
সংক্ষেপে
বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে দাখিল, আলিম বা জেডিসির সনদে নিজের নাম, বাবা-মায়ের নাম, লিঙ্গ বা জন্মতারিখ ঠিক করার আবেদন শিক্ষার্থী নিজে করতে পারেন না। যে মাদ্রাসা থেকে পাবলিক পরীক্ষায় পাস করেছেন, তার যেকোনো একটির মাধ্যমে বোর্ডের ই-ফাইলিং সাইটে আবেদন করতে হয়। মাদ্রাসার প্রধান EIIN আর পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করে Name & Age Correction অংশে ফরম পূরণ করেন।
বড় ধরনের পরিবর্তনে পত্রিকার বিজ্ঞাপন আর ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে এফিডেভিট আবশ্যক। ফি সোনালী সেবা স্লিপে সোনালী ব্যাংকে জমা দিতে হয়। বোর্ডের সিটিজেন চার্টারে নাম ও বয়স শুদ্ধকরণের সিদ্ধান্তের সময় ৪৫ কর্মদিবস, সিদ্ধান্তের পর সংশোধিত সনদ পেতে আরও ১০ কর্মদিবস।
মাদ্রাসা এখান থেকে আবেদন করে, আপনি Name & Age Last Update থেকে অবস্থা দেখেন।
এই লেখায়
১. আবেদন কে করে, কোথায় হয়
বোর্ডের নিয়মাবলী অনুযায়ী আবেদন যেতে হবে প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। আপনি দাখিল এক মাদ্রাসা থেকে আর আলিম আরেক মাদ্রাসা থেকে পাস করে থাকলে যেকোনো একটির মাধ্যমে আবেদন করা যায়। মাদ্রাসার প্রধান বোর্ডের ই-ফাইলিং সাইটে প্রতিষ্ঠানের প্যানেলে লগইন করে বাম পাশের মেনু থেকে Name & Age, তারপর Create Application চাপেন।
এক আবেদনেই একাধিক পরীক্ষার সনদ ঠিক করা যায়। ফরমের What Examination is required to correct অংশে ইবতেদায়ি, জেডিসি, দাখিল, আলিম, ফাজিল ও কামিল থেকে যেগুলোতে ভুল আছে, সবগুলো বাছাই করে প্রতিটির সাল, রোল, রেজিস্ট্রেশন, সেশন আর কেন্দ্র দিতে হয়। দাখিল আর আলিম দুই সনদেই একই ভুল থাকলে দুটোই একসঙ্গে দিন।
এসএসসি বা এইচএসসির সনদ সংশোধনের নিয়ম আলাদা, সেটি সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডে হয়। এই লেখা শুধু মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের দাখিল, আলিম আর জেডিসির জন্য।
২. কোন কাগজ লাগবে
ফরমে প্রমাণ হিসেবে কাগজ যুক্ত করতে হয় PDF আকারে। নাম, বাবা-মায়ের নাম বা জন্মতারিখে বড় পরিবর্তন, যোগ বা বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে বোর্ডের ফরমে দুটি কাগজ আবশ্যক বলে চিহ্নিত।
যা প্রস্তুত রাখবেন
ফরমে জন্ম সনদ, NID, নিকাহনামা, ভাই-বোনের সনদ আর জমির দলিলকে ঐচ্ছিক দেখানো হয়। তবে এগুলো যত বেশি দেবেন, সংশোধনের যৌক্তিকতা তত পরিষ্কার হয়। বিশেষ করে জন্মতারিখ বদলাতে চাইলে জন্ম নিবন্ধনের তারিখ আর প্রত্যাশিত তারিখ এক রাখুন।
৩. ফরম পূরণ থেকে ফি জমা পর্যন্ত
- ১পরীক্ষার তথ্য দিয়ে Findযে পরীক্ষায় পাস করেছেন, তার নাম, পাসের সাল, রোল আর রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে Find চাপলে নাম, বাবা-মায়ের নাম, জন্মতারিখসহ তথ্য নিজে থেকে চলে আসে। ১৯৯৯ সালের আগের পরীক্ষা হলে তথ্য নিজে আসে না, সনদ দেখে হাতে লিখতে হয়।
- ২মোবাইল নম্বর আর ছবিআবেদনকারীর মোবাইল নম্বর আর ছবি দিন। বোর্ড নির্দেশনায় আলাদা করে বলেছে, মোবাইল নম্বর সঠিকভাবে দিতে হবে, কারণ আইডি, পাসওয়ার্ড আর সিদ্ধান্ত এই নম্বরেই এসএমএসে আসে।
- ৩কী বদলাবেন, বাছুনWhat is required to correct অংশে Name, Father, Mother, Gender বা DOB থেকে যেগুলো বদলাতে চান, টিক দিন। পাশের ঘরে সঠিক তথ্য লিখুন। সনদে নাম বাংলায় থাকলে বাংলায়, ইংরেজিতে থাকলে ইংরেজিতে লিখতে হয়।
- ৪কাগজ যুক্ত করে Submitপ্রমাণের কাগজগুলো PDF করে Attach করুন, তারপর সব তথ্য আবার পড়ে Submit দিন। সাবমিট হলে আবেদনের আইডি আর পাসওয়ার্ড এসএমএসে আসে।
- ৫সোনালী সেবা স্লিপে ফিPrint Sonali Sheba চেপে স্লিপ প্রিন্ট করে সোনালী ব্যাংকে ফি জমা দিন। ফির অঙ্ক বোর্ড নির্ধারণ করে, স্লিপেই লেখা থাকে। Print Application চেপে আবেদনের কপিও রেখে দিন।
আবেদন যেহেতু মাদ্রাসার প্যানেল থেকেই যায়, বাইরের কাউকে টাকা দিয়ে দ্রুত সংশোধনের প্রস্তাবে রাজি হবেন না। ফি জমা হয় শুধু সোনালী সেবা স্লিপে।
৪. সিদ্ধান্ত, নতুন সনদ আর সময়
আবেদন জমা হলে বোর্ডের নাম ও বয়স শুদ্ধকরণ কমিটির সভায় তোলা হয়, সিদ্ধান্ত জানানো হয় এসএমএসে। এরপর আগের মূল সনদ জমা দিয়ে সংশোধিত সনদ নিতে হয়। সিটিজেন চার্টার ২০২৬ অনুযায়ী সময়সীমা এরকম:
| সেবা | যা জমা দিতে হয় | সময় |
|---|---|---|
| নাম ও বয়স শুদ্ধকরণ | মাদ্রাসার মাধ্যমে অনলাইন আবেদন আর ওপরের কাগজ | ৪৫ কর্মদিবস |
| সংশোধিত মূল, সাময়িক বা দ্বি-নকল সনদ, নম্বরপত্র ও প্রবেশপত্র | আগের সব মূল কাগজ, কমিটির রেজুলেশনের কপি, ফি জমার রসিদ | ১০ কর্মদিবস |
| সংশোধিত কাগজের ফ্রেশ কপি | অনলাইন আবেদন, কমিটির সিদ্ধান্তের কপি, আগের মূল কপি | ১৫ কর্মদিবস |
| রেজিস্ট্রেশন কার্ড সংশোধন | মাদ্রাসার প্যাডে আবেদন, জন্ম নিবন্ধন, বাবা-মায়ের আইডি কার্ড | ৩০০ টাকা, ৫ কর্মদিবস |
সংশোধিত কাগজ দেওয়া হয় বোর্ডের গোপনীয় শাখার কাউন্টার থেকে, হাতে হাতে। ঢাকার বকশীবাজারে বোর্ডে যাওয়ার আগে অবস্থা দেখে নিন: ই-ফাইলিং সাইটে Name & Age Last Update চেপে এসএমএসে পাওয়া আইডি আর পাসওয়ার্ড দিন।
বোর্ডের ডকুমেন্ট উত্তোলন ফরমে ফ্রেশ বা দ্বি-নকল কাগজের ফি দেখানো আছে: দাখিল বা আলিমের ট্রান্সক্রিপ্ট ও সনদ প্রতিটি ৫০০ টাকা, প্রবেশপত্র ও রেজিস্ট্রেশন কার্ড ৩০০ টাকা। দ্বি-নকলের বেলায় থানার জিডি আর পত্রিকার বিজ্ঞপ্তি লাগে।
৫. সনদ ঠিক হওয়ার পর
- সংশোধিত সনদের সঙ্গে NID আর পাসপোর্টের তথ্য মিলিয়ে দেখুন। অমিল থাকলে সংশোধিত সনদ দিয়েই সেগুলো ঠিক করার আবেদন করুন।
- বিদেশে পড়া বা চাকরির জন্য সনদ সত্যায়ন করাতে হলে সংশোধনের পরেই করুন, আগে নয়।
- আবেদন নিয়ে কারিগরি সমস্যায় বোর্ডের হেল্পলাইন: ০১৭৫১-৮৭৭৬৭৭, ০১৭৭৬-৭৭১২২৪, ০১৭৯৭-৭৬৭৭৫৪। সময় সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা, শুধু কর্মদিবসে।
- সেবা নিয়ে অভিযোগ থাকলে বোর্ডের অভিযোগ নিষ্পত্তি কর্মকর্তা রেজিস্ট্রার, পরে জিআরএসে অভিযোগ করা যায়।
৬. অনেকে যা জানতে চান
আমি নিজে কি অনলাইনে আবেদন করতে পারি?
নাম সংশোধনে কত টাকা লাগে?
১৯৯৫ সালে দাখিল পাস করেছি, অনলাইনে তথ্য আসছে না কেন?
সিদ্ধান্ত পেতে কত দিন লাগে?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৭ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।