
সংক্ষেপে
চালু পাসপোর্টে, সেটা MRP হোক বা ই-পাসপোর্ট, তথ্য হালনাগাদের আলাদা কোনো ব্যবস্থা নেই। ঠিকানা বদলাতে চাইলে নতুন ঠিকানা দিয়ে রি-ইস্যুর আবেদন করতে হয়, ফি নতুন পাসপোর্টের মতোই। ৪৮ পৃষ্ঠা ৫ বছরের রেগুলার পাসপোর্টে ফি ৪,০২৫ টাকা।
তবে বাসা বদলেছেন বলেই পাসপোর্ট বদলাতে হবে, এমন কোনো নির্দেশনা ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরে আমরা পাইনি। সাধারণত নতুন ঠিকানা কাজে লাগে পরের রি-ইস্যুর সময়: বর্তমান ঠিকানা দেখেই ঠিক হয় কোন অফিসে আবেদন যাবে।
রি-ইস্যুর অনলাইন আবেদন, ঠিকানা লেখা আর ফি জমা এখান থেকেই শুরু হয়।
এই লেখায়
১. পাসপোর্ট ঠিকানা পরিবর্তন কি আলাদা করে করা যায়
না। বার্তা সংস্থা ইউএনবির ২০২৩ সালের একটি বিস্তারিত প্রতিবেদনে পরিষ্কার লেখা, বৈধ পাসপোর্টের তথ্য হালনাগাদের কোনো উপায় নেই, তা MRP হোক বা ই-পাসপোর্ট। নাম, পেশা, বৈবাহিক অবস্থা বা ঠিকানা, যেকোনো পরিবর্তনের জন্য নতুন করে পাসপোর্টের আবেদন করতে হয়। অনলাইনে আবেদন শুরু করে নির্ধারিত দিনে আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে যেতে হয়।
অর্থাৎ ঠিকানা বদল মানে রি-ইস্যু। ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আছে, রি-ইস্যুর সময় মূল পুরোনো পাসপোর্ট দেখাতে হবে। আবেদনে আগের পাসপোর্টের নম্বর আর তারিখও দিতে হয়।
তাই প্রথম প্রশ্নটা নিজেকে করুন: এখনই কি নতুন পাসপোর্ট দরকার? মেয়াদ অনেক বাকি থাকলে আর কোনো দূতাবাস বা নিয়োগকর্তা বর্তমান ঠিকানা মেলাতে না চাইলে অনেকে পরের রি-ইস্যু পর্যন্ত অপেক্ষা করেন। ঠিকানা বদলালেই পাসপোর্ট বদলানো বাধ্যতামূলক, এমন নির্দেশনা আমরা পাইনি।
২. বর্তমান ঠিকানা পরিবর্তন: কোন অফিসে আবেদন যাবে
বর্তমান ঠিকানার গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি, কারণ এটিই আপনার পাসপোর্ট অফিস ঠিক করে। অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী আবেদন জমা দিতে হয় বর্তমান ঠিকানা সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিস, আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস বা বিদেশের মিশনে। পোর্টাল প্রথম ধাপেই ঠিকানা জেনে নিয়ে অফিস বেছে দেয়।
ধরুন, তানিয়ার আগের পাসপোর্ট হয়েছিল রাজশাহী থেকে। এখন তিনি ঢাকার মিরপুরে চাকরি করেন আর সেখানেই থাকেন। রি-ইস্যুর আবেদনে বর্তমান ঠিকানা মিরপুর লিখলে আবেদন যাবে ঢাকার সংশ্লিষ্ট অফিসে, রাজশাহীতে যেতে হবে না।
বিদেশের মিশন থেকে আবেদন করলে স্থায়ী ঠিকানার ঘরে বাংলাদেশের যোগাযোগের ঠিকানা লিখতে বলেছে অধিদপ্তর। বর্তমান ঠিকানা হবে বিদেশের ঠিকানা, যা মিশন ঠিক করে দেয়।
৩. স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তন: আগে NID মিলিয়ে নিন
স্থায়ী ঠিকানা বদলানো একটু বেশি স্পর্শকাতর। ইউএনবির ২০২৩ সালের প্রতিবেদনে কাগজের তালিকায় লেখা ছিল, স্থায়ী ঠিকানা বদলাতে পুলিশ ভেরিফিকেশন সনদ লাগবে। পরে ২০২৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি সুরক্ষা সেবা বিভাগের পরিপত্রে পাসপোর্টে পুলিশ ভেরিফিকেশনের শর্ত শিথিল করা হয়। বিডিনিউজের খবর অনুযায়ী এখন নতুন আবেদনে অনলাইনে যাচাই করা NID-র তথ্যের ভিত্তিতে পাসপোর্ট দেওয়া হয়। পরিপত্রে ঠিকানা নিয়ে আলাদা কিছু বলা হয়নি।
তাই নিরাপদ পথ হলো, পাসপোর্টে যে স্থায়ী ঠিকানা লিখবেন, সেটা যেন NID-র সঙ্গে মেলে। NID-তে পুরোনো ঠিকানা থাকলে আগে সেখানে ঠিকানা সংশোধন বা ভোটার এলাকা স্থানান্তর করুন, তারপর পাসপোর্টের রি-ইস্যু। এতে যাচাইয়ের সময় অমিলের প্রশ্ন ওঠে না।
একই রি-ইস্যুতে যদি নাম, বাবা-মায়ের নাম, জন্ম তারিখ বা জন্মস্থানও বদলায়, তখন ওই পরিপত্রের আরেকটি লাইন কাজে লাগে। পুরোনো পাসপোর্টের সঙ্গে এসব মৌলিক তথ্যে অমিল থাকলে NID-তে দেওয়া তথ্য দিয়েই নতুন পাসপোর্ট ইস্যু করা যাবে। অর্থাৎ ঠিকানা হোক বা নাম, পাসপোর্ট এখন NID-কেই ভিত্তি ধরে। NID আগে ঠিক থাকলে পাসপোর্টের কাজ অনেক সহজে মেটে।
- NID-তে ঠিকানা আর পাসপোর্টের আবেদনে ঠিকানা এক রাখুন
- বাড়ির নম্বর, রোড, ডাকঘর আর পোস্ট কোড বানানসহ মিলিয়ে নিন
- বিয়ের পর স্বামী বা স্ত্রীর ঠিকানায় চলে গেলে আর NID-তে সেটা না থাকলে আগে NID হালনাগাদ করুন
৪. রি-ইস্যুতে নতুন ঠিকানা দেবেন যেভাবে
- ১পুরোনো পাসপোর্টের তথ্য হাতে নিনপাসপোর্ট নম্বর, ইস্যু আর মেয়াদ শেষের তারিখ লিখে রাখুন। আবেদনে আগের পাসপোর্টের ঘর ঠিকমতো পূরণ না করলে আবেদন আটকে যেতে পারে।
- ২ই-পাসপোর্ট পোর্টালে রি-ইস্যুর আবেদন শুরু করুনepassport.gov.bd-তে অ্যাকাউন্টে ঢুকে নতুন আবেদন শুরু করুন। প্রথমেই এখনকার বর্তমান ঠিকানার জেলা আর থানা দিন, এতে অফিস ঠিক হবে।
- ৩ঠিকানার ঘরগুলো NID অনুযায়ী পূরণ করুনবর্তমান আর স্থায়ী ঠিকানা আলাদা ঘরে লিখুন। স্থায়ী ঠিকানা NID-র সঙ্গে মেলান, বর্তমান ঠিকানা যেখানে থাকেন সেখানকার।
- ৪ফি দিয়ে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিনপাসপোর্টের পৃষ্ঠা, মেয়াদ আর ডেলিভারির ধরন বেছে ফি দিন। তারপর অফিসে যাওয়ার তারিখ নিন।
- ৫মূল কাগজ নিয়ে অফিসে যানমূল NID, পুরোনো পাসপোর্ট আর আবেদনের প্রিন্ট নিয়ে যান। সেখানে ছবি, আঙুলের ছাপ আর চোখের আইরিস নেওয়া হয়।
| পাসপোর্টের ধরন | রেগুলার | এক্সপ্রেস | সুপার এক্সপ্রেস |
|---|---|---|---|
| ৪৮ পৃষ্ঠা, ৫ বছর | ৪,০২৫ টাকা | ৬,৩২৫ টাকা | ৮,৬২৫ টাকা |
| ৪৮ পৃষ্ঠা, ১০ বছর | ৫,৭৫০ টাকা | ৮,০৫০ টাকা | ১০,৩৫০ টাকা |
| ৬৪ পৃষ্ঠা, ৫ বছর | ৬,৩২৫ টাকা | ৮,৬২৫ টাকা | ১২,০৭৫ টাকা |
| ৬৪ পৃষ্ঠা, ১০ বছর | ৮,০৫০ টাকা | ১০,৩৫০ টাকা | ১৩,৮০০ টাকা |
ফিগুলো দেশের ভেতরে আবেদনের, অধিদপ্তরের ফি পাতায় দেওয়া হার অনুযায়ী। রেগুলার পাসপোর্ট ২১ দিনের মধ্যে, এক্সপ্রেস ১০ দিনের মধ্যে আর সুপার এক্সপ্রেস ২ দিনের মধ্যে দেওয়ার কথা।
৫. অঙ্গীকারনামা লাগে কি
পাসপোর্ট ঠিকানা সংশোধন অঙ্গীকারনামা খুঁজে অনেকে দোকান থেকে ফরম কেনেন। অধিদপ্তরের ফরম পাতায় পাসপোর্টের তথ্য সংশোধনী অঙ্গীকারনামা আছে ঠিকই, কিন্তু সেটা খুললে দেখা যায় ঘর আছে শুধু চারটি: নিজের নাম, বাবার নাম, মায়ের নাম আর জন্ম তারিখ। সেখানে NID বা জন্ম সনদ অনুযায়ী সঠিক তথ্য লিখে অঙ্গীকার করতে হয়। ঠিকানার কোনো ঘর এই অঙ্গীকারনামায় নেই।
তাই শুধু ঠিকানা বদলের জন্য এই অঙ্গীকারনামা পূরণের দরকার পড়ার কথা নয়। নামের বানান বা জন্ম তারিখও একসঙ্গে বদলালে তখন এটি লাগবে। অফিস ভিন্ন কিছু চাইলে সেখানেই জেনে নিন, দালালের কাছে নয়।
৬. অনেকে যা জানতে চান
ই পাসপোর্ট স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তন করতে কি পুলিশ ভেরিফিকেশন লাগে?
পাসপোর্ট বর্তমান ঠিকানা পরিবর্তন করলে কোন অফিসে যেতে হবে?
পাসপোর্ট ঠিকানা পরিবর্তন করতে কত টাকা লাগে?
বাসা বদলালে কি পুরোনো পাসপোর্ট দিয়ে বিদেশ যাওয়া যাবে?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২২ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।