
সংক্ষেপে
ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির উপবৃত্তি দেয় প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের সমন্বিত উপবৃত্তি কর্মসূচি (HSP)। টাকা যায় সরাসরি অভিভাবকের মোবাইল ব্যাংকিং বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে। টাকা না এলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কারণ তিনটি: অ্যাকাউন্টটি অভিভাবকের NID দিয়ে খোলা নয়, হিসাবধারীর নাম বা নম্বরে ভুল, অথবা অ্যাকাউন্ট বন্ধ বা KYC অসম্পূর্ণ। তখন টাকা পাঠানো হলেও ফেরত যায়, একে বলে বাউন্সব্যাক।
অভিভাবক নিজে HSP-MIS সফটওয়্যারে ঢুকতে পারেন না, এটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য। তাই প্রথমে নিজের ওয়ালেটের লেনদেন দেখুন, তারপর প্রতিষ্ঠান প্রধানকে পেমেন্ট স্ট্যাটাস রিপোর্ট দেখতে বলুন। ভুল থাকলে প্রতিষ্ঠানই সফটওয়্যারে তথ্য সংশোধন করে।
ট্রাস্টের ওয়েবসাইটে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ আর স্নাতক পর্যায়ের আলাদা হেল্পলাইন নম্বর দেওয়া আছে।
এই লেখায়
১. উপবৃত্তির টাকা কীভাবে আর কবে আসে
সমন্বিত উপবৃত্তি কর্মসূচির টাকা সরকার থেকে G2P পদ্ধতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের EFT হয়ে সরাসরি শিক্ষার্থী বা অভিভাবকের অ্যাকাউন্টে যায়। মাঝখানে স্কুল, কলেজ বা মাদ্রাসা নগদ টাকা হাতে দেয় না। প্রতিষ্ঠানের কাজ হলো HSP-MIS সফটওয়্যারে শিক্ষার্থীর তথ্য আর অ্যাকাউন্ট নম্বর ঠিকভাবে তোলা।
টাকা আসে কিস্তিতে। ট্রাস্টের ২৩ জুন ২০২৬ তারিখের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর ২০২৫ আর জানুয়ারি-জুন ২০২৬, এই দুই কিস্তির উপবৃত্তি একসঙ্গে বিতরণ শুরু হয় ২৪ জুন ২০২৬ থেকে। পরের কিস্তি কবে যাবে, তা ট্রাস্ট আলাদা বিজ্ঞপ্তিতে জানায়। তারিখ নিয়ে ফেসবুকের পোস্ট নয়, ট্রাস্টের ওয়েবসাইটের নোটিশ দেখুন।
একই বিজ্ঞপ্তিতে বলা আছে, উপবৃত্তির টাকা থেকে মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানের ক্যাশ আউট চার্জ কাটা হবে না। চার্জের টাকা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রতিষ্ঠান নিজেই অ্যাকাউন্টে দেবে।
২. টাকা এসেছে কি না, যেভাবে মিলিয়ে দেখবেন
- ১ওয়ালেটের লেনদেন দেখুনবিকাশ, নগদ, রকেট, উপায় বা এমক্যাশ, যে অ্যাকাউন্ট উপবৃত্তির জন্য দেওয়া হয়েছে, তার অ্যাপ বা স্টেটমেন্টে বিতরণের তারিখের পরের লেনদেন দেখুন। পরিবারের অন্য কোনো নম্বর নয়, ফরমে যে নম্বর দেওয়া হয়েছিল সেটাই দেখতে হবে।
- ২প্রতিষ্ঠানে নাম তালিকায় আছে কি না জানুনপ্রতিষ্ঠান প্রধান HSP-MIS-এর রিপোর্ট মেনু থেকে উপবৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর বিবরণী দেখতে পারেন। নাম তালিকায় না থাকলে সমস্যা টাকা পাঠানোর নয়, নির্বাচনের।
- ৩পেমেন্ট স্ট্যাটাস রিপোর্ট দেখতে বলুনরিপোর্ট মেনুর পেরোল রিপোর্ট থেকে পেমেন্ট স্ট্যাটাস রিপোর্টে কে কত টাকা পেয়েছে আর কার টাকা বাউন্সড হয়েছে, দুটোই দেখা যায়। আপনার সন্তানের নামের পাশে কী লেখা, সেটা জেনে নিন।
- ৪কারণ অনুযায়ী ব্যবস্থা নিনবাউন্সড হলে প্রতিষ্ঠানকে অ্যাকাউন্টের তথ্য সংশোধন করতে বলুন। নাম তালিকায় না থাকলে কেন বাদ পড়েছে, প্রতিষ্ঠান প্রধান বা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে জানুন।
৩. যে কারণে টাকা ফেরত যায় বা আটকে থাকে
ট্রাস্টের প্রশ্নোত্তর আর বাউন্সব্যাক নির্দেশিকায় কারণগুলো স্পষ্ট করে বলা আছে। সবচেয়ে বেশি ভুল হয় হিসাবধারীর নামে। মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট হতে হবে অভিভাবকের নামে, শিক্ষার্থীর নামে নয়।
| অ্যাকাউন্টের ধরন | হিসাবধারীর নাম কার হবে |
|---|---|
| মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ, রকেট, নগদ, উপায়, এমক্যাশ) | অভিভাবকের নাম, HSP-MIS-এ দেওয়া অভিভাবকের NID দিয়ে খোলা |
| স্কুল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট | শিক্ষার্থীর নাম; যৌথ অ্যাকাউন্ট হলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবক দুজনের নাম |
| তফসিলি ব্যাংকের সাধারণ অ্যাকাউন্ট | অভিভাবকের নাম |
- অ্যাকাউন্টটি অভিভাবকের NID দিয়ে খোলা হয়নি, বা সিমটি অন্য কারও NID-তে নিবন্ধিত।
- হিসাবধারীর নাম বা হিসাব নম্বর চেক বইয়ের সঙ্গে মেলে না, কিংবা নামে কমা, ড্যাশ বা অন্য চিহ্ন দেওয়া হয়েছে। ট্রাস্টের নির্দেশনা হলো MICR চেক বই দেখে হুবহু ইংরেজিতে লেখা।
- ব্যাংকের নাম, শাখা, রাউটিং নম্বর বা হিসাবের ধরন (সঞ্চয়ী বা চলতি) ভুল বাছাই করা।
- মোবাইল নম্বর বা অ্যাকাউন্ট সচল নয়, অথবা KYC ফরম পূরণ করা নেই।
- একই অভিভাবকের দুই সন্তানের আবেদনে একই অ্যাকাউন্ট নম্বর দেওয়া। এটি চলে না; একজনের জন্য বাবা, অন্যজনের জন্য মা, বা আইনগত অভিভাবকের অ্যাকাউন্ট দিতে হয়।
জুন ২০২৬-এ ট্রাস্ট জানিয়েছিল, যাঁদের মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট অভিভাবকের NID দিয়ে যাচাই (Validation) হয়নি, তাঁদের উপবৃত্তি বিতরণ স্থগিত থাকবে। এর জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে ১৭ থেকে ২০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত HSP-MIS-এ মোবাইল ব্যাংক তথ্য আপডেটের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। আপনার সন্তানের টাকা তার পর থেকে আটকে থাকলে প্রতিষ্ঠানে এই বিষয়টি আগে জিজ্ঞেস করুন।
৪. ভুল ঠিক করবে প্রতিষ্ঠান, আপনি যা নিয়ে যাবেন
বাউন্সব্যাক হওয়া শিক্ষার্থীর তথ্য সংশোধনের কাজ হয় প্রতিষ্ঠানের লগইন থেকে। HSP-MIS-এ উপবৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী অংশে শিক্ষার্থীর তথ্য আপডেট, তারপর শিক্ষার্থীর অবস্থা থেকে ভুল পেমেন্ট তথ্য বেছে খুঁজলে তালিকা আসে। সেখানে সম্পাদনা করে পেমেন্টের ধরন, ব্যাংক, শাখা, হিসাবধারীর নাম আর হিসাব নম্বর ঠিক করে সংরক্ষণ করতে হয়।
প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার সময় সঙ্গে নিন
সংশোধনের পর পরের বিতরণে টাকা আসার কথা। কবে আসবে তা প্রতিষ্ঠান বা ট্রাস্টের বিজ্ঞপ্তিই বলতে পারবে, কোনো নির্দিষ্ট সময় আমরা কোনো সরকারি নোটিশে পাইনি।
৫. কোথায় জানাবেন, কাকে কিছুই দেবেন না
প্রথমে প্রতিষ্ঠান প্রধান, তারপর উপজেলা বা থানা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। এরপরও সমাধান না হলে ট্রাস্টের ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির উপবৃত্তির হেল্পলাইনে ফোন বা হোয়াটসঅ্যাপ করুন: ০১৩১৬-৬৫৮২৩০ আর ০১৩১৬-৬৫৮৫২৯। ট্রাস্টের ওয়েবসাইটে বিভাগভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নাম আর নম্বরও দেওয়া আছে।
১৫ জুলাই ২০২৬ ট্রাস্ট সতর্ক করেছে, কর্মসূচির স্কিম পরিচালকের পরিচয় দিয়ে ফোন করে প্রতারকেরা OTP চাইছে। ট্রাস্ট বা উপজেলা অফিসের কেউ OTP, পিন বা পাসওয়ার্ড জানতে ফোন করে না। কাউকে এগুলো বলবেন না।
এই লেখা ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির সমন্বিত উপবৃত্তি নিয়ে। প্রাথমিক বা ডিগ্রি পর্যায়ের উপবৃত্তির আবেদন, যোগাযোগ আর নিয়ম আলাদা।
৬. অনেকে যা জানতে চান
উপবৃত্তির টাকা চেক করার নিয়ম কী?
শিক্ষার্থীর নামে বিকাশ বা নগদ খুললে কি টাকা আসবে?
এক অভিভাবকের দুই সন্তান হলে একটি অ্যাকাউন্ট দেওয়া যাবে?
উপবৃত্তির টাকা কবে দিবে ২০২৬?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৮ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।