শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল

নবম শ্রেণির রেজিস্ট্রেশন: বয়স ১২ থেকে ১৮, ফি কত, কে করে আর বাদ পড়লে কী করবেন

সম্পাদনা: রিহাত খানপড়তে ৫ মিনিট

হালনাগাদ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬এসএমএসে ফল ১৬২২২dhakaeducationboard.gov.bd
নবম শ্রেণির রেজিস্ট্রেশন: বয়স ১২ থেকে ১৮, ফি কত, কে করে আর বাদ পড়লে কী করবেন

সংক্ষেপে

নবম শ্রেণির রেজিস্ট্রেশন মানে শিক্ষা বোর্ডে আপনার নাম তোলা, যার ভিত্তিতে পরে এসএসসির ফরম পূরণ, প্রবেশপত্র আর সনদ হয়। কাজটা করে স্কুল, শিক্ষার্থী নিজে নয়। ঢাকা বোর্ডের নিয়মে ১২ বছর পূর্ণ না হলে বা ১৮ বছরের বেশি হলে রেজিস্ট্রেশন করা যায় না।

নবম শ্রেণির রেজিস্ট্রেশন ফি কত, তার সর্বশেষ নিশ্চিত হিসাব ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের: ঢাকা বোর্ডে ২৯৬ টাকা, সময় পেরোলে বাড়তি ১৪০ টাকা। প্রতি বছর বোর্ড নতুন বিজ্ঞপ্তি দেয়, তাই চলতি বছরের ফি স্কুল বা বোর্ডের বিজ্ঞপ্তিতে মিলিয়ে নিন। বাদ পড়লে বোর্ড মাঝে মাঝে বিশেষ সময় দেয়, তবে দায়িত্ব থাকে প্রতিষ্ঠান প্রধানের।

নিজের বোর্ডের বিজ্ঞপ্তি দেখুন

রেজিস্ট্রেশনের তারিখ, ফি আর বাদ পড়াদের সুযোগের নোটিশ বোর্ডের ওয়েবসাইটে আসে।

ঢাকা বোর্ড
এই লেখায়
  1. নবম শ্রেণির রেজিস্ট্রেশন কে করে, কীভাবে
  2. নবম শ্রেণির রেজিস্ট্রেশন বয়স কত লাগে
  3. নবম শ্রেণির রেজিস্ট্রেশন ফি কত
  4. রেজিস্ট্রেশনে যা নিজে মিলিয়ে নেবেন
  5. রেজিস্ট্রেশন থেকে বাদ পড়লে
  6. অনেকে যা জানতে চান

১. নবম শ্রেণির রেজিস্ট্রেশন কে করে, কীভাবে

অভিভাবকেরা প্রায়ই ভাবেন বোর্ডের সাইটে গিয়ে নিজেদের ফরম পূরণ করতে হবে। আসলে তা নয়। স্কুল তার EIIN আর পাসওয়ার্ড দিয়ে বোর্ডের সাইটে ঢুকে শিক্ষার্থীদের তথ্য তোলে। ঢাকা বোর্ডের ২০২৪-২৫ সালের বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিটি স্কুলে তিন সদস্যের শিক্ষক কমিটি করে তথ্য তোলার কথা বলা হয়েছিল।

  • ১
    বিভাগ বেছে আবেদনবিজ্ঞান, মানবিক না ব্যবসায় শিক্ষা, পছন্দের বিভাগের জন্য প্রধান শিক্ষকের কাছে লিখিত আবেদন করতে হয়। বিভাগ ভাগে অষ্টম শ্রেণির ফল বিবেচনা করা হতে পারে।
  • ২
    স্কুল তথ্য তোলেকমিটি ভর্তির ফরম আর জন্মনিবন্ধন সনদ দেখে নাম, বাবা-মায়ের নাম, জন্মতারিখ, বিষয় অনলাইনে তোলে।
  • ৩
    ফি জমানির্ধারিত ফি সোনালী সেবার মাধ্যমে জমা হয়। ২০২৪-২৫ সালের বিজ্ঞপ্তিতে টাকা জমার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অনলাইন ফরম পূরণ শেষ করতে বলা হয়েছিল।
  • ৪
    চূড়ান্ত তালিকা মিলিয়ে দেখাচূড়ান্ত জমার আগে কমিটি তালিকা সনদের সঙ্গে মিলিয়ে প্রিন্ট করে স্কুলে রাখে। এই সময়টাতেই আপনার তথ্য একবার নিজে দেখে নেওয়ার সুযোগ চান।

২. নবম শ্রেণির রেজিস্ট্রেশন বয়স কত লাগে

ঢাকা বোর্ডের বিজ্ঞপ্তির কথা ছিল এমন: ১২ বছর পূর্ণ না হলে এবং ১৮ বছরের বেশি বয়সের কেউ রেজিস্ট্রেশন করতে পারবে না। অষ্টম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষায় পাস করে এ বছর নবম শ্রেণিতে পড়ছে, এমন শিক্ষার্থীরাই রেজিস্ট্রেশনের যোগ্য।

মাদ্রাসা বোর্ডের হিসাব আলাদা। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে দাখিল নবম শ্রেণিতে বয়স ধরা হয়েছিল ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি তারিখে সর্বনিম্ন ১৪ আর সর্বোচ্চ ২০ বছর। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীর বেলায় ১৪ থেকে ২৫ বছর।

বয়সের এই হিসাব ঠিক হয় জন্মনিবন্ধনের তারিখ ধরে। তাই ভর্তির সময় স্কুলে যে জন্মতারিখ দিয়েছিলেন, সেটা জন্মনিবন্ধনের সঙ্গে না মিললে রেজিস্ট্রেশনের আগেই ঠিক করুন। স্কুলকে বোর্ডের নির্দেশনা হলো, জন্মনিবন্ধন সনদ যাচাই না করে কোনো তথ্য বোর্ডে পাঠানো যাবে না।

বয়স বদলানোর চেষ্টা করবেন না

ঢাকা বোর্ড অভিভাবকদের সরাসরি অনুরোধ করেছে, সন্তানের বয়স কমানো-বাড়ানো বা নাম বদলানোর জন্য ভুল তথ্য দেবেন না। পরে একটি ভুল ঠিক করতে দীর্ঘ প্রক্রিয়া আর অনেক কাগজ লাগে।

৩. নবম শ্রেণির রেজিস্ট্রেশন ফি কত

২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বোর্ড রেজিস্ট্রেশন ফি ১৭১ থেকে বাড়িয়ে করে ২৯৬ টাকা। পুরো টাকাটা বোর্ডের রেজিস্ট্রেশন ফি নয়, কয়েকটি খাত মিলিয়ে হিসাব:

খাতটাকা
রেজিস্ট্রেশন৮০
অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক কল্যাণ ট্রাস্ট১০০
খেলাধুলা৫০
স্কাউটস২৫
রেড ক্রিসেন্ট১৬
গার্লস গাইড১৫
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি৫
বিএনসিসি৫
মোট২৯৬

আগের বছরের সঙ্গে তুলনা করলে ফি কীভাবে বদলায় বোঝা যায়। ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে একই রেজিস্ট্রেশনে লেগেছিল ১৭১ টাকা, এক বছরে বেড়েছে ১২৫ টাকা। অন্য বোর্ডগুলোও নিজেদের বিজ্ঞপ্তিতে ফি জানায়, অঙ্ক সব বোর্ডে এক না-ও হতে পারে।

নির্ধারিত সময়ের পরে রেজিস্ট্রেশন করলে বাড়তি ১৪০ টাকা বিলম্ব ফি ছিল। স্কুল এর বাইরে আলাদা টাকা চাইলে কী খাতে চাইছে জেনে নিন। চলতি শিক্ষাবর্ষের ফি ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত বড় কোনো জাতীয় দৈনিকে আমরা নিশ্চিত পাইনি, তাই বোর্ডের নতুন বিজ্ঞপ্তিই ভরসা।

৪. রেজিস্ট্রেশনে যা নিজে মিলিয়ে নেবেন

রেজিস্ট্রেশনে যা লেখা হয়, সেটাই পরে এসএসসির প্রবেশপত্র, নম্বরপত্র আর সনদে যায়। ঢাকা বোর্ড শিক্ষার্থীদের সতর্ক করেছে, ভুল দেখলে সঙ্গে সঙ্গে প্রতিষ্ঠানকে জানাতে, কারণ ফল বা সনদ প্রকাশের পর সংশোধন আরও জটিল।

জন্মনিবন্ধনের সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন

একটা উদাহরণ। সাকিবের জন্মনিবন্ধনে নাম Md. Sakib Hasan, স্কুলের খাতায় লেখা Sakib Hasan। রেজিস্ট্রেশনের আগেই এটা ধরা পড়লে স্কুল ঠিক করে দিতে পারে। সনদ হাতে পাওয়ার পর ধরা পড়লে বোর্ডে সংশোধনের আলাদা আবেদন লাগবে।

নবম শ্রেণির রেজিস্ট্রেশন কার্ড পরে বহু কাজে লাগে। এসএসসির ফরম পূরণ, প্রবেশপত্র, ফল দেখার সময় রেজিস্ট্রেশন নম্বর, এমনকি সনদ সংশোধনের আবেদনেও এই নম্বর চাওয়া হয়। কার্ড হাতে পেলে ফটোকপি করে রাখুন, আর নম্বরটা আলাদা কোথাও লিখে রাখুন।

৫. রেজিস্ট্রেশন থেকে বাদ পড়লে

সময়মতো রেজিস্ট্রেশন না হলে বোর্ড অনেক সময় বাদ পড়াদের জন্য বিশেষ সময় দেয়। ২০২৪ শিক্ষাবর্ষের নবম শ্রেণির বাদ পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য ঢাকা বোর্ড ২০২৫ সালের ২৩ থেকে ২৮ অক্টোবর অনলাইনে সুযোগ দেয়। পরে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে আবার ২১ থেকে ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়। অন্য বোর্ড থেকে টিসি নিয়ে আসা শিক্ষার্থীরাও এই সুযোগ পেয়েছিল।

দুই বিজ্ঞপ্তিতেই বলা ছিল, সময় পেরোলে আর সুযোগ নেই, আর কেউ বাদ পড়লে দায় প্রতিষ্ঠান প্রধানের। তাই সন্তানের রেজিস্ট্রেশন হয়েছে কি না নিশ্চিত না হলে এখনই প্রধান শিক্ষকের কাছে লিখিতভাবে জানতে চান।

বিশেষ সময় না এলে কী হবে, সেটা বোর্ডের সিদ্ধান্ত। তাই শুধু অপেক্ষা না করে স্কুলকে দিয়ে বোর্ডে আবেদন করান, কেন রেজিস্ট্রেশন হয়নি তার কারণসহ। জন্মনিবন্ধন সনদ, অষ্টম শ্রেণির ফল আর ভর্তির কাগজের কপি সঙ্গে রাখুন। অন্য বোর্ড থেকে এসে থাকলে আগের বোর্ডের ছাড়পত্র বা টিসির কপিও লাগবে।

৬. অনেকে যা জানতে চান

নবম শ্রেণির রেজিস্ট্রেশন ফি কত ২০২৬?
২০২৬ সালের চলতি ফি আমরা বড় দৈনিকে নিশ্চিত পাইনি। সর্বশেষ জানা হিসাব ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের, ঢাকা বোর্ডে ২৯৬ টাকা আর বিলম্ব ফি ১৪০ টাকা। আপনার বোর্ডের নতুন বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।
নবম শ্রেণির রেজিস্ট্রেশন বয়স কত লাগে?
ঢাকা বোর্ডে ১২ বছর পূর্ণ হতে হবে আর ১৮ বছরের বেশি হওয়া চলবে না। মাদ্রাসা বোর্ডে ২০২৫-২৬ সালে দাখিল নবম শ্রেণিতে ১৪ থেকে ২০ বছর ধরা হয়েছিল।
এসএসসি রেজিস্ট্রেশন কি শিক্ষার্থী নিজে করতে পারে?
না। স্কুল তার EIIN দিয়ে বোর্ডের সাইটে রেজিস্ট্রেশন করে। আপনার কাজ সঠিক কাগজ দেওয়া আর তালিকায় নিজের তথ্য মিলিয়ে নেওয়া।
রেজিস্ট্রেশন কার্ডে ভুল থাকলে কী করব?
সঙ্গে সঙ্গে স্কুলকে জানান। এসএসসির আগে প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বোর্ডে সংশোধনের আবেদন সহজ। সনদ হাতে পাওয়ার পর সংশোধন আরও সময় নেয়।

এরপর পড়তে পারেন

যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি

জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২৩ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।

সরকারি সাইট

আরও পড়ুন

এ বিষয়ে আরও লেখা

সব লেখা
ফলাফল

এইচএসসি রেজাল্ট মার্কশিট নাম্বার সহ: সরকারি সাইটে কী দেখা যায়, কী যায় না

ফলের পাতায় বিষয়ভিত্তিক গ্রেড থাকে, নম্বর নয়। গ্রেড দেখে নম্বরের সীমা বুঝুন, ফলের কপি রাখুন, ভুয়া লিংক এড়িয়ে চলুন।
ফলাফল

এইচএসসি ফেল করলে কি হবে: কোন বিষয়ে আবার বসবেন, রেজিস্ট্রেশন আর ফি

এক বা দুই বিষয়ে ফেল, চতুর্থ বিষয়ে F, রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ আর পরের বছরের ফরম পূরণ: বোর্ডের নিয়ম ধরে করণীয়।

অনেকে খোঁজেন