
সংক্ষেপে
ই-পাসপোর্টে তিন রকম ডেলিভারি আছে। নিয়মিত (Regular) পাসপোর্ট দেওয়ার কথা বায়োমেট্রিক এনরোলমেন্টের তারিখ থেকে ১৫ কর্মদিবস বা ২১ দিনের মধ্যে, জরুরি (Express) ৭ কর্মদিবস বা ১০ দিনের মধ্যে, আর অতীব জরুরি (Super Express) ২ কর্মদিবসের মধ্যে। ৪৮ পৃষ্ঠা ৫ বছরের সুপার এক্সপ্রেস পাসপোর্টের ফি ভ্যাটসহ ৮,৬২৫ টাকা।
সুপার এক্সপ্রেসে দেশের যেকোনো বিভাগীয় বা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে আবেদন করা যায়, কিন্তু পাসপোর্ট দেওয়া হয় শুধু ঢাকার আগারগাঁওয়ের বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিস থেকে। বিদেশের মিশনে এই সেবা নেই। পোর্টালের নির্দেশনায় নতুন পাসপোর্টে অতি জরুরি সেবা চাইলে নিজে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সনদ তুলে আবেদনের সঙ্গে দিতে বলা হয়েছে।
ফরমের Delivery Options & Appointment অংশে Regular, Express বা Super Express বেছে নিতে হয়।
এই লেখায়
১. কোন ডেলিভারিতে কত দিন, কত টাকা
সময় গোনা শুরু হয় পাসপোর্ট অফিসে ছবি, আঙুলের ছাপ আর আইরিস দেওয়ার দিন থেকে, অনলাইনে ফরম জমার দিন থেকে নয়। ই-পাসপোর্ট পোর্টালের ফি পাতা অনুযায়ী দেশে আবেদনের ফি, ১৫% ভ্যাটসহ:
| পাসপোর্ট | Regular (১৫ কর্মদিবস বা ২১ দিন) | Express (৭ কর্মদিবস বা ১০ দিন) | Super Express (২ কর্মদিবস) |
|---|---|---|---|
| ৪৮ পৃষ্ঠা, ৫ বছর | ৪,০২৫ টাকা | ৬,৩২৫ টাকা | ৮,৬২৫ টাকা |
| ৪৮ পৃষ্ঠা, ১০ বছর | ৫,৭৫০ টাকা | ৮,০৫০ টাকা | ১০,৩৫০ টাকা |
| ৬৪ পৃষ্ঠা, ৫ বছর | ৬,৩২৫ টাকা | ৮,৬২৫ টাকা | ১২,০৭৫ টাকা |
| ৬৪ পৃষ্ঠা, ১০ বছর | ৮,০৫০ টাকা | ১০,৩৫০ টাকা | ১৩,৮০০ টাকা |
১৮ বছরের কম বয়সীদের সব আবেদনে পাসপোর্ট হয় ৪৮ পৃষ্ঠার, ৫ বছর মেয়াদের, তাই শিশুর জরুরি পাসপোর্টে প্রথম সারির ফি খাটে। সময়সীমাগুলো ধরা হয় সব তথ্য সঠিক থাকা সাপেক্ষে।
কোনটি নেবেন, তা ঠিক করুন যাত্রার তারিখ ধরে। হাতে দুই সপ্তাহের বেশি সময় থাকলে Express-এর ১০ দিনের সময়সীমাই যথেষ্ট হতে পারে, তাতে ৪৮ পৃষ্ঠা ৫ বছরের পাসপোর্টে ২,৩০০ টাকা কম লাগে। কয়েক দিনের মধ্যে ভিসা জমা বা ফ্লাইট থাকলে Super Express ভাবুন, তবে আগারগাঁওয়ে গিয়ে তোলার সময়টুকুও হিসাবে রাখুন।
২. সুপার এক্সপ্রেস: কারা পারবেন, কোথা থেকে তুলবেন
- বাংলাদেশের যেকোনো নাগরিক সুপার এক্সপ্রেসে আবেদন করতে পারেন।
- আবেদন অনলাইনে, আর এনরোলমেন্ট দেশের যেকোনো বিভাগীয় বা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে।
- বিদেশের বাংলাদেশ দূতাবাস, হাইকমিশন বা কনস্যুলেট থেকে আবেদন করলে সুপার এক্সপ্রেস নেওয়া যায় না। মিশনের ফি তালিকায় নিয়মিত আর জরুরি, এই দুই ধরনই আছে।
- সুপার এক্সপ্রেস পাসপোর্ট দেওয়া হয় শুধু বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিস, ভবন নং ২, ই-৭, শেরেবাংলা নগর, আগারগাঁও, ঢাকা-১২০৭ থেকে। অন্য অফিসে পাঠানোর ব্যবস্থা নেই। যোগাযোগ: +৮৮০ ২-৮১২৩৭৮৮।
চট্টগ্রাম, রাজশাহী বা যেকোনো জেলায় ছবি দিলেও সুপার এক্সপ্রেস পাসপোর্ট তুলতে আগারগাঁওয়ে যেতে হবে। ঢাকায় আসা কঠিন হলে এক্সপ্রেস নিলে নিজের অফিস থেকেই তুলতে পারবেন কি না, আবেদনের আগে অফিসে জেনে নিন।
৩. নতুন পাসপোর্টে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সনদ
২০২৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারির পরিপত্রের পর থেকে নতুন ই-পাসপোর্টে পুলিশ ভেরিফিকেশন লাগে না। কিন্তু ই-পাসপোর্ট পোর্টালের ফরম পূরণের নির্দেশাবলিতে এখনো বলা আছে, নতুন ইস্যুর ক্ষেত্রে অতি জরুরি পাসপোর্ট চাইলে নিজ উদ্যোগে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সনদ সংগ্রহ করে আবেদনের সঙ্গে দিতে হবে। এটি বাসায় এসে পুলিশের যাচাই নয়, অনলাইনে আবেদন করে নিজে তোলা আলাদা একটি সনদ।
রি-ইস্যু বা নবায়নের ক্ষেত্রে এই শর্তের কথা নির্দেশনায় নেই। প্রথমবার পাসপোর্ট করছেন আর তাড়া আছে, এমন হলে আগে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সনদ হাতে নিন, তারপর এনরোলমেন্টের তারিখ নিন, আর সেদিন সনদটি সঙ্গে রাখুন।
পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সনদের অনলাইন আবেদন আর কাগজের নিয়ম নিয়ে আমাদের আলাদা লেখা আছে। সনদ হাতে পেতে নিজেরও কিছু দিন লাগে, তাই সুপার এক্সপ্রেসের হিসাবে এই সময়টুকুও যোগ করুন।
৪. সুপার এক্সপ্রেসে আবেদনের ধাপ
- ১ফরমে Super Express বাছুনepassport.gov.bd-তে ফরম পূরণের শেষে Delivery Options & Appointment অংশে Super Express delivery বেছে নিন। পৃষ্ঠা আর মেয়াদ অনুযায়ী ফি দেখাবে।
- ২তথ্য মিলিয়ে ফি দিনঅনলাইনে ekpay-এর মাধ্যমে কার্ড, বিকাশ, নগদ, রকেট বা ব্যাংকের অ্যাপে, অথবা এ-চালানে যেকোনো ব্যাংকে ফি দেওয়া যায়। পেমেন্টে যাওয়ার আগে তথ্য আরেকবার দেখুন, কারণ পেমেন্টে গেলে আবেদনের তথ্য পাসপোর্ট অফিসে চলে যায়, পরে আর বদলানো যায় না।
- ৩কাগজ গুছিয়ে এনরোলমেন্টে যানমূল NID বা অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ, নতুন পাসপোর্ট হলে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সনদ, রি-ইস্যু হলে মূল পাসপোর্ট, আর প্রযোজ্য হলে পেশাগত সনদ বা GO/NOC সঙ্গে নিন।
- ৪ডেলিভারি স্লিপ রাখুনছবি আর আঙুলের ছাপ দেওয়ার পর ডেলিভারি স্লিপ দেওয়া হয়, তাতে Application ID থাকে। এই দিন থেকেই ২ কর্মদিবস গোনা শুরু।
- ৫স্ট্যাটাস দেখে আগারগাঁও থেকে তুলুনApplication ID বা OID দিয়ে অনলাইনে স্ট্যাটাস দেখুন। পাসপোর্ট তৈরি হলে স্লিপ নিয়ে আগারগাঁওয়ের অফিসে যান। নিজে না পারলে অনুমোদিত প্রতিনিধি নিজের NID নিয়ে তুলতে পারেন।
৫. সরকারি চাকরিজীবী আর প্রবাসীদের জন্য
ফি পাতায় বলা আছে, NOC বা অবসর সনদ (PRL) থাকা সরকারি চাকরিজীবীরা নিয়মিত ফি দিয়ে জরুরি আর জরুরি ফি দিয়ে অতীব জরুরি সুবিধা পান। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর পরিপত্রেও ব্যক্তিগত কাজে বিদেশ যেতে GO বা NOC থাকলে একই সুবিধার কথা আছে, তবে GO বা NOC ইস্যুকারী দপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশ থাকতে হবে।
বিদেশে থাকলে মিশন থেকে সুপার এক্সপ্রেস পাওয়া যায় না, জরুরি ডেলিভারি পর্যন্ত নেওয়া যায়। পোর্টালের তালিকায় মিশনে ৪৮ পৃষ্ঠা ৫ বছরের জরুরি পাসপোর্টের ফি সাধারণ আবেদনকারীর জন্য ১৫০ মার্কিন ডলার, শ্রমিক ও শিক্ষার্থীর জন্য ৪৫ ডলার। কত দিনে পাবেন, তা নিজের মিশনের নোটিশে দেখুন।
৬. অনেকে যা জানতে চান
২ কর্মদিবস কি অনলাইনে আবেদনের দিন থেকে?
ঢাকার বাইরে থেকে সুপার এক্সপ্রেস নিলে পাসপোর্ট কোথায় পাব?
শিশুর জন্য সুপার এক্সপ্রেস নেওয়া যায়?
রি-ইস্যুতেও কি পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সনদ লাগবে?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৭ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।