
সংক্ষেপে
বিদেশে থাকা অবস্থায় বাংলাদেশি পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে, নষ্ট হলে বা মেয়াদ ফুরিয়ে গেলে, আর নতুন পাসপোর্টের জন্য অপেক্ষার সময় না থাকলে দেশে ফেরার জন্য বাংলাদেশ মিশন একটি ট্রাভেল পারমিট দেয়। উপসাগরীয় দেশগুলোতে অনেকে একে আউটপাস বলেন। এটি দিয়ে শুধু বাংলাদেশে ফেরা যায়, মেয়াদ ইস্যুর দিন থেকে ৩ মাস।
সাধারণত লাগে আবেদন ফরম, ছবি, আগের পাসপোর্টের কপি আর পাসপোর্ট হারালে পুলিশের রিপোর্ট। বেশির ভাগ মিশনে নিজে গিয়ে সাক্ষাৎকার দিতে হয়। ফি মিশনভেদে আলাদা, যেমন দুবাইয়ে ৬০ দিরহাম, কুয়েতে ৪.২৫০ দিনার। দেশে ফিরে আবার বিদেশে যেতে নতুন পাসপোর্ট লাগবে।
পাসপোর্ট হারানোর অনলাইন রিপোর্ট, নোটিশ আর ভ্রমণ অনুমতিপত্রের আবেদন ফরম।
এই লেখায়
১. ট্রাভেল পারমিট কী, আর কখন নেবেন
ওয়াশিংটনের বাংলাদেশ দূতাবাস সহজ করে লিখেছে: ট্রাভেল পারমিট দেওয়া হয় শুধু বাংলাদেশে ফেরার জন্য, যখন আবেদনকারীর বৈধ পাসপোর্ট নেই আর নতুন পাসপোর্টের অপেক্ষা করার সময়ও নেই। দেশে ফেরার পর আবার বিদেশে যেতে বৈধ পাসপোর্ট লাগবে। ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের ফরমের তালিকাতেও ভ্রমণ অনুমতিপত্রের আবেদন ফরম আছে।
- পাসপোর্ট হারিয়েছে, চুরি হয়েছে বা নষ্ট হয়েছে।
- পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ, আর দ্রুত দেশে ফিরতে হবে।
- দুবাইয়ের কনস্যুলেটের তালিকা অনুযায়ী দীর্ঘদিন অবৈধভাবে থাকা ব্যক্তিরাও এটি নিয়ে দেশে ফেরেন।
বৈধ পাসপোর্ট থাকলে ট্রাভেল পারমিট লাগে না, সেই পাসপোর্টেই ফেরা যায়। আর বিদেশেই থাকতে হলে, অন্য দেশে যেতে হলে বা চাকরির ভিসা নবায়ন করতে হলে ট্রাভেল পারমিট কাজে আসবে না, তখন মিশন থেকে নতুন ই-পাসপোর্টের আবেদন করতে হয়।
২. পাসপোর্ট হারালে প্রথম দুই কাজ
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর পরিপত্রে হারানো পাসপোর্টের নিয়ম বদলেছে। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী বিদেশে পাসপোর্ট হারালেও অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে অনলাইনে হারানোর তথ্য জানাতে হবে, আর সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ দূতাবাস, হাইকমিশন বা কনস্যুলেটকে জানাতে হবে।
- ১স্থানীয় পুলিশে রিপোর্ট করুনযে দেশে আছেন সেখানকার পুলিশের কাছে হারানো বা চুরির রিপোর্ট নিন। ওয়াশিংটন, টরন্টো আর দুবাই, তিন মিশনই হারানো পাসপোর্টের ক্ষেত্রে এই রিপোর্ট চায়।
- ২অনলাইনে হারানোর তথ্য দিনঅধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে পাসপোর্ট হারানোর তথ্য জানান। পরিপত্র অনুযায়ী হারানো বলে বাতিল হওয়া পাসপোর্ট পরে পাওয়া গেলেও আর ব্যবহার করা যায় না।
- ৩মিশনে যোগাযোগ করুননিকটতম বাংলাদেশ মিশনকে জানান আর ঠিক করুন ট্রাভেল পারমিট নেবেন, নাকি নতুন পাসপোর্টের আবেদন করবেন।
৩. যে কাগজগুলো লাগে
মিশনগুলোর তালিকা প্রায় এক রকম, তবে খুঁটিনাটি আলাদা। নিচে চারটি মিশনের পাতা মিলিয়ে সাধারণ তালিকা দিলাম।
সঙ্গে নিন
ওয়াশিংটনের দূতাবাস আর দুবাইয়ের কনস্যুলেট পরিষ্কার বলেছে, হাতে লেখা পুরোনো পাসপোর্টধারীদের তারা ট্রাভেল পারমিট দিতে পারে না, আবেদনকারীর মেশিন রিডেবল বা ই-পাসপোর্ট থাকতে হবে। এমন হলে মিশনের পরামর্শ নিন, ওয়াশিংটন ই-পাসপোর্টের আবেদন করতে বলেছে, যাতে ৪৫ থেকে ৬০ কর্মদিবস লাগে।
৪. ফি আর কত দিনে পাওয়া যায়
ফি আর সময় পুরোপুরি মিশনের ওপর নির্ভর করে। চারটি মিশনের নিজস্ব পাতায় যা লেখা, তা নিচে দিলাম। সব জায়গাতেই ফি ফেরতযোগ্য নয়, আবেদন বাতিল হলেও।
| মিশন | ফি | সময় | বিশেষ শর্ত |
|---|---|---|---|
| দুবাই কনস্যুলেট | ৬০ দিরহাম, শুধু নগদ | একই দিনে | নিজে উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক |
| কুয়েত দূতাবাস | ৪.২৫০ কুয়েতি দিনার | পাতায় নির্দিষ্ট সময় নেই | সাক্ষাৎকারের জন্য নিজে উপস্থিত, পাতাটি ২০২২ সালে হালনাগাদ |
| ওয়াশিংটন দূতাবাস | ১৪.৩০ ডলার নিয়মিত, ২৭.৫০ ডলার জরুরি | ৫ কর্মদিবস, জরুরিতে পরের কর্মদিবস | নগদ ও ব্যক্তিগত চেক চলে না |
| টরন্টো কনস্যুলেট | ১৫ কানাডিয়ান ডলার নিয়মিত, ৩০ জরুরি | ৩ কর্মদিবস, জরুরিতে ১ কর্মদিবস | সাক্ষাৎকার বাধ্যতামূলক, ডাকে পাঠানো হয় না |
জমার পদ্ধতিও মিশনভেদে আলাদা। টরন্টোতে আগে কনস্যুলেটের পোর্টালে অনলাইনে আবেদন করে ছবি আপলোড করতে হয়, তারপর ৯০ দিনের মধ্যে সই করা কনফার্মেশন পাতা, কাগজ আর ফি জমা না দিলে আবেদন নিজে থেকে মুছে যায়। ওয়াশিংটন ডাকেও আবেদন নেয়, ফেরত খামসহ। দুবাইয়ে সব কাগজ নিয়ে ১৯ নম্বর কাউন্টারে সরাসরি জমা দিতে হয়।
ওয়াশিংটনের দূতাবাস জানিয়েছে, পরিবারের কয়েকজন একসঙ্গে আবেদন করলেও প্রত্যেকের জন্য আলাদা মানি অর্ডার বা চেক লাগবে। টরন্টোর কনস্যুলেট বলেছে, তারা বাড়তি কাগজ চাইতে পারে, আবেদন পর্যালোচনার জন্য আটকে রাখতে পারে বা বাতিল করতে পারে। তাই হাতে কয়েক দিন সময় রেখে আবেদন করুন।
সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, কাতার বা অন্য দেশে থাকলে নিজের মিশনের ওয়েবসাইটে Travel Permit বা Out Pass পাতাটি খুঁজুন। বেশির ভাগ মিশনের ঠিকানা দেশের নাম দিয়ে mofa.gov.bd ধরনের, যেমন kuwait.mofa.gov.bd। দালালের মাধ্যমে না করে নিজে কাউন্টারে যান, নির্ধারিত ফির রসিদ নিন।
৫. দেশে ফেরার পর
- ১মেয়াদের মধ্যেই ফিরুনট্রাভেল পারমিটের মেয়াদ ইস্যুর দিন থেকে ৩ মাস। এর মধ্যেই টিকিট করে ফিরুন, মেয়াদ পেরোলে আবার আবেদন করতে হবে।
- ২নতুন পাসপোর্টের আবেদন করুনআবার বিদেশে যেতে হলে দেশে বর্তমান ঠিকানার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে নতুন ই-পাসপোর্ট বা রি-ইস্যুর আবেদন করুন। অধিদপ্তর হারানো পাসপোর্টের রি-ইস্যুতে জিডি চায়, বিদেশে হারিয়ে থাকলে সেখানকার পুলিশ রিপোর্ট আর মিশনের কাগজ নিয়ে অফিসে জেনে নিন কী জমা দিতে হবে।
- ৩দ্বিতীয়বার হারালে জরিমানা মনে রাখুননতুন পরিপত্র অনুযায়ী প্রথমবার হারালে নির্ধারিত ফির বাইরে জরিমানা নেই, দ্বিতীয় বা পরেরবার হারালে ফির সঙ্গে ১০ হাজার টাকা জরিমানা।
৬. অনেকে যা জানতে চান
ট্রাভেল পারমিট দিয়ে কি তৃতীয় কোনো দেশে যাওয়া যায়?
পুলিশ রিপোর্ট ছাড়া কি ট্রাভেল পারমিট পাওয়া যায়?
অন্য কাউকে দিয়ে আবেদন জমা দেওয়া যায়?
ট্রাভেল পারমিট নেব, নাকি মিশন থেকে নতুন পাসপোর্ট?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৯ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।