭ সালে আপনার জন্য কোন সিলেবাস, তা নতুন বিজ্ঞপ্তিতে দেখে নিন।

৪. খরচ কেমন হতে পারে

বোর্ডের ফি পরীক্ষার্থীর ধরন অনুযায়ী আলাদা। ২০২৬ সালের হার ছিল এমন, ২০২৭ সালে বদলাতে পারে:

খাতঅনিয়মিত, আগে পরীক্ষা দিয়েছেন
পরীক্ষার ফিপ্রতি পত্র বা বিষয় ১২৫ টাকা
ব্যবহারিক ফিপ্রতি পত্র ২৫ টাকা
একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট ফি১০০ টাকা
অনিয়মিত ফি১০০ টাকা
রেজিস্ট্রেশন নবায়ন, প্রযোজ্য হলে২৫০ টাকা
কেন্দ্র ফি, কেন্দ্রে দিতে হয়৪৫০ টাকা, ব্যবহারিক থাকলে প্রতি পত্রে আরও ২৫ টাকা

বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট লেখা ছিল, নির্ধারিত ফির বাইরে কলেজ কোনো টাকা নিতে পারবে না। বাড়তি টাকা চাইলে রসিদ চেয়ে নিন।

৫. পুনর্নিরীক্ষা আর ভর্তির হিসাব

এক বিষয়ে অল্প নম্বরের জন্য F এসেছে মনে হলে আগে পুনর্নিরীক্ষার আবেদন করুন। ২০২৫ সালের এইচএসসিতে ঢাকা বোর্ডে পুনর্নিরীক্ষায় ফেল থেকে পাস করেছিলেন ৩০৮ জন। আবেদন সাধারণত ফলের পরদিন থেকে সাত দিন চলে।

বিশ্ববিদ্যালয় বা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের প্রথম শর্তই এইচএসসি পাস। পরের বছর পাস করলে সেই বছরের সেশনে আবেদন করতে পারবেন, তবে কোন বিশ্ববিদ্যালয় কোন বছরের পাস গ্রহণ করে, তা প্রতিটির বিজ্ঞপ্তিতে আলাদা থাকে।

৬. অনেকে যা জানতে চান

এইচএসসি অপশনাল সাবজেক্টে ফেল করলে কি হয়?
চতুর্থ বা ঐচ্ছিক বিষয়ে F এলে পুরো ফল ফেল হয় না। শুধু ওই বিষয়ের বাড়তি পয়েন্ট মোট জিপিএতে যোগ হয় না।
hsc 1 subject fail হলে কি সব বিষয়ে আবার বসতে হবে?
না। রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ থাকলে পরের বছর শুধু সেই বিষয়ে বসা যায়। চাইলে চতুর্থ বিষয়সহ সব বিষয়েও পরীক্ষা দিতে পারেন।
hsc ফেল করলে কতবার পরীক্ষা দেওয়া যায়?
রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ যত বছর থাকে, তত বছর। ২০২৬ সালে ২০২১-২২ সেশন পর্যন্ত সুযোগ ছিল, আর ২০২০-২১ সেশনের এক বিষয়ে ফেল করা পরীক্ষার্থীরা নবায়ন করে বসতে পেরেছেন।
আবেদন কি নিজে অনলাইনে করা যায়?
না। আবেদন করতে হয় নিজের কলেজের অধ্যক্ষ বরাবর, তারপর কলেজ বোর্ডের পোর্টালে ফরম পূরণ করে।

এরপর পড়তে পারেন

যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি

জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৬ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।

সরকারি সাইট

আরও পড়ুন

এ বিষয়ে আরও লেখা

সব লেখা
ফলাফল

এইচএসসি রেজাল্ট মার্কশিট নাম্বার সহ: সরকারি সাইটে কী দেখা যায়, কী যায় না

ফলের পাতায় বিষয়ভিত্তিক গ্রেড থাকে, নম্বর নয়। গ্রেড দেখে নম্বরের সীমা বুঝুন, ফলের কপি রাখুন, ভুয়া লিংক এড়িয়ে চলুন।

অনেকে খোঁজেন