
সংক্ষেপে
আগে পাসপোর্ট ছিল, কিন্তু নতুন আবেদনে সেটার কথা লেখেননি, বা অন্য নাম ও জন্মতারিখে আরেকটা পাসপোর্ট নিয়েছিলেন। এনরোলমেন্টে আঙুলের ছাপ পুরোনো রেকর্ডের সঙ্গে মিলে গেলে আবেদন আটকে যায়। ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের ফরম তালিকায় এ জন্য AFIS/ABIS Rejected আইডি যাচাই সংক্রান্ত অঙ্গীকারনামা আছে, যার শিরোনাম "অঘোষিত একাধিক পাসপোর্ট সংক্রান্ত"।
অঙ্গীকারনামায় আগের প্রতিটি পাসপোর্টের নম্বর, নাম, বাবা-মায়ের নাম, জন্মতারিখ আর জন্মস্থান ইংরেজি বড় হাতের অক্ষরে লিখতে হয়, পাশে NID বা জন্ম নিবন্ধন অনুযায়ী আসল তথ্য দিতে হয়। আগে তথ্য গোপনের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে সই ও টিপসই দিতে হয়। পূরণ করে নিজের আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে জমা দিন।
অঙ্গীকারনামার PDF এখান থেকে নামাতে পারবেন।
এই লেখায়
১. কেন ধরা পড়ে, আর কখন এই ফরম লাগে
ই-পাসপোর্টের এনরোলমেন্টে ছবি আর আঙুলের ছাপ নেওয়া হয়, আর তা পাসপোর্টের ডাটাবেজে থাকে। ফরমের নামের AFIS/ABIS অংশটিও এই আঙুলের ছাপ আর বায়োমেট্রিক মেলানোর ব্যবস্থাকেই বোঝায়। তাই নাম, জন্মতারিখ বা ঠিকানা বদলে নতুন আবেদন করলেও পুরোনো MRP বা হাতে লেখা পাসপোর্টের রেকর্ডের সঙ্গে মিলে যায়। ২০২৩ সালে ইত্তেফাক জানিয়েছিল, অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের ভাষায় নাম-ঠিকানা বদলে নতুন করে ই-পাসপোর্ট নেওয়ার সুযোগ নেই, এমন আবেদন ধরা পড়ছে।
- আগে MRP বা হাতে লেখা পাসপোর্ট ছিল, কিন্তু ফরমে "আগের পাসপোর্ট নেই" লিখেছেন।
- আগে এক নাম বা জন্মতারিখে পাসপোর্ট নিয়েছিলেন, এখন সংশোধিত NID দিয়ে অন্য তথ্যে আবেদন করেছেন।
- একসঙ্গে একাধিক সচল পাসপোর্ট আছে, যেগুলোর একটির কথাও আবেদনে নেই।
অধিদপ্তরের সাইটে "পাসপোর্টের তথ্য সংশোধনী অঙ্গীকারনামা" নামে আরেকটি ফরম আছে, সেটি NID অনুযায়ী তথ্য সংশোধনের জন্য। আগের পাসপোর্ট গোপন করার ক্ষেত্রে লাগে অঘোষিত একাধিক পাসপোর্টের অঙ্গীকারনামা। কোনটি লাগবে, অফিস জানিয়ে দেবে।
২. অঙ্গীকারনামায় কী কী লিখতে হয়
অধিদপ্তরের ফরমটি এক পাতার। চাঁদপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস ৩০ মার্চ ২০২৬ তারিখে একই ফরম নোটিশ হিসেবে প্রকাশ করেছে। ফরমে সব তথ্য ইংরেজিতে Capital Letter-এ লিখতে বলা আছে।
- শুরুতে নিজের নাম, বাবা ও মায়ের নাম, স্থায়ী ঠিকানা, পেশা, ধর্ম, জাতীয়তা আর NID নম্বর (অপ্রাপ্তবয়স্ক হলে জন্ম নিবন্ধন নম্বর), সঙ্গে আগে যে পাসপোর্ট নম্বরগুলো নিয়েছিলেন।
- "অঘোষিত পাসপোর্টের তথ্য" অংশে প্রতিটি পাসপোর্টের নম্বর, নাম, বাবার নাম, মায়ের নাম, জন্মতারিখ ও জন্মস্থান। ফরমে দুটির ঘর আছে, দুইয়ের বেশি হলে একই ছকে আলাদা পাতা জুড়তে হবে।
- পরের ছকে বাঁ পাশে সমর্পণ করা পাসপোর্টের তথ্য, ডান পাশে NID বা জন্ম নিবন্ধন অনুযায়ী আসল তথ্য।
- শেষে ঘোষণা: তথ্যগুলো NID বা জন্ম নিবন্ধন অনুযায়ী সঠিক, আগে পাসপোর্টের তথ্য গোপন করায় দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী, আর অসত্য তথ্যের দায় ব্যক্তিগতভাবে আপনার।
- তারিখ, সই আর টিপসই। আবেদনকারী অপ্রাপ্তবয়স্ক হলে অভিভাবকের সই।
অঙ্গীকারনামায় লেখা আছে, অসত্য তথ্য দিলে পরের আইনি জটিলতার দায় আপনার। তাই হারানো, মেয়াদোত্তীর্ণ, পুরোনো হাতে লেখা, সব পাসপোর্টের কথাই লিখুন।
৩. জমা দেওয়ার ধাপ
- ১ফরম নামিয়ে প্রিন্ট করুনইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটের ফরম তালিকা থেকে AFIS/ABIS Rejected আইডি যাচাই সংক্রান্ত অঙ্গীকারনামা নামান। আপনার আঞ্চলিক অফিসের সাইটেও থাকতে পারে।
- ২পুরোনো পাসপোর্টগুলো খুঁজে বের করুনপ্রতিটি পাসপোর্টের নম্বর আর তাতে লেখা তথ্য হুবহু তুলে দিতে হবে। মূল পাসপোর্ট হাতে থাকলে সঙ্গে নিন, রি-ইস্যুতে মূল পাসপোর্ট দেখানোর নিয়ম আছে।
- ৩হারিয়ে গিয়ে থাকলে জিডি করুনপোর্টালের নির্দেশনায় হারানো পাসপোর্টের ক্ষেত্রে মূল জিডির কপি দেখাতে বা জমা দিতে বলা আছে। নম্বর মনে না থাকলে অফিসকে জানান।
- ৪আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে জমা দিনপূরণ করা অঙ্গীকারনামা, মূল NID বা জন্ম নিবন্ধন, পুরোনো পাসপোর্ট আর আবেদনের প্রিন্ট সামারি নিয়ে যান। কর্মকর্তা যাচাই করে আবেদন এগিয়ে নেবেন।
- ৫স্ট্যাটাস দেখতে থাকুনজমার পর অনলাইনে আবেদনের অবস্থা দেখুন। অনেক দিন না নড়লে আবার অফিসে যোগাযোগ করুন বা পাসপোর্ট বাতায়ন ১৬৪৪৫-এ ফোন করুন।
অফিসে যাওয়ার আগে
৪. পরের বার আবেদন করার সময়
ই-পাসপোর্ট ফরমে আগের পাসপোর্ট আছে কি না, এই প্রশ্নে হাতে লেখা, MRP বা ই-পাসপোর্ট, যা-ই থাকুক, তার তথ্য দিন। মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও লিখুন। আর নাম বা জন্মতারিখ বদলাতে চাইলে নতুন আবেদন নয়, তথ্য সংশোধনসহ রি-ইস্যুর পথে যান, তাতে NID অনুযায়ী তথ্য ঠিক করা যায়।
পরিবারে শিশুদের পাসপোর্টেও একই কথা খাটে। শিশুর আগে কোনো পাসপোর্ট থাকলে রি-ইস্যুর ফরমে তার নম্বর দিন, আর আবেদনের দিন মূল পাসপোর্টটি সঙ্গে নিন।
৫. অনেকে যা জানতে চান
অঙ্গীকারনামা দিলে কি পাসপোর্ট পাওয়া যায়?
আগের পাসপোর্টের নম্বর মনে নেই, কী করব?
অঙ্গীকারনামা কোথায় জমা দেব, অনলাইনে হয়?
এ জন্য কি আলাদা ফি বা জরিমানা লাগে?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৮ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।