
সংক্ষেপে
বিদেশে থেকে ই-পাসপোর্ট নতুন করে করাতে বা রিনিউ করাতে দেশে আসতে হয় না। একই সরকারি পোর্টালে অনলাইন ফরম পূরণ করে যে দেশে আছেন সেখানকার বাংলাদেশ দূতাবাস, হাইকমিশন বা কনস্যুলেট বেছে নিন, তারপর নির্ধারিত দিনে নিজে গিয়ে ছবি, আঙুলের ছাপ আর আইরিস দিন। মিশনে ফি ধরা হয় মার্কিন ডলারে, সঙ্গে প্রবাসী কল্যাণ তহবিলের জন্য ১০ শতাংশ সারচার্জ, আর মিশন তা নেয় স্থানীয় মুদ্রায়।
আবেদনে NID অথবা অনলাইনে যাচাই করা যায় এমন ১৭ সংখ্যার জন্ম নিবন্ধন লাগে। আবুধাবির দূতাবাসের হিসাবে ৪৮ পৃষ্ঠা ৫ বছরের রেগুলার পাসপোর্ট পেতে মোটামুটি ৩০ কর্মদিবস লাগে, এক্সপ্রেসে ১৫।
দেশে বা বিদেশে, সব আবেদন শুরু হয় এই পোর্টাল থেকে। শুরুতেই জানতে চাওয়া হয় আপনি বাংলাদেশ থেকে আবেদন করছেন কি না।
এই লেখায়
১. অনলাইন ফরমে দেশের বাইরের আবেদন যেভাবে আলাদা
ফরমের বেশির ভাগ ঘর দেশের আবেদনের মতোই। তফাত শুরুতে আর ঠিকানায়। আবুধাবির বাংলাদেশ দূতাবাসের নির্দেশনা ধরে ধাপগুলো এমন:
- ১প্রথম প্রশ্নে 'No' দিনপোর্টালে অ্যাকাউন্ট খুলে আবেদন শুরু করলে প্রথম ধাপে জানতে চাওয়া হয় Are you applying from Bangladesh? বিদেশ থেকে আবেদন করলে No বেছে নিন, তারপর যে দেশে আছেন সেটি আর সেখানকার মিশন বাছুন।
- ২ঠিকানা দুটি ঠিকভাবে লিখুনবর্তমান ঠিকানা হবে যে দেশে থাকেন সেখানকার, স্থায়ী ঠিকানা বাংলাদেশের। ঠিকানা আর মিশন না মিললে আবেদন আটকে যায়।
- ৩পেমেন্টে Offline payment বাছুনমিশনের ফি দেওয়া হয় মিশনের কাউন্টারে বা মিশনের বলা পদ্ধতিতে, তাই অনলাইন ফরমে অফলাইন পেমেন্ট রাখতে হয়।
- ৪জমা হয়েছে কি না মিলিয়ে নিনশেষ পাতায় Application Submitted লেখা আর বারকোডসহ সারাংশ দেখাচ্ছে কি না দেখুন। জমা না হওয়া আবেদন মিশনের সিস্টেমে দেখা যায় না। পাতাটি প্রিন্ট করে নিন।
- ৫নির্ধারিত দিনে নিজে যানরিনিউ হলেও প্রতিবার বায়োমেট্রিক দিতে হয়। কোন মিশনে অ্যাপয়েন্টমেন্ট লাগে আর কোথায় অফিস সময়ে সরাসরি যাওয়া যায়, তা মিশনভেদে আলাদা। যেমন লস অ্যাঞ্জেলেসের কনস্যুলেটে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়াই যাওয়া যায়।
আবুধাবির নির্দেশনা অনুযায়ী জমা দেওয়ার পর ভুল চোখে পড়লে প্রিন্ট কপিতে হাতে লিখে ঠিক করে নিয়ে যান, এনরোলমেন্টের সময় কর্মীরা সংশোধন করে দেন। বায়োমেট্রিক শেষ হওয়ার আগে একটি খসড়া ডেলিভারি স্লিপ দেখিয়ে সই নেওয়া হয়, তখন সব তথ্য আরেকবার মিলিয়ে নিন।
২. মিশনে ফি কত: ডলারের হিসাব
বিদেশের মিশনে ফির ভিত্তি মার্কিন ডলার। আবুধাবি ও লস অ্যাঞ্জেলেসের মিশনের তালিকায় একই অঙ্ক দেখা যায়। এর ওপর ১০ শতাংশ সারচার্জ যোগ হয়, যা যায় ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড আইন, ২০১৮ অনুযায়ী প্রবাসী কল্যাণ তহবিলে।
| পাসপোর্ট | রেগুলার (ডলার) | এক্সপ্রেস (ডলার) | শ্রমিক ও শিক্ষার্থী, রেগুলার/এক্সপ্রেস |
|---|---|---|---|
| ৪৮ পৃষ্ঠা, ৫ বছর | ১০০ | ১৫০ | ৩০ / ৪৫ |
| ৪৮ পৃষ্ঠা, ১০ বছর | ১২৫ | ১৭৫ | ৫০ / ৭৫ |
| ৬৪ পৃষ্ঠা, ৫ বছর | ১৫০ | ২০০ | ছাড় নেই, সাধারণ হারেই |
| ৬৪ পৃষ্ঠা, ১০ বছর | ১৭৫ | ২২৫ | ছাড় নেই, সাধারণ হারেই |
- অঙ্কগুলো সারচার্জ ছাড়া। আবুধাবিতে ৪৮ পৃষ্ঠা ৫ বছরের রেগুলার সারচার্জসহ ৪০৫ দিরহাম, শ্রমিক বা শিক্ষার্থীর জন্য ১২৫ দিরহাম। লস অ্যাঞ্জেলেসে একই পাসপোর্ট ১১০ ডলার।
- ছাড় কারা পাবেন, তা মিশন ঠিক করে দেয়। আবুধাবিতে শ্রমিক ও শিক্ষার্থী দুই দলই পান, লস অ্যাঞ্জেলেসের তালিকায় শুধু পূর্ণকালীন শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থী হলে এনরোলমেন্টের দিন ছাত্র পরিচয়পত্র বা প্রতিষ্ঠানের কাগজ নিয়ে যান।
- টাকা দেওয়ার পথও আলাদা। আবুধাবিতে শুধু নগদ, লস অ্যাঞ্জেলেসে মানি অর্ডার বা ক্যাশিয়ার্স চেক। দুই জায়গাতেই ফি ফেরত দেওয়া হয় না।
- আবুধাবিতে রেগুলার থেকে এক্সপ্রেসে যাওয়া যায় বাড়তি টাকা দিয়ে, কিন্তু এক্সপ্রেস থেকে রেগুলারে নামা যায় না।
৩. যে কাগজগুলো সঙ্গে নেবেন
এনরোলমেন্টের দিন
NID না থাকলে জন্ম নিবন্ধন দিয়ে আবেদন চলে, তবে অনলাইনে যাচাই করা পাতায় আপনার আর বাবা-মায়ের নাম ইংরেজিতে থাকতে হবে এবং আবেদনের সঙ্গে হুবহু মিলতে হবে। না মিললে আগে যে কার্যালয়ে নিবন্ধন হয়েছিল, সেখান থেকে সংশোধন করান।
বর্তমান পাসপোর্টের মেয়াদ এক বছরের বেশি বাকি থাকলে দুই মিশনই বলেছে, কেন নতুন পাসপোর্ট দরকার তার প্রমাণ দিতে হবে। আর লস অ্যাঞ্জেলেসের নির্দেশনা অনুযায়ী যাঁরা মার্কিন নাগরিকত্ব নিয়েছেন, তাঁদের বাংলাদেশ সরকারের দ্বৈত নাগরিকত্ব সনদও দেখাতে হয়।
৪. কত দিন লাগে, পাসপোর্ট তুলবেন যেভাবে
| মিশন | এক্সপ্রেস | রেগুলার |
|---|---|---|
| আবুধাবি দূতাবাস | প্রায় ১৫ কর্মদিবস | প্রায় ৩০ কর্মদিবস |
| লস অ্যাঞ্জেলেস কনস্যুলেট | প্রায় ৩০ কর্মদিবস | প্রায় ৪৫ কর্মদিবস |
দুই মিশনই সতর্ক করেছে, কাগজে কাগজে তথ্যের অমিল থাকলে সময় বেশি লাগে। আবেদনের অবস্থা দেখবেন দেশের মতোই, পোর্টালের স্ট্যাটাস পাতায় Application ID বা OID আর জন্মতারিখ দিয়ে।
- নিজে তুলতে গেলে পুরোনো পাসপোর্ট আর ডেলিভারি স্লিপ নিয়ে যান।
- আবুধাবিতে অসুস্থতা বা অন্য কারণে যেতে না পারলে প্রতিনিধি তুলতে পারেন। তাঁকে আবেদনের কপি, পুরোনো পাসপোর্ট, ডেলিভারি স্লিপ আর আবেদনকারীর এমিরেটস আইডি নিয়ে যেতে হয়।
- কিছু মিশন ডাকে বা কুরিয়ারে পাঠায়। লস অ্যাঞ্জেলেসে আগাম ডাকমাশুলসহ ট্র্যাকিং খাম আর NID-র কপি দিলে বাড়িতে পাঠানো হয়, আবুধাবিতে দূতাবাসের ভেতরের কুরিয়ার কাউন্টারে ১৫ দিরহামে আমিরাতের ভেতরে পৌঁছে দেয়।
৫. আবেদনের আগে নিজের মিশনের পাতা দেখে নিন
ফি আর কাগজের মূল কাঠামো এক হলেও অ্যাপয়েন্টমেন্ট, টাকা দেওয়ার পদ্ধতি, অপেক্ষার সময় আর ডেলিভারির নিয়ম মিশনভেদে বদলায়। সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, কাতার বা ইতালি, যেখানেই থাকুন, সেখানকার বাংলাদেশ মিশনের ওয়েবসাইটে E-Passport পাতাটি খুলে মিলিয়ে নিন। মিশনগুলোর সরকারি সাইট পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডোমেইনে থাকে, শহরের নাম দিয়ে শুরু হয়।
দালাল বা এজেন্সির মাধ্যমে আবেদন করলেও বায়োমেট্রিকের জন্য নিজেকেই মিশনে যেতে হবে, আর ফি মিশনের তালিকার বাইরে বাড়তি হওয়ার কারণ নেই। আবুধাবির দূতাবাস জানিয়েছে, বায়োমেট্রিকের আগে ছয়টি ধাপ পেরোতে দুই থেকে তিন ঘণ্টা লাগতে পারে, কারণ অনেকে কাগজ ছাড়া চলে আসেন। পুরো কাগজ নিয়ে গেলে লাইনে কম সময় যায়।
৬. অনেকে যা জানতে চান
বিদেশ থেকে পাসপোর্ট রিনিউ করতে কি দেশে NID লাগবেই?
মিশন থেকে কি সুপার এক্সপ্রেস পাসপোর্ট পাওয়া যায়?
পুরোনো হাতে লেখা বা এমআরপি পাসপোর্ট থেকে কি সরাসরি ই-পাসপোর্ট হবে?
প্রবাসী শ্রমিক হিসেবে ছাড় পেতে কী দেখাতে হয়?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৭ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।