
সংক্ষেপে
পাসপোর্ট নিয়ে যেকোনো তথ্য বা পরামর্শের জন্য ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের কল সেন্টার ১৬৪৪৫, বিদেশ থেকে ০৯৬৬৬৭১৬৪৪৫। অফিসে কেউ বাড়তি টাকা চাইলে বা কাজ আটকে রাখলে আগে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানান, সমাধান না হলে অধিদপ্তরের অভিযোগ নিষ্পত্তি কর্মকর্তার কাছে বা অনলাইনে grs.gov.bd-তে অভিযোগ করুন। নিয়ম অনুযায়ী সাধারণ অভিযোগ ৩০ কার্যদিবসে নিষ্পত্তির কথা।
ঘুষ চাইলে দুর্নীতি দমন কমিশনের টোল ফ্রি হটলাইন ১০৬-এ জানাতে পারেন। আর মনে রাখুন, ২০২৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পাসপোর্টে পুলিশ ভেরিফিকেশন লাগে না, তাই ‘পুলিশ ম্যানেজ’ করার নামে কেউ টাকা চাইলে সেটা স্রেফ প্রতারণা।
হটলাইন, আঞ্চলিক অফিসের যোগাযোগ, নোটিশ আর সেবা প্রদান প্রতিশ্রুতি।
এই লেখায়
১. প্রথম ভরসা কল সেন্টার ১৬৪৪৫
অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে লেখা আছে, দেশের ভেতর থেকে ১৬৪৪৫ আর প্রবাস থেকে ০৯৬৬৬৭১৬৪৪৫ নম্বরে কল করে পাসপোর্ট সংক্রান্ত তথ্য ও পরামর্শ পাওয়া যায়। বিদেশি নাগরিকেরা একই নম্বরে ভিসার তথ্য পান। ওয়েবসাইটে এই সেবার নাম পাসপোর্ট বাতায়ন।
- কোন কাগজ লাগবে, ফি কত, কোন অফিসে আবেদন হবে, এসব জানতে।
- আবেদনের স্ট্যাটাস অনেক দিন না বদলালে কী করণীয়, তা জানতে।
- কেউ বাড়তি টাকা চাইলে আসল নিয়মটা নিশ্চিত হতে, টাকা দেওয়ার আগেই।
কল করার আগে হাতের কাছে রাখুন আবেদনের Application ID বা অনলাইন আইডি (OID), NID নম্বর আর এনরোলমেন্টের তারিখ। স্ট্যাটাস নিজেও দেখতে পারেন ই-পাসপোর্ট পোর্টালে, সেই ধাপ আমাদের স্ট্যাটাস দেখার লেখায় আছে।
অধিদপ্তর আপনার কাছে যা আশা করে
এই চারটি কথা অধিদপ্তরের সেবা প্রদান প্রতিশ্রুতিতেই লেখা। এগুলো ঠিক থাকলে কাউকে টাকা দিয়ে কাজ ‘করিয়ে নেওয়ার’ দরকার পড়ে না। প্রতিটি আঞ্চলিক অফিসের নিজস্ব ওয়েবসাইটও আছে, যেমন passport.rajshahi.gov.bd, সেখানে নোটিশ আর যোগাযোগের তথ্য পাবেন।
২. দালালের চেনা কথা, আর আসল নিয়ম
২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে জামালপুরে দুদক কয়েকটি আবেদনে ‘বিশেষ প্রতীকী চিহ্ন’ পেয়েছে বলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর জানিয়েছে। অভিযোগ ছিল, অফিসের সামনের কম্পিউটার দোকান দিয়ে আবেদন করলে দ্রুত কাজ হয়, আর সরাসরি আবেদনকারীরা ভোগেন। এমন ফাঁদ চিনতে নিচের ছকটা কাজে লাগবে।
| যা শুনবেন | আসল কথা |
|---|---|
| পুলিশ ভেরিফিকেশন করিয়ে দেব | সুরক্ষা সেবা বিভাগের ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫-এর পরিপত্র অনুযায়ী পাসপোর্টে পুলিশ ভেরিফিকেশন আর লাগে না |
| ফির টাকা আমার হাতে দিন, জমা করে দেব | ফি জমা হয় পোর্টালের অনলাইন পেমেন্ট বা ই-চালানে, রসিদ থাকে আপনার কাছে |
| আমার দোকানের মাধ্যমে আবেদন করলে তাড়াতাড়ি হবে | আবেদন নিজেই অনলাইনে করা যায়, অফিস ঠিক হয় বর্তমান ঠিকানা দেখে |
| সিরিয়াল এগিয়ে দেব | এনরোলমেন্টের তারিখ বাছা হয় পোর্টাল থেকে, নির্ধারিত দিনে গেলেই চলে |
| কাগজ কম আছে, টাকা দিলে চলবে | কোন কাগজ লাগবে তা অধিদপ্তরের সেবা প্রদান প্রতিশ্রুতিতে লেখা, ১৬৪৪৫-এ মিলিয়ে নিন |
বাড়তি টাকা দিলে আপনিও ঝামেলায় জড়াতে পারেন, আর আবেদনে কোনো চিহ্ন বা কারসাজি থাকলে পরে সেটা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। নিজের আবেদন নিজে করুন, Application Summary নিজের কাছে রাখুন।
৩. অফিসে হয়রানি হলে অভিযোগের ধাপ
অধিদপ্তরের সেবা প্রদান প্রতিশ্রুতির অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থাপনা (GRS) অংশে তিন স্তরের পথ দেওয়া আছে। সেবা নিয়ে অসন্তুষ্ট হলে আগে যে অফিসে কাজ, সেখানকার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলুন।
- ১দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানানআঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের উপপরিচালক বা সহকারী পরিচালককে লিখিতভাবে সমস্যা জানান। প্রতিটি অফিসের ফোন আর ইমেইল অধিদপ্তরের আঞ্চলিক অফিসে যোগাযোগ পাতায় আছে।
- ২সমাধান না হলে অভিযোগ নিষ্পত্তি কর্মকর্তাঅধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ের অভিযোগ নিষ্পত্তি কর্মকর্তার (অনিক) কাছে অভিযোগ দিন। নাম, ফোন আর ইমেইল সেবা প্রদান প্রতিশ্রুতিতে দেওয়া আছে।
- ৩তাতেও না হলে আপিল কর্মকর্তাসময়ের মধ্যে সমাধান না এলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের আপিল কর্মকর্তার কাছে যান।
- ৪শেষ ধাপ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগআপিল কর্মকর্তাও সমাধান না দিলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অভিযোগ ব্যবস্থাপনা সেলে অভিযোগ করা যায়।
| কার কাছে | নিষ্পত্তির সময় |
|---|---|
| অভিযোগ নিষ্পত্তি কর্মকর্তা, ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর | ৩০ কার্যদিবস, তদন্ত হলে ৪০ কার্যদিবস |
| আপিল কর্মকর্তা, সুরক্ষা সেবা বিভাগ | ২০ কার্যদিবস |
| অভিযোগ ব্যবস্থাপনা সেল, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ | ৬০ কার্যদিবস |
সেবা প্রদান প্রতিশ্রুতিতে অভিযোগ নিষ্পত্তি কর্মকর্তার দাপ্তরিক ইমেইল দেওয়া আছে dadmin@passport.gov.bd। ইমেইলে অভিযোগ পাঠালে বিষয়ের ঘরে Application ID লিখুন, আর পাঠানো ইমেইলের কপি রেখে দিন।
যেকোনো স্তরে অনলাইনে অভিযোগ দিতে পারেন grs.gov.bd-তে। অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটের ‘অভিযোগ দাখিল’ লিংক এখানেই নিয়ে যায়। অভিযোগ জমা দিলে একটি ট্র্যাকিং নম্বর রাখুন।
৪. ঘুষ চাইলে দুদক
কোনো কর্মচারী বা তাঁর হয়ে কেউ ঘুষ চাইলে সেটা দুর্নীতির অভিযোগ। দুর্নীতি দমন কমিশনের ওয়েবসাইটে বলা আছে, যেকোনো টেলিফোন বা মোবাইল থেকে হটলাইন ১০৬-এ টোল ফ্রি কল করে অভিযোগ জানানো যায়। জামালপুরের অভিযানটিও হয়েছিল একটি নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে।
দুদকে জানানোর সময় তারিখ, অফিসের নাম, কে টাকা চেয়েছেন আর কত, যতটা মনে আছে বলুন। প্রমাণ হিসেবে কোনো বার্তা, রসিদ বা কাগজ থাকলে রেখে দিন।
৫. অভিযোগে যা লিখবেন
অভিযোগের সঙ্গে রাখুন
শান্ত ভাষায়, নির্দিষ্ট করে লিখুন। ‘অফিসে সবাই ঘুষ খায়’ জাতীয় কথার চেয়ে ‘১২ অক্টোবর দুপুরে ৩ নম্বর কাউন্টারে ফাইল জমা নিতে ২ হাজার টাকা চাওয়া হয়েছে’ জাতীয় বিবরণে ব্যবস্থা নেওয়া সহজ।
৬. অনেকে যা জানতে চান
১৬৪৪৫-এ কি আবেদনের স্ট্যাটাস জানা যায়?
বিদেশ থেকে কোন নম্বরে ফোন করব?
অভিযোগ করলে আমার পাসপোর্ট কি আটকে যাবে?
অফিসের সামনের দোকানে ফরম পূরণ করালে কি সমস্যা?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৯ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।