শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল

এসএসসি ও এইচএসসির খাতা পুনর্নিরীক্ষার আবেদন

নাগরিক সেবা সম্পাদনা দলপড়তে ৬ মিনিট

হালনাগাদ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬এসএমএসে ফল ১৬২২২educationboardresults.gov.bd

সংক্ষেপে

ফল প্রকাশের পরদিন থেকে সাধারণত সাত দিন পুনর্নিরীক্ষার (বোর্ড চ্যালেঞ্জ) আবেদন নেওয়া হয়। আবেদন এখন শুধু অনলাইনে, rescrutiny.eduboardresults.gov.bd সাইটে। ফি প্রতি পত্র ১৫০ টাকা, দুই পত্রের বিষয়ে দুটি পত্রেরই আবেদন করতে হয়।

আগে পুনর্নিরীক্ষায় মূলত নম্বর যোগের ভুল, নম্বর না পাওয়া উত্তর আর ওএমআর শিটে নম্বর তোলার ভুল দেখা হতো। ২০২৬ সালের এসএসসিতে প্রথমবার খাতা নতুন করে মূল্যায়নও (পুনর্মূল্যায়ন) করা হয়েছে। এইচএসসিতে কী হবে, আবেদনের বিজ্ঞপ্তিতে দেখে নিন।

পুনর্নিরীক্ষার আবেদনের সাইট

আবেদন চলাকালে রোল ও রেজিস্ট্রেশন দিয়ে বিষয় বাছাই, ফি জমা আর পরে সংশোধিত ফল দেখা যায়।

পুনর্নিরীক্ষার সাইট
এই লেখায়
  1. কখন আবেদন করবেন
  2. অনলাইনে আবেদনের ধাপ
  3. পুনর্নিরীক্ষায় আসলে কী দেখা হয়
  4. সংশোধিত ফল কীভাবে জানবেন
  5. অনেকে যা জানতে চান

১. কখন আবেদন করবেন

পুনর্নিরীক্ষার আবেদন খোলা থাকে অল্প কয়েক দিন। সাম্প্রতিক দুটি পরীক্ষার হিসাব দেখলে ধাঁচটা বোঝা যায়:

পরীক্ষাফল প্রকাশআবেদনের সময়
এইচএসসি ও সমমান ২০২৫১৬ অক্টোবর ২০২৫১৭ থেকে ২৩ অক্টোবর
এসএসসি ও সমমান ২০২৬১০ আগস্ট ২০২৬১১ থেকে ১৭ আগস্ট
এইচএসসি ও সমমান ২০২৬সম্ভাব্য ২৫ থেকে ২৯ অক্টোবরফলের দিনের বিজ্ঞপ্তি দেখুন

এইচএসসি ও আলিম ২০২৬-এর আবেদনের তারিখ জানাবে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। ফল দেখার দিনই বিজ্ঞপ্তিটি খুঁজে নিন, যাতে শেষ দিনের ভিড়ে আটকে না যান।

২. অনলাইনে আবেদনের ধাপ

  • ১
    রোল ও রেজিস্ট্রেশন দিনrescrutiny.eduboardresults.gov.bd-তে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর লিখুন, ড্রপডাউন থেকে বোর্ড বাছাই করে সাবমিট করুন।
  • ২
    সচল মোবাইল নম্বর দিনপুনর্নিরীক্ষার ফল প্রকাশ হলে এই নম্বরে এসএমএস যাবে। নিজের বা অভিভাবকের এমন নম্বর দিন যা সব সময় হাতের কাছে থাকে।
  • ৩
    বিষয় বাছাই করুনপর্দায় বিষয়ভিত্তিক ফল দেখাবে। যে বিষয় পুনর্নিরীক্ষা করাতে চান, সেগুলো বেছে Pay Fee চাপুন। বাংলা বা ইংরেজির মতো দুই পত্রের বিষয়ে দুটি পত্রই বাছতে হয়।
  • ৪
    ফি দিনপ্রতি পত্রে ১৫০ টাকা। এসএসসি ২০২৬-এ বিকাশ, নগদ আর সোনালী সেবায় ফি নেওয়া হয়েছে, ২০২৫ সালের এইচএসসিতে রকেট ও টেলিটক সিমেও দেওয়া গেছে। পোর্টালের Help বোতামে টাকা দেওয়ার ধাপ দেখানো থাকে।
  • ৫
    ফিরে এসে Submit চাপুনটাকা দেওয়ার পর পোর্টালে ফিরে Submit চাপলে আবেদন শেষ হয়। পরে আরও বিষয় যোগ করতে চাইলে একই পথে করা যায়, নতুন মোবাইল নম্বর লাগে না।
ফি দেওয়ার পর বদলানো যায় না

টাকা দেওয়ার আগে বিষয় মুছে নতুন বিষয় বাছা যায়। ফি দেওয়ার পর বাছাই করা বিষয় বাতিল বা বদল হয় না, ফিও ফেরত হয় না। হাতে লেখা আবেদন নেওয়া হয় না।

অনেক পুরোনো ওয়েবসাইটে এখনো টেলিটক সিম থেকে RSC লিখে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠানোর নিয়ম দেখায়। ২০২৫ সালের এসএসসি পর্যন্ত সেভাবে আবেদন হতো। ২০২৫ সালের এইচএসসি থেকে আবেদন নেওয়া হচ্ছে অনলাইন পোর্টালে।

৩. পুনর্নিরীক্ষায় আসলে কী দেখা হয়

প্রচলিত নিয়মে পুনর্নিরীক্ষা মানে খাতা আবার পড়ে নতুন করে নম্বর দেওয়া নয়। বোর্ড মূলত এগুলো মিলিয়ে দেখে:

  • সব প্রশ্নের উত্তরে নম্বর দেওয়া হয়েছে কি না, কোনো উত্তর মূল্যায়ন ছাড়া রয়ে গেছে কি না
  • প্রশ্নভিত্তিক নম্বর যোগ করতে ভুল হয়েছে কি না
  • প্রাপ্ত নম্বর ওএমআর শিটে ঠিকভাবে তোলা ও বৃত্ত ভরাট হয়েছে কি না

এমসিকিউ বা নৈর্ব্যক্তিক অংশ মেশিনে মূল্যায়ন হয়। তাই সেখানে নতুন করে নম্বর দেওয়ার সুযোগ নেই।

২০২৬ সালের এসএসসিতে যা বদলেছে

এবার এসএসসি ও সমমানে প্রথমবার সৃজনশীল আর ব্যবহারিক খাতা পুনর্মূল্যায়নও করা হয়েছে। বোর্ড কর্মকর্তারা তখন জানিয়েছিলেন, পরীক্ষক কম নম্বর দিয়ে থাকলে বাড়ানো হবে, বেশি দিয়ে থাকলে এবার কমানো হবে না। পরের পরীক্ষাগুলোতে এ নিয়ম বদলাতে পারে।

৪. সংশোধিত ফল কীভাবে জানবেন

পুনর্নিরীক্ষার ফল প্রকাশ হলে আবেদনের সময় দেওয়া মোবাইল নম্বরে এসএমএস যায়। নিজ বোর্ডের ওয়েবসাইট আর rescrutiny.eduboardresults.gov.bd-তেও ফল দেখা যায়। যাঁদের ফল বদলেছে, বোর্ডগুলো তাঁদের তালিকাও ওয়েবসাইটে দেয়।

২০২৬ সালের এসএসসিতে আবেদন শেষ হয়েছিল ১৭ আগস্ট, সংশোধিত ফল আসে ১০ সেপ্টেম্বর। প্রায় ৪ লাখ পরীক্ষার্থী প্রায় ১২ লাখ ৮৮ হাজার খাতার জন্য আবেদন করেছিলেন। এর মধ্যে ৫৬ হাজার ২৫৯ জনের নম্বর বদলেছে, ফেল থেকে পাস করেছেন ৪ হাজার ৫৮৫ জন।

৫. অনেকে যা জানতে চান

পুনর্নিরীক্ষায় নম্বর কি কমে যেতে পারে?
২০২৬ সালের এসএসসির পুনর্মূল্যায়নের সময় বোর্ড জানিয়েছিল, কম নম্বর পেলে বাড়ানো হবে কিন্তু কমানো হবে না। কর্মকর্তারা এটাও বলেছেন, সামনে এ নিয়ম বদলাতে পারে। আবেদনের আগে সেই বছরের বিজ্ঞপ্তি পড়ে নিন।
কোন বিষয়ে আবেদন করা উচিত?
যে বিষয়ে গ্রেড প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কম, বা মনে হয় অল্প নম্বরের জন্য পরের গ্রেড হাতছাড়া হয়েছে, সেগুলো বেছে নিন। প্রতিটি পত্রে আলাদা ফি লাগে, তাই সব বিষয়ে আবেদন না করাই ভালো।
ফি দিয়েছি, কিন্তু আবেদন জমা হলো কি না বুঝছি না।
টাকা দেওয়ার পর পোর্টালে ফিরে Submit চাপতে হয়। আবার রোল ও রেজিস্ট্রেশন দিয়ে ঢুকে বাছাই করা বিষয়গুলোর অবস্থা দেখুন। সমস্যা থাকলে আবেদনের সময় শেষ হওয়ার আগেই নিজ বোর্ডে যোগাযোগ করুন।

এরপর কী করবেন

এরপর পড়তে পারেন

যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি

জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৬ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।

সরকারি সাইট

আরও পড়ুন

ফলাফল নিয়ে আরও লেখা

পুরো বিভাগ
এসএসসি ফল

এসএসসি ও দাখিলের ফল দেখবেন যেভাবে

ওয়েবসাইটে রোল ও রেজিস্ট্রেশন দিয়ে, এসএমএসে বোর্ড কোড লিখে, আর স্কুলের পুরো ফল EIIN দিয়ে দেখার উপায়। পড়তে ৫ মিনিট
এইচএসসি ফল

এইচএসসি ও আলিমের ফল দেখবেন যেভাবে

এইচএসসি ২০২৬-এর সম্ভাব্য ফল প্রকাশের সময়, আর ওয়েবসাইট ও এসএমএসে ফল দেখার ধাপ। পড়তে ৫ মিনিট
মার্কশিট ও সনদ

মার্কশিট, মূল সনদ ও দ্বি-নকল

মূল সনদ কোথায় পাবেন, আর হারালে জিডি ও পত্রিকার বিজ্ঞপ্তি দিয়ে দ্বি-নকলের আবেদন ও ফি। পড়তে ৬ মিনিট
সনদ সংশোধন

সনদে নাম ও জন্মতারিখ সংশোধন

নাম ও বয়স সংশোধনের আবেদন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে, কোন কাগজ লাগে, ফি কত আর কেন দেরি করবেন না। পড়তে ৭ মিনিট

অনেকে খোঁজেন