
সংক্ষেপে
এইচএসসি ফরম পূরণ ফি কত টাকা, তা শাখার ওপর নির্ভর করে। ২০২৬ সালের পরীক্ষায় চট্টগ্রাম বোর্ডের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী নিয়মিত পরীক্ষার্থীর মোট ফি ছিল বিজ্ঞানে ২,৯৯৫ টাকা, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষায় ২,৪৩৫ টাকা। এর মধ্যে বোর্ড ফি যথাক্রমে ২,১৪০ ও ১,৯৪০ টাকা, বাকিটা ব্যবহারিক ফিসহ কেন্দ্র ফি। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর জানিয়েছিল, ঢাকা বোর্ডেও সর্বোচ্চ ফি একই, আগের বছরের চেয়ে প্রতি শাখায় ২১০ টাকা বেশি।
ফরম পূরণ করতে পারেন শুধু বৈধ রেজিস্ট্রেশনধারী আর নির্বাচনী (টেস্ট) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী। ২০২৬ সালের পরীক্ষার জন্য টেস্টের বিজ্ঞপ্তি এসেছিল ১ ডিসেম্বর ২০২৫, ফরম পূরণ চলেছিল ১ থেকে ৯ মার্চ। ২০২৭ সালের তারিখ বোর্ড আলাদা বিজ্ঞপ্তিতে জানাবে।
এইচএসসির ফরম পূরণ, নির্বাচনী পরীক্ষা আর প্রাইভেট রেজিস্ট্রেশনের বিজ্ঞপ্তি এই বোর্ডের নোটিশ অংশে আসে। নিজের বোর্ডের সাইটেও একই ধরনের বিজ্ঞপ্তি দেখুন।
এই লেখায়
১. এইচএসসি ফরম পূরণ ফি কত টাকা, কোন খাতে কত
ফরম পূরণের ফি দুই ভাগে ধরা হয়। একটা বোর্ড ফি, যার মধ্যে পরীক্ষার ফি, একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট আর সনদের ফি থাকে। আরেকটা কেন্দ্র ফি, যা দিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্র খাতা, ব্যবহারিক পরীক্ষা আর আনুষঙ্গিক খরচ চালায়। বিজ্ঞান শাখায় ব্যবহারিক বিষয় বেশি, তাই সেখানে কেন্দ্র ফিও বেশি।
| খাত (নিয়মিত পরীক্ষার্থী, ২০২৬) | বিজ্ঞান | মানবিক | ব্যবসায় শিক্ষা |
|---|---|---|---|
| বোর্ড ফি (চতুর্থ বিষয়সহ) | ২,১৪০ টাকা | ১,৯৪০ টাকা | ১,৯৪০ টাকা |
| ব্যবহারিক ফিসহ কেন্দ্র ফি | ৮৫৫ টাকা | ৪৯৫ টাকা | ৪৯৫ টাকা |
| মোট | ২,৯৯৫ টাকা | ২,৪৩৫ টাকা | ২,৪৩৫ টাকা |
মানবিক বা ব্যবসায় শিক্ষার কারও চতুর্থ বিষয়ে ব্যবহারিক থাকলে ওপরের হিসাবে আরও ১৪০ টাকা যোগ হয়। নৈর্বাচনিক কোনো বিষয়ে ব্যবহারিক থাকলে প্রতি বিষয়ে আরও ১৪০ টাকা। যেমন ভূগোল বা মনোবিজ্ঞানের মতো ব্যবহারিক বিষয় নিয়ে মানবিকে পড়লে মোট ফি ২,৪৩৫ টাকার চেয়ে বেশি হবে।
- বিলম্ব ফি: প্রতি পরীক্ষার্থী ১০০ টাকা।
- রেজিস্ট্রেশন নবায়ন ফি, যাঁদের লাগে: ২৫০ টাকা।
- অনিয়মিত পরীক্ষার্থীর জন্য অনিয়মিত ফি ১০০ টাকা, জিপিএ উন্নয়ন আর প্রাইভেট পরীক্ষার্থীর জন্য অনুমতি বা তালিকাভুক্তি ফি ১০০ টাকা আলাদা।
- বোর্ডের তালিকায় তত্ত্বীয় পরীক্ষার ফি প্রতি পত্র বা বিষয়ে ১২৫ টাকা, ব্যবহারিক প্রতি পত্রে ২৫ টাকা, ট্রান্সক্রিপ্ট ১০০ আর সনদ ১৫০ টাকা।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা আছে, কলেজ সর্বোচ্চ ২৪ মাসের টিউশন ফি নিতে পারবে, নির্ধারিত ফির অতিরিক্ত টাকা নেওয়া যাবে না। মডেল টেস্ট নেওয়া যায়, কিন্তু তা বাধ্যতামূলক নয় এবং এর জন্য আলাদা ফি নেওয়া যাবে না। অতিরিক্ত টাকা চাওয়া হলে বোর্ডকে জানাতে পারেন।
২. এইচএসসি টেস্ট পরীক্ষায় ফেল করলে কি হবে
বোর্ডের বিজ্ঞপ্তির প্রথম শর্তই হলো, শুধু বৈধ রেজিস্ট্রেশনধারী পরীক্ষার্থী ফরম পূরণ করতে পারবেন, আর ফরম পূরণ হয় কলেজের নির্বাচনী পরীক্ষার ফলের তালিকা থেকে। তাই টেস্টে অকৃতকার্য হলে সাধারণ নিয়মে সেই বছর ফরম পূরণের তালিকায় নাম ওঠে না। কলেজ কাকে নির্বাচিত করবে, সেই সিদ্ধান্ত কলেজের।
ব্যতিক্রম একটা আছে। সমাজসেবা অধিদপ্তরে নিবন্ধিত শারীরিক প্রতিবন্ধী, সেরিব্রাল পালসি বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার শর্তটি শিথিলযোগ্য। এমন হলে নিবন্ধনের কাগজ নিয়ে আগেভাগে কলেজের অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলুন।
রেজিস্ট্রেশন থাকলে পরের বছর আবার বসার সুযোগ থাকে, তখন আপনি অনিয়মিত পরীক্ষার্থী। অনিয়মিত হিসেবে তালিকাভুক্ত হতে কলেজের অধ্যক্ষ বরাবর সাদা কাগজে আবেদন করতে হয়, ২০২৬ সালে এর শেষ দিন ছিল ২৬ ফেব্রুয়ারি। কাজেই টেস্টে খারাপ হলে হাল ছেড়ে না দিয়ে কলেজ অফিসে নিজের নাম আর ফোন নম্বর রেখে আসুন।
৩. hsc form fill up কিভাবে হয়, ধাপগুলো
ফরম পূরণের অনলাইন কাজ (eFF) করে কলেজ, শিক্ষার্থী নিজে কোনো সাইটে ঢোকেন না। আপনার কাজ হলো সময়মতো কলেজে টাকা জমা দেওয়া আর তালিকায় নিজের তথ্য মিলিয়ে সই করা। ২০২৬ সালের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ধাপগুলো এমন:
- ১নির্বাচনী পরীক্ষার ফলকলেজ টেস্ট পরীক্ষা নিয়ে ফল প্রকাশ করে। ২০২৬ সালের জন্য শেষ সময় ছিল ২৬ ফেব্রুয়ারি।
- ২সম্ভাব্য তালিকা প্রকাশবোর্ড তার ওয়েবসাইটে রেজিস্ট্রেশনধারীদের সম্ভাব্য তালিকা (Probable list) দেয়। কলেজ EIIN ও পাসওয়ার্ড দিয়ে ঢুকে তালিকা থেকে উত্তীর্ণদের বাছাই করে।
- ৩পে-স্লিপে টাকা জমাকলেজ পে-স্লিপ প্রিন্ট করে সোনালী ব্যাংকের সোনালী সেবার মাধ্যমে বোর্ডের ফি জমা দেয়। নগদ টাকা, পে-অর্ডার বা মানি অর্ডারে বোর্ড ফি নেয় না।
- ৪চূড়ান্ত তালিকায় সইটাকা জমার পর চূড়ান্ত তালিকা প্রিন্ট হয়। সেখানে আপনার নাম, রেজিস্ট্রেশন নম্বর আর বিষয় মিলিয়ে সই করুন। একই নামের একাধিক শিক্ষার্থী থাকলে রেজিস্ট্রেশন নম্বর দেখে নিশ্চিত হন।
- ৫বিলম্ব হলেনির্ধারিত সময় পার হলে ১০০ টাকা বিলম্ব ফিসহ আরও কয়েক দিন সুযোগ থাকে। ২০২৬ সালে এই সময় ছিল ১১ থেকে ১৮ মার্চ, এবং বোর্ড আগেই জানিয়েছিল এরপর আর সময় বাড়বে না।
ফরম পূরণের সময় হাতে রাখুন
৪. hsc 2027 form fill up date: কবে হতে পারে
এইচএসসি ২০২৭-এর নির্বাচনী পরীক্ষা বা ফরম পূরণের তারিখ এখনো (২৪ অক্টোবর ২০২৬) কোনো বোর্ড জানায়নি। আগের বছরের ধারা দেখলে আন্দাজ পাওয়া যায়, তবে এটা নিশ্চিত তারিখ নয়।
| কাজ | এইচএসসি ২০২৬-এ যা হয়েছিল | এইচএসসি ২০২৭ |
|---|---|---|
| নির্বাচনী পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি | ১ ডিসেম্বর ২০২৫ | সম্ভাব্য ডিসেম্বর ২০২৬, বিজ্ঞপ্তি দেখুন |
| টেস্টের ফল প্রকাশের শেষ দিন | ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ঘোষণা হয়নি |
| বিলম্ব ফি ছাড়া ফরম পূরণ | ১ থেকে ৯ মার্চ ২০২৬ | ঘোষণা হয়নি |
| বিলম্ব ফিসহ | ১১ থেকে ১৮ মার্চ ২০২৬ | ঘোষণা হয়নি |
২০২৬ সালের জন্য ফি আগের বছরের চেয়ে বেড়েছিল। ২০২৭ সালে ফি একই থাকবে কি না, তা নতুন বিজ্ঞপ্তিতেই জানা যাবে। কলেজ যে অঙ্ক বলবে, তা বোর্ডের বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে মিলিয়ে নিন।
একই বিজ্ঞপ্তিতে জিপিএর হিসাবও দেওয়া থাকে: চতুর্থ বিষয়ের গ্রেড পয়েন্ট থেকে ২ বাদ দিয়ে বাকিটা মোট পয়েন্টে যোগ হয়। নিজের সম্ভাব্য জিপিএ হিসাব করতে সাইটের জিপিএ ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারেন।
৫. অনিয়মিত, জিপিএ উন্নয়ন আর এক বিষয়ে ফেল করা পরীক্ষার্থী
- আগের বছর এক বা দুই বিষয়ে (চতুর্থ বিষয় বাদে) অকৃতকার্য হলে রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ থাকা সাপেক্ষে শুধু সেই বিষয়ে বসা যায়। এই আংশিক পরীক্ষার্থীরা কখনো চতুর্থ বিষয়ের পরীক্ষা দিতে পারেন না।
- জিপিএ ৫-এর কম পেয়ে উত্তীর্ণ হলে ঠিক পরের বছর জিপিএ উন্নয়নের সুযোগ আছে, তবে তখন সব বিষয়ে পরীক্ষা দিতে হয়। অনিয়মিত হিসেবে পাস করলে এই সুযোগ নেই।
- রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে শুধু এক বিষয়ে অকৃতকার্যরা ২৫০ টাকা নবায়ন ফি দিয়ে একবারের জন্য বসতে পারেন। দুই বা তার বেশি বিষয়ে ফেল থাকলে নবায়ন হয় না।
ফেল করা বিষয়ে আবার বসার পুরো নিয়ম এইচএসসি ফেল করলে কী হয়, সেই লেখায় আলাদা করে আছে। আর যাঁদের নিয়মিত পড়াশোনার সুযোগ নেই, তাঁরা প্রাইভেট পরীক্ষার্থী হিসেবেও বসতে পারেন, যদি বোর্ডের শর্ত পূরণ করেন।
৬. অনেকে যা জানতে চান
hsc form fill up koto taka?
এইচএসসি টেস্ট পরীক্ষায় ফেল করলে কি ফরম পূরণ করা যায়?
ফরম পূরণের টাকা কি বিকাশে দেওয়া যায়?
এইচএসসি ২০২৭ ফরম পূরণ কবে?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২৪ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।