শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল

কারিগরি বোর্ডের ডিপ্লোমা ও ভোকেশনাল ফল দেখবেন যেভাবে

সম্পাদনা: রিহাত খানপড়তে ৬ মিনিট

হালনাগাদ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬এসএমএসে ফল ১৬২২২result.bteb.gov.bd

সংক্ষেপে

বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের (বাকাশিবো) ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং, ডিপ্লোমা ইন এগ্রিকালচার, ফিশারিজ, লাইভস্টক, ফরেস্ট্রি, টেক্সটাইল আর এসএসসি ও এইচএসসি ভোকেশনালের ফল দেখা যায় result.bteb.gov.bd সাইটে। পরীক্ষা, শিক্ষাক্রম, পর্ব বা শ্রেণি, পরীক্ষার বছর, রোল আর রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিলেই নিজের ফল আসে।

কোনো বিষয়ে রেফার্ড এলে পরের পর্ব সমাপনী পরীক্ষায় ওই বিষয় আবার দিতে হয়, ফরম পূরণ হয় নিজের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। নম্বর নিয়ে সন্দেহ থাকলে ফল প্রকাশের ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিষ্ঠানে পুনঃনিরীক্ষার আবেদন করুন, প্রতি উত্তরপত্রে ফি ৩০০ টাকা।

কারিগরি বোর্ডের ফলের সাইটে যান

রোল, রেজিস্ট্রেশন নম্বর আর পর্ব দিয়ে নিজের ফল দেখুন।

ফল দেখুন
এই লেখায়
  1. result.bteb.gov.bd-তে নিজের ফল দেখার ধাপ
  2. ফলাফলের পাতায় কী থাকে
  3. রেফার্ড এলে কী করবেন
  4. নম্বর নিয়ে সন্দেহ হলে পুনঃনিরীক্ষা
  5. নম্বরপত্র, সনদ আর বোর্ডের ফি
  6. অনেকে যা জানতে চান

১. result.bteb.gov.bd-তে নিজের ফল দেখার ধাপ

  • ১
    Examination বাছুনডিপ্লোমার যেকোনো শিক্ষাক্রমের জন্য All Diploma। এসএসসি ভোকেশনাল বা দাখিল ভোকেশনাল হলে SSC/Dakhil (VOC), এইচএসসি ভোকেশনাল বা বিএমটি হলে HSC/Equivalent (VOC)। জেএসসি ভোকেশনাল আর শর্ট কোর্সের আলাদা অপশন আছে।
  • ২
    Curriculum বাছুনতালিকায় কোডসহ শিক্ষাক্রমের নাম থাকে, যেমন 15 Diploma-in-Engineering, 19 Diploma-in-Textile Engineering, 23 Diploma-in-Agriculture, 74 Diploma-in-Fisheries, 72 Diploma-in-Livestock। নিজের প্রবেশপত্রে লেখা শিক্ষাক্রমটিই বাছুন।
  • ৩
    পর্ব আর বছর দিনSemester / Class ঘরে ডিপ্লোমার জন্য ১ম থেকে ৮ম পর্বের যেটির ফল দেখবেন, ভোকেশনালের জন্য শ্রেণি (৯ম, ১০ম বা একাদশ, দ্বাদশ)। Exam Year ঘরে যে বছরের পরীক্ষা সেই সাল দিন। পরীক্ষা পরের বছরের শুরুতে হলেও বছর সাধারণত প্রবেশপত্রে লেখা সালটিই।
  • ৪
    রোল, রেজিস্ট্রেশন আর নিরাপত্তা প্রশ্নRoll No ও Registration No দুটোই লাগে, প্রবেশপত্র বা রেজিস্ট্রেশন কার্ড দেখে লিখুন। Security Check ঘরে ছবিতে দেখানো প্রশ্নের উত্তর দিয়ে Search চাপুন। উত্তর ভুল হলে নতুন প্রশ্ন আসে, আবার চেষ্টা করুন।
এসএসসি ও এইচএসসি ভোকেশনালের আরেকটি পথ

ভোকেশনাল ও বিএমটির কেন্দ্রীয় পরীক্ষার ফল সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের ফলের সাইটেও আসে, সেখানে বোর্ড হিসেবে Technical বাছতে হয়। এসএমএসে বোর্ডের কোড TEC।

২. ফলাফলের পাতায় কী থাকে

ফলের পাতায় প্রথমে আপনার নাম, বাবা ও মায়ের নাম, জন্মতারিখ, রোল, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, টেকনোলজি বা ট্রেড, সেশন আর প্রতিষ্ঠানের নাম থাকে। নিচে বিষয়ের কোড, বিষয়ের নাম আর গ্রেডের তালিকা। ডিপ্লোমার পাতায় সাধারণত ক্রেডিট ও গ্রেড পয়েন্টও দেখায়।

  • প্রতিটি পর্বের জন্য আলাদা GPA দেখায়।
  • শেষ পর্বের (ডিপ্লোমায় ৮ম পর্ব) ফলে আগের পর্বগুলোর GPA আর সব মিলিয়ে CGPA একসঙ্গে আসে।
  • পাস হলে সবুজ, অকৃতকার্য বা রেফার্ড হলে লাল রঙে ফল দেখানো হয়।
  • নাম, বাবা-মায়ের নাম বা জন্মতারিখে ভুল চোখে পড়লে এখনই প্রতিষ্ঠানকে জানান, পরে সনদেও একই ভুল যাবে।

বোর্ড প্রতিটি পরীক্ষার পুরো ফল পিডিএফ আকারেও প্রকাশ করে। bteb.gov.bd-র রেজাল্ট মেনুর ‘ডিপ্লোমা পর্যায়ের ফলাফল’ পাতায় পরীক্ষাভিত্তিক ফলের লিংক আর পুনঃনিরীক্ষা ও সংশোধনের ফল (Rescrutiny & Correction Result) আলাদা করে থাকে।

৩. রেফার্ড এলে কী করবেন

রেফার্ড মানে আপনি এক বা একাধিক বিষয়ে উত্তীর্ণ হননি। ফলে সেই বিষয়গুলোর কোড দেখানো হয়। সাধারণত শুধু রেফার্ড বিষয়গুলোর পরীক্ষা পরের পর্ব সমাপনী পরীক্ষার সময় আবার দিতে হয়।

  1. ফলের পাতা থেকে রেফার্ড বিষয়ের কোড ও নাম লিখে রাখুন বা প্রিন্ট নিন।
  2. প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা শাখায় খোঁজ নিন কবে ফরম পূরণ শুরু হবে। বোর্ড প্রতিবার ফরম পূরণের বিজ্ঞপ্তি দেয়, প্রতিষ্ঠান সেই অনুযায়ী অনলাইনে তথ্য পাঠায়।
  3. প্রতিষ্ঠানের জানানো ফি দিয়ে ফরম পূরণ করুন, তারপর নতুন প্রবেশপত্র নিয়ে পরীক্ষা দিন।
  4. পরের ফল প্রকাশের পর একই সাইটে সেই পর্ব বেছে আবার ফল দেখুন।
কতগুলো বিষয়ে রেফার্ড থাকলে পরের পর্বে ওঠা যায়

এর নিয়ম শিক্ষাক্রম আর প্রবিধানভেদে আলাদা, আর বোর্ড সময়ে সময়ে বদলায়। নিজের ক্ষেত্রে কী প্রযোজ্য, প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা শাখা বা বিভাগীয় প্রধানের কাছ থেকে নিশ্চিত হয়ে নিন।

৪. নম্বর নিয়ে সন্দেহ হলে পুনঃনিরীক্ষা

  • ১
    ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে আবেদনকারিগরি বোর্ডের সিটিজেন চার্টার অনুযায়ী ডিপ্লোমার ফল প্রকাশের পর ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে বোর্ডের দেওয়া সময়ের ভেতর নিজের প্রতিষ্ঠানে আবেদন করতে হয়।
  • ২
    কাগজ আর ফিফলের কপি আর প্রবেশপত্রের কপি দিয়ে প্রতিষ্ঠানে আবেদন করুন। প্রতি উত্তরপত্রের ফি ৩০০ টাকা, প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সোনালী সেবায় জমা হয়।
  • ৩
    পরিবর্তিত ফলপ্রতিষ্ঠান অনলাইনে তথ্য পাঠায়। ফল বদলালে বোর্ডের ওয়েবসাইটে পুনঃনিরীক্ষা ও সংশোধনের ফল হিসেবে প্রকাশ করা হয়।

৫. নম্বরপত্র, সনদ আর বোর্ডের ফি

ওয়েবসাইট থেকে প্রিন্ট করা ফল মূল নম্বরপত্র নয়, চাকরি বা ভর্তিতে সাধারণত মূল কাগজ চাওয়া হয়। মূল নম্বরপত্র আর সনদ বোর্ড ছাপায়; কবে কীভাবে হাতে আসবে তা নিজের প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা শাখায় জেনে নিন। হারালে বা বাড়তি কাগজ লাগলে বোর্ডের সিটিজেন চার্টারে দেওয়া হারে আবেদন করতে হয়।

সেবাফি (টাকা)সময়
দ্বি-নকল নম্বরপত্র বা সনদঅতি জরুরি ১০০০, জরুরি ৮০০, সাধারণ ৫০০১, ৩ বা ৭ কার্যদিবস
এডভান্স নম্বরপত্র (চার বছরের সব পর্বে উত্তীর্ণ হলে)অতি জরুরি ৫৭৫, জরুরি ৩৭৫, সাধারণ ৭৫১, ৩ বা ৭ কার্যদিবস
শিক্ষার্থীর তথ্য সংশোধন (নাম, বাবা-মায়ের নাম, জন্মতারিখ, ছবি ইত্যাদি)প্রতি ডকুমেন্ট ৫০০, অনলাইনেআবেদন পাওয়ার পর ৩০ কার্যদিবস
উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষাপ্রতি উত্তরপত্র ৩০০ফলের পর ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে আবেদন

দ্বি-নকল নম্বরপত্র বা সনদের আবেদনে যা লাগে

দ্বি-নকলের টাকা বোর্ডের ১ নম্বর ভবনের নিচতলার নির্ধারিত কক্ষ থেকে রসিদ নিয়ে সোনালী ব্যাংকে জমা দিতে হয়। তথ্য সংশোধনের আবেদন হয় অনলাইনে, বোর্ডের ই-সেবা প্ল্যাটফর্মে।

৬. অনেকে যা জানতে চান

রেজিস্ট্রেশন নম্বর মনে নেই, শুধু রোল দিয়ে কি ফল দেখা যায়?
result.bteb.gov.bd-তে রোল আর রেজিস্ট্রেশন দুটোই চাওয়া হয়। রেজিস্ট্রেশন কার্ড বা প্রবেশপত্রে নম্বরটি পাবেন, না থাকলে প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা শাখায় জিজ্ঞেস করুন। প্রতিষ্ঠানভিত্তিক পুরো ফলের পিডিএফ বোর্ডের ‘ডিপ্লোমা পর্যায়ের ফলাফল’ পাতায়ও থাকে।
ফল দেখাচ্ছে না, ‘Result is not found’ লিখছে কেন?
সাধারণত শিক্ষাক্রম, পর্ব বা বছর ভুল বাছাই হলে এমন হয়। প্রবেশপত্রের সঙ্গে মিলিয়ে আবার দিন। ফল প্রকাশের দিন সাইটে চাপ থাকলে কিছুক্ষণ পর চেষ্টা করুন।
পলিটেকনিকের পুরোনো বছরের ফল কোথায় পাব?
নতুন সাইটে পরীক্ষার বছর হিসেবে ২০০৫ সাল পর্যন্ত বাছাই করার সুযোগ আছে। স্বল্পমেয়াদি কোর্স আর পুরোনো কিছু ফলের আর্কাইভের লিংক bteb.gov.bd-র রেজাল্ট মেনুতে আছে।
কারিগরি বোর্ডে ফল নিয়ে কোথায় যোগাযোগ করব?
প্রথমে নিজের প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা শাখায় যান, কারণ ফরম পূরণ, পুনঃনিরীক্ষা আর সংশোধনের আবেদন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেই যায়। বোর্ডের ই-সেবা হেল্পডেস্কের নম্বর ০১৩২২-৮৩০২৭৯।

এরপর পড়তে পারেন

যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি

জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৬ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।

সরকারি সাইট

আরও পড়ুন

ফলাফল নিয়ে আরও লেখা

সব ফলাফল গাইড
এসএসসি ফল

এসএসসি ও দাখিলের ফল দেখবেন যেভাবে

ওয়েবসাইটে রোল ও রেজিস্ট্রেশন দিয়ে, এসএমএসে বোর্ড কোড লিখে, আর স্কুলের পুরো ফল EIIN দিয়ে দেখার উপায়। পড়তে ৫ মিনিট
এইচএসসি ফল

এইচএসসি ও আলিমের ফল দেখবেন যেভাবে

এইচএসসি ২০২৬-এর সম্ভাব্য ফল প্রকাশের সময়, আর ওয়েবসাইট ও এসএমএসে ফল দেখার ধাপ। পড়তে ৫ মিনিট
পুনর্নিরীক্ষা

খাতা পুনর্নিরীক্ষার আবেদন

অনলাইনে আবেদনের ধাপ, প্রতি পত্রে ১৫০ টাকা ফি, কী যাচাই হয় আর সংশোধিত ফল কোথায় দেখবেন। পড়তে ৬ মিনিট
মার্কশিট ও সনদ

মার্কশিট, মূল সনদ ও দ্বি-নকল

মূল সনদ কোথায় পাবেন, আর হারালে জিডি ও পত্রিকার বিজ্ঞপ্তি দিয়ে দ্বি-নকলের আবেদন ও ফি। পড়তে ৬ মিনিট
সনদ সংশোধন

সনদে নাম ও জন্মতারিখ সংশোধন

নাম ও বয়স সংশোধনের আবেদন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে, কোন কাগজ লাগে, ফি কত আর কেন দেরি করবেন না। পড়তে ৭ মিনিট

অনেকে খোঁজেন