
সংক্ষেপে
ই-পাসপোর্টের ফরমে পুরো নাম দুই ভাগে লিখতে হয়: Given Name আর Surname। নাম এক শব্দের হলে পুরোটা Surname-এ যাবে, Given Name ফাঁকা থাকবে। দুই বা তার বেশি অংশের নাম হলে শেষ এক বা একাধিক অংশ Surname-এ, বাকিটা Given Name-এ। পোর্টাল নিজেই কয়েকটি বিকল্প ভাগ দেখিয়েছে।
ভাগ যেটাই করুন, দুই ঘর মিলিয়ে পুরো নামটা যেন NID বা জন্ম নিবন্ধনের বানানের সঙ্গে হুবহু মেলে। আগের পাসপোর্ট থাকলে সেখানে যেভাবে ভাগ ছিল, সেভাবেই রাখা নিরাপদ।
নামের ঘর পূরণের নিয়ম পোর্টালের প্রশ্নোত্তরে উদাহরণসহ দেওয়া আছে।
এই লেখায়
১. Given Name কি, Surname কি
Surname হলো নামের শেষ অংশ, অনেক দেশে যাকে পারিবারিক নাম বলে। Given Name হলো তার আগের অংশ। আমাদের দেশে অনেকের নামে পারিবারিক পদবি নেই, তাই প্রশ্নটা ওঠে। ই-পাসপোর্ট পোর্টাল এ জন্য আলাদা নির্দেশনা দিয়েছে, যেখানে নামের অংশের সংখ্যা ধরে উদাহরণ দেওয়া আছে।
একটা কথা আগে বুঝে নিন। ভাগ বদলালে নাম বদলায় না। Md Abu আর Bakar লিখুন, বা Md আর Abu Bakar, পাসপোর্টে পুরো নাম Md Abu Bakar-ই থাকবে। বিপদ হয় তখন, যখন কেউ ভাগ করতে গিয়ে বানান বা শব্দের ক্রম বদলে ফেলেন।
অনেক বিদেশি ফরমে Surname-এর জায়গায় Last Name বা Family Name, আর Given Name-এর জায়গায় First Name লেখা থাকে। মানে একই। পাসপোর্টে যা Surname, ওই ফরমে সেটাই Last Name।
২. e passport given name and surname: পোর্টালের ৪টি নিয়ম
| নামের ধরন | উদাহরণ | Given Name | Surname |
|---|---|---|---|
| এক অংশ | Bakar | ফাঁকা | Bakar |
| দুই অংশ, বিকল্প ১ | Md Bakar | Md | Bakar |
| দুই অংশ, বিকল্প ২ | Md Bakar | ফাঁকা | Md Bakar |
| তিন অংশ, বিকল্প ১ | Md Abu Bakar | Md Abu | Bakar |
| তিন অংশ, বিকল্প ২ | Md Abu Bakar | Md | Abu Bakar |
| চার অংশ, বিকল্প ১ | Md Abu Bakar Siddique | Md Abu Bakar | Siddique |
| চার অংশ, বিকল্প ২ | Md Abu Bakar Siddique | Md Abu | Bakar Siddique |
| চার অংশ, বিকল্প ৩ | Md Abu Bakar Siddique | Md | Abu Bakar Siddique |
পোর্টাল কোনো একটি বিকল্পকে বাধ্যতামূলক বলেনি। তবে নিয়মটা পরিষ্কার: শব্দের ক্রম অপরিবর্তিত থাকবে, শুধু কোথায় ভাগ হবে সেটা বদলাতে পারে। আর এক শব্দের নাম কখনো Given Name-এ যাবে না।
টেবিলের Md শব্দটা শুধু উদাহরণ। আপনার নামে Md না থাকলে একই নিয়ম অন্য শব্দে খাটবে, যেমন Sharmin Sultana Rumi হলে তিন অংশের সারি দুটো দেখুন।
৩. কোন ভাগ বাছবেন: তিনটি বাস্তব পরামর্শ
- আগের পাসপোর্ট মেনে চলুন। রি-ইস্যু হলে আগের পাসপোর্টে যেভাবে ভাগ ছিল, সেটাই রাখুন। আগের আর নতুন পাসপোর্টের তথ্য না মিললে আবেদন বাড়তি যাচাইয়ে যেতে পারে।
- পরিবারে মিল রাখুন। বাবার নাম Abdur Rahman Khan হলে আর সন্তানের নামও Khan দিয়ে শেষ হলে, দুজনের পাসপোর্টে Khan-কে Surname রাখলে পরে ভিসা বা পারিবারিক কাগজে মেলাতে সুবিধা হয়।
- বিদেশের ফরমে হুবহু তুলুন। ভিসা বা বিমান টিকিটের ফরমে Given Name আর Surname পাসপোর্টে যেভাবে ছাপা, ঠিক সেভাবে লিখুন। নিজে থেকে ঘর বদলাবেন না।
Md, Mohammad বা Muhammad, যেটা NID বা জন্ম নিবন্ধনে আছে, সেটাই লিখুন। ফরমে নাম, জন্মতারিখ আর বাবা-মায়ের নাম লিখতে হয় NID বা অনলাইন জন্ম নিবন্ধন দেখে। এক অক্ষরের অমিলও পরে সংশোধনের ঝামেলা তৈরি করে।
সন্তানের পাসপোর্টের ক্ষেত্রে তার অনলাইন জন্ম নিবন্ধনের ইংরেজি সংস্করণই ভিত্তি। জন্ম নিবন্ধনে ইংরেজি নাম না থাকলে বা ভুল থাকলে আগে সেটা ঠিক করাতে হয়, তারপর পাসপোর্টের ফরমে সেই বানান ভাগ করে বসান।
৪. যে ভুলগুলো সবচেয়ে বেশি হয়
- পুরো নাম দুই ঘরেই লেখা: Given Name-এ Md Abu Bakar আর Surname-এ আবার Bakar। এতে পাসপোর্টে নাম হয়ে যায় Md Abu Bakar Bakar।
- বাবার নাম Surname-এ: নিজের নামের সঙ্গে বাবার নাম জুড়ে দেওয়া। NID-তে যা নেই, পাসপোর্টে তা যোগ করবেন না।
- শব্দের ক্রম বদল: Abu Bakar Md লিখে ফেলা। পোর্টালের সব বিকল্পে ক্রম একই, শুধু ভাগের জায়গা আলাদা।
- বাংলা থেকে নিজের মতো ইংরেজি: NID বা জন্ম নিবন্ধনে ইংরেজি বানান যা আছে, তার বাইরে যাবেন না। বানান নিয়ে দ্বিধা থাকলে আগে NID বা জন্ম নিবন্ধন ঠিক করুন।
এর মধ্যে প্রথম ভুলটাই সবচেয়ে বেশি দেখা যায়, কারণ অনেকে ভাবেন Given Name মানে পুরো নাম। মনে রাখুন, দুই ঘর মিলিয়ে একবারই পুরো নাম হবে।
৫. ফরমে নাম লেখার ধাপ
- ১NID বা জন্ম নিবন্ধন সামনে রাখুনইংরেজি নামের বানান যেভাবে আছে, সেটা কাগজে লিখে শব্দগুলো গুনে নিন।
- ২ভাগ ঠিক করুনউপরের টেবিল থেকে আপনার শব্দসংখ্যার বিকল্প বাছুন। আগের পাসপোর্ট থাকলে সেটার ভাগ মিলিয়ে নিন।
- ৩ঘর পূরণ করুনGiven Name আর Surname আলাদা ঘরে লিখুন। এক শব্দের নাম হলে Given Name ফাঁকা রেখে পুরোটা Surname-এ দিন।
- ৪প্রিভিউতে পুরো নাম পড়ুনজমার আগে সারাংশ পাতায় দুই ঘর মিলিয়ে পুরো নামটা পড়ুন। ক্রম আর বানান NID-র সঙ্গে মিলছে কি না দেখুন।
একটা উদাহরণ। নাসরিন আক্তারের জন্ম নিবন্ধনে ইংরেজি নাম Nasrin Akter। তিনি Given Name-এ Nasrin আর Surname-এ Akter লিখলেন। তাঁর বোনের নাম শুধু Moushumi, তাই বোনের ফরমে Given Name ফাঁকা থাকল, Surname-এ Moushumi।
৬. জমার পর নামের ভাগে ভুল ধরা পড়লে
- আবেদন জমা দেওয়ার পর অনলাইনে আর তথ্য বদলানো যায় না, অ্যাকাউন্ট মুছে নতুন খুললেও না।
- পোর্টালের নির্দেশনা হলো, Application Summary-র প্রিন্ট আর NID বা জন্ম নিবন্ধন নিয়ে পাসপোর্ট অফিসে যান। এনরোলমেন্ট অফিসার কাগজ দেখে ভুল ঠিক করে দেন।
- ভুল নামে ফি জমা হয়ে গিয়ে থাকলে অফিস সমাধান করতে পারে, তবে তার জন্য আলাদা অনুমোদন লাগে আর কিছু সময় লাগতে পারে।
- পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার পর ছাপার ভুল দেখলে ইস্যু বা হাতে নেওয়ার তারিখ থেকে এক মাসের মধ্যে আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে জানান।
৭. অনেকে যা জানতে চান
passport surname and given name bd: এক শব্দের নাম হলে কী লিখব?
Md কি Given Name-এ লিখতে হবে?
Given Name আর Surname উল্টে লিখলে কী হবে?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২৪ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।