
সংক্ষেপে
ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের অফিস আদেশ অনুযায়ী ২০২৪ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ই-পাসপোর্টে স্বামী বা স্ত্রীর নামের ঘর আর ছাপা হয় না। সেই জায়গায় এসেছে লিগ্যাল গার্ডিয়ানের ঘর, যা শুধু দত্তক সন্তানের ক্ষেত্রে ব্যবহার হয়।
তাই শুধু বিয়ের কারণে স্বামী বা স্ত্রীর নাম যোগ করতে নতুন পাসপোর্টের দরকার পড়ে না। তবে নিজের নামের সঙ্গে পদবি যোগ করা, সরকারি চাকরিজীবীর নির্ভরশীল স্বামী বা স্ত্রী হিসেবে আবেদন, কিংবা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে নিকাহনামা বা তালাকনামা দেখানোর নিয়ম আলাদা।
নতুন বা রি-ইস্যুর আবেদন এই সরকারি পোর্টালে করতে হয়।
এই লেখায়
১. ২০২৪ সালে কী বদলেছে
প্রথম আলোর ২০২৪ সালের ৯ মার্চের প্রতিবেদন অনুযায়ী অধিদপ্তর ৪ ফেব্রুয়ারি একটি অফিস আদেশ দেয়, যা কার্যকর হয় ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে। ই-পাসপোর্টের ব্যক্তিগত তথ্য ও জরুরি যোগাযোগের পাতায় তিনটি পরিবর্তন আসে।
| আগে | ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ থেকে |
|---|---|
| স্বামী বা স্ত্রীর নামের ঘর | ঘরটি নেই, তার জায়গায় লিগ্যাল গার্ডিয়ান, শুধু দত্তক সন্তানের জন্য |
| ঠিকানা লেখার জায়গা দুই লাইন | ঠিকানা লেখা যায় তিন লাইনে |
| প্রথম পাতায় কিউআর কোড | কিউআর কোড নেই |
লিগ্যাল গার্ডিয়ানের নাম যোগ করতে আবেদনের সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের অনাপত্তি এবং অভিভাবকের NID বা পাসপোর্টের কপি দিতে হয়। অধিদপ্তরের 'পাসপোর্ট পেতে করণীয়' পাতাতেও দত্তক বা অভিভাবকত্বের ক্ষেত্রে সুরক্ষা সেবা বিভাগের আদেশ লাগার কথা আছে।
২. বিয়ের পর কি নতুন পাসপোর্ট করতে হবে
পাসপোর্টে যেহেতু স্বামী বা স্ত্রীর নামের ঘরই নেই, শুধু বিয়ের খবর পাসপোর্টে তুলতে রি-ইস্যুর আবেদন করার কিছু নেই। আপনার পাসপোর্ট মেয়াদ পর্যন্ত চলবে।
নতুন বা রি-ইস্যুর আবেদন যখন করবেন, তখন অনলাইন ফরমে বৈবাহিক অবস্থা আর জরুরি যোগাযোগের ঘর ঠিকমতো পূরণ করুন। অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আছে, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বিবাহ সনদ বা নিকাহনামা, আর বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষেত্রে তালাকনামা দাখিল করতে হবে। তাই এনরোলমেন্টের দিনে কাগজটা সঙ্গে রাখুন।
এমআরপি বা ২০২৪ সালের আগের ই-পাসপোর্টে আগের স্বামী বা স্ত্রীর নাম থাকলে সেটা বদলাতে আলাদা কোনো তাড়া আছে কি না, প্রকাশিত নির্দেশনায় আমরা পাইনি। রি-ইস্যু করলে নতুন বইয়ে ঘরটি থাকবে না, তখন তালাকনামা সঙ্গে রাখুন। ভ্রমণের আগে সন্দেহ থাকলে ১৬৪৪৫ নম্বরে জেনে নিন।
৩. নিজের নামে পদবি যোগ করতে চাইলে
বিয়ের পর অনেকে নিজের নামের শেষে স্বামীর পদবি যোগ করতে চান। এটা স্বামী বা স্ত্রীর নামের ঘর নয়, এটা নিজের নাম বদল। অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী ই-পাসপোর্টের ফরম পূরণ হয় NID বা অনলাইন জন্ম নিবন্ধন অনুযায়ী।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের পরিপত্র নিয়ে প্রথম আলো জানিয়েছে, নাম, জন্মতারিখ বা বাবা-মায়ের নামের মতো মৌলিক পরিচয় সম্পূর্ণ বদলানো যাবে না, তবে আইন ও বিধি অনুযায়ী অনুমোদিত সংশোধন আলাদাভাবে বিবেচনা হবে। তাই পদবি যোগ করতে চাইলে আগে NID-তে নামটি ঠিক করুন, তারপর পাসপোর্টে।
- ১আগে NIDনির্বাচন কমিশনের পোর্টালে নাম সংশোধনের আবেদন করুন। স্বামীর নাম যোগের জন্য কমিশন নিকাহনামা চায়।
- ২নতুন NID-র কপি নিনসংশোধন অনুমোদিত হলে নতুন তথ্যসহ অনলাইন কপি নামিয়ে নিন।
- ৩পাসপোর্ট রি-ইস্যুই-পাসপোর্ট পোর্টালে রি-ইস্যুর আবেদন করুন, তথ্য পরিবর্তনের ঘর পূরণ করুন। নাগরিক সনদ অনুযায়ী আগের মূল পাসপোর্ট দেখানো বাধ্যতামূলক।
- ৪প্রমাণ সঙ্গে নিননিকাহনামা, সংশোধিত NID আর তথ্য সংশোধনের অঙ্গীকারনামা নিয়ে যান। কোন কাগজ লাগবে, তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ সালের পরিপত্র অনুযায়ী ঠিক হয়।
৪. সরকারি চাকরিজীবীর স্বামী বা স্ত্রী
নাগরিক সনদে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর নির্ভরশীল স্বামী বা স্ত্রীর জন্য আলাদা তালিকা আছে। এ ক্ষেত্রে ইস্যুকারী কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইটে প্রদর্শিত মূল অনাপত্তি সনদ বা NOC লাগে। অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবীর নির্ভরশীল স্বামী বা স্ত্রীর ক্ষেত্রে অবসর আদেশ বা পেনশন বইয়ের কপি লাগে, মূল কপি দেখাতে হয়।
বিয়ের পর আবেদনে যা হাতের কাছে রাখবেন
৫. অনেকে যা জানতে চান
ই-পাসপোর্টে স্বামীর নাম যোগ করা যায়?
বিয়ের পর কি নিকাহনামা লাগবেই?
তালাকের পর আগের পাসপোর্ট দিয়ে কি বিদেশ যাওয়া যাবে?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৯ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।