
সংক্ষেপে
স্টুডেন্ট পাসপোর্ট নামে আলাদা কোনো পাসপোর্ট বা ফি অধিদপ্তরের তালিকায় নেই। শিক্ষার্থীরাও সাধারণ ই-পাসপোর্টের আবেদন করেন, শুধু পেশার ঘরে ছাত্র বা ছাত্রী লেখেন। কাগজ ঠিক হয় বয়স দিয়ে: ১৮ বছরের নিচে অনলাইন জন্ম নিবন্ধনের ইংরেজি কপি আর মা বা বাবার NID, ২০ বছরের ওপরে নিজের NID।
১৮ বছরের কম বয়সীদের পাসপোর্ট হয় ৫ বছর মেয়াদি, ৪৮ পৃষ্ঠার। এর সাধারণ ফি ভ্যাটসহ ৪,০২৫ টাকা, ১৫ কর্মদিবসে দেওয়ার কথা। ২০২৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ই-পাসপোর্টে পুলিশ ভেরিফিকেশন লাগে না, তাই কাগজ ঠিক থাকলে সময় অনেকটা কম লাগে।
আবেদন, ফি জমা আর অ্যাপয়েন্টমেন্ট এই পোর্টাল থেকেই।
এই লেখায়
১. স্টুডেন্ট পাসপোর্ট আলাদা কিছু নয়, তাহলে সুবিধা কী
অনেকে ভাবেন শিক্ষার্থীদের জন্য কম খরচের বা বিশেষ সুবিধার কোনো পাসপোর্ট আছে। ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সিটিজেন চার্টারে ফি আর কাগজের যে তালিকা আছে, সেখানে শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা কোনো ধরন নেই। আপনি সাধারণ ই-পাসপোর্টই পাবেন।
তাই স্টুডেন্ট পাসপোর্ট এর সুবিধা বলতে আলাদা কিছু নেই। যা আছে তা হলো পাসপোর্টে পেশা হিসেবে ছাত্র লেখা থাকবে, যা বিদেশে পড়তে যাওয়ার ভিসা আবেদনে আপনার পরিচয়ের সঙ্গে মেলে। পড়াশোনা শেষে চাকরি নিলে পরের রি-ইস্যুতে পেশা বদলে নেওয়া যায়।
আগারগাঁও বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসের সিটিজেন চার্টারে লেখা আছে, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ঠিকানা বা পেশা সংক্রান্ত প্রমাণ লাগবে। শিক্ষার্থী হলে প্রতিষ্ঠানের আইডি কার্ড বা প্রত্যয়নপত্র সঙ্গে রাখলে এনরোলমেন্টের দিন প্রশ্ন উঠলে দেখাতে পারবেন।
২. ছাত্রদের পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে: বয়স অনুযায়ী কাগজ
| আবেদনকারীর বয়স | পরিচয়ের কাগজ | মেয়াদ ও পৃষ্ঠা |
|---|---|---|
| ১৮ বছরের নিচে (স্কুল বা কলেজ) | অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ (ইংরেজি সংস্করণ), সঙ্গে মা অথবা বাবার NID নম্বর | শুধু ৫ বছর, ৪৮ পৃষ্ঠা |
| ১৮ থেকে ২০ বছর | NID অথবা অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ | ৫ বা ১০ বছর, ৪৮ বা ৬৪ পৃষ্ঠা |
| ২০ বছরের ওপরে (বিশ্ববিদ্যালয়) | NID আবশ্যক | ৫ বা ১০ বছর, ৪৮ বা ৬৪ পৃষ্ঠা |
১৮ থেকে ২০ বছর বয়সীদের ব্যাপারে অধিদপ্তরের সিটিজেন চার্টারে NID বা জন্ম নিবন্ধন দুটোই চলার কথা আছে। আবার আগারগাঁও অফিসের সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর চার্টারে ১৮ বছরের ওপরে NID লেখা। তাই এই বয়সে NID হাতে পেয়ে গেলে NID দিয়েই আবেদন করুন, ঝামেলা কম।
এনরোলমেন্টের দিন সঙ্গে নেবেন
অধিদপ্তরের নির্দেশনায় পরিষ্কার বলা আছে, আবেদনে দেওয়া সব প্রমাণের মূল কপি দেখাতে হয়। ই-পাসপোর্টের ফরমে ছবি লাগানো বা কাগজ সত্যায়ন করার দরকার নেই, ছবি তোলা হয় অফিসেই। নামের বানান হুবহু জন্ম নিবন্ধন বা NID-র মতো লিখুন।
৩. স্টুডেন্ট পাসপোর্ট করতে কত টাকা লাগে
নিচের ফি আগারগাঁও বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসের সিটিজেন চার্টার থেকে নেওয়া, ১৫% ভ্যাটসহ। দেশের ভেতরে সব অফিসে একই সরকারি ফি প্রযোজ্য হওয়ার কথা।
| পৃষ্ঠা ও মেয়াদ | সাধারণ (১৫ কর্মদিবস) | জরুরি (৭ কর্মদিবস) | অতীব জরুরি (২ কর্মদিবস) |
|---|---|---|---|
| ৪৮ পৃষ্ঠা, ৫ বছর | ৪,০২৫ টাকা | ৬,৩২৫ টাকা | ৮,৬২৫ টাকা |
| ৪৮ পৃষ্ঠা, ১০ বছর | ৫,৭৫০ টাকা | ৮,০৫০ টাকা | ১০,৩৫০ টাকা |
| ৬৪ পৃষ্ঠা, ৫ বছর | ৬,৩২৫ টাকা | ৮,৬২৫ টাকা | ১২,০৭৫ টাকা |
| ৬৪ পৃষ্ঠা, ১০ বছর | ৮,০৫০ টাকা | ১০,৩৫০ টাকা | ১৩,৮০০ টাকা |
উদাহরণ: এইচএসসি পরীক্ষার্থী নাদিয়ার বয়স ১৭। তার জন্য একটাই পথ, ৪৮ পৃষ্ঠার ৫ বছর মেয়াদি পাসপোর্ট। সাধারণ ডেলিভারিতে খরচ ৪,০২৫ টাকা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ বছরের শিক্ষার্থী রাফি বিদেশে মাস্টার্সের পরিকল্পনা করলে ৪৮ পৃষ্ঠার ১০ বছর মেয়াদি নিতে পারেন, সাধারণ ফি ৫,৭৫০ টাকা।
৪. বানান, পরীক্ষার সনদ আর মা-বাবার তথ্য
অধিদপ্তরের নির্দেশনায় বলা আছে, আবেদন পূরণ করতে হবে NID অথবা অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদের ইংরেজি সংস্করণ অনুযায়ী। শিক্ষার্থীদের বেলায় এখানেই সবচেয়ে বেশি গোলমাল হয়, কারণ এসএসসির সনদে এক বানান আর জন্ম নিবন্ধনে আরেক বানান থাকে।
- পাসপোর্টে নাম যাবে জন্ম নিবন্ধন বা NID-র ইংরেজি বানানে। সনদের সঙ্গে না মিললে আগে জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করে নিন, পরে পাসপোর্ট।
- ১৮ বছরের নিচে যাদের NID নেই, তাদের আবেদনে মা অথবা বাবার NID নম্বর দেওয়া বাধ্যতামূলক। নম্বরটা আগে থেকে লিখে রাখুন।
- জন্ম নিবন্ধনে মা-বাবার নাম আর তাঁদের NID-র নাম এক না হলে এনরোলমেন্টে প্রশ্ন উঠতে পারে, তাই দুটো মিলিয়ে নিন।
- পরে NID হলে আর সেখানে নাম বা জন্মতারিখ অন্য রকম এলে পাসপোর্ট রি-ইস্যুতে ঝামেলা বাড়ে। শুরুতেই সব কাগজ এক বানানে আনুন।
৫. আবেদনের ধাপ: অনলাইন থেকে পাসপোর্ট হাতে
- ১পোর্টালে অ্যাকাউন্ট খুলুনই-পাসপোর্ট পোর্টালে নিজের ইমেইল দিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলুন। ১৮ বছরের নিচে হলে মা বা বাবার সাহায্যে ফরম পূরণ করুন।
- ২বর্তমান ঠিকানা অনুযায়ী অফিস বাছুনঅধিদপ্তরের চার্টার অনুযায়ী আপনি যে এলাকায় থাকেন, সেই এলাকার বিভাগীয় বা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে আবেদন হয়। হোস্টেল বা মেসে থাকলে ঠিকানার প্রমাণ নিয়ে অফিসে খোঁজ নিন।
- ৩পেশার ঘরে ছাত্র বা ছাত্রী লিখুননাম, জন্মতারিখ আর মা-বাবার নাম জন্ম নিবন্ধন বা NID-র সঙ্গে অক্ষরে অক্ষরে মিলিয়ে দিন।
- ৪ফি দিন, অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিনঅনলাইনে বা এ-চালানে ফি জমা দিয়ে এনরোলমেন্টের তারিখ বেছে নিন। পরীক্ষার সময়ের সঙ্গে তারিখ যেন না মেলে।
- ৫এনরোলমেন্ট আর ডেলিভারিনির্ধারিত দিনে কাগজ নিয়ে অফিসে যান, ছবি আর আঙুলের ছাপ দিন। পুলিশ ভেরিফিকেশন নেই। এরপর পোর্টালের স্ট্যাটাস অংশে আবেদনের অবস্থা দেখতে থাকুন।
ভর্তি বা ভিসার তারিখ কাছে হলে জরুরি বা অতীব জরুরি ডেলিভারি নিন। কর্মদিবস গোনা হয় এনরোলমেন্টের পর থেকে, আর তথ্যে ভুল থাকলে সময় বাড়ে।
৬. অনেকে যা জানতে চান
স্টুডেন্ট পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে?
স্টুডেন্ট পাসপোর্ট করতে কত টাকা লাগে?
১৮ বছরের কম বয়সী শিক্ষার্থী কি ১০ বছরের পাসপোর্ট নিতে পারবে?
স্টুডেন্ট পাসপোর্ট এর সুবিধা কী?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২১ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।