
সংক্ষেপে
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের পরিপত্র অনুযায়ী সরকারি কাজে বিদেশ গেলে সরকারি আদেশ (GO) দেখিয়ে বিনা ফিতে পাসপোর্ট দেওয়া হয়। ব্যক্তিগত কাজে বিদেশ যেতে লাগে GO অথবা কর্তৃপক্ষের অনাপত্তি সনদ (NOC), তখন নির্ধারিত ফি দিতে হয়। মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও কয়েকটি সাংবিধানিক বা সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের নবম ও ওপরের গ্রেডের স্থায়ী কর্মকর্তারা পান অফিসিয়াল পাসপোর্ট, অনেক ক্ষেত্রে বাকিরা সাধারণ পাসপোর্ট।
জারি করা GO ও NOC ইস্যুকারী দপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে। আবেদনের আগে নিজের দপ্তরের সাইটে আপনার GO বা NOC উঠেছে কি না দেখে নিন। পরিপত্রটি জারির দিন থেকেই কার্যকর।
আবেদন ফরম পূরণ, পাসপোর্টের ধরন বাছাই, ফি আর অ্যাপয়েন্টমেন্ট এই পোর্টালে।
এই লেখায়
১. কে অফিসিয়াল পাসপোর্ট পাবেন, কে সাধারণ
পরিপত্রটি জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহিরাগমন-৪ শাখা। ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর ২৫ সেপ্টেম্বর এটি নিজেদের নোটিশ পাতায় প্রকাশ করেছে। আগের সব পরিপত্র মিলিয়ে নতুন করে নিয়মগুলো এভাবে বলা হয়েছে:
| কারা | সরকারি কাজে বিদেশ | ব্যক্তিগত কাজে বিদেশ |
|---|---|---|
| মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, পরিদপ্তর ও অধস্তন অফিসের রাজস্বখাতভুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী | GO দিয়ে বিনা ফিতে অফিসিয়াল পাসপোর্ট | নবম ও ওপরের গ্রেডের স্থায়ী কর্মকর্তা: GO বা NOC আর নির্ধারিত ফিতে অফিসিয়াল পাসপোর্ট |
| জাতীয় সংসদ, সুপ্রিম কোর্ট, অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়, নির্বাচন কমিশন, দুদক, মহা-হিসাব নিরীক্ষকের কার্যালয়, পিএসসি ও বাংলাদেশ ব্যাংক | GO দিয়ে বিনা ফিতে অফিসিয়াল পাসপোর্ট | নবম ও ওপরের গ্রেডের স্থায়ী কর্মকর্তা: GO বা NOC আর নির্ধারিত ফিতে অফিসিয়াল পাসপোর্ট |
| স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্রায়ত্ত করপোরেশন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ও আইনে গঠিত কমিশনের নবম ও ওপরের গ্রেড | মন্ত্রণালয়ের GO দিয়ে বিনা ফিতে অফিসিয়াল পাসপোর্ট | GO বা NOC আর নির্ধারিত ফিতে সাধারণ পাসপোর্ট |
| উন্নয়ন প্রকল্পের অস্থায়ী কর্মী আর স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি | GO দিয়ে বিনা ফিতে | GO বা NOC আর নির্ধারিত ফিতে সাধারণ পাসপোর্ট |
| অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী | GO দিয়ে বিনা ফিতে | GO বা NOC আর নির্ধারিত ফিতে সাধারণ পাসপোর্ট |
শেষ দুই সারির ক্ষেত্রে পরিপত্রের বাক্যে পাসপোর্টের ধরন হিসেবে সাধারণ পাসপোর্টের কথা বলা হয়েছে। প্রথম দুই সারির নবম ও ওপরের গ্রেডের কর্মকর্তারা প্রাধিকার বহাল থাকা অবস্থায় শুধু অফিসিয়াল পাসপোর্ট পাবেন। তাঁদের কেউ সাধারণ পাসপোর্ট চাইলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমতি নিতে হবে।
২. GO আর NOC: কোনটি কখন, আর ওয়েবসাইটের শর্ত
সরকারি কাজে বিদেশে পাঠানো হলে কর্তৃপক্ষ সরকারি আদেশ বা GO জারি করে। ব্যক্তিগত কাজে যেতে চাইলে GO অথবা অনাপত্তি সনদ বা NOC, যেকোনো একটি দিয়ে আবেদন করা যায়। NOC মানে আপনার নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ লিখিতভাবে জানাচ্ছে যে আপনার পাসপোর্ট নেওয়ায় তাদের আপত্তি নেই।
পরিপত্রের ১৩ অনুচ্ছেদ বলছে, জারি করা GO ও NOC ইস্যুকারী কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে। এগুলোর সঠিকতা যাচাইয়ের জন্য প্রতিটি মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর ও সংস্থা একজন ফোকাল পয়েন্ট আর একজন বিকল্প ফোকাল পয়েন্ট ঠিক করবে। তাঁদের পদবি, ফোন আর ইমেইল যাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পাসপোর্ট অধিদপ্তর, স্পেশাল ব্রাঞ্চ আর বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে।
- ১দপ্তরে GO বা NOC চাননিজের দপ্তরের প্রশাসন শাখায় পাসপোর্টের জন্য আবেদন করুন। কোন ফরমে বা কার মাধ্যমে চাইতে হয়, তা দপ্তরভেদে আলাদা, তাই শাখা থেকে জেনে নিন।
- ২ওয়েবসাইটে উঠেছে কি না দেখুনকাগজ হাতে পেলেই কাজ শেষ নয়। দপ্তরের ওয়েবসাইটে আপনার GO বা NOC প্রকাশ হয়েছে কি না নিজে খুঁজে দেখুন। না উঠলে প্রশাসন শাখাকে আগে জানান।
- ৩অনলাইনে ফরম পূরণ করুনই-পাসপোর্ট পোর্টালে পেশার ঘরে সঠিক তথ্য দিন, আর নিয়ম অনুযায়ী পাসপোর্টের ধরন বাছুন, Official অথবা Ordinary।
- ৪এনরোলমেন্টের দিন কাগজ নিনছবি ও আঙুলের ছাপ দেওয়ার দিন NID-র সঙ্গে GO বা NOC-এর কপি রাখুন। ২০২৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পাসপোর্টে পুলিশ ভেরিফিকেশন লাগে না।
- ৫ফি দিনসরকারি কাজে GO থাকলে ফি লাগে না। ব্যক্তিগত কাজে নির্ধারিত ফি দিতে হয়, অঙ্কটি পোর্টালের ফি পাতায় পৃষ্ঠা, মেয়াদ আর ডেলিভারির ধরন বেছে মিলিয়ে নিন।
কিছু দপ্তর, যেমন জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর, পাসপোর্টের অনাপত্তি সনদ নিজের ওয়েবসাইটের নোটিশ অংশে কর্মচারীর নাম ও পদবিসহ প্রকাশ করে। আপনার দপ্তরের সাইটে এমন পাতা না থাকলে প্রশাসন শাখাকে পরিপত্রের ১৩ অনুচ্ছেদের কথা মনে করিয়ে দিন।
৩. জরুরি পাসপোর্ট লাগলে বাড়তি সুবিধা
পরিপত্রের ৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ব্যক্তিগত কাজে বিদেশ যেতে GO বা NOC থাকলে সাধারণ ফিতে জরুরি সেবা আর জরুরি ফিতে অতীব জরুরি সেবা পাওয়া যায়। পোর্টালের ভাষায় Regular ফি দিয়ে Express, আর Express ফি দিয়ে Super Express।
সরকারি সফরের দলে বেসরকারি কেউ থাকলে GO-এর ভিত্তিতে তাঁকেও একইভাবে সাধারণ ফিতে জরুরি আর জরুরি ফিতে অতীব জরুরি সেবায় সাধারণ পাসপোর্ট দেওয়া হয়।
৪. মেয়াদ, PRL আর পরিবারের সদস্য
- অফিসিয়াল পাসপোর্টের সর্বোচ্চ মেয়াদ ১০ বছর।
- পরিপত্রে লেখা আছে, নির্ধারিত মেয়াদ অথবা অবসরোত্তর ছুটি (PRL) শেষের তারিখ, এ দুটির মধ্যে যেটি পরবর্তীতে ঘটবে, সেই তারিখ পর্যন্ত অফিসিয়াল পাসপোর্ট দেওয়া হবে। নিজের পাসপোর্টে কোন তারিখ বসবে, পাসপোর্ট অফিস থেকে জেনে নিন।
- PRL চলাকালে চাইলে নিজের ইচ্ছায় অফিসিয়াল পাসপোর্ট বদলে সাধারণ পাসপোর্ট নেওয়া যায়।
- বিদেশে বাংলাদেশ মিশনে কর্মরত নন-ডিপ্লোম্যাটিক কর্মীর স্বামী বা স্ত্রী আর অনধিক ২৫ বছর বয়সী সন্তান বিনা ফিতে ৫ বছর মেয়াদি অফিসিয়াল পাসপোর্ট পান। স্বামী বা স্ত্রী সরকারি চাকরিজীবী হলে তাঁর কর্তৃপক্ষের NOC লাগে। কর্মকাল শেষে এই পাসপোর্ট জমা দিতে হয়।
চাকরিতে থেকে পেশার ঘরে অন্য কিছু লিখে আবেদন করলে পরে তথ্যের গরমিলে আবেদন আটকাতে পারে, চাকরিতেও ঝামেলা হতে পারে। যে নিয়মে আপনার যে পাসপোর্ট প্রাপ্য, সেভাবেই আবেদন করুন।
৫. অনেকে যা জানতে চান
নবম গ্রেডের নিচে চাকরি করলে কোন পাসপোর্ট পাব?
অফিসিয়াল পাসপোর্ট থেকে সাধারণ পাসপোর্ট করা যায়?
NOC দপ্তরের ওয়েবসাইটে না থাকলে কী হবে?
সরকারি চাকরিজীবীদের কি পুলিশ ভেরিফিকেশন লাগে?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৬ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।