সংক্ষেপে
মূল একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট (নম্বরপত্র) আর সনদ শিক্ষা বোর্ড আপনার স্কুল, কলেজ বা মাদ্রাসায় পাঠায়, সেখান থেকেই তুলতে হয়। ঢাকা বোর্ডের সিটিজেন চার্টারে মূল সনদ ফল প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে প্রতিষ্ঠানকে বিনামূল্যে দেওয়ার কথা বলা আছে।
সনদ বা নম্বরপত্র হারালে থানায় জিডি করে, দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বোর্ডের ওয়েবসাইটে দ্বি-নকলের অনলাইন আবেদন করতে হয়। ঢাকা বোর্ডে প্রতিটি কাগজের ফি ৫০০ টাকা, আর আবেদনটি আপনার প্রতিষ্ঠানকে অনলাইনে ফরোয়ার্ড করতে হয়।
সনদ, নম্বরপত্র, প্রবেশপত্র ও রেজিস্ট্রেশন কার্ড তোলার আবেদন বোর্ডের ওয়েবসাইটের অনলাইন আবেদন অংশ থেকে করতে হয়।
এই লেখায়
১. ওয়েবের ফল, নম্বরপত্র আর সনদের তফাত
ফলাফলের ওয়েবসাইটের পাতা শুধু ফল জানার জন্য। ভর্তি, চাকরি বা পাসপোর্টের মতো কাজে লাগে বোর্ডের ছাপানো দুটি কাগজ: একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট বা নম্বরপত্র (মার্কশিট), যেখানে বিষয়ভিত্তিক গ্রেড থাকে, আর মূল সনদ।
মূল সনদ হাতে আসার আগেই দরকার পড়লে বোর্ড থেকে সাময়িক সনদ নেওয়া যায়। ঢাকা বোর্ডে এর ফি ৫০০ টাকা, অনলাইন আবেদনের সঙ্গে প্রবেশপত্র ও রেজিস্ট্রেশন কার্ডের কপি দিতে হয়।
২. মূল নম্বরপত্র ও সনদ তুলবেন যেভাবে
- ১প্রতিষ্ঠানের ঘোষণার অপেক্ষা করুনবোর্ড মূল সনদ ছাপিয়ে, স্বাক্ষর করে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক আলাদা করে প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির হাতে দেয়। কবে আসবে, তা আপনার স্কুল, কলেজ বা মাদ্রাসা জানাবে।
- ২নিজে গিয়ে সংগ্রহ করুনপরিচয় মেলাতে প্রবেশপত্র বা রেজিস্ট্রেশন কার্ড সঙ্গে নিয়ে প্রতিষ্ঠানে যান। স্বাক্ষর দিয়ে কাগজ বুঝে নিন।
- ৩সব তথ্য মিলিয়ে দেখুননিজের নাম, বাবা-মায়ের নাম, জন্মতারিখ আর গ্রেড প্রবেশপত্র ও জন্ম নিবন্ধনের সঙ্গে মিলিয়ে নিন। ভুল পেলে দেরি না করে প্রতিষ্ঠানকে জানান।
ঢাকা বোর্ডের সিটিজেন চার্টার অনুযায়ী মূল সনদ ফল প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করার কথা, এর জন্য কোনো ফি নেই। বছরভেদে সময় কিছুটা আগে-পরে হয়, তাই প্রতিষ্ঠানের নোটিশে চোখ রাখুন।
৩. হারিয়ে গেলে দ্বি-নকলের আবেদন
সনদ, নম্বরপত্র বা প্রবেশপত্র হারালে বা নষ্ট হলে বোর্ড দ্বি-নকল দেয়। আবার হারালে ত্রি-নকল, তারপর চৌ-নকল। নিচের ধাপ ঢাকা বোর্ডের সিটিজেন চার্টার অনুযায়ী, অন্য বোর্ডের পদ্ধতি ও ফি নিজ বোর্ডের ওয়েবসাইটে দেখে নিন।
- ১থানায় জিডি করুনকাগজ হারানোর বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করুন। জিডিতে পরীক্ষার নাম, সাল, বোর্ড, রোল আর রেজিস্ট্রেশন নম্বর লিখুন।
- ২পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিনএকটি দৈনিক পত্রিকায় হারানো বিজ্ঞপ্তি ছাপান, তাতেও একই তথ্য রাখুন। ছাপা অংশটি কেটে রাখুন বা স্ক্যান করুন।
- ৩অনলাইনে আবেদন করুনবোর্ডের ওয়েবসাইটে ডকুমেন্ট উত্তোলনের আবেদন অংশে যান। আবেদনের বিষয় হিসেবে দ্বি-নকল সনদ বা দ্বি-নকল নম্বরপত্র বাছুন, পরীক্ষা, সাল, রোল ও রেজিস্ট্রেশন দিয়ে তথ্য খুঁজে ফর্ম পূরণ করুন। জিডি, পত্রিকার বিজ্ঞপ্তি আর হারানো কাগজের ফটোকপি (থাকলে) যুক্ত করুন।
- ৪ফি দিনঢাকা বোর্ডে প্রতিটি কাগজের জন্য ৫০০ টাকা, সোনালী ব্যাংকের অনলাইন গেটওয়েতে জমা দিতে হয়।
- ৫প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে ফরোয়ার্ড করানযে প্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষা দিয়েছিলেন, তাদের আবেদনটি অনলাইনে বোর্ডে ফরোয়ার্ড করতে হয়। প্রতিষ্ঠানকে জানিয়ে রাখুন, না হলে আবেদন আটকে থাকে।
- ৬অবস্থা দেখে সংগ্রহ করুনসিটিজেন চার্টারে তিন কর্মদিবসের মধ্যে সরবরাহের কথা আছে। আবেদনের সর্বশেষ অবস্থা বোর্ডের সাইটেই দেখা যায়।
দ্বি-নকলের আবেদনে যা লাগবে
৪. ফি এক নজরে (ঢাকা বোর্ড)
| সেবা | ফি | সময় (সিটিজেন চার্টার) |
|---|---|---|
| মূল সনদ, প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে | বিনামূল্যে | ফল প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে |
| সাময়িক সনদ | ৫০০ টাকা | ৩ কর্মদিবস |
| দ্বি-নকল সনদ, নম্বরপত্র বা প্রবেশপত্র (প্রতিটি) | ৫০০ টাকা | ৩ কর্মদিবস |
| ১৯৯৫ সালের আগের বাংলা সনদের ইংরেজি ভার্সন | ৫০০ টাকা | ৩ কর্মদিবস |
| সনদ বা নম্বরপত্র যাচাই (প্রতি কপি) | ২৫ টাকা | ৩ কর্মদিবস |
ত্রি-নকল বা চৌ-নকলে খরচ বাড়তে পারে, ঢাকা বোর্ডের ফি তালিকায় এর জন্য ৭০০ টাকা লেখা আছে। মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডসহ অন্য বোর্ডের ফি আলাদা হতে পারে। আবেদনের সময় পোর্টালে যে ফি দেখায়, সেটিই চূড়ান্ত।
৫. অনেকে যা জানতে চান
মূল সনদ তুলতে কি টাকা লাগে?
সনদ ছিঁড়ে বা পুড়ে নষ্ট হলেও কি জিডি লাগবে?
প্রতিষ্ঠান আবেদন ফরোয়ার্ড করছে না, কী করব?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৬ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।