
সংক্ষেপে
পুরোনো MRP বা মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্ট থাকলে সাধারণত নতুন আবেদন নয়, রি-ইস্যুর ঘরগুলো পূরণ করতে হয়। আগের পাসপোর্টের নম্বর, ইস্যুর তথ্য, মেয়াদ আর ব্যক্তিগত তথ্য ঠিকমতো না দিলে আবেদন Backend Verification বা Rework-এ আটকে যেতে পারে।
এই লেখায়
নতুন আবেদন আর রি-ইস্যুর তফাত
আগে পাসপোর্ট করে থাকলে আপনার পরিচয়ের রেকর্ড পাসপোর্ট সিস্টেমে আগে থেকেই আছে। নতুন ই-পাসপোর্টের আবেদন সেই রেকর্ডের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়। তাই পুরোনো পাসপোর্টের কথা গোপন রাখলে আবেদনটাই ঝুঁকিতে পড়ে।
পুরোনো পাসপোর্টে নামের বানান অন্য রকম হলে
MRP-তে আপনার নামের বানান, জন্ম তারিখ বা বাবা-মায়ের নাম যদি NID থেকে আলাদা হয়, আগে ঠিক করুন কোনটা সঠিক। পুরোনো আর সংশোধিত তথ্যে ফারাক থাকলে আবেদন জমা দেওয়ার সময় তার প্রমাণ সঙ্গে রাখুন।
মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও আগের তথ্য লাগবে
মেয়াদ ফুরিয়ে গেছে বলে পুরোনো পাসপোর্টের তথ্য ফেলনা নয়। রি-ইস্যু আবেদনের সময় মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্টের নম্বর, বইয়ের তথ্য আর NID অনুযায়ী আপনার বর্তমান তথ্য হাতের কাছে রাখুন।
অফিসে যাওয়ার আগে যা গুছিয়ে নেবেন
অনলাইন আবেদনের কপি, অ্যাপয়েন্টমেন্ট বা ডেলিভারি স্লিপ, NID, পুরোনো পাসপোর্ট, আর জন্ম নিবন্ধন বা শিক্ষাসনদ লাগতে পারে। কোনো তথ্য বদলে থাকলে তার প্রমাণগুলো আলাদা একটি ফাইলে রাখুন।
আরও পড়ুন
- Pending Backend Verification কেন আসে, কী করবেন
- Rework স্ট্যাটাস এলে কী করবেন
- NID-তে নামের বানান ভুলে পাসপোর্ট আটকে গেলে
পোর্টালের প্রশ্নোত্তরে রি-ইস্যু নিয়ে যা বলা আছে
| অবস্থা | সরকারি নির্দেশনা |
|---|---|
| মেয়াদ শেষ হয়নি, আগেই নতুন চান | মেয়াদ শেষের আগে বা পরে যেকোনো সময় আগের পাসপোর্টের নম্বর উল্লেখ করে রি-ইস্যু করা যায়। |
| মেয়াদ অনেক আগে শেষ | মেয়াদ পার হওয়ার জন্য কোনো জরিমানা বা আলাদা ফি নেই। শুধু সরকার নির্ধারিত পাসপোর্ট ফি দিতে হয়। |
| পুরোনো পাসপোর্টের পর ঠিকানা বদলেছে | আবেদনে নতুন বর্তমান ঠিকানা লিখুন। সেই ঠিকানা দেখে পোর্টাল নিজেই অফিস ঠিক করে দেয়, আবেদন শুধু সেখানেই করা যায়। |
| পুরোনো MRP হাতে আছে | আবেদন জমার দিন, অর্থাৎ এনরোলমেন্টে, মূল পাসপোর্ট দেখাতে হয়। |
| পুরোনো MRP হারিয়ে গেছে | দ্রুত নিকটস্থ থানায় জিডি করুন। আবেদনের সময় পুরোনো পাসপোর্টের ফটোকপি আর জিডির কপি জমা দিন, মূল জিডিও দেখাতে হয়। |
পুরোনো পাসপোর্টের ফটোকপি না থাকলেও নম্বরটা কোথাও লেখা থাকতে পারে, যেমন পুরোনো ভিসার কপি, বিদেশে কাজের চুক্তি বা আগের কোনো আবেদনের কাগজে। আবেদন শুরুর আগে নম্বরটা খুঁজে বের করুন।
রি-ইস্যুর ফি আর কত দিনে হাতে পাবেন
পোর্টালের প্রশ্নোত্তরে বলা আছে, রি-ইস্যুতে শুধু সরকার নির্ধারিত ফি দিতে হয়। ফি পাতায় রি-ইস্যুর জন্য আলাদা কোনো হার নেই। সেই পাতায় (সর্বশেষ হালনাগাদ ১২ জুলাই ২০২৬) দেশের ভেতরে আবেদনের ফি ১৫% ভ্যাটসহ এরকম:
| পাসপোর্টের ধরন | রেগুলার | এক্সপ্রেস | সুপার এক্সপ্রেস |
|---|---|---|---|
| ৪৮ পৃষ্ঠা, ৫ বছর | ৪,০২৫ টাকা | ৬,৩২৫ টাকা | ৮,৬২৫ টাকা |
| ৪৮ পৃষ্ঠা, ১০ বছর | ৫,৭৫০ টাকা | ৮,০৫০ টাকা | ১০,৩৫০ টাকা |
| ৬৪ পৃষ্ঠা, ৫ বছর | ৬,৩২৫ টাকা | ৮,৬২৫ টাকা | ১২,০৭৫ টাকা |
| ৬৪ পৃষ্ঠা, ১০ বছর | ৮,০৫০ টাকা | ১০,৩৫০ টাকা | ১৩,৮০০ টাকা |
বায়োমেট্রিক এনরোলমেন্টের দিন থেকে রেগুলার পাসপোর্ট ১৫ কর্মদিবস বা ২১ দিনের মধ্যে, এক্সপ্রেস ৭ কর্মদিবস বা ১০ দিনের মধ্যে, সুপার এক্সপ্রেস ২ কর্মদিবসের মধ্যে দেওয়ার কথা। NOC বা PRL আদেশ থাকা সরকারি কর্মচারীরা রেগুলার ফিতে এক্সপ্রেস আর এক্সপ্রেস ফিতে সুপার এক্সপ্রেস সুবিধা পান। ফি দেওয়া যায় অনলাইনে এ-চালান, DGePay বা ShurjoPay দিয়ে, কিংবা যেকোনো ব্যাংকে গিয়ে এ-চালানে।
আবেদন আটকে গেলে পোর্টালে জানাবেন যেভাবে
- ১আগে স্ট্যাটাস দেখুনই-পাসপোর্ট পোর্টালের Check Status অংশে আবেদনের অবস্থা দেখে নিন, স্ক্রিনশট রাখুন।
- ২Contact ফরম পূরণ করুনপোর্টালের Contact পাতায় Application ID বা Online Registration ID, পুরো নাম আর ইমেইল দিন। সমস্যার ঘরে লিখুন আগের পাসপোর্টটি MRP ছিল, তার নম্বর কী, আর কোন তথ্যে গরমিল।
- ৩অফিসে গেলে ফাইলটা সঙ্গে নিনডেলিভারি স্লিপ, পুরোনো পাসপোর্ট বা জিডির কপি আর তথ্য বদলের প্রমাণ একসঙ্গে নিয়ে যে অফিসে এনরোলমেন্ট করেছেন সেখানে যান।
দরকারি সরকারি লিংক
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
ফি, সময়সীমা আর নিয়ম বদলাতে পারে। আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি পোর্টালে শেষবার মিলিয়ে নিন।