
সংক্ষেপে
হ্যাঁ, যায়। পাসপোর্ট করতে নিজ জেলায় ফিরে যাওয়ার নিয়ম নেই। ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সিটিজেন চার্টারে লেখা, আবেদনকারী যে এলাকায় বসবাস করেন, সেই এলাকার বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিস বা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস তাঁকে সেবা দেয়।
অনলাইন ফরমে বর্তমান ঠিকানা দিলে পোর্টাল নিজেই অফিস ঠিক করে দেয়, আর আবেদন শুধু সেই অফিসেই করা যায়। পাসপোর্টও তুলতে হয় ডেলিভারি স্লিপে লেখা সেই অফিস থেকে।
বর্তমান ঠিকানা দিয়ে আবেদন শুরু করুন, অফিস পোর্টাল নিজেই দেখাবে।
এই লেখায়
১. পাসপোর্ট কি নিজ জেলায় করতে হয়? না, যেখানে থাকেন সেখানেই
অনেকের ধারণা, স্থায়ী ঠিকানা যে জেলায়, পাসপোর্ট করতে হবে সেখানেই। এই ধারণা থেকে কেউ কেউ ঢাকা বা চট্টগ্রাম থেকে বাসে চড়ে গ্রামের জেলায় ফিরে যান, এক দিনের ছুটি নষ্ট করেন। এর দরকার নেই।
অধিদপ্তরের সিটিজেন চার্টারে সেবা প্রদানের স্থান হিসেবে লেখা আছে, আবেদনকারী যে অধিক্ষেত্রে বসবাস করেন, সেই অধিক্ষেত্রের বিভাগীয় বা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস। ই-পাসপোর্ট পোর্টালের প্রশ্নোত্তরেও একই কথা: আবেদনে নতুন বর্তমান ঠিকানা লিখুন, সেই ঠিকানা দেখে পোর্টাল দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিস ঠিক করে দেবে।
একটা উদাহরণ। আপনার বাড়ি কুড়িগ্রামে, চাকরি করেন গাজীপুরের কোনো কারখানায়, থাকেন সেখানেই ভাড়া বাসায়। ফরমে বর্তমান ঠিকানা গাজীপুরের দিলে আবেদন যাবে আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস, গাজীপুরে। কুড়িগ্রামে যেতে হবে না, স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে কুড়িগ্রাম ফরমে থাকবে।
ছাত্রছাত্রীদের ক্ষেত্রেও একই কথা। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে থাকা নোয়াখালীর কোনো শিক্ষার্থী রাজশাহীর ঠিকানা দিলে আবেদন যাবে রাজশাহীর বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসে। শুধু খেয়াল রাখুন, যে ঠিকানা দিচ্ছেন সেখানে আসলেই থাকেন, আর পাসপোর্ট হাতে পাওয়া পর্যন্ত ওই শহরে আসা-যাওয়ার সুযোগ থাকবে।
২. অনলাইন ফরমে অফিস ঠিক হয় যেভাবে
- ১Apply Online দিয়ে শুরু করুনই-পাসপোর্ট পোর্টালে Apply Online বেছে নিন। প্রথম ধাপেই জেলা আর থানা বেছে নিতে হয়।
- ২বর্তমান ঠিকানার জেলা ও থানা দিনযেখানে এখন থাকেন, সেই জেলা আর থানা বেছে নিন। বাছাই করার পর সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট অফিস নিজে থেকেই যুক্ত হয়ে যায়।
- ৩অফিসের নাম মিলিয়ে নিনপর্দায় যে অফিসের নাম আসে, সেটি আপনার বাসা থেকে যাওয়ার মতো কি না দেখুন। ভুল থানা বাছলে অন্য অফিস চলে আসতে পারে।
- ৪ফরমের বাকি অংশ পূরণ করুনস্থায়ী ঠিকানার ঘরে গ্রামের বাড়ির ঠিকানা দিন। নাম, জন্মতারিখসহ সব তথ্য NID বা জন্ম নিবন্ধনের সঙ্গে হুবহু মিলিয়ে লিখুন।
- ৫ফি দিয়ে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিনফি জমার পর খালি স্লট থেকে বায়োমেট্রিকের তারিখ বেছে নিন। সেদিন ওই অফিসেই ছবি আর আঙুলের ছাপ দিতে যাবেন।
অফিসে ভিড় কম বা কাছে বলে যেখানে থাকেন না সেই ঠিকানা লিখবেন না। বর্তমান ঠিকানার প্রমাণ চাওয়া হতে পারে, তখন আটকে যাবেন।
৩. বর্তমান ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে কী রাখবেন
২০২৫ সালের মার্চে ইউএনবি ই-পাসপোর্টের কাগজপত্রের যে তালিকা দিয়েছিল, তাতে বসবাসের ঠিকানার একটি সাম্প্রতিক ইউটিলিটি বিল, যেমন গ্যাস, বিদ্যুৎ বা পানির বিল রাখার কথা ছিল। ভাড়া বাসায় থাকলে বিল সাধারণত বাড়িওয়ালার নামে হয়। সে ক্ষেত্রে আপনার অফিসে কী গ্রহণযোগ্য, তা আগে ফোনে জেনে নিন।
এনরোলমেন্টের দিন সঙ্গে নিন
পুলিশ ভেরিফিকেশন নিয়ে দুশ্চিন্তার কারণও এখন নেই। ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ থেকে ই-পাসপোর্টে পুলিশ ভেরিফিকেশন লাগে না, তথ্য মেলানো হয় NID-র ভিত্তিতে। তাই অন্য জেলায় থাকলে ঠিকানা যাচাইয়ে পুলিশ গ্রামের বাড়িতে যাবে, এমন অপেক্ষাও নেই।
৪. পাসপোর্ট তুলবেন কোথা থেকে, আর বাসা বদলালে
পোর্টালের প্রশ্নোত্তর অনুযায়ী পাসপোর্ট তুলতে হয় ডেলিভারি স্লিপে লেখা অফিস থেকে। চট্টগ্রামে আবেদন করে ঢাকায় বদলি হয়ে গেলেও নিয়ম অনুযায়ী পাসপোর্ট আনতে হবে চট্টগ্রামের সেই অফিস থেকে। ব্যতিক্রম একটাই: সুপার এক্সপ্রেস পাসপোর্ট দেওয়া হয় ঢাকার আগারগাঁও বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিস থেকে।
| আপনার অবস্থা | কোথায় আবেদন | কোথা থেকে তুলবেন |
|---|---|---|
| কাজের জন্য অন্য জেলায় থাকেন | বর্তমান বাসার এলাকার অফিস | ডেলিভারি স্লিপে লেখা অফিস |
| ছাত্রাবাস বা মেসে থাকেন | মেস বা হলের এলাকার অফিস | ডেলিভারি স্লিপে লেখা অফিস |
| আবেদনের পর বাসা বদলেছেন | আবেদন আগের অফিসেই থাকবে | ডেলিভারি স্লিপে লেখা আগের অফিস |
| সুপার এক্সপ্রেসে আবেদন | বর্তমান ঠিকানার অফিস | আগারগাঁও বিভাগীয় অফিস, ঢাকা |
| বিদেশে থাকেন | সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ মিশন | সেই মিশন |
ঢাকায় থাকলে কোন থানার জন্য কোন অফিস, তা নিয়ে আমাদের আলাদা লেখা আছে। ঢাকার কয়েকটি অফিস থানা ভাগ করে কাজ করে, তাই সেখানে থানা বাছাইয়ে বাড়তি সাবধান থাকুন। আবেদনের আগে ভেবে নিন, পাসপোর্ট তোলার দিন আপনি কোন শহরে থাকবেন। বদলির সম্ভাবনা থাকলে সেই হিসাবও মাথায় রাখুন।
৫. ভুল অফিস এসে গেলে কী করবেন
সবচেয়ে সাধারণ ভুল হলো তাড়াহুড়োয় স্থায়ী ঠিকানার জেলা প্রথম ধাপে বেছে ফেলা। তখন অফিস আসে গ্রামের জেলার। ফি দেওয়ার আগে ধরা পড়লে ফরম নতুন করে পূরণ করাই সহজ। ফি দিয়ে ফেললে বা জমা হয়ে গেলে নিজে থেকে অফিস বদলানোর কোনো বোতাম পোর্টালে নেই বলে ধরে নিন।
- ১আবেদনের অবস্থা দেখুনপোর্টালের My Applications থেকে দেখুন আবেদন কোন ধাপে আছে আর কোন অফিস দেখাচ্ছে।
- ২ফি দেওয়ার আগে হলেআবেদনটি বাতিল করে বর্তমান ঠিকানার জেলা ও থানা দিয়ে নতুন করে শুরু করুন।
- ৩ফি দেওয়ার পরে হলেযে অফিস দেখাচ্ছে সেখানে ফোন করে বা গিয়ে জানতে চান কী করা যায়। নিজের থেকে আরেকটি আবেদনে আবার ফি দেবেন না।
৬. অনেকে যা জানতে চান
পাসপোর্ট কি নিজ জেলায় করতে হয়?
পাসপোর্ট কি যেকোনো জায়গা থেকে করা যায়?
চট্টগ্রামে আবেদন করে ঢাকা থেকে পাসপোর্ট নেওয়া যাবে?
বর্তমান ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে কী লাগে?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২৩ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।