
সংক্ষেপে
সব দেশের জন্য এক নিয়ম নেই। পাসপোর্টের মেয়াদ কতদিন থাকতে হবে, তা ঠিক করে আপনি যে দেশে যাচ্ছেন সেই দেশ। যেমন মালয়েশিয়ায় ঢোকার দিন থেকে পাসপোর্টের মেয়াদ ৬ মাসের বেশি থাকতে হয়, শেনজেন ভিসায় ইউরোপ ছাড়ার দিনের পরও অন্তত ৩ মাস, আর যুক্তরাজ্যে ভ্রমণের পুরো সময়জুড়ে।
তাই নিরাপদ হিসাব হলো: মেয়াদ ৬ মাসের কম থাকলে আগে পাসপোর্ট রি-ইস্যু করুন, তারপর ভিসার আবেদন বা টিকিট। নিচে কোথায় মেয়াদ দেখবেন, কোন দেশ কী চায় আর হাতে সময় কম থাকলে কোন ডেলিভারি বাছবেন, তা দেওয়া হলো।
রি-ইস্যুর অনলাইন আবেদন, ফি জমা আর আবেদনের অবস্থা দেখা এখান থেকে।
এই লেখায়
১. পাসপোর্টের মেয়াদ কোথায় লেখা থাকে
পাসপোর্টের ছবিওয়ালা তথ্যের পাতায় দুটি তারিখ থাকে: Date of issue আর Date of expiry। শেষেরটাই আসল। ভিসা অফিস, এয়ারলাইন আর বিদেশের ইমিগ্রেশন এই তারিখ দেখে হিসাব করে।
ই-পাসপোর্ট হয় ৫ বছর বা ১০ বছর মেয়াদের। ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের ফি পাতায় দুই ধরনের জন্যই আলাদা ফি দেওয়া আছে। ধরুন ২০২২ সালের মার্চে ৫ বছরের পাসপোর্ট নিয়েছিলেন। মেয়াদ শেষ হবে ২০২৭ সালের মার্চে। তাহলে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের পর থেকেই আপনার হাতে ৬ মাসের কম সময়, অর্থাৎ অনেক দেশের হিসাবে আপনি এখনই ঝুঁকিতে।
একটা সহজ উদাহরণ ধরা যাক। রাফি ১০ ডিসেম্বর মালয়েশিয়ায় ঢুকবেন, পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ ৫ জুন। ঢোকার দিন থেকে হাতে থাকে ৬ মাসের কম। মালয়েশিয়ার শর্তে এটা চলবে না। একই পাসপোর্ট নিয়ে তিনি যদি ১৫ দিনের জন্য যুক্তরাজ্যে যেতেন, তাহলে ফেরার দিন পর্যন্ত মেয়াদ আছে বলে সমস্যা হতো না। দেশ বদলালে হিসাবও বদলায়, তাই টিকিট কাটার আগে গন্তব্যের শর্তটা মিলিয়ে নিন।
কোনো দেশ গোনে ঢোকার দিন থেকে, কোনো দেশ সে দেশ ছাড়ার দিন থেকে, কেউ আবার শুধু ভ্রমণের পুরো সময়টা দেখে। তাই শুধু আজকের তারিখ দিয়ে না গুনে, ফেরার তারিখটা ধরে হিসাব করুন।
২. বিদেশ যেতে পাসপোর্টের মেয়াদ কতদিন থাকতে হবে: দেশভেদে উদাহরণ
নিচের তিনটি উদাহরণ সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারি পাতা থেকে নেওয়া। এগুলো দেখলেই বোঝা যায়, নিয়ম কতটা আলাদা হতে পারে।
| গন্তব্য | সরকারি পাতায় যা লেখা | সহজ কথায় |
|---|---|---|
| মালয়েশিয়া | ঢোকার দিন থেকে পাসপোর্টের মেয়াদ ৬ মাসের বেশি থাকতেই হবে (মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দূতাবাস পাতা) | ঢোকার দিন ৬ মাস ১ দিন বাকি থাকলেও চলে, ঠিক ৬ মাস বা কম হলে না |
| শেনজেনভুক্ত ইউরোপীয় দেশ | শেনজেন এলাকা ছাড়ার দিনের পর অন্তত ৩ মাস মেয়াদ থাকতে হবে; মাল্টিপল এন্ট্রি হলে শেষ দেশ ছাড়ার পর ৩ মাস (ইউরোপীয় কমিশন) | ফেরার তারিখ ধরে আরও ৩ মাস |
| যুক্তরাজ্য (ভিজিটর) | ভ্রমণের পুরো সময়জুড়ে পাসপোর্ট বৈধ থাকতে হবে (যুক্তরাজ্য সরকারের ওয়েবসাইট) | ফেরার দিন পর্যন্ত মেয়াদ থাকলেই হলো |
অন্য কোনো দেশে যাচ্ছেন? সেই দেশের দূতাবাস বা ভিসা আবেদনের সরকারি সাইটে Passport validity বা পাসপোর্টের মেয়াদ অংশটি পড়ুন। কাজের ভিসায় গেলে রিক্রুটিং এজেন্সির কথার ওপর ভরসা না করে নিজে মিলিয়ে নিন। এক দেশ হয়ে অন্য দেশে ট্রানজিট থাকলে, ট্রানজিটের দেশের শর্তও দেখে নিন।
যুক্তরাজ্যে যে পাসপোর্টে চলে, সেই একই পাসপোর্ট নিয়ে মালয়েশিয়ায় ঢুকতে না-ও পারেন। একাধিক দেশ ঘুরলে সবচেয়ে কড়া শর্তটা ধরে হিসাব করুন।
৩. মেয়াদ কম থাকলে আগে যা করবেন
- ১ফেরার তারিখ ধরে হিসাব করুনগন্তব্য দেশের শর্ত অনুযায়ী ফেরার দিন বা ঢোকার দিন থেকে পাসপোর্টে কত মাস বাকি থাকবে, কাগজে লিখে দেখুন। ৬ মাসের কম হলে পরের ধাপে যান।
- ২রি-ইস্যুর অনলাইন আবেদনই-পাসপোর্ট পোর্টালে আবেদন করুন। আগের পাসপোর্টের নম্বর ও তথ্য দিতে হয়, তাই পুরোনো পাসপোর্ট হাতের কাছে রাখুন।
- ৩ডেলিভারির ধরন বাছুনভিসার সাক্ষাৎকার বা টিকিটের তারিখ কাছে হলে রেগুলারের বদলে এক্সপ্রেস বা সুপার এক্সপ্রেস নিন। কত দিনে কোনটা আসে, নিচের ছকে দেওয়া আছে।
- ৪ফি দিয়ে এনরোলমেন্টঅনলাইনে বা ব্যাংকে ফি দিয়ে নির্ধারিত দিনে পাসপোর্ট অফিসে ছবি ও আঙুলের ছাপ দিন। ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ থেকে ই-পাসপোর্টে পুলিশ ভেরিফিকেশন লাগে না, তাই এই ধাপের জন্য আলাদা অপেক্ষা নেই।
- ৫নতুন পাসপোর্টে ভিসানতুন পাসপোর্ট হাতে পেলে তারপর ভিসার আবেদন করুন। পুরোনো পাসপোর্টে নেওয়া চালু ভিসা থাকলে সেটা কীভাবে ব্যবহার করবেন, সংশ্লিষ্ট দূতাবাসে জেনে নিন।
| ৪৮ পৃষ্ঠা | রেগুলার (২১ দিনে) | এক্সপ্রেস (১০ দিনে) | সুপার এক্সপ্রেস (২ দিনে) |
|---|---|---|---|
| ৫ বছর মেয়াদ | ৪,০২৫ টাকা | ৬,৩২৫ টাকা | ৮,৬২৫ টাকা |
| ১০ বছর মেয়াদ | ৫,৭৫০ টাকা | ৮,০৫০ টাকা | ১০,৩৫০ টাকা |
ফি ও সময় ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের ই-পাসপোর্ট ফি পাতা থেকে, দেশের ভেতরের আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে আবেদনের জন্য। ৬৪ পৃষ্ঠার পাসপোর্টের ফি আরও বেশি। আবেদনের আগে পোর্টালে চূড়ান্ত অঙ্কটা দেখে নিন।
৪. ৫ বছর না ১০ বছর: কোনটা নেবেন
বারবার বিদেশে যেতে হলে বা বিদেশে লম্বা সময়ের কাজ, পড়াশোনা বা চুক্তি থাকলে ১০ বছরের পাসপোর্টই হিসাবে সুবিধার। রেগুলার ডেলিভারিতে দাম ৫ বছরের চেয়ে ১,৭২৫ টাকা বেশি, কিন্তু মাঝপথে আবার রি-ইস্যুর খরচ আর সময় বাঁচে।
- ৩ বছরের কাজের ভিসায় যাচ্ছেন আর পাসপোর্টে আছে আড়াই বছর? ভিসার আগেই রি-ইস্যু করুন, নইলে বিদেশে বসে নবায়নের ঝামেলায় পড়বেন।
- ৫ বছরের পাসপোর্টের শেষ বছরে বড় কোনো ভ্রমণ থাকলে আগেভাগে নতুন পাসপোর্ট নিয়ে রাখুন।
- পৃষ্ঠা প্রায় ভরে গেলেও নতুন পাসপোর্ট লাগে, শুধু মেয়াদ দেখলেই হবে না।
৫. বিদেশে থাকা অবস্থায় মেয়াদ ফুরিয়ে গেলে
বিদেশে থেকেই নতুন ই-পাসপোর্টের আবেদন করা যায় সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ দূতাবাস বা হাইকমিশনে। শুধু দেশে ফেরার দরকার হলে মিশন থেকে ট্রাভেল পারমিট নেওয়ার পথও আছে। কোন পথ আপনার জন্য ঠিক, তা নির্ভর করে আপনি সেখানে থাকবেন নাকি ফিরবেন তার ওপর। দুটো বিষয়েই আমাদের আলাদা লেখা আছে: বিদেশ থেকে পাসপোর্ট রিনিউ আর ট্রাভেল পারমিট।
বিদেশে থাকলে আগে যা গুছিয়ে রাখবেন
৬. অনেকে যা জানতে চান
পাসপোর্টের মেয়াদ কতদিন থাকলে ভিসা করা যায়?
মালয়েশিয়া যেতে পাসপোর্টের মেয়াদ কতদিন থাকতে হবে?
পাসপোর্টের মেয়াদ না থাকলে কি দেশে যাওয়া যায়?
৬ মাসের কম মেয়াদ নিয়ে কি এয়ারপোর্টে যাওয়া ঠিক হবে?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২১ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।