ই-পাসপোর্ট

শুধু জন্ম নিবন্ধন দিয়ে পাসপোর্ট: কোন বয়সে চলে, কখন NID লাগবেই

সম্পাদনা: রিহাত খানপড়তে ৫ মিনিট

হালনাগাদ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬পাসপোর্ট হেল্পলাইন ১৬৪৪৫epassport.gov.bd
শুধু জন্ম নিবন্ধন দিয়ে পাসপোর্ট: কোন বয়সে চলে, কখন NID লাগবেই

সংক্ষেপে

হ্যাঁ, শুধু জন্ম নিবন্ধন দিয়ে ই-পাসপোর্ট করা যায়, তবে বয়স ২০ বছর পর্যন্ত। ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী ১৮ বছরের নিচে লাগে অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদের ইংরেজি সংস্করণ, ১৮ থেকে ২০ বছরে NID অথবা জন্ম নিবন্ধন যেকোনো একটি, আর ২০ বছরের ওপরে NID আবশ্যক।

একটা ব্যতিক্রম আছে: বিদেশের বাংলাদেশ মিশন থেকে আবেদন করলে ২০ বছরের বেশি বয়সেও জন্ম নিবন্ধন গ্রহণযোগ্য। দেশে থেকে বয়স ২০ পেরিয়ে গেলে আগে ভোটার হয়ে NID নিতে হবে, তারপর পাসপোর্টের আবেদন।

ই-পাসপোর্টের অনলাইন আবেদন

আবেদন ফরমে NID বা জন্ম নিবন্ধনের তথ্য হুবহু লিখতে হয়।

আবেদন করুন
এই লেখায়
  1. বয়স অনুযায়ী কোন কাগজ চলে
  2. বয়স ২০ পেরিয়ে গেছে, NID নেই
  3. জন্ম নিবন্ধন দিয়ে আবেদনের ধাপ
  4. মেয়াদ আর ফি
  5. পরে NID হলে যা মিলিয়ে রাখবেন
  6. অনেকে যা জানতে চান

১. বয়স অনুযায়ী কোন কাগজ চলে

ই-পাসপোর্ট পোর্টালের নির্দেশাবলির ৬ নম্বর পয়েন্টে বয়স ধরে নিয়মটা লেখা আছে। এখানে জন্ম নিবন্ধন মানে কাগজের পুরোনো সনদ নয়, অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ, ইংরেজি সংস্করণসহ (BRC English Version)।

আবেদনকারীর বয়সযা দাখিল করতে হবেখেয়াল রাখুন
১৮ বছরের নিচেঅনলাইন জন্ম নিবন্ধন, ইংরেজি সংস্করণNID না থাকলে বাবা বা মায়ের NID নম্বর দিতেই হবে
১৮ থেকে ২০ বছরNID অথবা অনলাইন জন্ম নিবন্ধনযেটা দেবেন, ফরম সেটার সঙ্গে হুবহু মেলাতে হবে
২০ বছরের বেশি, দেশে আবেদনNID আবশ্যকজন্ম নিবন্ধন একা চলবে না
২০ বছরের বেশি, বিদেশের মিশনে আবেদনNID, না থাকলে অনলাইন জন্ম নিবন্ধননিজের মিশনের পাতায় বাকি কাগজ দেখে নিন

নির্দেশনার ৪ নম্বর পয়েন্টে বলা আছে, আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে NID অথবা জন্ম নিবন্ধন অনুযায়ী। মানে নামের বানান, জন্মতারিখ, বাবা-মায়ের নাম যেভাবে সনদে আছে, ফরমেও ঠিক সেভাবে লিখবেন। মুখে যে বানান বলেন বা স্কুলের খাতায় যা আছে, তা নয়।

২. বয়স ২০ পেরিয়ে গেছে, NID নেই

দেশ থেকে আবেদন করলে এই অবস্থায় জন্ম নিবন্ধন দিয়ে পাসপোর্টের পথ বন্ধ। আগে নতুন ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করে NID নিতে হবে। নির্বাচন কমিশনের পোর্টালে নতুন নিবন্ধনের আবেদন অনলাইনে শুরু হয়, তারপর উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে ছবি আর আঙুলের ছাপ দিতে হয়। NID নম্বর পেলে অনলাইন কপি দিয়েই পাসপোর্টের আবেদন করা যায়।

অনেকে ভাবেন, বয়স একটু কমিয়ে লিখে জন্ম নিবন্ধনে আবেদন করে দেবেন। এটা করবেন না। পাসপোর্ট ফরমের তথ্য সনদের সঙ্গে মেলানো হয়, আর পরে NID-তে আসল জন্মতারিখ এলে দুই কাগজে গরমিল তৈরি হয়। তখন পাসপোর্ট সংশোধনে আলাদা ঝামেলা পোহাতে হয়।

বিদেশে থাকলে নিয়ম আলাদা

নির্দেশাবলির ৬(গ) অনুযায়ী বিদেশের বাংলাদেশ মিশন থেকে আবেদন করলে ২০ বছরের বেশি বয়সেও অনলাইন জন্ম নিবন্ধনের ইংরেজি সংস্করণ গ্রহণযোগ্য। তবে মিশনভেদে বাড়তি কাগজ চাইতে পারে, তাই আবেদনের আগে নিজের দূতাবাস বা হাইকমিশনের নির্দেশনা পড়ে নিন।

৩. জন্ম নিবন্ধন দিয়ে আবেদনের ধাপ

শুরুর আগে সবচেয়ে বেশি আটকায় একটা জায়গায়: জন্ম নিবন্ধনে ইংরেজি অংশ নেই। পুরোনো অনেক সনদ শুধু বাংলায়। রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের প্রশ্নোত্তর অনুযায়ী পরে ইংরেজি যোগ করাও সংশোধন হিসেবে গণ্য হয়, তাই যে কার্যালয়ে নিবন্ধন হয়েছিল সেখানে সংশোধনের আবেদন করে আগে ইংরেজি অংশ যোগ করিয়ে নিন। সংশোধন শেষ না হওয়া পর্যন্ত পাসপোর্টের ফি জমা দেবেন না।

  • ১
    জন্ম নিবন্ধন যাচাই করুনঅনলাইনে যাচাই করে দেখুন সনদটি ১৭ ডিজিটের, আর নাম ও বাবা-মায়ের নাম ইংরেজিতেও আছে। ইংরেজি অংশ না থাকলে আগে সেটি যোগ করিয়ে নিন।
  • ২
    পোর্টালে অ্যাকাউন্ট খুলুনepassport.gov.bd-তে ইমেইল দিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলুন। পোর্টালের প্রশ্নোত্তর অনুযায়ী অনলাইন আবেদনে ইমেইল ঠিকানা লাগবেই।
  • ৩
    ফরমে জন্ম নিবন্ধনের তথ্য দিনফরমে জন্ম নিবন্ধন নম্বর আর নাম, জন্মতারিখ, বাবা-মায়ের নাম সনদে যেভাবে আছে সেভাবে লিখুন। ১৮ বছরের নিচে হলে বাবা বা মায়ের NID নম্বর দিন।
  • ৪
    ফি দিন, অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিনঅনলাইনে বা ব্যাংকে এ-চালানে ফি জমা দিন, তারপর পাসপোর্ট অফিসে ছবি আর আঙুলের ছাপ দেওয়ার তারিখ বেছে নিন।
  • ৫
    এনরোলমেন্টে মূল কাগজ দেখাননির্দেশনার ১৮ নম্বর পয়েন্ট অনুযায়ী আবেদনের দিন মূল জন্ম নিবন্ধন সনদ দেখাতে বা দাখিল করতে হয়।

এনরোলমেন্টের দিন সঙ্গে রাখুন

৪. মেয়াদ আর ফি

নির্দেশনার ১০ নম্বর পয়েন্টে বলা আছে, ১৮ বছরের নিচের সব আবেদনে পাসপোর্টের মেয়াদ হবে ৫ বছর, ৪৮ পৃষ্ঠা। ১৮ পূর্ণ হলে এই বাধা নেই, তখন ফি তালিকা অনুযায়ী ৫ বা ১০ বছর, ৪৮ বা ৬৪ পৃষ্ঠা বেছে নেওয়া যায়। কাগজ জন্ম নিবন্ধন হলেও ফি একই।

দেশে আবেদন, ভ্যাটসহনিয়মিত (১৫ কর্মদিবস)জরুরি (৭ কর্মদিবস)অতীব জরুরি (২ কর্মদিবস)
৪৮ পৃষ্ঠা, ৫ বছর৪,০২৫ টাকা৬,৩২৫ টাকা৮,৬২৫ টাকা
৪৮ পৃষ্ঠা, ১০ বছর৫,৭৫০ টাকা৮,০৫০ টাকা১০,৩৫০ টাকা
৬৪ পৃষ্ঠা, ৫ বছর৬,৩২৫ টাকা৮,৬২৫ টাকা১২,০৭৫ টাকা
৬৪ পৃষ্ঠা, ১০ বছর৮,০৫০ টাকা১০,৩৫০ টাকা১৩,৮০০ টাকা

দিনের হিসাব শুরু হয় বায়োমেট্রিক এনরোলমেন্টের দিন থেকে, অনলাইন আবেদনের দিন থেকে নয়। ফি বদলাতে পারে, তাই জমা দেওয়ার আগে পোর্টালের ফি পাতাটা একবার দেখে নিন।

৫. পরে NID হলে যা মিলিয়ে রাখবেন

১৮ থেকে ২০ বছর বয়সে জন্ম নিবন্ধন দিয়ে পাসপোর্ট নিলেন, পরে ভোটার হলেন। তখন NID-র তথ্য যেন জন্ম নিবন্ধন আর পাসপোর্টের সঙ্গে মেলে, সেদিকে খেয়াল রাখুন। ভোটার নিবন্ধনের সময় একই বানান আর একই জন্মতারিখ দিন। তিন কাগজে তথ্য এক থাকলে পরের রি-ইস্যুতে নতুন করে কিছু প্রমাণ করতে হয় না।

দুই কাগজে দুই রকম তথ্য দেবেন না

NID থাকা অবস্থায় সেটা গোপন করে জন্ম নিবন্ধন দিয়ে আলাদা তথ্যে আবেদন করলে আঙুলের ছাপ মিলিয়ে তা ধরা পড়ে। ১৮ থেকে ২০ বছরে NID থাকলে সেটা দেওয়াই নিরাপদ।

৬. অনেকে যা জানতে চান

বয়স ২২, NID নেই। জন্ম নিবন্ধন দিয়ে দেশ থেকে আবেদন করা যাবে?
না। নির্দেশাবলি অনুযায়ী ২০ বছরের বেশি বয়সে দেশে আবেদন করলে NID আবশ্যক। আগে ভোটার হয়ে NID নিন। বিদেশের মিশনে আবেদন করলে জন্ম নিবন্ধন চলে।
হাতে লেখা পুরোনো জন্ম সনদ দিয়ে কি হবে?
নির্দেশনায় চাওয়া হয়েছে অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ, ইংরেজি সংস্করণসহ। হাতে লেখা সনদ থাকলে আগে যে কার্যালয়ে নিবন্ধন হয়েছিল, সেখান থেকে অনলাইন ১৭ ডিজিটের সনদ করিয়ে নিন।
জন্ম নিবন্ধন দিয়ে পাসপোর্ট করতে কি বাড়তি টাকা লাগে?
না। ফি নির্ভর করে পৃষ্ঠা, মেয়াদ আর ডেলিভারির ধরনের ওপর, পরিচয়ের কাগজের ওপর নয়। দেশে সবচেয়ে কম ফি ৪৮ পৃষ্ঠা ৫ বছরের নিয়মিত পাসপোর্টে, ৪,০২৫ টাকা।
১৯ বছর বয়সে জন্ম নিবন্ধন দিয়ে ১০ বছরের পাসপোর্ট নেওয়া যাবে?
৫ বছরের সীমা শুধু ১৮ বছরের নিচের আবেদনে। ১৮ পূর্ণ হলে ফি তালিকা অনুযায়ী ১০ বছরের মেয়াদও বেছে নেওয়া যায়।

এরপর পড়তে পারেন

যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি

জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৮ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।

সরকারি সাইট

আরও পড়ুন

এ বিষয়ে আরও লেখা

সব লেখা
পাসপোর্ট

পুরোনো MRP থেকে ই-পাসপোর্ট রি-ইস্যু করবেন যেভাবে

আগের MRP বা মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্ট থাকলে সাধারণত নতুন নয়, রি-ইস্যু আবেদন করতে হয়। পুরোনো পাসপোর্টের তথ্য কীভাবে দেবেন, অফিসে কী কাগজ নেবেন।
পাসপোর্ট

পাসপোর্টে পুলিশ ভেরিফিকেশন আর নেই: এখন কোন কাগজ মিলিয়ে রাখবেন

পাসপোর্টে পুলিশ ভেরিফিকেশন উঠে গেছে। এখন NID আর জন্ম নিবন্ধনের কোন তথ্য মিলিয়ে রাখলে আবেদন আটকায় না, আঙুলের ছাপের দিন কী কাগজ নেবেন।

অনেকে খোঁজেন