শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল

জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬: ৮ ডিসেম্বর শুরু, রুটিন, মানবণ্টন আর কারা বসতে পারবে

সম্পাদনা: রিহাত খানপড়তে ৫ মিনিট

হালনাগাদ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬এসএমএসে ফল ১৬২২২dshe.gov.bd
জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬: ৮ ডিসেম্বর শুরু, রুটিন, মানবণ্টন আর কারা বসতে পারবে

সংক্ষেপে

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) সূচি অনুযায়ী অষ্টম শ্রেণির জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬ হবে ৮, ১০, ১৩ ও ১৫ ডিসেম্বর, প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা। বাংলা, ইংরেজি আর গণিতে ১০০ নম্বর করে, বিজ্ঞান এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়ে ৫০ করে, মোট ৪০০ নম্বর। বৃত্তি ঠিক হয় এই ৪০০ নম্বরের ভিত্তিতে।

সবাই বসতে পারে না। গত বছরের সংশোধিত নীতিমালায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের অষ্টম শ্রেণির ন্যূনতম ২০ থেকে সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থী অংশ নিতে পারত, বাছাই করে প্রতিষ্ঠান। ফরম পূরণও করে প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা বোর্ডের মাধ্যমে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর

জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার সূচি আর নির্দেশনা প্রকাশ করে মাউশি।

মাউশির ওয়েবসাইট
এই লেখায়
  1. ২০২৬ সালের রুটিন
  2. প্রশ্ন কোথা থেকে, মানবণ্টন কেমন
  3. কারা বসতে পারবে, ফরম পূরণ কোথায় দাঁড়িয়ে
  4. প্রবেশপত্র থেকে পরীক্ষার হল পর্যন্ত
  5. গত বছরের পরীক্ষা থেকে যা জানা যায়
  6. ফল কবে, বৃত্তি কয়টি
  7. অনেকে যা জানতে চান

১. ২০২৬ সালের রুটিন

ইত্তেফাক ২৩ আগস্ট ২০২৬ জানায়, মাউশি পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ করেছে। শুরুতে ১৫ থেকে ২০ ডিসেম্বরের মধ্যে পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল, পরে তা এগিয়ে আনা হয়।

তারিখবিষয়নম্বর
৮ ডিসেম্বর ২০২৬বাংলা১০০
১০ ডিসেম্বর ২০২৬ইংরেজি১০০
১৩ ডিসেম্বর ২০২৬গণিত১০০
১৫ ডিসেম্বর ২০২৬বিজ্ঞান এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়৫০ + ৫০

প্রতিটি পরীক্ষা সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা, তিন ঘণ্টা। শেষ দিনে দুই বিষয় মিলিয়ে তিন ঘণ্টা, অর্থাৎ প্রতিটির জন্য দেড় ঘণ্টা। গত বছর একটি পরীক্ষার দিন শেষ মুহূর্তে বদলেছিল, তাই পরীক্ষার আগের সপ্তাহে প্রতিষ্ঠান থেকে সূচি আরেকবার মিলিয়ে নিন।

২. প্রশ্ন কোথা থেকে, মানবণ্টন কেমন

প্রথম আলোর প্রতিবেদনে সংশোধিত নীতিমালার যে বিবরণ এসেছে, তাতে প্রশ্ন হয় জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) অষ্টম শ্রেণির পাঠ্যবই আর তার প্রশ্ন কাঠামো অনুযায়ী। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীরা ৩০ মিনিট বাড়তি সময় পায়।

  • বাংলা: ১০০ নম্বর, ৩ ঘণ্টা
  • ইংরেজি: ১০০ নম্বর, ৩ ঘণ্টা
  • গণিত: ১০০ নম্বর, ৩ ঘণ্টা
  • বিজ্ঞান ৫০ আর বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় ৫০: মোট ১০০ নম্বর, একসঙ্গে ৩ ঘণ্টা
  • সব মিলিয়ে ৪০০ নম্বর; ট্যালেন্টপুল আর সাধারণ, দুই ধরনের বৃত্তিই এই মোট নম্বর দেখে

অধ্যায়ভিত্তিক আলাদা কোনো সিলেবাস আমরা মাউশি বা বোর্ডের নোটিশে পাইনি। বাজারের গাইডে যে সিলেবাস দেখবেন, সেটি প্রকাশকের নিজের ভাগ। নিশ্চিত হতে স্কুলের মাধ্যমে বোর্ডের পাঠানো নির্দেশনা দেখুন।

৩. কারা বসতে পারবে, ফরম পূরণ কোথায় দাঁড়িয়ে

অনুমোদিত মাধ্যমিক বা নিম্নমাধ্যমিক প্রতিষ্ঠানের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী এই পরীক্ষা দেয়। ২০২৫ সালের সংশোধিত নীতিমালায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠান থেকে অষ্টম শ্রেণির ২০ থেকে ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থী অংশ নিতে পারত, প্রতিষ্ঠান মেধাক্রম ধরে নাম পাঠাত। ছাড়পত্র নিয়ে স্কুল বদলালে আগের স্কুলের মেধাক্রম ধরে তালিকায় নাম তুলতে হয়।

ফরম পূরণ প্রতিষ্ঠান করে বোর্ডের অনলাইন ব্যবস্থায়, ফি জমা হয় সোনালী সেবায়। যেমন সিলেট শিক্ষা বোর্ড ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ফরম পূরণের সময় ১৩ ও ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ায়, সোনালী সেবায় ফি জমার শেষ দিন ছিল ১৫ সেপ্টেম্বর আর ফাইনালাইজেশন ১৬ সেপ্টেম্বর। ১৫ অক্টোবর ২০২৬ আরেক বিজ্ঞপ্তিতে বোর্ডটি জানায়, যেসব প্রতিষ্ঠানে ৪০ শতাংশের কম শিক্ষার্থীর ফরম পূরণ হয়েছে বা যারা বাদ পড়েছে, তাদের আবার কয়েক দিনের সময় দেওয়া হয়েছে।

আপনার সন্তানের নাম গেছে কি না

অভিভাবক নিজে ফরম পূরণ করতে পারেন না। শ্রেণিশিক্ষক বা প্রধান শিক্ষকের কাছে জেনে নিন নাম পাঠানো হয়েছে কি না। বাদ পড়লে নিজের বোর্ডের ওয়েবসাইটে ফরম পূরণের সর্বশেষ নোটিশ দেখে দ্রুত প্রতিষ্ঠানকে জানান।

৪. প্রবেশপত্র থেকে পরীক্ষার হল পর্যন্ত

  • ১
    প্রবেশপত্র নিনমাউশির নির্দেশনা অনুযায়ী পরীক্ষার অন্তত সাত দিন আগে প্রতিষ্ঠান প্রধানের কাছ থেকে প্রবেশপত্র সংগ্রহ করতে হবে। নাম, রোল আর রেজিস্ট্রেশন নম্বর তখনই মিলিয়ে নিন।
  • ২
    কেন্দ্রে আগে পৌঁছানপরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রে থাকতে হবে। প্রথম দিনের আগে একবার কেন্দ্র ঘুরে আসা ভালো।
  • ৩
    OMR ঠিকভাবে পূরণ করুনOMR শিটে রোল, রেজিস্ট্রেশন নম্বর আর বিষয় কোড লিখে মিলিয়ে বৃত্ত ভরাট করতে হয়। উত্তরপত্র ভাঁজ করা যাবে না।
  • ৪
    যা নেওয়া যাবে, যা যাবে নাবোর্ড অনুমোদিত সাধারণ সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর নেওয়া যায়। মোবাইল ফোন বা কোনো ইলেকট্রনিক যন্ত্র কেন্দ্রে নেওয়ার অনুমতি শুধু কেন্দ্র সচিবের।

পরীক্ষার দিন ব্যাগে

৫. গত বছরের পরীক্ষা থেকে যা জানা যায়

ইত্তেফাকের হিসাবে ২০২৫ সালের জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় সারা দেশে প্রায় সাড়ে তিন লাখ শিক্ষার্থী ৬১১টি কেন্দ্রে অংশ নেয়। শুধু ঢাকা বোর্ডেই নিবন্ধন করেছিল ৮৭ হাজার ৯৪৯ জন, পরীক্ষায় বসে ৮০ হাজার ২১৮ জন। সব বিষয়ে অংশ নিয়েছে ৭৭ হাজার ৯১৯ জন, আর ১০ হাজার ৩০ জন কোনো না কোনো বিষয়ে অনুপস্থিত ছিল।

বৃত্তি ঠিক হয় চার বিষয়ের মোট নম্বরে, তাই একটি বিষয়েও অনুপস্থিত থাকলে মোট নম্বর কমে যায় আর বৃত্তির সম্ভাবনা অনেক কমে যায়। অসুস্থতা বা অন্য কারণে কোনো দিন পরীক্ষা দিতে না পারার আশঙ্কা থাকলে আগেই প্রতিষ্ঠান প্রধানকে জানান।

আরেকটি শিক্ষা: গত বছর শেষ দিনের পরীক্ষা শেষ মুহূর্তে কয়েক দিন পিছিয়েছিল। পরীক্ষার পুরো সপ্তাহ পরিবারে অন্য কোনো ভ্রমণ বা অনুষ্ঠান না রাখাই নিরাপদ।

৬. ফল কবে, বৃত্তি কয়টি

গত বছরের পরীক্ষা হয়েছিল ডিসেম্বরের শেষে, একটি দিন পিছিয়ে ৬ জানুয়ারি। ফল ঘোষণা হয় ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে। ইত্তেফাক জানায়, তখন মোট ৪৫ হাজার ২০০ শিক্ষার্থী বৃত্তি পায়, বোর্ডভিত্তিক পরীক্ষার্থীর অনুপাতে আর উপজেলাভিত্তিক কোটায় বৃত্তি ভাগ হয়েছিল।

নীতিমালায় বৃত্তি দুই ধরনের: ট্যালেন্টপুল আর সাধারণ, প্রতিটিতে ছাত্র আর ছাত্রী অর্ধেক অর্ধেক। মাসে কত টাকা বৃত্তি, তা আমরা কোনো সরকারি নোটিশে নিশ্চিত হতে পারিনি; ফল প্রকাশের পর বোর্ডের বৃত্তির আদেশে টাকার অঙ্ক থাকে। এবারের পরীক্ষা আগে হওয়ায় ফলও আগে আসতে পারে, তবে কোনো তারিখ ঘোষণা হয়নি।

৭. অনেকে যা জানতে চান

জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬ কবে?
মাউশির সূচিতে ৮, ১০, ১৩ ও ১৫ ডিসেম্বর ২০২৬, প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা।
জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার মানবণ্টন কত?
বাংলা, ইংরেজি ও গণিতে ১০০ করে, বিজ্ঞান এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়ে ৫০ করে। মোট ৪০০ নম্বর।
অষ্টম শ্রেণির সবাই কি পরীক্ষা দিতে পারবে?
না। গত বছরের নীতিমালায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের ২০ থেকে ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থী মেধাক্রমে অংশ নিতে পারত। কারা যাবে, ঠিক করে প্রতিষ্ঠান।
পরীক্ষায় ক্যালকুলেটর নেওয়া যাবে?
মাউশির নির্দেশনায় বোর্ড অনুমোদিত সাধারণ সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর ব্যবহারের অনুমতি আছে। প্রোগ্রামেবল ক্যালকুলেটর বা মোবাইল নয়।

এরপর পড়তে পারেন

যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি

জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৮ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।

সরকারি সাইট

আরও পড়ুন

এ বিষয়ে আরও লেখা

সব লেখা
ফলাফল

এইচএসসি রেজাল্ট মার্কশিট নাম্বার সহ: সরকারি সাইটে কী দেখা যায়, কী যায় না

ফলের পাতায় বিষয়ভিত্তিক গ্রেড থাকে, নম্বর নয়। গ্রেড দেখে নম্বরের সীমা বুঝুন, ফলের কপি রাখুন, ভুয়া লিংক এড়িয়ে চলুন।
ফলাফল

এইচএসসি ফেল করলে কি হবে: কোন বিষয়ে আবার বসবেন, রেজিস্ট্রেশন আর ফি

এক বা দুই বিষয়ে ফেল, চতুর্থ বিষয়ে F, রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ আর পরের বছরের ফরম পূরণ: বোর্ডের নিয়ম ধরে করণীয়।

অনেকে খোঁজেন