সংক্ষেপে
স্ট্যাটাসে "Pending Backend Verification" দেখালে বুঝবেন, আপনার আঙুলের ছাপ, ছবি ও চোখের মণির তথ্য পাসপোর্ট অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় সার্ভারে মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। মেলানো হয় আগের কোনো পাসপোর্ট (MRP বা e-Passport) আর জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) তথ্যের সঙ্গে। একই আঙুলের ছাপ আগে কোথাও পাওয়া গেলে, বা তথ্যে অমিল ধরা পড়লে, যাচাই সেখানেই থেমে যায়। তখন একজন কর্মকর্তাকে নিজে ফাইলটি দেখে সিদ্ধান্ত দিতে হয়।
আবেদন বা ডেলিভারি স্লিপের নম্বর দিয়ে ই-পাসপোর্ট পোর্টালে সরাসরি দেখে নিন।
এই লেখায়
১. কেন এই স্ট্যাটাস আসে
আঙুলের ছাপ দেওয়ার পর অনেকের আবেদনে এই স্ট্যাটাস দেখা যায়। সাধারণত পেছনে থাকে নিচের কোনো একটি কারণ।
- আঙুলের ছাপ আগে কোথাও পাওয়া গেছে: আগের কোনো মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (MRP) বা অন্য কোনো ই-পাসপোর্টের রেকর্ডের সঙ্গে আপনার আঙুলের ছাপ সামান্য মিলে গেলেও সিস্টেম একে ডুপ্লিকেট ধরে সতর্কসংকেত দেয়।
- আগের MRP পাসপোর্টের কথা লেখা হয়নি: আগে MRP পাসপোর্ট ছিল, অথচ e-Passport ফরমে সেটা না লিখে নতুন আবেদনকারী হিসেবে জমা দিয়েছেন। এমন হলে ডাটাবেজে পুরোনো রেকর্ডের সঙ্গে আঙুলের ছাপ মিলে যায়, আর আবেদন এখানেই আটকে থাকে।
- NID-এর সঙ্গে বড় অমিল: ফরমে লেখা আপনার নাম, বাবা-মায়ের নাম বা জন্ম তারিখ যদি NID ডাটাবেজের তথ্য থেকে অনেকটা আলাদা হয়, আবেদন থামিয়ে রাখা হয়।
- সার্ভারে আবেদনের চাপ: ঢাকার কেন্দ্রীয় প্রিন্টিং সার্ভারে একসঙ্গে অনেক আবেদন জমে গেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মিলিয়ে দেখার কাজও পিছিয়ে পড়ে। তখন আপনার দিক থেকে কোনো ভুল না থাকলেও ফাইল সারিতে অপেক্ষা করে।
২. কত দিন অপেক্ষা করবেন
তথ্যে গরমিল না থাকলে, আর আগের কোনো পাসপোর্টের কথা বাদ না দিয়ে থাকলে, সাধারণত ৭ থেকে ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে যাচাই নিজে থেকেই শেষ হয়। স্ট্যাটাস তখন বদলে "Approved" হয়ে যায়।
কিন্তু আগের MRP পাসপোর্টের কথা ফরমে না লিখে থাকলে, কিংবা তথ্যে বড় ফারাক থাকলে, বসে থেকে লাভ নেই। এ ধরনের আবেদন নিজে থেকে ছাড়া পায় না। আপনাকে নিজে আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে কর্মকর্তার সামনে বিষয়টি মেটাতে হবে, দরকার হলে জরিমানা বা ফি দিয়ে।
৩. অনেক দিন আটকে থাকলে যা করবেন
১৫ থেকে ২০ দিন পার হওয়ার পরও স্ট্যাটাস না বদলালে এভাবে এগোন।
-
১কাগজপত্র একটি ফাইলে গুছিয়ে নিন পাসপোর্ট অফিস থেকে পাওয়া মূল ডেলিভারি স্লিপ, মূল NID কার্ড আর তার ফটোকপি সঙ্গে রাখুন। আগে কোনো পাসপোর্ট (MRP বা e-Passport) থাকলে মূল পাসপোর্টটি এবং তার বায়োডাটা পাতার প্রিন্ট কপিও নিন।
-
২সহকারী পরিচালকের সঙ্গে দেখা করুন সকাল ৯টার দিকে আপনার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে পৌঁছে সরাসরি সহকারী পরিচালকের (AD, Assistant Director) কক্ষে যান। ডেলিভারি স্লিপ দেখিয়ে বলুন, আবেদনটি অনেক দিন ধরে ব্যাকএন্ড ভেরিফিকেশনে আটকে আছে।
-
৩ভুল ঠিক করা বা আগের পাসপোর্ট যুক্ত করা (Data Merge) আগের পাসপোর্ট পাওয়া গেলে কর্মকর্তা সাধারণত একটি 'Data Merge Application' ফরম পূরণ করতে দেন। পুরোনো পাসপোর্টের তথ্য নতুন আবেদনের সঙ্গে জুড়ে দেওয়ার অনুমোদন মিললে ফাইলটি আবার প্রিন্টের জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।
৪. পরের বার ঝামেলা এড়াতে
- আগের পাসপোর্টের মেয়াদ থাকুক বা না থাকুক, নতুন আবেদনে তার তথ্য দিন। না দিলে আবেদন দীর্ঘ সময় রিভিউতে পড়ে থাকতে পারে।
- আপনার আঙুলের ছাপ ও ছবি পাসপোর্টের ডাটাবেজে রেখে দেওয়া হয়। তাই আগের পাসপোর্টের কথা চেপে গিয়ে নতুন আবেদন করলে ব্যাকএন্ডে তা ধরা পড়েই।
- ব্যাকএন্ডের তথ্য বদলানো বা আবেদন ছেড়ে দেওয়ার কাজ শুধু পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তারাই করতে পারেন। তাই এ বিষয়ে অফিস যা বলে, সেটাই মেনে চলুন।
৫. প্রশ্ন ও উত্তর
আগের MRP পাসপোর্টের তথ্য না দেওয়ায় আটকে গেলে কি জরিমানা লাগে?
কোনো তথ্য লুকাইনি, তবু Pending Backend দেখাচ্ছে কেন?
ব্যাকএন্ড ভেরিফিকেশন পার হলে এরপর কোন স্ট্যাটাস আসে?
জেনে রাখুন: লেখাটি নাগরিক সেবা নিজ উদ্যোগে লিখেছে, যাতে সাধারণ মানুষ প্রক্রিয়াটা বুঝতে পারেন। ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। পাসপোর্ট অনুমোদন বা ব্যাকএন্ড যাচাইয়ের শেষ সিদ্ধান্ত পাসপোর্ট অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাই নেন।