শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল

বিদেশে যেতে এসএসসি-এইচএসসি সনদ সত্যায়ন: মাইগভে আবেদন, ই-এপোস্টিল আর খরচ

সম্পাদনা: রিহাত খানপড়তে ৬ মিনিট

হালনাগাদ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬এসএমএসে ফল ১৬২২২mygov.bd
বিদেশে যেতে এসএসসি-এইচএসসি সনদ সত্যায়ন: মাইগভে আবেদন, ই-এপোস্টিল আর খরচ

সংক্ষেপে

বিদেশে পড়াশোনা বা চাকরির জন্য এসএসসি ও এইচএসসির সনদ আর একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট সত্যায়নের আবেদন এখন হয় মাইগভ (mygov.bd) প্ল্যাটফর্মে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের ওয়েবসাইটে এসএসসি আর এইচএসসির জন্য আলাদা লিংক আছে, দাখিল ও আলিমের লিংক আছে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের সাইটে। মাইগভের সেবা পাতায় ফি লেখা প্রতি পৃষ্ঠা ২০০ টাকা, সময় ৫ কর্মদিবস।

বাংলাদেশ ২০২৪ সালের জুলাইয়ে এপোস্টিল কনভেনশনে যোগ দেওয়ার পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ই-এপোস্টিল দেয়, যাতে কিউআর কোড থাকে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এপোস্টিল ডিরেক্টরির হিসাবে ১১৪টি দেশ বাংলাদেশের এপোস্টিল মানে। সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত বা মালয়েশিয়ার মতো যে দেশ তালিকায় নেই, তাদের দূতাবাস থেকে জেনে নিন আর কী লাগবে।

মাইগভে সত্যায়নের আবেদন

নাগরিক হিসেবে নিবন্ধন করে সেবা খুঁজুন, কাগজ আপলোড করে আবেদন দপ্তরে দাখিল করুন।

মাইগভ খুলুন
এই লেখায়
  1. সনদ কোন কোন হাত ঘুরে সত্যায়িত হয়
  2. মাইগভে আবেদনের ধাপ
  3. খরচ আর সময় এক নজরে
  4. কোন দেশে এপোস্টিলই যথেষ্ট, কোথায় নয়
  5. জমা দেওয়ার আগে যা মিলিয়ে নেবেন
  6. অনেকে যা জানতে চান

১. সনদ কোন কোন হাত ঘুরে সত্যায়িত হয়

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এপোস্টিল ডিরেক্টরিতে প্রতিটি কাগজের জন্য একটি ক্রম দেওয়া আছে, যাকে বলা হয় চেইন অব লিগালাইজেশন। এসএসসি, এইচএসসি বা সমমানের সনদের প্রথম যাচাইকারী শিক্ষা বোর্ড, নিয়ন্ত্রক মন্ত্রণালয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়, আর শেষ ধাপে এপোস্টিল দেয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। অনার্স ও মাস্টার্সের বেলায় প্রথম যাচাইকারী বিশ্ববিদ্যালয়।

আগে এই কাজের জন্য সচিবালয়ে সশরীরে সনদ জমা দিতে হতো। এখন মাইগভের মাধ্যমে পুরো আবেদন অনলাইনে হয়, আর সত্যায়িত কাগজ ড্যাশবোর্ড থেকে নামানো যায়। মাইগভের সেবা পাতায় স্পষ্ট লেখা, এপোস্টিল পদ্ধতিতে সত্যায়িত সনদ আবার সত্যায়ন বা নোটারি করার দরকার নেই।

ইংলিশ মিডিয়াম বা বিদেশি সনদ

জিসিই বা এডেক্সেলের মতো ব্রিটিশ কাউন্সিলের মাধ্যমে নেওয়া পরীক্ষার সনদের প্রথম যাচাইকারী ব্রিটিশ কাউন্সিল, ডিরেক্টরির তালিকায় এভাবেই দেওয়া আছে। বোর্ডের সনদের লিংকে এগুলো জমা দেবেন না।

২. মাইগভে আবেদনের ধাপ

  • ১
    মাইগভ অ্যাকাউন্ট খুলুনmygov.bd-তে মোবাইল নম্বর বা ইমেইল দিয়ে নাগরিক নিবন্ধন করুন। এরপর NID বা অনলাইন জন্ম নিবন্ধনের নম্বর দিয়ে প্রোফাইল যাচাই করুন। একটি NID দিয়ে একটিই মাইগভ অ্যাকাউন্ট যাচাই করা যায়।
  • ২
    ঠিক সেবাটি বাছুনএসএসসির জন্য সেবার নাম বিদেশগামী শিক্ষার্থীদের এস.এস.সি সার্টিফিকেট (মূল/সাময়িক)/একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট সত্যায়নের আবেদন, এইচএসসির জন্য একই নামের এইচ.এস.সি সেবা। দাখিল ও আলিমের জন্য আলাদা সেবা আছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা মাদ্রাসা বোর্ডের সাইটের লিংক থেকে ঢুকলে ভুল হওয়ার সুযোগ কম।
  • ৩
    সনদের ছবি আপলোডসনদ বা ট্রান্সক্রিপ্টের স্পষ্ট স্ক্যান দিন। ফাইল হতে হবে JPEG, JPG বা PNG, প্রতিটি সর্বোচ্চ ১ মেগাবাইট। আপলোড শেষ না হওয়া পর্যন্ত পরের ধাপে যাওয়া যায় না।
  • ৪
    আবেদন দপ্তরে দাখিল করুনফরম মাঝপথে সংরক্ষণ করে পরে ড্যাশবোর্ড থেকে সংশোধন করা যায়। কিন্তু শেষে আবেদন দপ্তরে দাখিল করুন বাটন না চাপলে আবেদন দপ্তরে পৌঁছায়ই না। অনেকে এই ধাপে আটকে থাকেন।
  • ৫
    ফি দিয়ে ট্র্যাকিং নম্বর রাখুনপৃষ্ঠা হিসেবে ফি দিন। দাখিল হলে আবেদন নম্বর আর ট্র্যাকিং নম্বর ড্যাশবোর্ডে আর নিবন্ধিত মোবাইলে এসএমএসে আসে।
  • ৬
    সত্যায়িত কাগজ নামাননির্ধারিত সময় পরে সত্যায়িত কাগজ ড্যাশবোর্ডে আসে, সেখান থেকে ডাউনলোড করুন। অবস্থা দেখা যায় মোবাইল আর ট্র্যাকিং নম্বর দিয়ে মাইগভ হোমপেজ থেকেও।
আইফোন বা ম্যাকে ফাইল উঠছে না

মাইগভের নিজস্ব নির্দেশনা বলছে, সাফারি ব্রাউজারে ফাইল যুক্ত না হলে বা error দেখালে গুগল ক্রোম, ফায়ারফক্স বা এজ ব্রাউজার ব্যবহার করুন।

৩. খরচ আর সময় এক নজরে

কাগজকোথা থেকে আবেদনসেবার ফিসময়
এসএসসি সনদ (মূল বা সাময়িক) বা ট্রান্সক্রিপ্টমাইগভ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সেবাপ্রতি পৃষ্ঠা ২০০ টাকা৫ কর্মদিবস
এইচএসসি সনদ বা ট্রান্সক্রিপ্টমাইগভ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সেবাপ্রতি পৃষ্ঠা ২০০ টাকা৫ কর্মদিবস
দাখিল বা আলিম সনদ বা ট্রান্সক্রিপ্টমাইগভ, মাদ্রাসা বোর্ডের সাইটের লিংকপ্রতি পৃষ্ঠা ২০০ টাকা৫ কর্মদিবস

হিসাবটা পৃষ্ঠা ধরে। এসএসসির সনদ আর মার্কশিট দুটোই লাগলে দুই পৃষ্ঠা, মানে ৪০০ টাকা, সঙ্গে এইচএসসির দুটি হলে মোট ৮০০ টাকা। অনলাইনে টাকা দিলে পেমেন্ট গেটওয়ের সামান্য চার্জ যোগ হতে পারে। আবেদনের সময় পাতায় যে ফি দেখায়, সেটিই চূড়ান্ত।

৪. কোন দেশে এপোস্টিলই যথেষ্ট, কোথায় নয়

এপোস্টিল ডিরেক্টরির তথ্য অনুযায়ী এপোস্টিল কনভেনশনের ১২৭টি সদস্য দেশের মধ্যে ১১৪টি বাংলাদেশের যোগদান মেনে নিয়েছে, তারা বাংলাদেশের এপোস্টিল করা কাগজ গ্রহণ করে। বাংলাদেশিরা যেসব দেশে বেশি যান, তার মধ্যে তালিকায় আছে:

  • সৌদি আরব, ওমান, বাহরাইন
  • যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড
  • জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন, ভারত, সিঙ্গাপুর
  • ইতালি, স্পেন, পর্তুগাল, পোল্যান্ড, রোমানিয়া, সুইডেন

সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, মালয়েশিয়া, জার্মানি, ফ্রান্স বা নেদারল্যান্ডস এই ১১৪ দেশের তালিকায় নেই। ই-এপোস্টিল পাতায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিজেই জানিয়েছে, ফ্রান্স, জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসের মতো কিছু দেশ আপত্তি তুলেছে। এসব দেশের বিশ্ববিদ্যালয় বা নিয়োগকর্তা কী চায়, তা সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাস বা প্রতিষ্ঠান থেকে লিখিতভাবে জেনে নিন।

৫. জমা দেওয়ার আগে যা মিলিয়ে নেবেন

আবেদনের আগে

নামের বানান বা জন্মতারিখে অমিল থাকলে আগে বোর্ড থেকে সনদ সংশোধন করুন, তারপর সত্যায়ন। ভুল সনদ সত্যায়িত করলে বিদেশে গিয়ে তা পাসপোর্টের সঙ্গে না মেলার ঝুঁকি থাকে।

হাতে পাওয়া ই-এপোস্টিলে একটি যাচাই নম্বর বা কিউআর কোড থাকে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এপোস্টিল ডিরেক্টরির Verify অংশে বা কিউআর কোড স্ক্যান করে দেখে নিন কাগজটি সত্যিই মন্ত্রণালয় থেকে সত্যায়িত কি না। মাইগভ ছাড়া অন্য কোনো সাইটে সনদের ছবি বা ব্যক্তিগত তথ্য দেবেন না।

৬. অনেকে যা জানতে চান

সার্টিফিকেট সত্যায়িত করতে কত টাকা লাগে?
মাইগভে এসএসসি, এইচএসসি, দাখিল ও আলিমের সনদ বা ট্রান্সক্রিপ্ট সত্যায়নের সেবার ফি প্রতি পৃষ্ঠা ২০০ টাকা। অনলাইন পেমেন্টে সামান্য চার্জ যোগ হতে পারে।
শিক্ষা বোর্ডে বা সচিবালয়ে কি নিজে যেতে হয়?
মাইগভের মাধ্যমে আবেদন অনলাইনে হয়, আর সত্যায়িত কাগজ ড্যাশবোর্ড থেকে নামানো যায়। আবেদন পাতায় আলাদা কোনো কাগজ চাইলে সেটি অনুসরণ করুন।
দুবাই বা কাতারে যাব, এপোস্টিল কি চলবে?
সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতার বাংলাদেশের এপোস্টিল মানা ১১৪ দেশের তালিকায় নেই। সেখানকার নিয়োগকর্তা বা দূতাবাস কোন ধরনের সত্যায়ন চায়, তা আগে জেনে নিন।
এপোস্টিলের পর কি আবার নোটারি করাতে হবে?
মাইগভের সেবা পাতায় লেখা আছে, এপোস্টিল পদ্ধতিতে সত্যায়িত সনদ আবার সত্যায়ন বা নোটারি করার প্রয়োজন নেই।

এরপর পড়তে পারেন

যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি

জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৭ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।

সরকারি সাইট

আরও পড়ুন

এ বিষয়ে আরও লেখা

সব লেখা
ফলাফল

এইচএসসি রেজাল্ট মার্কশিট নাম্বার সহ: সরকারি সাইটে কী দেখা যায়, কী যায় না

ফলের পাতায় বিষয়ভিত্তিক গ্রেড থাকে, নম্বর নয়। গ্রেড দেখে নম্বরের সীমা বুঝুন, ফলের কপি রাখুন, ভুয়া লিংক এড়িয়ে চলুন।
ফলাফল

এইচএসসি ফেল করলে কি হবে: কোন বিষয়ে আবার বসবেন, রেজিস্ট্রেশন আর ফি

এক বা দুই বিষয়ে ফেল, চতুর্থ বিষয়ে F, রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ আর পরের বছরের ফরম পূরণ: বোর্ডের নিয়ম ধরে করণীয়।

অনেকে খোঁজেন