
সংক্ষেপে
এসএসসি পরীক্ষায় বোর্ডের তালিকাভুক্ত ৮টি সায়েন্টিফিক নন-প্রোগ্রামেবল ক্যালকুলেটর আর সাধারণ ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যায়। ২০২৬ সালের এসএসসির জন্য ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনায় মডেলগুলো হলো fx-82MS, fx-100MS, fx-570MS, fx-991MS, fx-991EX, fx-991ES, fx-991ES Plus আর fx-991CW।
প্রোগ্রাম করা যায় এমন ক্যালকুলেটর কোনোভাবেই কেন্দ্রে নেওয়া যায় না। এইচএসসিতেও একই ধরনের তালিকা বোর্ড আলাদা নোটিশে দেয়। ২০২৭ সালের এসএসসির নির্দেশনা পরীক্ষার আগে আসবে, তবে তালিকার মডেল কেনা থাকলে সাধারণত ঝামেলা হয় না।
পরীক্ষার আগে ক্যালকুলেটর আর কেন্দ্রের নির্দেশনা বোর্ডের সাইটে নোটিশ আকারে আসে।
এই লেখায়
১. বোর্ডের অনুমোদিত ৮টি ক্যালকুলেটর মডেল
বাসসের ১৮ জানুয়ারি ২০২৬-এর খবর অনুযায়ী ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সই করা নির্দেশনায় এসএসসি ২০২৬-এর জন্য এই আটটি মডেলের অনুমতি দেওয়া হয়। ইত্তেফাক ৪ মার্চ ২০২৬ জানিয়েছে, ৩ মার্চের বিজ্ঞপ্তিতে একই তালিকা আবার কেন্দ্রসচিবদের পাঠানো হয়েছে।
তালিকার সব কটি মডেলই নন-প্রোগ্রামেবল, মানে এতে নিজের মতো প্রোগ্রাম বা সূত্র জমা রাখা যায় না। এ কারণেই বোর্ড এগুলোকে নিরাপদ ধরে অনুমতি দিয়েছে।
| ক্রম | মডেল | ধরন |
|---|---|---|
| ১ | fx-82MS | সায়েন্টিফিক, নন-প্রোগ্রামেবল |
| ২ | fx-100MS | সায়েন্টিফিক, নন-প্রোগ্রামেবল |
| ৩ | fx-570MS | সায়েন্টিফিক, নন-প্রোগ্রামেবল |
| ৪ | fx-991MS | সায়েন্টিফিক, নন-প্রোগ্রামেবল |
| ৫ | fx-991EX | সায়েন্টিফিক, নন-প্রোগ্রামেবল |
| ৬ | fx-991ES | সায়েন্টিফিক, নন-প্রোগ্রামেবল |
| ৭ | fx-991ES Plus | সায়েন্টিফিক, নন-প্রোগ্রামেবল |
| ৮ | fx-991CW | সায়েন্টিফিক, নন-প্রোগ্রামেবল |
এর বাইরে সাধারণ ক্যালকুলেটর, মানে যোগ-বিয়োগ-গুণ-ভাগের সাধারণ যন্ত্রও ব্যবহার করা যাবে বলে নির্দেশনায় বলা আছে। একই নামের মডেল কেনার সময় শেষের অক্ষরগুলো মিলিয়ে নিন, কারণ fx-991 সিরিজে অনেক সংস্করণ আছে আর তালিকায় নেই এমন সংস্করণ কেন্দ্রে আটকে যেতে পারে।
এই খবরগুলো ঢাকা বোর্ডের নির্দেশনা নিয়ে। আপনি অন্য বোর্ডের পরীক্ষার্থী হলে নিজের বোর্ডের সাইটে পরীক্ষার আগের নোটিশটি দেখে নিন। বোর্ড আলাদা কিছু বললে সেটাই মানবেন, আর কেন্দ্রসচিবের কাছে জিজ্ঞেস করলেও নিশ্চিত হতে পারবেন।
২. এসএসসি পরীক্ষায় কোন ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যাবে না
- প্রোগ্রাম করা যায় এমন যেকোনো ক্যালকুলেটর। বাসসের খবরে নির্দেশনার ভাষা ছিল, প্রোগ্রামিং করা যায় এমন ক্যালকুলেটর কোনোভাবেই কেন্দ্রে ব্যবহার করা যাবে না।
- মোবাইল ফোন বা মোবাইলের ক্যালকুলেটর অ্যাপ। কেন্দ্রে মোবাইল নেওয়াই নিষেধ।
- তালিকার বাইরের সায়েন্টিফিক মডেল, দেখতে যত সাধারণই হোক।
কেন্দ্রসচিবদের এই নির্দেশনা কঠোরভাবে মানতে বলা হয়েছে। তালিকার বাইরের মডেল নিয়ে গেলে প্রবেশের সময়ই জমা দিতে হতে পারে, তখন সাধারণ ক্যালকুলেটর দিয়েই অঙ্ক করতে হবে।
একটা বাস্তব উদাহরণ ধরুন। তানিয়ার বড় ভাই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন, তাঁর একটি গ্রাফ আঁকা যায় এমন উন্নত ক্যালকুলেটর আছে। এ ধরনের যন্ত্র প্রোগ্রামেবল ধরা হয়, তাই এসএসসির হলে নেওয়া যাবে না। তানিয়ার জন্য তালিকার একটি সাধারণ সায়েন্টিফিক মডেলই নিরাপদ পছন্দ।
৩. এইচএসসি পরীক্ষায় ক্যালকুলেটরের নিয়ম
এইচএসসির জন্য বোর্ড আলাদা নোটিশ দেয়। প্রথম আলো ২০২৫ সালের এইচএসসির নির্দেশনায় জানিয়েছিল, ১৬ জুনের সংশোধিত বোর্ড নোটিশে fx-82MS, fx-100MS, fx-570MS আর fx-991 সিরিজের কিছু নন-প্রোগ্রামেবল মডেলের অনুমতি ছিল, সঙ্গে সাধারণ ক্যালকুলেটরও চলেছে। কেন্দ্রে মোবাইল ফোন নেওয়া নিষেধ ছিল।
অর্থাৎ এসএসসির তালিকার একটি মডেল থাকলে এইচএসসিতেও সাধারণত সেটি চলে। তবু প্রতি বছর নতুন নোটিশ আসে, তাই পরীক্ষার আগে নিজের বোর্ডের সাইটে নোটিশটি একবার দেখে নিন।
দাখিল বা আলিমের পরীক্ষার্থীরা মাদ্রাসা বোর্ডের নোটিশ, আর ভোকেশনাল পরীক্ষার্থীরা কারিগরি বোর্ডের নোটিশ দেখবেন। ব্যবহারিক পরীক্ষার দিনেও একই নিয়ম ধরে নিন, যদি না পরীক্ষক আলাদা কিছু বলেন।
৪. সাধারণ না সায়েন্টিফিক: কোনটা কখন লাগে
সাধারণ ক্যালকুলেটরে যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগ আর বর্গমূল করা যায়। এসএসসির গণিতের বেশির ভাগ অঙ্ক হাতে করতে হয় বলে সেখানে ক্যালকুলেটরের ভূমিকা ছোট। কিন্তু পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, উচ্চতর গণিত বা হিসাববিজ্ঞানে লগ, ত্রিকোণমিতি, ঘাত বা বড় সংখ্যার হিসাবে সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর সময় বাঁচায়।
| বিভাগ | যেখানে কাজে লাগে | যা যথেষ্ট |
|---|---|---|
| বিজ্ঞান | পদার্থ, রসায়ন, উচ্চতর গণিত | তালিকার যেকোনো সায়েন্টিফিক মডেল |
| ব্যবসায় শিক্ষা | হিসাববিজ্ঞান, ফিন্যান্স | সাধারণ বা তালিকার সায়েন্টিফিক মডেল |
| মানবিক | গণিত, ভূগোলের কিছু হিসাব | সাধারণ ক্যালকুলেটর |
দামি মডেল কিনলেই বেশি নম্বর আসে, তা নয়। তালিকার পুরোনো আর কম দামি মডেল fx-82MS বা fx-100MS দিয়েও স্কুলের সিলেবাসের হিসাব চলে। যে মডেলে আপনি অভ্যস্ত, সেটাই পরীক্ষার জন্য ভালো। ভাইবোনের পুরোনো ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে চাইলে মডেল নম্বরটা তালিকায় আছে কি না, শুধু সেটুকু দেখে নিন।
৫. পরীক্ষার হলে ক্যালকুলেটর নিয়ে যে ভুলগুলো হয়
- ক্যালকুলেটরের কভার বা বাক্সে সূত্র লিখে রাখা। এটা অসদুপায় হিসেবে ধরা হতে পারে, তাই কভার খালি রাখুন।
- বন্ধুর সঙ্গে ক্যালকুলেটর ভাগাভাগি করা। হলে একজনের যন্ত্র আরেকজনকে দেওয়া যায় না, তাই প্রত্যেকে নিজেরটা নিন।
- পরীক্ষার দিন প্রথম নতুন মডেল খোলা। মোড বা ডিগ্রি-রেডিয়ানের সেটিং না জানলে ত্রিকোণমিতির উত্তর ভুল আসে।
- মেমোরিতে আগের হিসাব রেখে দেওয়া। পরীক্ষার আগে রিসেট করে নিন, যাতে পরিদর্শক দেখতে চাইলে সমস্যা না হয়।
এমসিকিউ আর সৃজনশীল অংশের মাঝে বিরতি থাকে না, তাই ক্যালকুলেটর বের করে রাখার সময়টুকুও হিসাব করে চলুন। প্রবেশপত্র, কলম আর ক্যালকুলেটর আগের রাতেই ব্যাগে গুছিয়ে রাখলে সকালে তাড়াহুড়োয় কিছু বাদ পড়ে না।
৬. এসএসসি ২০২৭-এর জন্য এখন যা করবেন
- ১মডেল নম্বর মিলিয়ে কিনুনক্যালকুলেটরের গায়ে লেখা মডেল নম্বর ওপরের তালিকার সঙ্গে হুবহু মিলিয়ে নিন।
- ২আগে থেকে অভ্যাস করুনটেস্ট পরীক্ষা আর মডেল টেস্টে একই ক্যালকুলেটর ব্যবহার করুন, যাতে পরীক্ষার হলে বোতাম খুঁজতে না হয়।
- ৩নতুন ব্যাটারি দিনপরীক্ষার কয়েক দিন আগে ব্যাটারি বা সোলার প্যানেল ঠিক আছে কি না দেখে নিন। একটি সাধারণ ক্যালকুলেটর বাড়তি রাখতে পারেন।
- ৪নোটিশ দেখুন২০২৭ সালের নির্দেশনা পরীক্ষার আগে বোর্ডের সাইটে আসবে। তালিকায় কোনো বদল এলে সেটাই মানতে হবে।
পরীক্ষার ব্যাগে যা রাখবেন
এসএসসি ২০২৭ কবে শুরু, রুটিন আর ফরম পূরণের হিসাব আলাদা লেখায় দেওয়া আছে। মডেল টেস্টের সময়ই ক্যালকুলেটরটা চূড়ান্ত করে ফেলুন, পরীক্ষার আগের সপ্তাহে নতুন যন্ত্রে অভ্যস্ত হওয়া কঠিন।
৭. অনেকে যা জানতে চান
এসএসসি পরীক্ষায় কোন ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যাবে 2027?
fx-991CW কি এসএসসিতে চলবে?
এসএসসি পরীক্ষায় কোন ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যাবে না?
সাধারণ ক্যালকুলেটর কি নেওয়া যায়?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২৫ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।