
সংক্ষেপে
পাসপোর্ট করতে বাবা মায়ের আইডি কার্ড লাগে কেবল তখন, যখন আবেদনকারীর বয়স ১৮ বছরের কম আর তার নিজের NID নেই। ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের নির্দেশনা বলছে, এমন আবেদনে পিতা অথবা মাতার NID নম্বর অবশ্যই দিতে হবে, অর্থাৎ যেকোনো একজনের হলেই চলে।
নিজের NID আছে এমন প্রাপ্তবয়স্কের কাগজের তালিকায় বাবা-মায়ের NID নেই। তবে ফরমে তাঁদের নাম লিখতে হয়, আর সেটি আপনার NID বা জন্ম নিবন্ধনের সঙ্গে হুবহু মেলা দরকার।
বয়স অনুযায়ী কোন পরিচয়পত্র লাগে আর অপ্রাপ্তবয়স্কের বাবা-মায়ের NID-র নিয়ম এই পাতায় লেখা।
এই লেখায়
১. পাসপোর্ট করতে কি বাবা মায়ের আইডি কার্ড লাগে
প্রশ্নটা সাধারণত দুই রকম পরিস্থিতিতে ওঠে। একদল প্রাপ্তবয়স্ক, যাঁদের বাবা-মা বেঁচে নেই বা যাঁদের কাছে বাবা-মায়ের কার্ড নেই। আরেকদল অভিভাবক, যাঁদের একজন প্রবাসে। দুই দলের উত্তর আলাদা।
| আবেদনকারী | বাবা-মায়ের NID লাগে কি | অধিদপ্তরের নির্দেশনায় যা আছে |
|---|---|---|
| ১৮ বছরের কম, নিজের NID নেই | হ্যাঁ, বাবা অথবা মায়ের যেকোনো একজনের | পিতা অথবা মাতার NID নম্বর অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে |
| ১৮ থেকে ২০ বছর, নিজের NID আছে | কাগজের তালিকায় নেই | নিজের NID অথবা অনলাইন জন্ম নিবন্ধন |
| ২০ বছরের বেশি | কাগজের তালিকায় নেই | নিজের NID আবশ্যক |
| সরকারি চাকরিজীবীর ১৫ বছরের কম সন্তান | হ্যাঁ | NOC, জন্ম নিবন্ধনের কপি আর পিতা বা মাতার NID |
ই-পাসপোর্ট পোর্টালের প্রশ্নোত্তরও একই কথা বলে: ১৮ বছরের কম আবেদনকারীর এনরোলমেন্টে জন্ম নিবন্ধন সনদ আর বাবা বা মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে আসতে হবে। আর অধিদপ্তরের নাগরিক সনদ বলছে, NID বা জন্ম নিবন্ধনের মূল কপি দেখানো বাধ্যতামূলক।
সরকারি চাকরিজীবীর সন্তানের ক্ষেত্রে নাগরিক সনদে একটু আলাদা তালিকা আছে। ১৫ বছরের কম বয়সী নির্ভরশীল সন্তানের জন্য লাগে ইস্যুকারী কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইটে থাকা অনাপত্তি সনদ, ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধনের কপি আর পিতা বা মাতার NID। অর্থাৎ এখানেও একজনের NID হলেই চলে।
২. বাবা বিদেশে থাকলে শিশুর পাসপোর্ট
বাবা সৌদি আরব, মালয়েশিয়া বা অন্য কোথাও আছেন, মা দেশে। এমন পরিবারে মায়ের NID দিয়েই শিশুর আবেদন করা যায়, কারণ নিয়মে লেখা পিতা অথবা মাতা। বাবাকে দেশে আসতে হবে বা তাঁর সই লাগবে, এমন কোনো শর্ত অধিদপ্তরের প্রকাশিত নির্দেশনা বা নাগরিক সনদে আমরা পাইনি।
আবেদন করবেন বর্তমান ঠিকানা যে আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের আওতায়, সেখানে। বাবা বিদেশে বলে মা আর শিশু যদি নানার বাড়িতে থাকেন, তবে সেই ঠিকানাই বর্তমান ঠিকানা।
একটা জিনিস আলাদা করে খেয়াল করুন। ই-পাসপোর্ট পোর্টালের প্রশ্নোত্তর অনুযায়ী ১৫ বছরের কম আবেদনকারীর ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের ছবি আবেদনের সঙ্গে দিতে হয়। বাবা বিদেশে থাকলে তাঁর একটি ছবি আগেই জোগাড় করে রাখুন। দুজনের ছবি না থাকলে কী করা হবে, তা প্রশ্নোত্তরে বলা নেই, তাই নিজের আঞ্চলিক অফিসে আগে জেনে নিন।
- ১শিশুর জন্ম নিবন্ধন মিলিয়ে নিনজন্ম নিবন্ধনের ইংরেজি সংস্করণে শিশুর নাম আর বাবা-মায়ের নামের বানান দেখুন। মায়ের NID-তে নাম যেভাবে, জন্ম নিবন্ধনেও সেভাবে থাকা দরকার।
- ২অনলাইনে আবেদন করুনফরমে মায়ের NID নম্বর দিন। বাবার তথ্যের ঘরে তাঁর নাম জন্ম নিবন্ধন অনুযায়ী লিখুন।
- ৩কাগজ গুছিয়ে নিনশিশুর অনলাইন জন্ম নিবন্ধনের মূল কপি, মায়ের মূল NID, ৬ বছরের কম হলে ৩আর মাপের ল্যাব প্রিন্ট ছবি, আর ১৫-র কম হলে বাবা-মায়ের ছবি।
- ৪মা শিশুকে নিয়ে অফিসে যাননির্ধারিত দিনে মা শিশুকে নিয়ে বর্তমান ঠিকানার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে যান।
৩. বাবা বা মা মারা গেলে, বা দুজনের কেউ নেই
একজন মারা গেলে জীবিত জনের NID দিয়েই নিয়মটা পূরণ হয়, কারণ লাগে একজনেরটা। ধরুন, খুলনার শাহানা পারভীনের স্বামী মারা গেছেন, ছেলের বয়স ১২। শাহানা নিজের NID দিয়ে ছেলের আবেদন করবেন। বাবার নামের ঘরে নাম থাকবে জন্ম নিবন্ধন অনুযায়ী।
বাবা-মা দুজনই না থাকলে, বা শিশু অন্যের কাছে বড় হচ্ছে, তখন বিষয়টা অভিভাবকত্বের। অধিদপ্তরের নির্দেশনা আর নাগরিক সনদ দুই জায়গাতেই লেখা আছে, দত্তক বা অভিভাবকত্ব গ্রহণের ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের জারি করা আদেশ আবেদনের সঙ্গে দিতে হবে।
বাবা-মা দুজনই মৃত, অথচ আইনি অভিভাবকত্বের আদেশ নেই, এমন শিশুর আবেদনে কোন বিকল্প কাগজ চলবে, তা প্রকাশিত নির্দেশনায় নেই। এমন ক্ষেত্রে আবেদনের আগে আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস বা পাসপোর্ট বাতায়ন ১৬৪৪৫-এ জেনে নিন।
৪. বাবা মায়ের nid-তে নামের বানান না মিললে
বাবা-মায়ের NID থাকলেও বানানের অমিলে আবেদন আটকে যেতে পারে। শিশুর জন্ম নিবন্ধনে মায়ের নাম এক রকম, মায়ের NID-তে আরেক রকম। অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী আবেদন পূরণ করতে হয় NID বা অনলাইন জন্ম নিবন্ধন অনুযায়ী, তাই অমিল থাকলে পাসপোর্টেও সেই অমিল ঢুকে যায়।
- আবেদনের আগে শিশুর জন্ম নিবন্ধন সনদ আর বাবা-মায়ের NID পাশাপাশি রেখে নামের প্রতিটি অক্ষর মিলিয়ে নিন।
- অমিল থাকলে যেটা ভুল, সেটা আগে সংশোধন করান। জন্ম নিবন্ধনের ভুল হলে নিবন্ধক কার্যালয়ে, NID-র ভুল হলে নির্বাচন অফিসে।
- প্রাপ্তবয়স্কের আবেদনে বাবা-মায়ের নাম লিখুন নিজের NID-তে যেভাবে আছে, অন্য কাগজ দেখে নয়।
ধরুন, সিলেটের মিজানুর রহমানের NID-তে মায়ের নাম লেখা হোসনে আরা বেগম, আর জন্ম নিবন্ধনে শুধু হোসনে আরা। তাঁর বয়স ২৬, তাই আবেদন হবে নিজের NID দিয়ে, আর ফরমে মায়ের নাম বসবে NID-তে যেভাবে আছে, সেভাবে। মায়ের NID কার্ড তাঁকে দেখাতে হবে না।
৫. দত্তক বা অভিভাবকের অধীনে থাকা শিশু
আদালত বা অন্য কোনো প্রক্রিয়ায় কেউ শিশুর অভিভাবক হলে পাসপোর্টের জন্য আলাদা আদেশ লাগে। নির্দেশনায় বলা আছে, দত্তক বা অভিভাবকত্ব গ্রহণের ক্ষেত্রে আবেদনের সঙ্গে সুরক্ষা সেবা বিভাগের আদেশ দাখিল করতে হবে। এই আদেশ পাওয়ার প্রক্রিয়া আর সময় অধিদপ্তরের পাতায় লেখা নেই, তাই সুরক্ষা সেবা বিভাগে বা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে খোঁজ নিন।
শিশুর বয়স ১৮-র কম হলে পাসপোর্টের মেয়াদ হবে ৫ বছর আর পাতা ৪৮, অধিদপ্তরের নির্দেশনায় তা আছে। আবেদন জমা হয় বর্তমান ঠিকানা যে অফিসের আওতায়, সেখানে।
৬. অনেকে যা জানতে চান
পাসপোর্ট করতে কি বাবা মায়ের আইডি কার্ড লাগে?
বাবা বিদেশে থাকলে শিশুর পাসপোর্ট কি মায়ের NID দিয়ে হবে?
passport korte baba mayer nid na thakle ki korbo?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২৬ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।