
সংক্ষেপে
অনলাইনে জমা দেওয়া ই-পাসপোর্ট আবেদন নিজে থেকে মুছে ফেলার বোতাম নেই। বাতিল করতে হলে যে আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে আবেদন করেছেন, সেখানকার সহকারী উপপরিচালক বরাবর লিখিত দরখাস্ত দিতে হয়। সঙ্গে লাগে আবেদনের OID নম্বর আর অ্যাপ্লিকেশন সামারির প্রিন্ট। বাতিল হলে পোর্টালে Delete অপশন আসে।
ফি দিয়ে ফেলেছেন? দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী বাতিলের সঙ্গে টাকা বাতিল হয় না। একই চালান বা ব্যাংক রসিদ দিয়ে নতুন আবেদন করা যায়, তবে মেয়াদ, পৃষ্ঠা আর ডেলিভারির ধরন আগের মতো রাখতে হয়। নতুন আবেদন না করলে টাকা ফেরত পাওয়া যায় না।
বাতিলের দরখাস্তের পর আবেদনের স্ট্যাটাস এখানে মিলিয়ে নিন।
এই লেখায়
১. আগে বুঝুন: সংশোধন, না পাসপোর্ট আবেদন বাতিল
ভুল ধরা পড়লেই বাতিলের দিকে ছুটবেন না। কখন কী করতে হবে, তা নির্ভর করে আবেদনটা আপনি সাবমিট করেছেন কি না, আর ভুলটা কত বড়, তার ওপর।
| অবস্থা | যা করবেন |
|---|---|
| আবেদন এখনো সাবমিট করেননি | নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে যতবার ইচ্ছা ঠিক করুন, খসড়া হিসেবে রেখেও দিতে পারেন |
| সাবমিট করেছেন, ভুলটা ছোট | এনরোলমেন্টের দিন অফিসে গিয়ে অপারেটরকে জানান, ছোট বানান ভুল সেখানেই ঠিক করা যেতে পারে |
| সাবমিট করেছেন, বড় ভুল | অফিস আবেদন না-ও নিতে পারে, তখন বাতিল করে নতুন আবেদন |
সাবমিট করার পরও অফিসে না যাওয়া পর্যন্ত ছবি আর আঙুলের ছাপ নেওয়া হয় না। তাই ভুলটা এনরোলমেন্টের আগে ধরা পড়লে আপনার হাতে সময় আছে। এনরোলমেন্টের পরে ধরা পড়লে বিষয়টা আর বাতিলের মধ্যে থাকে না, তখন পাসপোর্ট হাতে পেয়ে সংশোধন বা রি-ইস্যুর নিয়মে যেতে হয়।
বড় ভুল বলতে বোঝায় নাম, জন্মতারিখ, বাবা-মায়ের নামের মতো তথ্য, যা আপনার NID বা জন্ম নিবন্ধনের সঙ্গে মিলছে না। এসব নিয়ে আবেদন এগোলে পরে ব্যাকএন্ড ভেরিফিকেশনে আটকে যেতে পারে। তাই এ ধরনের ভুলে ই পাসপোর্ট অনলাইন আবেদন ভুল সংশোধনের চেয়ে নতুন করে শুরু করাই নিরাপদ।
২. ই পাসপোর্ট আবেদন বাতিল করার নিয়ম: ধাপগুলো
২০২২ সালের ডিসেম্বরে দ্য ডেইলি স্টার পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তাদের বরাতে যে পদ্ধতি জানিয়েছিল, তা এমন।
- ১অ্যাপ্লিকেশন সামারি প্রিন্ট করুনপোর্টালে লগইন করে আবেদনের সারসংক্ষেপ, মানে অ্যাপ্লিকেশন সামারি প্রিন্ট করে নিন। এতে OID নম্বর থাকে।
- ২দরখাস্ত লিখুনআঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী উপপরিচালক বরাবর সাদা কাগজে আবেদন লিখুন। নাম, বাবা ও মায়ের নাম, আবেদনের তারিখ আর OID নম্বর দিন।
- ৩নিজে গিয়ে জমা দিনযে অফিস আবেদনে বেছে নিয়েছিলেন, সেখানে সশরীরে গিয়ে দরখাস্ত আর সামারির প্রিন্ট একসঙ্গে জমা দিন।
- ৪এসএমএস আর স্ট্যাটাস দেখুনজমার দিনই মোবাইলে এসএমএস আসার কথা। পরে পোর্টালে আবেদনের অবস্থা বাতিল দেখালে Delete চাপলে আবেদনটি অ্যাকাউন্ট থেকে সরে যায়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী বাতিল হতে সাধারণত ২৪ ঘণ্টা, কারিগরি কারণে কখনো ৭ দিন পর্যন্ত লাগে। এর মধ্যে বারবার নতুন আবেদন খোলার চেষ্টা করবেন না। মুছে ফেলার পরও কয়েক দিন সার্ভারে নতুন আবেদন আটকে থাকতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে।
দরখাস্ত জমার সময় একটা ফটোকপি রেখে তাতে রিসিভ সিল নিয়ে নিন। সাত দিন পেরিয়েও স্ট্যাটাস না বদলালে ওই কপি দেখিয়ে অফিসে খোঁজ নেওয়া সহজ হয়।
৩. পাসপোর্ট আবেদন বাতিলের আবেদন: দরখাস্তে কী লিখবেন
ই পাসপোর্ট আবেদন বাতিল করার দরখাস্ত pdf অনেকে খোঁজেন। অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে এর জন্য আলাদা কোনো ছাপানো ফরম আমরা পাইনি। সাদা কাগজে হাতে লেখা বা কম্পিউটারে টাইপ করা দরখাস্তই যথেষ্ট, যদি তথ্যগুলো ঠিক থাকে।
দরখাস্তে যা থাকবে
একটা উদাহরণ: সজীব উত্তরা অফিসে আবেদন করে দেখলেন মায়ের নাম NID-র বানানে নয়, স্কুলের সনদের বানানে লিখেছেন। এনরোলমেন্টের আগেই তিনি বাতিলের দরখাস্ত দিলেন, কারণ লিখলেন মায়ের নামের বানান NID-র সঙ্গে মেলে না। বাতিলের পর একই চালান দিয়ে সঠিক বানানে নতুন আবেদন করলেন।
৪. ফি দিয়ে ফেললে টাকার কী হয়
এটাই সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা। দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন বলছে, ফি দেওয়ার পর ভুল ধরা পড়লেও একই পদ্ধতিতে বাতিল করতে হয়, কিন্তু তাতে টাকা বাতিল হয় না।
- নতুন আবেদনে আগের ব্যাংক রসিদ বা চালানটাই ব্যবহার করা যায়।
- শর্ত হলো, নতুন আবেদনে মেয়াদ, পৃষ্ঠাসংখ্যা আর ডেলিভারির ধরন আগের আবেদনের মতো রাখতে হবে।
- চালানের মেয়াদ ৬ মাস, এর পরে নতুন করে ফি দিতে হয়।
- বাতিলের পর নতুন আবেদন না করলে আগের টাকা ফেরত পাওয়া যায় না।
আগে সাধারণ ফি দিয়ে এখন জরুরি বা ১০ বছর থেকে ৫ বছরে যেতে চাইলে পুরোনো চালান খাটবে কি না, তা অফিসে বা ১৬৪৪৫ হটলাইনে জিজ্ঞেস না করে নতুন আবেদন সাবমিট করবেন না।
৫. বাতিল না করলে কী হয়: ৬ মাসের নিয়ম
অনেকে আবেদন করে আর অফিসে যান না। প্রতিবেদন অনুযায়ী অনলাইনে জমার পর ফি দেওয়ার জন্য আর ছবি ও আঙুলের ছাপ দিতে যাওয়ার জন্য ২০০ কার্যদিবস বা ৬ মাস সময় থাকে। এর মধ্যে কিছু না করলে আবেদনটি অফিস আর সার্ভার থেকে নিজে থেকেই সরে যায়।
তাই কোনো তাড়া না থাকলে বাতিলের দরখাস্ত ছাড়াই ৬ মাস অপেক্ষা করা যায়। কিন্তু তাড়াতাড়ি নতুন আবেদন দরকার হলে দরখাস্ত দিন, তাতে সাধারণত এক দিনে, কারিগরি সমস্যা থাকলে ৭ দিনের মধ্যে আবেদন সরানো হয়।
এই নিয়মগুলো ২০২২ সালের প্রতিবেদনের। সময়সীমা বা পদ্ধতি বদলেছে কি না, অফিসে যাওয়ার আগে পাসপোর্ট বাতায়ন হটলাইন ১৬৪৪৫ নম্বরে একবার জেনে নিন।
৬. অনেকে যা জানতে চান
পাসপোর্ট আবেদন বাতিল করতে কত দিন লাগে?
অনলাইনে নিজে কি আবেদন ডিলিট করা যায়?
পাসপোর্ট আবেদন বাতিল হলে করণীয় কী?
অন্য কাউকে দিয়ে কি বাতিলের দরখাস্ত জমা দেওয়া যায়?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২১ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।