
সংক্ষেপে
পাসপোর্টের নাম, বাবা-মায়ের নাম বা জন্মতারিখ আলাদা কোনো সংশোধন আবেদনে বদলায় না। তথ্য বদলে নতুন পাসপোর্টের জন্য রি-ইস্যুর আবেদন করতে হয়। সুরক্ষা সেবা বিভাগের ২০২২ সালের ১৩ ডিসেম্বরের পরিপত্র অনুযায়ী জাতীয় পরিচয়পত্র আর পাসপোর্টের তথ্যে গরমিল থাকলে NID-র তথ্য অনুযায়ী পাসপোর্ট রি-ইস্যু হয়। অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে দেখা হয় জন্ম নিবন্ধন সনদ।
সংশোধনের জন্য লিখিত আবেদনের সঙ্গে অধিদপ্তরের নমুনা অনুযায়ী একটি অঙ্গীকারনামা পূরণ করে সই দিয়ে জমা দিতে হয়। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে তথ্য বদলানো রি-ইস্যুতেও পুলিশ ভেরিফিকেশন লাগে না।
NID অনুযায়ী সঠিক তথ্য দিয়ে এখানেই রি-ইস্যুর আবেদন করবেন।
এই লেখায়
১. পাসপোর্ট সংশোধন করার নিয়ম: মূল কথা
সুরক্ষা সেবা বিভাগের পরিপত্রের বিষয় ছিল, পাসপোর্টে দেওয়া তথ্য সংশোধন করে দেশে ও বিদেশে রি-ইস্যুর আবেদন নিষ্পত্তি। ২০২২ সালের ১৩ ডিসেম্বরের এই পরিপত্রে আগের তিনটি পরিপত্র বাতিল করা হয়, আর এখনো এটি অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটের পাসপোর্টের তথ্য সংশোধন অংশে রাখা আছে।
- NID আর পাসপোর্টের তথ্যে গরমিল হলে NID-তে থাকা নাম, বাবা-মায়ের নাম, বয়স ইত্যাদি অনুযায়ী পাসপোর্ট রি-ইস্যু হবে।
- অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে জন্ম নিবন্ধন সনদ বিবেচনা হবে। প্রয়োজনে জেএসসি, জেডিসি, এসএসসি, দাখিল, কারিগরি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় বা সমমানের যেকোনো একটি সনদও দেখা হতে পারে।
- সংশোধনের জন্য লিখিত আবেদন করতে হবে, সঙ্গে অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট বা পাসপোর্ট অফিসে রাখা নমুনা অনুযায়ী অঙ্গীকারনামা।
২০২৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারির পরিপত্রে পুলিশ ভেরিফিকেশন তুলে দেওয়ার সময় বলা হয়েছে, রি-ইস্যুতে মৌলিক তথ্য বদলালে আবেদনকারীর NID-র তথ্য দিয়েই পাসপোর্ট দেওয়া হবে। অর্থাৎ পাসপোর্টে যা চান, তা আগে NID-তে থাকতে হবে।
২. আগে NID বা জন্ম নিবন্ধন ঠিক আছে কি না দেখুন
ধরুন পুরোনো পাসপোর্টে আপনার নাম MD RAHIM, আর NID-তে MOHAMMAD RAHIM। রি-ইস্যুতে NID-র বানানই নেওয়া হবে। কিন্তু আপনি যদি পাসপোর্টে তৃতীয় কোনো বানান চান যা NID-তে নেই, তাহলে আগে NID সংশোধন করাতে হবে। জন্মতারিখের ক্ষেত্রেও একই কথা।
ই-পাসপোর্ট পোর্টালের আবেদন ফরমে NID বা জন্ম নিবন্ধনের তথ্যের সঙ্গে আপনার দেওয়া তথ্যের একটি তুলনামূলক ছক দেখায়। পোর্টালের নির্দেশনা অনুযায়ী গরমিল থাকলেও আবেদন এগোনো যায়, তবে এনরোলমেন্টের দিন আপনার দেওয়া তথ্যের পক্ষে প্রামাণিক কাগজ দেখাতে হবে। গরমিল যত বেশি, আবেদন আটকে যাওয়ার ঝুঁকিও তত বেশি।
৩. পাসপোর্ট সংশোধন করতে কি কি কাগজ লাগে
এনরোলমেন্টের দিন সঙ্গে নিন
অঙ্গীকারনামার ফরমটি অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে পাসপোর্টের তথ্য সংশোধনী অঙ্গীকারনামা নামে ফরম অংশে আছে। প্রিন্ট করে নিজের হাতে পূরণ করুন, যে তথ্য বদলাচ্ছেন তা আর কেন বদলাচ্ছেন পরিষ্কার লিখে সই দিন।
৪. অনলাইনে রি-ইস্যুর আবেদন: ধাপগুলো
- ১পোর্টালে লগইন করুনepassport.gov.bd-তে নিজের অ্যাকাউন্টে ঢুকে নতুন আবেদন শুরু করুন। Do you have any previous passports প্রশ্নে হ্যাঁ বেছে নিন।
- ২আগের পাসপোর্টের তথ্য দিনপুরোনো পাসপোর্টের নম্বর আর ইস্যুর তারিখ দিন। Reissue Reason ঘরে তথ্য বদলানোর জন্য DATA CHANGE বেছে নিন।
- ৩NID অনুযায়ী নতুন তথ্য লিখুননাম, বাবা-মায়ের নাম আর জন্মতারিখ NID-তে যেমন আছে তেমনই লিখুন। তুলনার ছকে গরমিল দেখালে আবার মিলিয়ে নিন।
- ৪ফি দিন আর অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিনপৃষ্ঠা, মেয়াদ আর ডেলিভারি বেছে ফি দিন, তারপর পাসপোর্ট অফিসে আঙুলের ছাপ ও ছবির দিন ঠিক করুন।
- ৫কাগজ নিয়ে এনরোলমেন্টে যানআবেদনের প্রিন্ট, পুরোনো পাসপোর্ট, NID, অঙ্গীকারনামা আর সংশোধনের পক্ষের কাগজ নিয়ে নির্ধারিত দিনে অফিসে যান।
৫. ই পাসপোর্ট সংশোধন ফি
সংশোধন হয় রি-ইস্যুর আবেদনে, তাই ফিও রি-ইস্যুর মতো, নির্ভর করে পৃষ্ঠা, মেয়াদ আর ডেলিভারির ওপর। দেশের আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে আবেদনের জন্য অধিদপ্তরের ফি তালিকা:
| পাসপোর্ট | রেগুলার (২১ দিন) | এক্সপ্রেস (১০ দিন) | সুপার এক্সপ্রেস (২ দিন) |
|---|---|---|---|
| ৪৮ পৃষ্ঠা, ৫ বছর | ৪,০২৫ টাকা | ৬,৩২৫ টাকা | ৮,৬২৫ টাকা |
| ৪৮ পৃষ্ঠা, ১০ বছর | ৫,৭৫০ টাকা | ৮,০৫০ টাকা | ১০,৩৫০ টাকা |
| ৬৪ পৃষ্ঠা, ৫ বছর | ৬,৩২৫ টাকা | ৮,৬২৫ টাকা | ১২,০৭৫ টাকা |
| ৬৪ পৃষ্ঠা, ১০ বছর | ৮,০৫০ টাকা | ১০,৩৫০ টাকা | ১৩,৮০০ টাকা |
সংশোধনের জন্য আলাদা কোনো সরকারি ফি অধিদপ্তরের তালিকায় নেই। কেউ সংশোধন করিয়ে দেওয়ার নামে বাড়তি টাকা চাইলে বুঝবেন সেটি সরকারি ফি নয়।
৬. যেসব ক্ষেত্রে সংশোধন আটকে যায়
- হারানো পাসপোর্টের বদলে রি-ইস্যুর সময় নাম, জন্মতারিখ ও বাবা-মায়ের নাম পুরো বদলানো যায় না। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের পরিপত্রে এটি স্পষ্ট করা হয়েছে, বৈধ সংশোধন আলাদাভাবে বিবেচনা হবে।
- NID-র তথ্য আর জমা দেওয়া সনদে বড় অমিল থাকলে আবেদন রিওয়ার্ক বা যাচাইয়ে আটকে যেতে পারে।
- জন্মতারিখ বদলে বয়স অনেক কমানো বা বাড়ানো হলে অফিস বাড়তি প্রমাণ চাইতে পারে। এমন হলে আগে NID সংশোধন শেষ করুন।
ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের পাসপোর্ট বাতায়ন ১৬৪৪৫, হেল্প ডেস্ক ০১৭৩৩৩৯৩৩৯৯। আবেদন কোথায় আটকে আছে জানতে আবেদনের নম্বর হাতে রেখে ফোন করুন।
৭. অনেকে যা জানতে চান
পাসপোর্ট সংশোধন অঙ্গীকারনামা কোথায় পাব?
e passport name correction-এ কি পুলিশ ভেরিফিকেশন লাগে?
পাসপোর্টে জন্মতারিখ একরকম, NID-তে আরেক রকম হলে কোনটি থাকবে?
বিয়ের পর পাসপোর্টে স্বামীর নাম যোগ করতে কী লাগে?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৬ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।