ই-পাসপোর্ট

দ্বৈত নাগরিকত্ব সনদ: অনলাইনে আবেদন, ফি, কাগজ আর পাসপোর্টে কখন লাগে

সম্পাদনা: রিহাত খানপড়তে ৬ মিনিট

হালনাগাদ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬পাসপোর্ট হেল্পলাইন ১৬৪৪৫epassport.gov.bd
দ্বৈত নাগরিকত্ব সনদ: অনলাইনে আবেদন, ফি, কাগজ আর পাসপোর্টে কখন লাগে

সংক্ষেপে

দ্বৈত নাগরিকত্ব সনদের আবেদন এখন শুধু অনলাইনে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা ছাড়পত্র পোর্টালে (scs.ssd.gov.bd)। ২০২৫ সালের ১৬ মে থেকে বিদেশের মিশন বা মন্ত্রণালয় কাগজে আবেদন নেয় না। নিজের জিমেইল দিয়ে লগইন করে ফরম পূরণ, কাগজের PDF আপলোড আর অনলাইনে ফি দিলেই আবেদন জমা হয়।

মন্ত্রণালয়ের নির্দেশিকা অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকে আবেদনের ফি ১০,০০০ টাকা, বিদেশ থেকে ৮৪ মার্কিন ডলার, ভ্যাট, কর আর লেনদেন চার্জ আলাদা। অনুমোদন হলে QR কোডসহ ডিজিটাল সনদ একই জিমেইল অ্যাকাউন্ট থেকে নামানো যায়।

দ্বৈত নাগরিকত্বের অনলাইন আবেদন

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পোর্টালে Dual Citizenship অংশ থেকে আবেদন ও অবস্থা দেখা যায়।

পোর্টাল খুলুন
এই লেখায়
  1. কাদের লাগে, আর কোন দেশের নাগরিকত্বে
  2. অনলাইন আবেদনের ধাপ
  3. বিদেশে জন্ম নেওয়া সন্তানের জন্য আবেদন
  4. ফি কত, কীভাবে দেবেন
  5. কত দিন লাগে, সনদ পাবেন কোথায়
  6. বাংলাদেশি পাসপোর্টের সঙ্গে সম্পর্ক
  7. অনেকে যা জানতে চান

১. কাদের লাগে, আর কোন দেশের নাগরিকত্বে

যে বাংলাদেশি অন্য দেশের নাগরিকত্ব নিয়েছেন, তিনি বাংলাদেশি নাগরিকত্ব বহাল রাখার প্রমাণ হিসেবে এই সনদ নেন। সব দেশের নাগরিকত্বে এ সুযোগ নেই। দ্য ডেইলি স্টারের ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারির প্রতিবেদন অনুযায়ী মন্ত্রিসভা তখন আরও ৪৪টি দেশ যোগ করার প্রস্তাব অনুমোদন করে, ফলে মোট ১০১টি দেশ এ সুবিধার আওতায় আসে। নতুন তালিকায় ছিল আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা আর ক্যারিবীয় অঞ্চলের বেশ কিছু দেশ।

আপনার নতুন দেশটি তালিকায় আছে কি না, তা পোর্টালের নির্দেশিকায় আলাদা করে লেখা নেই। আবেদনের আগে নিজের দেশের বাংলাদেশ মিশনের পাতায় বা মন্ত্রণালয়ের সহায়তা ইমেইলে নিশ্চিত হয়ে নিন। তালিকার বাইরের দেশ হলে আবেদন নাকচ হতে পারে, আর তখন ফি ফেরত পাওয়া যায় না।

২. অনলাইন আবেদনের ধাপ

পোর্টালের পরিচিতি পাতা অনুযায়ী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২০২৩ সালের ৩০ এপ্রিল থেকে এই অনলাইন ব্যবস্থায় দ্বৈত নাগরিকত্বের ডিজিটাল সনদ দিচ্ছে। ২০২৫ সালের মে থেকে কাগজের আবেদন পুরোপুরি বন্ধ। পোর্টালের নোটিশ অংশে মাঝে মাঝে রক্ষণাবেক্ষণের সময় জানানো হয়, যেমন ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ এক ঘণ্টা নতুন আবেদন না করার অনুরোধ ছিল। আবেদনের আগে নোটিশটা একবার দেখে নিন।

  • ১
    পোর্টালে Dual Citizenship বেছে নিনscs.ssd.gov.bd খুলে Dual Citizenship বক্সে আগে নির্দেশিকা নামিয়ে পড়ুন, তারপর Apply Now চাপুন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটের দ্বৈত নাগরিকত্ব সেবা বক্স থেকেও একই আবেদনে যাওয়া যায়।
  • ২
    নিজের জিমেইলে লগইন করুনপোর্টালে ঢুকতে ব্যক্তিগত জিমেইল লাগে। প্রশ্নোত্তর অনুযায়ী একাধিক আবেদন করতে চাইলে প্রতিটির জন্য আলাদা জিমেইল লাগবে, যেমন পরিবারের প্রত্যেকের জন্য আলাদা।
  • ৩
    পাঁচটি ট্যাব পূরণ করুনBasic Information, Address Information, Passport Information, Attached and Declaration, Payment Information। তারকা চিহ্নিত ঘর বাধ্যতামূলক। প্রতিটি ট্যাব শেষে next চাপুন।
  • ৪
    কাগজের PDF আপলোড করুননিচের তালিকার কাগজগুলো PDF করে দিন। বিদেশি পাসপোর্ট আর বাংলাদেশি কাগজে নাম ও জন্মতারিখ মিলছে কি না, জমার আগে আরেকবার দেখুন।
  • ৫
    ফি দিয়ে জমা দিনPayment Information ট্যাবে Pay Now চাপুন। যোগাযোগ নম্বরের ঘরে প্লাস চিহ্নসহ বা ছাড়া অন্তত ১১ সংখ্যার নম্বর লিখতে হয়। ফি জমা হলে আবেদন দাখিল সম্পন্ন হয়।

যে কাগজের PDF লাগবে

৩. বিদেশে জন্ম নেওয়া সন্তানের জন্য আবেদন

অনেক পরিবার সন্তানের জন্যও সনদ নিতে চান, যার জন্ম বিদেশে আর কোনো বাংলাদেশি কাগজ নেই। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশিকায় বাংলাদেশি কাগজের ঘরে নিজের জন্ম নিবন্ধন, পাসপোর্ট বা NID-র পাশাপাশি বাবা-মায়ের পাসপোর্ট বা NID দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। সঙ্গে দিতে হয় বিদেশের জন্ম নিবন্ধন বা নাগরিকত্ব সনদ।

লন্ডন হাইকমিশনের নির্দেশনাও একই রকম: বাংলাদেশে জন্ম হয়নি আর বাংলাদেশি পাসপোর্ট, NID বা জন্ম নিবন্ধন নেই, এমন আবেদনকারী বিদেশের জন্মসনদ দিতে পারেন, যেখানে বাবা-মায়ের নাম আছে, সঙ্গে অন্তত বাবা বা মায়ের একজনের বাংলাদেশি কাগজ। মনে রাখবেন, প্রতিটি সন্তানের আবেদনের জন্য আলাদা জিমেইল লাগবে।

৪. ফি কত, কীভাবে দেবেন

কোথা থেকে আবেদনফিযেভাবে দেওয়া যায়
বাংলাদেশ থেকে১০,০০০ টাকাভিসা, মাস্টার, অ্যামেক্স, নেক্সাস কার্ড, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, বিকাশ, রকেট, নগদসহ মোবাইল ব্যাংকিং
বিদেশ থেকে৮৪ মার্কিন ডলারভিসা, মাস্টার বা অ্যামেক্স কার্ড

দুই ক্ষেত্রেই ভ্যাট, কর আর লেনদেন চার্জ এই অঙ্কের বাইরে। নির্দেশিকায় পরিষ্কার লেখা আছে, ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্যের কারণে আবেদন প্রত্যাখ্যাত (Declined) হলে ফি ফেরত দেওয়া হয় না। তাই টাকা দেওয়ার আগে প্রতিটি ঘর আর প্রতিটি PDF মিলিয়ে নিন।

বিদেশে থাকলে স্ট্যাম্প নিয়ে চিন্তা

লন্ডনের বাংলাদেশ হাইকমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী বিদেশ থেকে আবেদনকারীদের নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প লাগে না, হলফনামা যেকোনো নোটারি পাবলিক দিয়ে নোটারি করালেই চলে। অন্য দেশে থাকলে নিজের মিশনের নির্দেশনা দেখে নিন।

৫. কত দিন লাগে, সনদ পাবেন কোথায়

জমা দেওয়ার পর পোর্টালের Already Applied বোতাম চেপে একই জিমেইলে লগইন করলে আবেদনের সর্বশেষ অবস্থা দেখা যায়। অনুমোদন হলে সেখান থেকেই ডিজিটাল সনদ ডাউনলোড করা যায়। ইউএনবির খবর অনুযায়ী অনুমোদনের পর QR কোডসহ ডিজিটাল সনদ ইমেইলেও পাঠানো হয়।

সময়ের ব্যাপারে মন্ত্রণালয় নির্দিষ্ট দিন বলেনি। লন্ডন হাইকমিশন তাদের পাতায় জানিয়েছে, পুরো প্রক্রিয়ায় ৩ থেকে ৬ মাস লাগতে পারে। তাই জরুরি ভ্রমণের আগে আবেদন ফেলে রাখবেন না।

কারিগরি সমস্যায় মন্ত্রণালয়ের সহায়তা পাওয়া যায় রবি থেকে বৃহস্পতিবার, সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা, ইমেইল sa2@moha.gov.bd। সরকারি ছুটির দিনে সহায়তা বন্ধ থাকে।

৬. বাংলাদেশি পাসপোর্টের সঙ্গে সম্পর্ক

বিদেশি নাগরিকত্ব নেওয়ার পর বাংলাদেশি পাসপোর্ট নবায়ন করতে দ্বৈত নাগরিকত্ব সনদ লাগবে কি না, তা মিশনভেদে আলাদা। লন্ডন হাইকমিশনের পাতায় বলা আছে, যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব নেওয়ার আগে যাঁদের বাংলাদেশি পাসপোর্ট ছিল, আর বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত দ্বিতীয় বা তৃতীয় প্রজন্মের ব্রিটিশ নাগরিক, তাঁদের বাংলাদেশি পাসপোর্টের জন্য এই সনদ লাগে না। তবে বাংলাদেশি উৎসের প্রমাণ দেখাতে হয়।

অন্য দেশের মিশন অন্য রকম চাইতে পারে। যেমন যুক্তরাষ্ট্রে থাকলে নিউইয়র্ক কনস্যুলেট বা ওয়াশিংটন দূতাবাসের পাসপোর্ট পাতায় কী লেখা, তা মিলিয়ে নিন। সন্দেহ থাকলে আবেদনের আগে মিশনে ইমেইল করে জেনে নিন, কারণ ভুল কাগজ নিয়ে গেলে এনরোলমেন্টের দিন ফিরে আসতে হয়।

৭. অনেকে যা জানতে চান

বিদেশের দূতাবাসে গিয়ে কাগজে আবেদন করা যায়?
না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের বরাতে ইউএনবি জানিয়েছিল, ২০২৫ সালের ১৫ মে থেকে মিশন বা মন্ত্রণালয় হার্ডকপি আবেদন নেয় না। ১৬ মে থেকে সব আবেদন অনলাইনে।
পরিবারের চারজনের জন্য কি এক অ্যাকাউন্ট থেকে আবেদন করা যাবে?
না। পোর্টালের প্রশ্নোত্তর অনুযায়ী একাধিক আবেদনের জন্য প্রতিটিতে আলাদা জিমেইল লাগবে।
সনদের PDF হারিয়ে গেলে আবার পাব কীভাবে?
নির্দেশিকা অনুযায়ী আবেদন অনুমোদিত হলে পোর্টালের Already Applied বোতাম থেকে ডিজিটাল সনদ ডাউনলোড করা যায়। যে জিমেইল দিয়ে আবেদন করেছিলেন, সেটা দিয়েই লগইন করুন। তাই ওই জিমেইলের পাসওয়ার্ড হারাবেন না।
আবেদন নাকচ হলে টাকা ফেরত পাব?
ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্যের কারণে নাকচ হলে নির্দেশিকা অনুযায়ী ফি ফেরত দেওয়া হয় না। নতুন করে আবেদন করলে আবার ফি দিতে হবে।

এরপর পড়তে পারেন

যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি

জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৮ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।

সরকারি সাইট

আরও পড়ুন

এ বিষয়ে আরও লেখা

সব লেখা
পাসপোর্ট

পুরোনো MRP থেকে ই-পাসপোর্ট রি-ইস্যু করবেন যেভাবে

আগের MRP বা মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্ট থাকলে সাধারণত নতুন নয়, রি-ইস্যু আবেদন করতে হয়। পুরোনো পাসপোর্টের তথ্য কীভাবে দেবেন, অফিসে কী কাগজ নেবেন।
পাসপোর্ট

পাসপোর্টে পুলিশ ভেরিফিকেশন আর নেই: এখন কোন কাগজ মিলিয়ে রাখবেন

পাসপোর্টে পুলিশ ভেরিফিকেশন উঠে গেছে। এখন NID আর জন্ম নিবন্ধনের কোন তথ্য মিলিয়ে রাখলে আবেদন আটকায় না, আঙুলের ছাপের দিন কী কাগজ নেবেন।

অনেকে খোঁজেন