
সংক্ষেপে
পাসপোর্ট আবেদন জমা দেওয়ার পর ভুল চোখে পড়লে অনলাইনে আর তথ্য বদলানো যায় না। Application Summary-র প্রিন্ট, NID বা জন্ম নিবন্ধন আর সঠিক তথ্যের প্রমাণ নিয়ে নির্ধারিত দিনে পাসপোর্ট অফিসে যান, এনরোলমেন্ট অফিসার সার্ভারে ভুল ঠিক করে দেন।
কখন ভুল ধরা পড়ল, তার ওপর সমাধান বদলায়। জমার আগে হলে নিজেই ঠিক করুন। পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার পর ছাপার ভুল দেখলে এক মাসের মধ্যে আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে জানাতে হয়।
অ্যাকাউন্টের My Applications থেকে Application Summary প্রিন্ট করে অফিসে নিন।
এই লেখায়
১. কখন ভুল ধরা পড়ল, তা দেখে সমাধান
| কখন ধরা পড়ল | কী করবেন | বাড়তি খরচ |
|---|---|---|
| চূড়ান্ত জমার আগে | ফরমের সংশ্লিষ্ট ধাপে ফিরে নিজে ঠিক করুন | নেই |
| জমার পর, এনরোলমেন্টের আগে | সারাংশ আর প্রমাণ নিয়ে পাসপোর্ট অফিসে যান | ইউএনবির তথ্যে বাড়তি টাকা লাগে না |
| পাসপোর্ট হাতে পেয়ে অফিসের ছাপার ভুল | এক মাসের মধ্যে আঞ্চলিক অফিসে জানান | অফিসকে জিজ্ঞেস করুন |
| পাসপোর্ট হাতে, ভুলটা আপনার দেওয়া তথ্যে | সংশোধনের কারণ দেখিয়ে নতুন রি-ইস্যু আবেদন | পুরো রি-ইস্যু ফি |
তৃতীয় আর চতুর্থ সারির তফাতটা মনে রাখুন। আপনি ফরমে ঠিক লিখেছিলেন কিন্তু পাসপোর্টে ভুল ছাপা হয়েছে, এটা ছাপার ভুল। আপনি নিজেই ভুল লিখেছিলেন আর সেটাই ছাপা হয়েছে, এটা তথ্যের ভুল, তখন সংশোধনের পুরো প্রক্রিয়ায় যেতে হয়।
নিচের অংশগুলো এই চার অবস্থা ধরে সাজানো। আপনার ক্ষেত্রে কোনটা খাটে, সেটা আগে ঠিক করুন।
২. জমার আগে ভুল দেখলে
অনলাইন ফরমের প্রতিটি ধাপ আলাদা করে সংরক্ষণ হয়। চূড়ান্তভাবে জমা দেওয়ার আগে যতবার খুশি ঘরে ফিরে তথ্য বদলানো যায়। তাই জমার বোতাম চাপার আগে সারাংশ পাতায় প্রতিটি ঘর একবার পড়ে নিন।
জমার আগে যে ঘরগুলো দুবার দেখবেন
একটা অভ্যাস কাজে দেয়। সারাংশ পাতার স্ক্রিনশট বা প্রিন্ট নিয়ে NID পাশে রেখে লাইন ধরে মিলিয়ে নিন। চোখে না পড়া ভুলগুলো সাধারণত এভাবে ধরা পড়ে, যেমন জন্মতারিখের দিন আর মাস উল্টে যাওয়া বা বাবার নামের এক অক্ষর বাদ পড়া।
৩. জমা দেওয়ার পর ভুল চোখে পড়লে করণীয়
- ১অ্যাকাউন্ট মুছবেন নাপোর্টাল পরিষ্কার বলেছে, জমার পর নতুন অ্যাকাউন্ট খুললেও তথ্য বদলায় না। আর অ্যাকাউন্ট মুছলে আবেদনের বিবরণ আর অ্যাপয়েন্টমেন্ট আর দেখা যায় না।
- ২Application Summary প্রিন্ট করুনঅ্যাকাউন্টের My Applications থেকে আবেদনের সারাংশ নামিয়ে প্রিন্ট করুন। অফিস এটা দিয়েই আপনার আবেদন খুঁজে পায়।
- ৩সঠিক তথ্যের প্রমাণ জোগাড় করুনNID বা জন্ম নিবন্ধন, আগের পাসপোর্ট থাকলে সেটি, আর যে তথ্য ভুল হয়েছে তার পক্ষে অন্য সরকারি দলিল।
- ৪এনরোলমেন্টের দিন অফিসারকে জানানছবি তোলার আগেই ভুলের কথা বলুন। এনরোলমেন্ট অফিসার কাগজ মিলিয়ে সার্ভারে তথ্য ঠিক করে দেন।
কোন কাগজ নেবেন, তা নির্ভর করে কোন ঘরে ভুল তার ওপর। নামের বানান হলে NID বা জন্ম নিবন্ধন, সঙ্গে এসএসসি সনদ থাকলে আরও ভালো। পেশা ভুল হলে পেশাগত সনদ বা ছাত্র হলে স্টুডেন্ট আইডি। বৈবাহিক অবস্থা হলে বিয়ের সনদ। ঠিকানা ভুল হলে মনে রাখুন, বর্তমান ঠিকানা অনুযায়ীই আপনার পাসপোর্ট অফিস ঠিক হয়। ভুল ঠিকানায় অন্য অফিস পড়ে গেলে সেটা আগে সেই অফিসে জিজ্ঞেস করে নিন।
আবেদনকারীর নাম ভুল লিখে সেই নামে অনলাইনে বা ব্যাংকে ফি দিয়ে থাকলেও পাসপোর্ট অফিস সমাধান করতে পারে। তবে পোর্টাল বলছে, এর জন্য আলাদা অনুমোদন লাগে আর সময় বেশি লাগতে পারে। তাই অ্যাপয়েন্টমেন্টের দিনের আগেই অফিসে খোঁজ নিন।
একটা উদাহরণ। তানভীর জমার পর দেখলেন মায়ের নামের বানানে একটা অক্ষর বাদ পড়েছে। তিনি নতুন আবেদন না করে সারাংশের প্রিন্ট, নিজের NID আর মায়ের NID নিয়ে নির্ধারিত দিনে অফিসে গেলেন। এনরোলমেন্টের সময়েই বানান ঠিক হয়ে গেল।
৪. ভুল ঠিক হওয়ার পর দেরি হলে
এনরোলমেন্টের সময় তথ্য ঠিক হলে আবেদন সাধারণ নিয়মেই এগোয়। তবে নাম, জন্মতারিখ, জন্মস্থান বা বাবা-মায়ের নামের মতো মৌলিক তথ্য বদলালে পোর্টাল বলছে, কাগজ এনরোলমেন্টে যাচাই হয় আর দরকার হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে গভীর যাচাই হতে পারে। তখন ডেলিভারিতে বেশি সময় লাগে।
- ডেলিভারি স্লিপের আবেদন নম্বর দিয়ে পোর্টালে নিয়মিত স্ট্যাটাস দেখুন।
- স্ট্যাটাস অনেক দিন একই ধাপে আটকে থাকলে কী মানে, তা আমাদের স্ট্যাটাস দেখার লেখায় আছে।
- Rework বা যাচাইয়ে আটকালে অফিস যে কাগজ চায়, দ্রুত জমা দিন।
অনেক ভুলের শুরু NID আর জন্ম নিবন্ধনের অমিল থেকে। পাসপোর্টের তথ্য মেলানো হয় এই দুই কাগজের সঙ্গে। দুটোতে বানান আলাদা থাকলে আগে সেটা ঠিক করুন, তারপর পাসপোর্টের আবেদন করুন।
৫. পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার পর ভুল দেখলে
ই-পাসপোর্ট পোর্টাল বলছে, নতুন পাসপোর্টে ছাপার ভুল পেলে ইস্যু বা হাতে নেওয়ার তারিখ থেকে ১ মাসের মধ্যে নিজের নির্ধারিত আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে জানাতে হবে। তাই পাসপোর্ট হাতে পেয়ে অফিস ছাড়ার আগেই ডাটা পেজ পড়ে নিন।
- ভুলটা আপনার দেওয়া তথ্যে থাকলে সেটা ছাপার ভুল নয়। তখন তথ্য সংশোধনের কারণ দেখিয়ে নতুন রি-ইস্যু আবেদন করতে হয় আর পুরো ফি দিতে হয়।
- নাম, জন্মতারিখ বা বাবা-মায়ের নাম বদলের ক্ষেত্রে অঙ্গীকারনামাসহ বাড়তি কাগজ লাগে। বিস্তারিত আমাদের পাসপোর্ট সংশোধনের লেখায় আছে।
- আবেদন একেবারে বাতিল করতে চাইলে তার আলাদা দরখাস্ত আছে, সেটাও আমাদের আলাদা লেখায় পাবেন।
পাসপোর্ট হাতে নেওয়ার মুহূর্তটাই ভুল ধরার সবচেয়ে ভালো সময়। কাউন্টারে দাঁড়িয়ে নাম, জন্মতারিখ, জন্মস্থান আর মেয়াদ একবার পড়ে নিন। প্রতিনিধি দিয়ে তুললে বাড়ি ফিরেই মিলিয়ে নিন, যাতে এক মাসের সময় পার না হয়।
৬. অনেকে যা জানতে চান
ই পাসপোর্ট আবেদন জমা দেওয়ার পর কি অনলাইনে এডিট করা যায়?
পাসপোর্ট আবেদনের পর ভুল চোখে পড়লে কি নতুন করে আবেদন করতে হবে?
পাসপোর্টে ছাপার ভুল হলে কত দিনের মধ্যে জানাতে হবে?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২৪ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।